মন্তব্য কলাম
প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন ও কৌশলগত স্বনির্ভরতা: বাংলাদেশের ৫০ লক্ষ পদাতিক বাহিনীর জন্য ৩য় প্রজন্মের এটিজিএম রোডম্যাপ (পর্ব ৭)
, ০৯ মুহররম শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২৬ আউওয়াল, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৫ জুন, ২০২৬ খ্রি:, ১১ আষাঢ়, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) মন্তব্য কলাম
একটি দেশের ভৌগোলিক অখ-তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার মূল চালিকাশক্তি হলো তার সশস্ত্র বাহিনী। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ট্যাংক এবং ভারী সাঁজোয়া যানের ভূমিকা অপরিসীম, আর এই হুমকি মোকাবেলায় পদাতিক বাহিনীর সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো অ্যান্টি-ট্যাংক গাইডেড মিসাইল বা এটিজিএম।
এখানে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যানগত ও কৌশলগত সংশোধন প্রয়োজন। বিভিন্ন বৈশি^ক সামরিক সূচক ও সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের বর্তমান সক্রিয় সামরিক সদস্য সংখ্যা প্রায় ২ লক্ষের কাছাকাছি (সংরক্ষিত ও আধাসামরিক বাহিনীসহ এই সংখ্যা সাড়ে ৪ থেকে ৫ লক্ষের মতো হতে পারে)। বাংলাদেশ যদি তার বর্তমান বাস্তবসম্মত সামরিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে চায়, তবে পদাতিক ব্যাটালিয়ন এবং বর্ডার গার্ড (ইএই) ইউনিটগুলোর জন্য মেটিস-এম১-এর মতো সেকেন্ড-জেনারেশন সিস্টেমের পরিবর্তে সমসাময়িক মুসলিম বিশে^র আধুনিক থার্ড-জেনারেশন এটিজিএম প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করা সময়ের দাবি।
রাশিয়ার তৈরি পুরোনো প্রজন্মের ওয়্যার বা লেজার গাইডেড মেটিস এম-১ মিসাইলের প্রধান সীমাবদ্ধতা হলো এর 'স্যাকলোস' প্রযুক্তি। এতে মিসাইলটি লক্ষ্যে আঘাত না করা পর্যন্ত অপারেটরকে একস্থানে দাঁড়িয়ে নিশানা ধরে রাখতে হয়, যা আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে অপারেটরের জীবনকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলে। এই প্রযুক্তির বিকল্প হিসেবে বর্তমানে ইরান, তুরস্ক এবং পাকিস্তান অত্যন্ত সাশ্রয়ী, আধুনিক এবং নিখুঁত থার্ড-জেনারেশন এটিজিএম তৈরি করছে।
বন্ধুভাবাপন্ন তিন দেশের বিকল্প প্রযুক্তি ও কৌশলগত সুবিধা:
১. তুরস্কের ফায়ার-অ্যান্ড-ফরগেট ও টপ-অ্যাটাক প্রযুক্তি:
তুরস্কের ডিফেন্স জায়ান্ট ‘রকেস্টান’ বর্তমানে বিশ^মানের এটিজিএম তৈরি করছে। এর মধ্যে ওমটাস (২ থেকে ৪ কিমি রেঞ্জ) এবং কাঁধে বহনযোগ্য হালকা ওজনের কারাওক (২.৫ কিমি রেঞ্জ) বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে আদর্শ বিকল্প হতে পারে। এগুলো সম্পূর্ণ ফায়ার এন্ড ফরগেট প্রযুক্তির, অর্থাৎ মিসাইল ছুড়ে দেয়ার পর অপারেটর দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে পারেন। এর 'ইনফ্রারেড ইমেজিং সিকার' এবং ট্যাংকের সবচেয়ে দুর্বল অংশ-ছাদ লক্ষ্য করে আঘাত করার ক্ষমতা আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে শতভাগ সাফল্য নিশ্চিত করে।
২. ইরানের সাশ্রয়ী ও বৈচিত্র্যময় লাইন-আপ:
ইরানের এটিজিএম প্রযুক্তি যেমন শক্তিশালী, তেমনি অর্থনৈতিকভাবে সাশ্রয়ী। তাদের আল-মাস মিসাইলটি ইসরায়েলি স্পাইক এটিজিএম-এর আদলে তৈরি, যা ফায়ার-অ্যান্ড-ফরগেট ও টপ-অ্যাটাক সক্ষমতা সম্পন্ন। এছাড়াও রয়েছে তোওসান-১ (১.৫ থেকে ৩.৫ কিমি রেঞ্জ) যা জ্যামিং-প্রতিরোধী। হালকা ওজনের ড্রোন ও পদাতিক অভিযানের জন্য তাদের শাদীদ-৩৪৫ একটি চমৎকার সংযোজন হতে পারে।
৩. পাকিস্তানের পরীক্ষিত ও নতুন প্রজন্মের সিস্টেম:
ঐতিহ্যগতভাবে পাকিস্তান চিনের ঐঔ-৮ প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে মাঝারি পাল্লার (৩-৪ কিমি) বক্তারা-শিখান ব্যবহার করে আসছে, যা অত্যন্ত পরীক্ষিত। তবে সম্প্রতি তারা দেশীয় প্রযুক্তিতে থার্ড-জেনারেশন ফায়ার-অ্যান্ড-ফরগেট এটিজিএম হিজারা তৈরি করেছে, যা মেটিস-এম১ এর একটি নিখুঁত আধুনিক বিকল্প।
বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজনীয়তার পরিমাপ ও কৌশলগত রোডম্যাপ:
বাংলাদেশের প্রকৃত সামরিক অবকাঠামো (আনুমানিক ২ লক্ষ সক্রিয় সদস্য এবং পদাতিক ব্যাটালিয়ন সংখ্যা) বিবেচনায় নিলে এই ধরণের গাইডেড মিসাইলের প্রয়োজনীয়তা পরিমাণগতভাবে নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
কৌশলগত বন্টন : প্রতিটি পদাতিক ব্যাটালিয়নের অ্যান্টি-ট্যাংক গাইডেড মিসাইল (বিজিবি) প্লাটুনে সাধারণত ৪ থেকে ৬টি লঞ্চার থাকে। বাংলাদেশের সমতল ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামগ্রিকভাবে পদাতিক বাহিনী, ক্যাসেল ডিফেন্স ইউনিট এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (ইএই) জন্য আনুমানিক ৩৫০ থেকে ৫০০টি আধুনিক এটিজিএম লঞ্চার (যেমন: ওমটাস বা আল-মাস) প্রয়োজন।
গোলাবারুদ বা মিসাইল স্টকপাইল : প্রতিটি লঞ্চারের বিপরীতে যুদ্ধকালীন ও প্রশিক্ষণকালীন ব্যবহারের জন্য ন্যূনতম ১০ থেকে ১৫টি মিসাইলের মজুদ রাখা আন্তর্জাতিক সামরিক মানদ-। সেই হিসেবে বাংলাদেশের সামগ্রিক প্রতিরক্ষায় ৩,৫০০ থেকে ৫,০০০টি আধুনিক এটিজিএম মিসাইল রিজার্ভে রাখা প্রয়োজন।
প্রযুক্তির স্থানান্তর : বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তার ‘ফোর্সেস গোল’ অর্জনে সর্বদা স্বনির্ভরতার ওপর জোর দেয়। তুরস্কের রকেস্টান বা পাকিস্তানের সাথে যৌথ অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানা-এ এই থার্ড-জেনারেশন এটিজিএম-এর স্থানীয় সংযোজন বা 'টিওটি’ চুক্তি করা যেতে পারে।
আধুনিক ভূ-রাজনীতি এবং হাইব্রিড যুদ্ধের যুগে শুধু জনবল দিয়ে সীমান্ত বা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা অসম্ভব। রাশিয়ার পুরোনো ওয়্যার-গাইডেড মেটিস-এম১ প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে তুরস্কের ওএমটিএএস বা ইরানের আল-মাস-এর মতো ফায়ার-অ্যান্ড-ফরগেট প্রযুক্তি গ্রহণ করা বাংলাদেশের জন্য কৌশলগতভাবে লাভজনক হবে। এটি একদিকে যেমন আমাদের পদাতিক বাহিনীর মারণক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে, অন্যদিকে বন্ধুভাবাপন্ন দেশগুলোর সাথে যৌথ উৎপাদনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রির সক্ষমতাকেও এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
-মুহম্মদ কুররাতুল আইন হায়দার।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
২০২৬ থেকে ২০৩৯ সাল পর্যন্ত ১৩ বছর মেয়াদে প্রতি বছর ছয়টি করে কার্গো এলএনজি আমদানি কথা চলছে। যা প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে বা কম মূল্যে নির্ধারণ হয়নি। এবং এমন শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে যা দেশের স্বার্থবিরোধী।
০৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বাংলাদেশের ৫০ হাজার একরের বেশি জমি ভারতের দখলে। উদ্ধারে নেই সরকারের সক্রিয়তা।
০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
১৯৪৭ সালের বেনিয়া বৃটিশদের দেশবিভক্তির দোহাই দিয়ে এখন পার্বত্য চট্টগ্রামকে ভারতের ভূখন্ড দাবী করছে উপজাতি বিচ্ছিন্নতাবাদীরা।
০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মার্কিন দূত যে বাংলাদেশকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে গেলো, সরকারকে হুমকী-ধামকি দিলো তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ প্রতিরোধ হলো কৈ? সরকারী দল, বিরোধী দল, তথাকথিত সব ইসলামিক দল থেকে সব সুশীল, চিন্তাশীল, বিশ্লেষক তথা সব মহল কেউই কিন্তু প্রতিবাদ করলো না
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সুদী মহাজন ও বড় চোর, সমকামীমনা, ১৬৮ মামলার আসামী, দেশ বিক্রিকারী মার্কিন চুক্তিকারী, ক্ষমতার মসনদে বসে অর্থ লুটকারী, অন্যায় সুবিধা গ্রহণকারী, পাহাড় সম অপরাধ মব-সন্ত্রাসের জনক কুখ্যাত ইউনুসের প্রতি ভীষণ বীতশ্রদ্ধ।
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সুদী মহাজন ও বড় চোর, সমকামীমনা, ১৬৮ মামলার আসামী, দেশ বিক্রিকারী মার্কিন চুক্তিকারী, ক্ষমতার মসনদে বসে অর্থ লুটকারী, অন্যায় সুবিধা গ্রহণকারী, পাহাড় সম অপরাধ মব-সন্ত্রাসের জনক কুখ্যাত ইউনুসের প্রতি ভীষণ বীতশ্রদ্ধ। এই কুলাঙ্গার আবারো ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে, রাষ্টের শীর্ষ পদে তথা প্রেসিডেন্ট পদে আলোচনায় আসে কি করে? নেপথ্যে কি মার্কিন দূত গর? অথচ “ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়”- বিএনপির শ্লোগান
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বাংলাদেশের সামরিক কৌশল বাড়ানো উচিত
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বিএনপির নেতা কর্মী বর্তমান উপদেষ্টা মন্ত্রীরা-এমপিরাও, সুদী মহাজন ও বড় চোর, সমকামীমনা, ১২৬ মামলার আসামী, দেশ বিক্রিকারী মার্কিন চুক্তিকারী, ক্ষমতার মসনদে বসে অর্থ লুটকারী, অন্যায় সুবিধা গ্রহণকারী, পাহাড় সম অপরাধ মব-সন্ত্রাসের জনক কুখ্যাত ইউনুসের প্রতি ভীষণ বীতশ্রদ্ধ।
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
এই কুলাঙ্গার আবারো ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে, রাষ্টের শীর্ষ পদে তথা প্রেসিডেন্ট পদে আলোচনায় আসে কি করে? নেপথ্যে কি মার্কিন দূত গর? অথচ “ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়”- বিএনপির শ্লোগান
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আম্রিকা, চীন, ভারত, রাশিয়া সবার নজর বাংলাদেশের দিকে।
৩০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নতুন নতুন উন্নয়ন প্রকল্পের অজুহাতে চলছে শোষণ প্রকল্প।
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আর দ্বীনদার ব্যক্তির জন্য দ্বীন ইসলামই সবচেয়ে বড়
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












