সমাজতান্ত্রিক রাশিয়ায় আবার মুসলমান ও আলিম সমাজের উপর আঘাত, আক্রমণ শুরু হয়েছে।
মুসলমানদের সাথে রাশিয়ার মুনাফেকী নূতনভাবে প্রকাশ পাচ্ছে। মুসলিম বিশ্বের জাগরণ দরকার।
রাশিয়ায় ২০ কোটিরও বেশি মুসলিম বসবাস করে, যা ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম জনসংখ্যা।
, ১৪ মুহররম শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০১ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ৩০ জুন, ২০২৬ খ্রি:, ১৬ আষাঢ়, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) মন্তব্য কলাম
ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়ার অভ্যন্তরে জাতীয়তাবাদী ও অর্থোডক্স খ্রিস্টান পরিচয়ভিত্তিক রাজনৈতিক বক্তব্য আরও জোরালো হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এর ফলে মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর নজরদারি ও চাপও বেড়েছে। সাম্প্রতিক গ্রেফতার এবং নতুন আইন নিয়ে বিতর্ক সেই পরিবর্তনেরই ইঙ্গিত বহন করছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এসব ঘটনা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে-দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক আনুগত্যের বিনিময়ে যে ধর্মীয় বৈচিত্র্যকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, রাশিয়া কি এখন সেই নীতি থেকে সরে আসছে? মুসলিম ধর্মীয় নেতাদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক পদক্ষেপ সেই ইতিহাসকেই নতুন করে উসকে দিয়েছে।
রাশিয়ায় সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে অনেক মুসলিম আলেম ও সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিকে গ্রেফতার করায় নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ এসব পদক্ষেপকে বিভিন্ন আইনি অভিযোগের অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করলেও, আন্তর্জাতিক ও বিশ্লেষক মনে করছেন, এর মাধ্যমে মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের ইঙ্গিত মিলছে।
মে মাসজুড়ে পরিচালিত এই অভিযানে কয়েকশত আলেম ও মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি আটক হন। রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমে ঘটনাগুলো সীমিতভাবে প্রকাশ পেলেও স্বাধীন ও নির্বাসিত গণমাধ্যমে এগুলো ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রাশিয়ার জাতীয়তাবাদী ও উগ্র-ডানপন্থি গোষ্ঠীগুলো এসব গ্রেফতারকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের দাবি, রাষ্ট্র অবশেষে এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে যারা দেশের ঐতিহ্য ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। বিভিন্ন ব্লগ ও টেলিগ্রাম চ্যানেলে মুসলিম ধর্মীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা দেখা গেছে।
এ সময় আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছেন স্পিরিচুয়াল বোর্ড অব মুসলিমস (ডিইউএম)-এর শীর্ষ নেতা দামির মুখেতদিনভ।
মুসলিম আলেমদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে আলোচিত একটি মামলা সামনে আসে ২৯ মে। এটি ছিল ডিইউএম চেয়ারম্যান মুফতি রাভিল গনুতদিনের প্রথম ডেপুটি দামির মুখেতদিনভের বিরুদ্ধে। তিনি ‘ঘৃণা বা শত্রুতা উসকে দেয়ার’ অভিযোগে অভিযুক্ত হন বলে জানায় ব্যবসায়িক দৈনিক আরবিসি।
তিনদিন পর ব্যবসায়িক সংবাদপত্র ভেদোমোস্তি জানায়, মঙ্গোল-তাতার যুগ’ শীর্ষক চিত্রকর্ম প্রদর্শনের কারণে তাকে এক লাখ ৫০ হাজার রুবল (প্রায় দুই হাজার ৪০ মার্কিন ডলার) জরিমানা করা হয়েছে। চিত্রকর্মটি, যা গত বছর একটি সাক্ষাৎকারের সময় তার কার্যালয়ের দেয়ালে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়, এটি ১২২৩ সালের কালকা যুদ্ধকে চিত্রিত করে, যা পূর্ব ইউরোপে মঙ্গোলদের প্রথম আগ্রাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়।
এটি ব্লগার, কট্টর জাতীয়তাবাদী এবং এমনকি কিছু সরকারি কর্মকর্তার সমালোচনার কারণ হয়। তাদের কেউ কেউ এই চিত্রকর্মকে ‘রাশিয়া-বিরোধী’ আখ্যা দেয়।
এদিকে ডিইউএমের প্রধান মুফতি রাভিল গাইনুতদিন সম্প্রতি এমন একটি বিলের বিরোধিতা করেন, যা আবাসিক ভবনে ধর্মীয় সমাবেশ ও জামাতে নামাজ আদায় কার্যত সীমিত করতে পারে। তিনি পুতিনের কাছে পাঠানো এক খোলা চিঠিতে সতর্ক করে বলেন, এই উদ্যোগ দ্বীন ইসলাম পালনের স্বাধীনতার সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী এবং এটি সমাজে বিভাজন ও উগ্রতা বাড়াতে পারে।
গাইনুতদিন আরও অভিযোগ করেন, দেশে মুসলমানদের জন্য পর্যাপ্ত মসজিদ ও দ্বীনি কেন্দ্র নেই এবং নতুন ইবাদতগাহ নির্মাণের ক্ষেত্রেও প্রশাসনের অনীহা দেখা যাচ্ছে। তাঁর মতে, নতুন আইন কার্যকর হলে মুসলিম সমাজ অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তিনি বলেন, ‘এটি দ্বীনি ইবাদতের সাংবিধানিক অধিকারের লঙ্ঘন এবং ‘চরমপন্থা’ উসকে দিতে পারে। এই বিলটি দেশে মুসলিম সমাজকে অন্যায়ভাবে লক্ষ্যবস্তু করছে, কারণ মুসলমানদের জন্য উন্মুক্ত ইবাদতগাহের ঘাটতি রয়েছে এবং নতুন মসজিদ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও ইবাদতগাহ নির্মাণের অনুমতি দিতে কর্তৃপক্ষ অনীহা দেখাচ্ছে।’
উল্লেখ্য সাম্প্রতিক গ্রেফতার ও আইনি পদক্ষেপগুলো শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, বরং রাশিয়ায় দ্বীন ইসলাম পালনের স্বাধীনতাহীনতা, মুসলিম পরিচয়ে রাষ্ট্রের নিপীড়ন-নির্যাতনের খবর নতুনভাবে প্রকাশ করছে। ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষের ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রমাণ করছে। মুসলিম বিশ্বে এর বিরুদ্ধে জাগরণ দরকার।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মুসলমানকে ‘মুসলমানিত্ব’ বুঝতে হবে। ‘আশহাদু আন্না মুহম্মাদার রসূলুল্লাহ’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাক্বীক্বীভাবে বলতে হবে ও আমলে আনতে হবে।
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
প্রতি বছর শুধু অসুস্থতার কারণে প্রায় ৬৪ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের শিকার হচ্ছে।
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রধানমন্ত্রী নিজেই ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেয়া শুরু করেছেন। বাতিল হয়েছে ‘রাষ্ট্রপতির’ সাথে ‘মহামান্য’ শব্দ ব্যবহারও।
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বাংলাদেশের সামরিক ব্যয় গত দশকগুলোতে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বৃদ্ধি মূলত বেতন, স্থায়ী খরচ এবং চলমান পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়েছে। তবে সামরিক আধুনিকায়ন, সমরাস্ত্র ক্রয় এবং নতুন প্রযুক্তি সংযোজনের জন্য মোট বাজেটের মাত্র ২-৪ শতাংশ ব্যয় হয়েছে।
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ্র পরিক্রমায় চললেই সে প্রজ্ঞা পাওয়া সম্ভব ইনশাআল্লাহ
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক বৈদ্যুতিক সংকটকে আরো ঘণীভূত করেছে, দেশকে টাল-মাটাল করেছে আমেরিকান কোম্পানী এক্সিলারেট এনার্জি। তাদের ২০৪০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ এবং বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুটতরাজের টেকসই পরিকল্পনা।
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক বৈদ্যুতিক সংকটকে আরো ঘণীভূত করেছে, দেশকে টাল-মাটাল করেছে আমেরিকান কোম্পানী এক্সিলারেট এনার্জি। তাদের ২০৪০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ এবং বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুটতরাজের টেকসই পরিকল্পনা।
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আর ড্রোন সক্ষমতা বাড়াতে বাজেট মাত্র ৫৭০ কোটি টাকা!!!!!!!!!!!!!!
০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
আর ড্রোন সক্ষমতা বাড়াতে বাজেট মাত্র ৫৭০ কোটি টাকা!!!!!!!!!!!
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সরকারের ঋণের পরিমাণ প্রায় ২০ লাখ কোটি টাকা
০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
তবে কি সাবেক সরকারের অসমাপ্ত ষড়যন্ত্রের সমাপনীর পথেই হাঁটতে চাইছে বর্তমান সরকার?
০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুসলিম দেশগুলোর উচিৎ মক্কা চুক্তিকে আরো বিশুদ্ধ ও বিস্তৃত করা যাতে ভারতের গোস্বা এত বাড়ে যে তাদের গোস্বার অনলেই তারা জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়
০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












