সিলেট সীমান্তে শত্রুর সামরিক বিন্যাস ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ:
বাংলাদেশের ভূ-কৌশলগত প্রতিরক্ষা কৌশলের জরুরি রূপরেখা (পর্ব-২)
, ২৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) মন্তব্য কলাম
শত্রুপক্ষ যেন মনস্তাত্ত্বিক বা সামরিক কোনো সুবিধাই না পায়, সেজন্য বাংলাদেশের নিজস্ব ডিটারেন্স বা প্রতিরোধ ক্ষমতা দৃশ্যমান করতে হবে।
গাইডেড রকেট ও ক্রুজ মিসাইল ইউনিটের বিস্তার:
ডিগারু পানাগড়ের সুনির্দিষ্ট কো-অর্ডিনেট সমূহকে টার্গেট করে বাংলাদেশের নিজস্ব দূরপাল্লার মাল্টিপল লঞ্চ রকেট সিস্টেম এবং ক্রুজ মিসাইল (যেমন হাতফ বা বাবর শ্রেণীর সমকক্ষ প্রযুক্তি) ইউনিটগুলোকে ফরোয়ার্ড পজিশনে বিন্যস্ত করতে হবে। শত্রুকে এই বার্তা দিতে হবে যে, যেকোনো আগ্রাসনের প্রথম মিনিটেই তাদের ডিগারু ও পানাগড় ঘাঁটি ধ্বংস করার কারিগরি সক্ষমতা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনী রাখে।
৩. ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার এবং সাইবার জ্যামিং আর্কিটেকচার:
ব্রাহ্মস মিসাইল এবং আধুনিক ফাইটার জেটগুলো সম্পূর্ণভাবে স্যাটেলাইট নেভিগেশন ও গাইডেন্স চিপের ওপর নির্ভরশীল।
সিগন্যাল ডিনায়াল ও স্পুফিং:
সিলেট ও রংপুর সীমান্তে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার (ঊড) ৩ জ্যামিং স্টেশন স্থাপন করতে হবে। এগুলো শত্রুর জিপিএস, গ্লোনাস বা নিজস্ব গাইডেন্স সিগন্যালকে বিকৃত করে মিসাইলের গতিপথকে লক্ষ্যভ্রষ্ট করতে সক্ষম হবে।
৪. অভ্যন্তরীণ কাউন্টার-সাবভার্সন ও কাইনেটিক ফোর্সের সমন্বয়:
যেহেতু শত্রুর মূল কৌশল হলো, ভেতরের অন্তর্ঘাতমূলক শক্তিকে ব্যবহার করে বাইরের সামরিক শক্তিকে কার্যকর করা, তাই অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক প্রতিরক্ষাকে একক সূত্রে বাঁধতে হবে।
গোয়েন্দা তৎপরতা ও কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স:
দেশের অভ্যন্তরে সক্রিয় কোনো 'সাবভার্সিভ ফোর্স' যেন সীমান্ত পরিস্থিতিকে ব্যবহার করে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে, সেজন্য জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থাসমূহকে জিরো-টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে।
ফাস্ট-রেসপন্স কমব্যাট ইউনিট:
সীমান্ত অঞ্চলে ড্রোন সার্ভিল্যান্স সার্বক্ষণিক করতে হবে এবং যেকোনো সম্ভাব্য ফ্রন্টলাইন পুশব্যাক বা অনুপ্রবেশ রুখতে হেলিকপ্টার-বোর্ন স্পেশাল ফোর্স এবং কুইক রিয়্যাকশন টিম প্রস্তুত রাখতে হবে।
হাঁটি হাঁটি পা পা করে সীমান্তের ওপারে শত্রু প্রতিবেশীর এই সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের জন্য একটি নীরব পরীক্ষা। ২০২৬ সালের এই আধুনিক রণকৌশলের যুগে দাঁড়িয়ে আমাদের বুঝতে হবে যে, দুর্বল প্রতিরক্ষা সবসময় শত্রুকে আক্রমণের সাহস জোগায়, আর শক্তিশালী প্রতিবোধ যুদ্ধকে চিরতরে দূরে রাখে।
বাংলাদেশকে যদি এই মনস্তাত্ত্বিক ও কৌশলগত চাপ থেকে মুক্ত হতে হয়, তবে অবিলম্বে সামরিক বাজেট ও প্রতিরক্ষার প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে উত্তর-পূর্ব ফ্রন্টকে একটি অভেদ্য দুর্গে পরিণত করতে হবে।
-মুহম্মদ শামসিত তাবরিজ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
নওমুসলিমদের আইনি সুরক্ষা ও তথাকথিত ‘ডিটেনশন সেল’ উচ্ছেদের দাবি
২৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
৫০ লক্ষাধিক সেনাবাহিনীর জন্য বাংলাদেশের বাংকার নেটওয়ার্কের রূপরেখা (পর্ব ৯)
২৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ সম্পোর্কোন্নয়ন কেন শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তিতে? অনন্য উচ্চতায় উঠা এ সম্পর্ক কেন ইসলামী মূল্যবোধ ও মুসলিম ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে উজ্জীবিত হবে না? (১ম পর্ব)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন ও কৌশলগত স্বনির্ভরতা: বাংলাদেশের ৫০ লক্ষ পদাতিক বাহিনীর জন্য ৩য় প্রজন্মের এটিজিএম রোডম্যাপ (পর্ব ৭)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বিশ্বে তৈরী পোশাক রফতানীতে প্রথম বাংলাদেশ কেনো তুলা আমদানীতেও প্রথম? নামে তুলা উন্নয়ন বোর্ড থাকলেও স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত তুলা চাষে কোনো উন্নয়নই নেই অপার সম্ভাবনা থাকলেও দেশে তুলা উৎপাদনে সরকারী কোনো তৎপরতা নেই অথচ ১৬৫০ থেকে ১৭৫০-এই ১০০ বছরে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোই বাংলা থেকেই ৩ লাখ গজ থেকে ৩ কোটি গজ কাপড় রপ্তানি করেছে। এই বিপুল উৎপাদনে এই বাংলাদেশই কীভাবে তুলার যোগান দিল?
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বিশ্বে তৈরী পোশাক রফতানীতে প্রথম বাংলাদেশ কেনো তুলা আমদানীতেও প্রথম? নামে তুলা উন্নয়ন বোর্ড থাকলেও স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত তুলা চাষে কোনো উন্নয়নই নেই অপার সম্ভাবনা থাকলেও দেশে তুলা উৎপাদনে সরকারী কোনো তৎপরতা নেই
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
দেশের ৪ কোটি মানুষ না খেয়ে থাকে। অথচ বছরে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার শস্য নষ্ট হয় খাদ্য অপচয় রোধ করতে ‘নিশ্চয়ই অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই’- পবিত্র কুরআন শরীফ উনার এই নির্দেশ সমাজের সর্বাত্মক প্রতিফলন ব্যতীত কোনো বিকল্প নেই।
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
অলস জমিদারের কায়দায় বসে বসে তালুক বিক্রী করে খাওয়ার মতই জ্যামিতিক হারে ঋণ বাড়িয়ে চলছে সরকার ২০২৮-২৯ অর্থবছর ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে ৩৩ লাখ ৭৭ হাজার ৬০০ কোটি টাকায়। দুর্নীতি বন্ধের পাশাপাশি উৎপাদন বাড়ানো রফতানী বৃদ্ধি ও বহুর্মুখীকরণ করার উদ্যম নেই সরকারের দেশ জাতিকে করে যাচ্ছে সুদী মহাজনদের কাছে জিম্মি ও বিক্রী।
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (১৩)
২১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ঋণ নির্ভর বাজেট প্রণয়ন না করে রফতানী বহুর্মুখীকরণের দ্বারা সমৃদ্ধ বাজেট প্রণয়ন খুব সহজেই সম্ভব। কাঁঠাল উৎপাদনে বাংলাদেশ প্রথম হলেও রফতানীতে তলানীতে। কাঁঠাল রফতানী করেও বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় সম্ভব।
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় ৫০ লক্ষ সেনাবাহিনীর অপ্রতিরোধ্যকরণের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদির বিবরণ (পর্ব ৬)
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় ৫০ লক্ষ সেনাবাহিনীর অপ্রতিরোধ্যকরণের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদির বিবরণ (পর্ব- ৫)
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












