মন্তব্য কলাম
অলস জমিদারের কায়দায় বসে বসে তালুক বিক্রী করে খাওয়ার মতই জ্যামিতিক হারে ঋণ বাড়িয়ে চলছে সরকার ২০২৮-২৯ অর্থবছর ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে ৩৩ লাখ ৭৭ হাজার ৬০০ কোটি টাকায়। দুর্নীতি বন্ধের পাশাপাশি উৎপাদন বাড়ানো রফতানী বৃদ্ধি ও বহুর্মুখীকরণ করার উদ্যম নেই সরকারের দেশ জাতিকে করে যাচ্ছে সুদী মহাজনদের কাছে জিম্মি ও বিক্রী।
দেশের মালিক জনগণের কাছে সরকারকে জবাবদিহি করতে বাধ্য করতে হবে
, ০৭ মুহররম শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২৪ আউওয়াল, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৩ জুন, ২০২৬ খ্রি:, ০৯ আষাঢ়, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) মন্তব্য কলাম
অর্থ বিভাগের প্রাক্কলন অনুযায়ী, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর শেষে সরকারের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে ২৬ লাখ ৩৩ হাজার ১০০ কোটি টাকায়। এর পরবর্তী অর্থবছরে তা আরো বেড়ে ২৯ লাখ ৫৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকা হবে এবং তিন বছর পর অর্থাৎ ২০২৮-২৯ অর্থবছর শেষে এ ঋণ স্থিতি দাঁড়াবে ৩৩ লাখ ৭৭ হাজার ৬০০ কোটি টাকায়। এ বিশাল ঋণের মধ্যে অভ্যন্তরীণ উৎসের অবদান থাকবে ১৮ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে ১৪ লাখ ৯৭ হাজার ৬০০ কোটি টাকায়।
ঋণের এ উল্লম্ফন স্বাভাবিকভাবেই সুদ পরিশোধের ব্যয়কে বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারকে সুদ বাবদ পরিশোধ করতে হবে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে ২০২৮-২৯ অর্থবছরে এ ব্যয় বেড়ে দাঁড়াবে ১ লাখ ৬২ হাজার ৭০০ কোটি টাকায়। অর্থাৎ বাজেটের একটি বড় অংশই চলে যাবে বিগত বছরগুলোর ঋণের মাশুল গুনতে, যা উন্নয়নমূলক কর্মকা-ের বরাদ্দকে করবে সংকুচিত।
বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। অতীতে নেয়া অনেক মেগা প্রকল্পের ‘গ্রেস পিরিয়ড’ বা রেয়াতকাল শেষ হয়ে আসায় এখন মূল ও সুদ-দুই-ই একসঙ্গে পরিশোধ করতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতির ঝুঁকি আরো বাড়িয়ে দিয়েছে ডলারের বিপরীতে টাকার ধারাবাহিক অবমূল্যায়ন। যেহেতু বাংলাদেশে বাস্তবায়িত অধিকাংশ অবকাঠামো প্রকল্প স্থানীয় মুদ্রায় আয় করে, তাই ডলারের দাম বাড়ার কারণে ঋণ পরিশোধের প্রকৃত বোঝা প্রাক্কলনের চেয়ে অনেক বেশি হচ্ছে।
আগামী তিন অর্থবছরে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের যে প্রক্ষেপণ করা হয়েছে তাতে দেখা যায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৩৭৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ৪২৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার ও ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ৪২৭ কোটি ৬০ লাখ ডলারের ঋণ পরিশোধ করতে হবে সরকারকে।
অর্থ বিভাগের সাম্প্রতিক মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক নীতি বিবৃতির প্রক্ষেপণ বলছে, আগামী তিন বছরে এ ঋণ স্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছবে যা দেশের সার্বিক অর্থনীতি, বিশেষ করে বেসরকারি খাতের বিকাশ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে করমুক্ত আয়ের সীমা ২৫ হাজার টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হলেও ৫ শতাংশের প্রাথমিক কর ধাপ বিলুপ্ত করা হয়েছে। এর পরিবর্তে ১০ শতাংশ করের প্রাথমিক ধাপ ঠিক করা হয়েছে। বাজেটের এ প্রস্তাবে মধ্যবিত্তের ওপর করের চাপ বাড়বে।
অন্যদিকে, বিনিয়োগ করলে ব্যক্তি করদাতারা যে রেয়াত পান, তাও কমানো হয়েছে। এটিও মধ্যবিত্তের করের চাপ বাড়াবে।
এদিকে গত পাঁচ অর্থবছরে যেখানে রাজস্ব আয় বেড়েছে মাত্র ৩৫ শতাংশ, সেখানে ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ৪২ শতাংশ। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে করের টাকায় সরকারের পুরো পরিচালন ব্যয় মেটানো তো দূরের কথা, বেতন-ভাতা, পেনশন ও সুদের টাকা পরিশোধের পর কৃচ্ছ্রসাধন করেও ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। ফলে সরকার বাধ্য হয়ে স্থানীয় ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।
অর্থনীতির পরিভাষায় একে বলা হয় ‘ক্রাউডিং আউট ইফেক্ট’। সরকার যখন নিজের ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নেয়, তখন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বেসরকারি খাতে ঋণ দিতে উৎসাহ হারিয়ে ফেলে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে বেসরকারি বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতিকে মন্থর করে দেয়।
পাশাপাশি অনেক বৈদেশিক ঋণের গ্রেস পিরিয়ড শেষ হয়ে এখন মূল অর্থ ও সুদ-দুইয়েরই পরিশোধ শুরু হচ্ছে, যা সামনের সময়গুলোয় অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে।
অর্থনীতিতে আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের অসংগতি এক গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। সরকারের রাজস্ব আদায়ের পরিধি ও সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক-উভয় উৎস থেকেই ঋণ গ্রহণের প্রবণতা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে।
সরকারের এ ঋণ বৃদ্ধির মূল কারণ রাজস্ব আয়ের ব্যর্থতা। দেশের উৎপাদন খাতে স্থবিরতা। রফতানী বহুমুখীকরণে ব্যর্থতা। চামড়া, পাট, চা সহ অন্যান্য ফল-ফসল রফতানীতে উদাসীনতা ও নিস্ক্রিয়তা। গৎবাধা কার্যক্রমের বাইরে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকা।
উৎপাদনে পরিশ্রমী না হয়ে অলস জমিদারের মত তালুক বেচে বসে বসে খাওয়ার কায়দায় একের পর এক বিশাল ঋণ গ্রহণ করে দেশ জনগণকে সুদী মহাজনদের কাছে জিম্মি বা বিক্রী করে দেয়ার পায়তারা করছে সরকার। দেশের মালিক জনগণকেই সরকারকে জবাবদিহী করতে বাধ্য করতে হবে।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরে বাধ্য করতে। ভারতীয় নীল নকশা বুঝে নিতে। ভারত ছাড়া বাংলাদেশের চলবে। কিন্তু ভারতের বাঁচতে হলে বাংলাদেশকে লাগবে।
২০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ন্যাটোর ধারা ৫ এ বলা হয়েছে- যদি ন্যাটোভুক্ত কোনো সদস্য দেশের উপর সশস্ত্র হামলা হয়, তবে সকল সদস্য দেশ এটিকে নিজেদের উপর হামলা হিসেবে গণ্য করবে এবং আক্রান্ত দেশকে সাহায্য করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে, যার মধ্যে সশস্ত্র শক্তি প্রয়োগও অন্তর্ভুক্ত। অথচ শক্তিশালী মুসলিম দেশগুলো ন্যাটোর বিপরীতে মহা অধিকতর সামরিক জোট কঠিন করে কাফির বিশ্বে নিজেদের শক্তিমত্তা সর্ম্পকে জানান দেয়না। নাউযুবিল্লাহ! প্রসঙ্গত অধিকাংশ মুসলিম শাসকগুলো প্রবৃত্তির দাস সাম্রাজ্যবাদীদের ক্রীড়ানক। কিছু মুসলিম শাসক মুসলিম বিশ্বের সামরিক জোটের কথা বলা শুরু করেছে। তবে এটি আন্তরিক বা জোরদার নয়। এবং সব মুসলিম শাসকেরও বক্তব্য নয়।
১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
অবাধে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ সন্ত্রাসীগোষ্ঠী সর্বহারা পার্টির তাত্ত্বিকদের বই
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
২৫ মার্কিন কোম্পানী, ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর বিশাল বড় অনুলিপি এরা বাংলাদেশের গোটা অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ আম্রিকায় অর্থ পাচার, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে ছিনিমিনি খেলবে। বিশাল মূলধন ও আধুনিক প্রযুক্তি এবং বাংলাদেশ সরকারের দেয়া অতি সুবিধার কারণে এরা বাংলাদেশের শিল্পপতিদের তথা ব্যবসায়ীদের ধ্বসিয়ে দিবে।
১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ভূয়া অস্ত্র বেঁচে টাকা লুট করতে চায় ভূয়া আম্রিকানরা মনে করে আম্রিকা যুদ্ধে সেরা অথচ মেক্সিকো, স্পেন, জার্মানসহ কয়েকটি কাফের রাষ্ট্র ছাড়া কানাডা ভিয়েতনামসহ অনেক কাফের রাষ্ট্রের কাছেও তারা শোচনীয়ভাবে হেরেছে
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্ক বছরের পর বছর চালু রেখে এক সময় বিয়ে না করলে দন্ডবিধির ৩৭৫ ধারায় ধর্ষক হয় পুরুষ।
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর চারপাশে এখন চাপ আর চাপ এসব চাপকে- জনগণের নিজের মনে করতে হবে।
১০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
২০২৬ থেকে ২০৩৯ সাল পর্যন্ত ১৩ বছর মেয়াদে প্রতি বছর ছয়টি করে কার্গো এলএনজি আমদানি কথা চলছে। যা প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে বা কম মূল্যে নির্ধারণ হয়নি। এবং এমন শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে যা দেশের স্বার্থবিরোধী।
০৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বাংলাদেশের ৫০ হাজার একরের বেশি জমি ভারতের দখলে। উদ্ধারে নেই সরকারের সক্রিয়তা।
০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
১৯৪৭ সালের বেনিয়া বৃটিশদের দেশবিভক্তির দোহাই দিয়ে এখন পার্বত্য চট্টগ্রামকে ভারতের ভূখন্ড দাবী করছে উপজাতি বিচ্ছিন্নতাবাদীরা।
০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মার্কিন দূত যে বাংলাদেশকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে গেলো, সরকারকে হুমকী-ধামকি দিলো তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ প্রতিরোধ হলো কৈ? সরকারী দল, বিরোধী দল, তথাকথিত সব ইসলামিক দল থেকে সব সুশীল, চিন্তাশীল, বিশ্লেষক তথা সব মহল কেউই কিন্তু প্রতিবাদ করলো না
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সুদী মহাজন ও বড় চোর, সমকামীমনা, ১৬৮ মামলার আসামী, দেশ বিক্রিকারী মার্কিন চুক্তিকারী, ক্ষমতার মসনদে বসে অর্থ লুটকারী, অন্যায় সুবিধা গ্রহণকারী, পাহাড় সম অপরাধ মব-সন্ত্রাসের জনক কুখ্যাত ইউনুসের প্রতি ভীষণ বীতশ্রদ্ধ।
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












