ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্র ও প্রতিরক্ষা স্বনির্ভরতা:
প্রয়োজনীয় ৫০ লক্ষাধিক সদস্য সম্পন্ন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ন্যানোটেকনোলজির কৌশলগত উপযোগিতা (পর্ব-১০)
, ১৪ মুহররম শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০১ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ৩০ জুন, ২০২৬ খ্রি:, ১৬ আষাঢ়, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) মন্তব্য কলাম
একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক রণকৌশল ও ভূ-রাজনীতিতে সামরিক শক্তির শ্রেষ্ঠত্ব কেবল সৈন্যসংখ্যার ওপর নির্ভর করে না, বরং তা নির্ধারিত হয় প্রযুক্তির উৎকর্ষ এবং অত্যাধুনিক সমরাস্ত্রের নিখুঁত প্রয়োগের মাধ্যমে। যেকোনো স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের অখ-তা রক্ষা এবং যেকোনো রূপ বাহ্যিক বা পরোক্ষ চক্রান্ত নস্যাৎ করতে একটি শক্তিশালী, আধুনিক এবং প্রযুক্তিগতভাবে স্বাবলম্বী সশস্ত্র বাহিনী থাকা অপরিহার্য।
বর্তমান বিশ^ সামরিক প্রেক্ষাপট এবং দেশের চারপাশের কৌশলগত নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনা করে আমাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে সম্পূর্ণ নতুন স্তরে নিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে। এই রূপান্তরের সবচেয়ে বড় এবং কার্যকর হাতিয়ার হতে পারে ‘ন্যানোটেকনোলজি’ বা অণুপ্রযুক্তি সমৃদ্ধ আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সার্বিক সক্ষমতা ও কৌশলগত গভীরতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রতিরক্ষা বলয় গড়ে তুলতে ন্যানোটেকনোলজির প্রয়োগ একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হতে পারে। এই উন্নত প্রযুক্তি সামরিক খাতে যুক্ত হলে বিপুল পরিমাণ সৈন্যের লজিস্টিক সাপোর্ট, নিখুঁত লক্ষ্যভেদ এবং প্রতিরক্ষা বর্মের কার্যকারিতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
বিশাল এই সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়নে কি পরিমাণ এবং কি ধরনের ন্যানোটেকনোলজি সমৃদ্ধ সমরাস্ত্রের প্রয়োজন হতে পারে, তা সুনির্দিষ্ট কৌশলগত পরিকল্পনার দাবি রাখে।
প্রথমত, সৈন্যদের ব্যক্তিগত সুরক্ষার জন্য ন্যানো-ম্যাটেরিয়ালস বা কার্বন নানোটোব সমৃদ্ধ হালকা অথচ ইস্পাতের চেয়ে শতগুণ শক্তিশালী 'বডি আর্মার' বা বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট এবং হেলমেট প্রয়োজন। প্রথাগত ভারী জ্যাকেটের পরিবর্তে এই হালকা ও নমনীয় ন্যানো-বর্ম সৈন্যদের গতিশীলতা বৃদ্ধি করবে এবং সম্মুখ সমরে জীবনহানির ঝুঁকি সর্বনি¤œ পর্যায়ে নামিয়ে আনবে।
দ্বিতীয়ত, নিখুঁত ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের জন্য ন্যানো-সেন্সর এবং উন্নত ন্যানো-প্রোফাইল ফুয়েল অত্যন্ত জরুরি। এর ফলে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ড্রোন) শত্রুর রাডার ফাঁকি দিয়ে নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তু ভেদ করতে সক্ষম হবে। এছাড়া, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ও স্যাটেলাইট জ্যামিং প্রতিরোধে ন্যানো-ইলেকট্রনিক্স সমৃদ্ধ যোগাযোগ সরঞ্জাম আমাদের সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে যেকোনো হ্যাকিং বা বিদেশী হস্তক্ষেপ থেকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রাখবে।
একটি বিষয় বিশেষভাবে অনুধাবন করা প্রয়োজন যে, উন্নত সামরিক প্রযুক্তির জন্য চিরকাল বিদেশী সরবরাহ চেইনের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল থাকা প্রকৃত সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী।
ন্যানো টেকনোলজির মতো সংবেদনশীল ও কৌশলগত সমরাস্ত্রের ক্ষেত্রে আমাদের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য হতে হবে 'অভ্যন্তরীণ স্বাবলম্বিতা'। বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর মহাকাশ উদ্যোগ বা যুদ্ধবিমানের কারখানা স্থাপনের যে কৌশলগত প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, তার সাথে এই ন্যানো-প্রযুক্তি গবেষণা ও উৎপাদন কাঠামোকে সমন্বিত করতে হবে।
দেশের মাটিতে একটি সুদৃঢ় সামরিক-শিল্প কমপ্লেক্স তৈরি করে, যেখানে নিজস্ব প্রযুক্তিতে এই ধরনের উন্নত ন্যানো-সেন্সর ও সমরাস্ত্র উৎপাদিত হবে, তা-ই হবে আমাদের দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা বর্ম।
আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, দেশের মানচিত্র রক্ষা এবং আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রতিরক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ আধুনিকায়ন করা সময়ের দাবি। প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা অর্জন করতে পারলে কোনো শত্রুভাবাপন্ন বাহ্যিক শক্তি আমাদের স্বাধীন অস্তিত্বকে চ্যালেঞ্জ করার সাহস পাবে না।
আমরা আশা করি, সরকার ও নীতিনির্ধারক মহল ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রের এই প্রযুক্তিগত বাস্তবতা অনুধাবন করে সামরিক বাহিনীর জন্য ন্যানোটেকনোলজি সমৃদ্ধ গবেষণা ও সমরাস্ত্রের আধুনিকায়ন কর্মসূচি দ্রুত ত্বরান্বিত করবেন।
- মুহম্মদ শামসিত তাবরিজ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মুসলমানদের সাথে রাশিয়ার মুনাফেকী নূতনভাবে প্রকাশ পাচ্ছে। মুসলিম বিশ্বের জাগরণ দরকার।
৩০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বাংলাদেশের ভূ-কৌশলগত প্রতিরক্ষা কৌশলের জরুরি রূপরেখা (পর্ব-২)
২৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নওমুসলিমদের আইনি সুরক্ষা ও তথাকথিত ‘ডিটেনশন সেল’ উচ্ছেদের দাবি
২৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
৫০ লক্ষাধিক সেনাবাহিনীর জন্য বাংলাদেশের বাংকার নেটওয়ার্কের রূপরেখা (পর্ব ৯)
২৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ সম্পোর্কোন্নয়ন কেন শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তিতে? অনন্য উচ্চতায় উঠা এ সম্পর্ক কেন ইসলামী মূল্যবোধ ও মুসলিম ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে উজ্জীবিত হবে না? (১ম পর্ব)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন ও কৌশলগত স্বনির্ভরতা: বাংলাদেশের ৫০ লক্ষ পদাতিক বাহিনীর জন্য ৩য় প্রজন্মের এটিজিএম রোডম্যাপ (পর্ব ৭)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বিশ্বে তৈরী পোশাক রফতানীতে প্রথম বাংলাদেশ কেনো তুলা আমদানীতেও প্রথম? নামে তুলা উন্নয়ন বোর্ড থাকলেও স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত তুলা চাষে কোনো উন্নয়নই নেই অপার সম্ভাবনা থাকলেও দেশে তুলা উৎপাদনে সরকারী কোনো তৎপরতা নেই অথচ ১৬৫০ থেকে ১৭৫০-এই ১০০ বছরে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোই বাংলা থেকেই ৩ লাখ গজ থেকে ৩ কোটি গজ কাপড় রপ্তানি করেছে। এই বিপুল উৎপাদনে এই বাংলাদেশই কীভাবে তুলার যোগান দিল?
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বিশ্বে তৈরী পোশাক রফতানীতে প্রথম বাংলাদেশ কেনো তুলা আমদানীতেও প্রথম? নামে তুলা উন্নয়ন বোর্ড থাকলেও স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত তুলা চাষে কোনো উন্নয়নই নেই অপার সম্ভাবনা থাকলেও দেশে তুলা উৎপাদনে সরকারী কোনো তৎপরতা নেই
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
দেশের ৪ কোটি মানুষ না খেয়ে থাকে। অথচ বছরে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার শস্য নষ্ট হয় খাদ্য অপচয় রোধ করতে ‘নিশ্চয়ই অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই’- পবিত্র কুরআন শরীফ উনার এই নির্দেশ সমাজের সর্বাত্মক প্রতিফলন ব্যতীত কোনো বিকল্প নেই।
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
অলস জমিদারের কায়দায় বসে বসে তালুক বিক্রী করে খাওয়ার মতই জ্যামিতিক হারে ঋণ বাড়িয়ে চলছে সরকার ২০২৮-২৯ অর্থবছর ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে ৩৩ লাখ ৭৭ হাজার ৬০০ কোটি টাকায়। দুর্নীতি বন্ধের পাশাপাশি উৎপাদন বাড়ানো রফতানী বৃদ্ধি ও বহুর্মুখীকরণ করার উদ্যম নেই সরকারের দেশ জাতিকে করে যাচ্ছে সুদী মহাজনদের কাছে জিম্মি ও বিক্রী।
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (১৩)
২১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ঋণ নির্ভর বাজেট প্রণয়ন না করে রফতানী বহুর্মুখীকরণের দ্বারা সমৃদ্ধ বাজেট প্রণয়ন খুব সহজেই সম্ভব। কাঁঠাল উৎপাদনে বাংলাদেশ প্রথম হলেও রফতানীতে তলানীতে। কাঁঠাল রফতানী করেও বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় সম্ভব।
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












