মন্তব্য কলাম
ঋণ নির্ভর বাজেট প্রণয়ন না করে রফতানী বহুর্মুখীকরণের দ্বারা সমৃদ্ধ বাজেট প্রণয়ন খুব সহজেই সম্ভব। কাঁঠাল উৎপাদনে বাংলাদেশ প্রথম হলেও রফতানীতে তলানীতে। কাঁঠাল রফতানী করেও বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় সম্ভব।
, ০৫ মুহররম শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২২ আউওয়াল, ১৩৯৪ শামসী সন , ২১ জুন, ২০২৬ খ্রি:, ০৭ আষাঢ়, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) মন্তব্য কলাম
কাঁঠাল উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান প্রথম। তবে উৎপাদনে শীর্ষ অবস্থানে থাকলেও কাঁঠাল ও কাঁঠালজাত পণ্য রপ্তানিতে বাংলাদেশ এখনো অনেক পিছিয়ে। যদিও কাঁঠাল ও কাঁঠালজাত পণ্য রপ্তানির প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু সরকারের সঠিক উদ্যোগের অভাবে এই সম্ভাবনাময় পণ্য রপ্তানির সুযোগ কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে না।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ১ হাজার ৮৩ টন কাঁঠাল রপ্তানি হয়েছে। তবে কৃষিপণ্য রপ্তানিকারকরা বলছেন সঠিক উদ্যোগ ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে চীনে কাঁঠল রপ্তানি করতে পারলে শুধু সে দেশেই বাংলাদেশে উৎপাদিত কাঁঠালের বড় একটা অংশ রপ্তানি করা সম্ভব।
বাংলাদেশ থেকে প্রথমবারের মতো সমুদ্রপথে সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের কয়েকটি দেশে যেমন যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, সুইডেন এসব দেশে সফলভাবে কাঁঠাল রপ্তানি শুরু হয়েছে। যা কম খরচে বেশি পণ্য পাঠানোর নতুন দ্বার উন্মোচন হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বাংলাদেশের কাঁঠালের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। এছাড়া শুকনো কাঁঠাল, কাঁঠালের চিপস, আচার ও জেলি এই প্রক্রিয়াজাত পণ্যগুলোর বিশ্বজুড়ে বিশেষ করে নিরামিষভোজীদের কাছে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশসহ ভারতীয় উপমহাদেশে সবজি হিসেবে কাঁচা কাঁঠালের চাহিদা অত্যন্ত ব্যাপক। এর গোস্ত ও আঁশযুক্ত গঠন উদ্ভিজ্জ গোশতের মতো কাজ করায় নিরামিষাশীদের কাছে এটি ভেজিটেব মিট হিসাবে দারুণ জনপ্রিয়। কাঁচা কাঁঠাল বেশ পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত। কাঁচা কাঁঠালে ডায়েটারি ফাইবার বা আঁশ থাকে, যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। এতে ক্যালোরি কম থাকায় এটি ওজন নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে। উদ্ভিজ্জ আমিষের চাহিদা বাড়ায় কাঁচা কাঁঠাল প্রক্রিয়াজাত করে বিদেশে রপ্তানির সুযোগ তৈরি হয়েছে। কাঁঠাল মূলত দ্রুত পচনশীল ফল, তাই এর অর্থনৈতিক সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগাতে সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ খুব জরুরি।
রপ্তানির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ, আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা এবং ক্যারাডমিয়ামের মতো ক্ষতিকারক উপাদান পরীক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া শুধুমাত্র আস্ত ফল নয়, প্রক্রিয়াজাত পণ্য রপ্তানিতে মনোযোগ বাড়ালে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব। উন্নত ও টেকসই মোড়কের মাধ্যমে ফলের সতেজতা দীর্ঘসময় বজায় রাখতে হবে, বিশেষ করে সমুদ্রপথে পাঠানোর ক্ষেত্রে। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ১ হাজার ৮৩ টন কাঁঠাল রপ্তানি হয়েছে এবং চলতি অর্থবছরেও তা অব্যাহত রয়েছে। সঠিক উদ্যোগ ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে পারলে এই খাত থেকে উল্লেখযোগ্য আয় করা সম্ভব। যদি চীনের বাজারে সঠিকভাবে কাঁঠাল রপ্তানি করা যায় তাহলে সেখানেই উৎপাদিত কাঁঠালের বড় একটা অংশ রপ্তানি সম্ভব।
পাশাপাশি কাঁঠালের বহুমুখী ব্যবহার না বাড়ায় এর রপ্তানি বাড়ছে না। কাঁঠাল থেকে চিপস, আচার, জেলিসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য তৈরি করতে হবে। কাঁঠাল থেকে কমপক্ষে ৩০ ধরনের পণ্য তৈরি করা যায়। একই সঙ্গে মূল্য সংযোজনও নিশ্চিত হবে। মূল্য সংযোজন মানে হলো, একটি পণ্যের নানামুখী ব্যবহার নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে সেটির বাজারমূল্য বাড়ানো।
কাঁঠাল যথেষ্ট সম্ভাবনাময় একটি ফল হলেও রপ্তানি খুবই কম হয়। এটাতে যদি ভ্যালু অ্যাড (মূল্য সংযোজন) করা যায়, তা হলে এর সম্ভাবনা আরও বাড়বে।
কাঁঠাল রপ্তানিতে এক নম্বর অবস্থানে আছে থাইল্যান্ড। থাইল্যান্ড প্রতিবছর ৭৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের কাঁঠাল ও কাঁঠালজাত পণ্য রপ্তানি করে থাকে। কাঁঠাল প্রক্রিয়াজাতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ ও উদ্যোক্তা তৈরির কারণে থাইল্যান্ড মূল্য সংযোজন করতে পেরেছে।
কাঁঠাল সর্বগুণে গুণান্বিত একটি ফল। অন্যান্য প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তি ও পণ্য সম্পর্কে ধারণা বা না জানার কারণে দেশের মানুষ শুধু পাকা কাঁঠালই খেতে পছন্দ করে। কিন্তু কাঁচা কাঁঠালের যে অনেক ব্যবহার আছে এবং এটি দিয়ে বহুবিধ খাদ্যদ্রব্য তৈরি করা যায়, তা অনেকের নিকট অজানা। তাই কাঁঠাল অপচয়রোধে প্রথমেই গাছ হতে এক-তৃতীয়াংশ কাঁচা কাঁঠাল সংগ্রহ করে বহুমুখী ব্যবহার শুরু করতে হবে। এতে কাঁঠাল চাষির ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতেও সহায়তা করবে।
উৎপাদিত কাঁঠালের শতকরা ২৫ থেকে ৪৫ ভাগ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে নষ্ট হয়। এ অপচয়ের পরিমাণ টাকার অঙ্কে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার উপরে। কাঁঠালকে কাঁচা থেকে ব্যবহার শুরু করলে বিরাট অপচয় রোধ করা সম্ভব। সাথে সাথে হিমাগার তৈরী করলে অপচয়রোধ করা সম্ভব অর্থাৎ কাঁঠাল উৎপাদন, সংরক্ষণ, বিপণন, শিল্পায়ন ও রফতানীতে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা থাকলে তা বিশাল সমৃদ্ধি আনতে পারে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ঋণ নির্ভর বাজেট প্রণয়ন না করে রফতানী বহুর্মুখীকরণের দ্বারা সমৃদ্ধ বাজেট প্রণয়ন খুব সহজেই সম্ভব। সরকারের বোধোদয় জরুরী।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
অপসংস্কৃতি রোধ করতে হলে কথিত ফ্যাশন হাউজগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
উগ্র হিন্দুত্ববাদী ভারত এবং পতিত আওয়ামীলীগ চাচ্ছে বাংলাদেশে তথাকথিত জঙ্গী তৎপরতা প্রমাণ করতে।
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুসলমানকে ‘মুসলমানিত্ব’ বুঝতে হবে। ‘আশহাদু আন্না মুহম্মাদার রসূলুল্লাহ’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাক্বীক্বীভাবে বলতে হবে ও আমলে আনতে হবে।
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
প্রতি বছর শুধু অসুস্থতার কারণে প্রায় ৬৪ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের শিকার হচ্ছে।
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রধানমন্ত্রী নিজেই ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেয়া শুরু করেছেন। বাতিল হয়েছে ‘রাষ্ট্রপতির’ সাথে ‘মহামান্য’ শব্দ ব্যবহারও।
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বাংলাদেশের সামরিক ব্যয় গত দশকগুলোতে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বৃদ্ধি মূলত বেতন, স্থায়ী খরচ এবং চলমান পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়েছে। তবে সামরিক আধুনিকায়ন, সমরাস্ত্র ক্রয় এবং নতুন প্রযুক্তি সংযোজনের জন্য মোট বাজেটের মাত্র ২-৪ শতাংশ ব্যয় হয়েছে।
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ্র পরিক্রমায় চললেই সে প্রজ্ঞা পাওয়া সম্ভব ইনশাআল্লাহ
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক বৈদ্যুতিক সংকটকে আরো ঘণীভূত করেছে, দেশকে টাল-মাটাল করেছে আমেরিকান কোম্পানী এক্সিলারেট এনার্জি। তাদের ২০৪০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ এবং বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুটতরাজের টেকসই পরিকল্পনা।
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক বৈদ্যুতিক সংকটকে আরো ঘণীভূত করেছে, দেশকে টাল-মাটাল করেছে আমেরিকান কোম্পানী এক্সিলারেট এনার্জি। তাদের ২০৪০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ এবং বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুটতরাজের টেকসই পরিকল্পনা।
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আর ড্রোন সক্ষমতা বাড়াতে বাজেট মাত্র ৫৭০ কোটি টাকা!!!!!!!!!!!!!!
০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
আর ড্রোন সক্ষমতা বাড়াতে বাজেট মাত্র ৫৭০ কোটি টাকা!!!!!!!!!!!
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সরকারের ঋণের পরিমাণ প্রায় ২০ লাখ কোটি টাকা
০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












