মন্তব্য কলাম
বিশ্বে তৈরী পোশাক রফতানীতে প্রথম বাংলাদেশ কেনো তুলা আমদানীতেও প্রথম? নামে তুলা উন্নয়ন বোর্ড থাকলেও স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত তুলা চাষে কোনো উন্নয়নই নেই অপার সম্ভাবনা থাকলেও দেশে তুলা উৎপাদনে সরকারী কোনো তৎপরতা নেই অথচ ১৬৫০ থেকে ১৭৫০-এই ১০০ বছরে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোই বাংলা থেকেই ৩ লাখ গজ থেকে ৩ কোটি গজ কাপড় রপ্তানি করেছে। এই বিপুল উৎপাদনে এই বাংলাদেশই কীভাবে তুলার যোগান দিল?
, ০৯ মুহররম শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২৬ আউওয়াল, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৫ জুন, ২০২৬ খ্রি:, ১১ আষাঢ়, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) মন্তব্য কলাম
বাংলার ঘরে ঘরে নারী-পুরুষেরা কাপড় তৈরি করতেন যে তুলা থেকে, যে তুলার জোরে বাংলা শিল্পোন্নত দেশ ছিল, বাংলার মাটি যে তুলার উপযোগী, সেই তুলা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা কোথায়?
দৈনিক আল ইহসান শরীফের গবেষণায় জানা গেছে- দেশের ৭ লাখ হেক্টর পতিত জমিসহ মোট প্রায় ২০ লাখ হেক্টর জমিতে প্রায় ৮৫/৯০ লাখ বেল তুলা উৎপাদন করা সম্ভব। যার মূল্য ৪০ হাজার কোটি টাকা।
সরকারের উচিত- তুলা খাতকে অগ্রগামী করে আমদানির পরিবর্তে রফতানী নির্ভর করা। (২)
সামাজিক বিভাজন প্রকাশে কাপড় যেমন বড় ভূমিকা পালন করে, তুলার উৎপাদনও আসলে তা-ই। বলা হয়, সারা দুনিয়াকে তুলার নরম কাপড় পরা শিখিয়েছি আমরা। তার আগে পশম ও লিনেনের মোটা কাপড়ে হাঁসফাঁস করেছে তারা। সেই আমরা আজ বিদেশ থেকে তুলা আমদানি করি কোন যুক্তিতে?
অথচ, বাংলাদেশের নিজস্ব সক্ষমতাই রয়েছে তুলা উৎপাদনের। তুলার উপর চলা বিভিন্ন ‘কটন রিসার্চ’ থেকে প্রাপ্ত খবর এবং দৈনিক আল ইহসান শরীফের গবেষণা থেকে সমন্বিত তথ্যে জানা যায়, দেশের ৭ লাখ হেক্টর পতিত জমিসহ মোট প্রায় ২০ লাখ হেক্টর জমিতে প্রায় ৮৫/৯০ লাখ বেল তুলা উৎপাদন করা সম্ভব। যার মূল্য ৪০ হাজার কোটি টাকা।
তাই লাখো কোটি টাকার তৈরী পোশাক খাতের ব্যবসায় আরো সমৃদ্ধির জন্য আমদানি নির্ভরতা কমাতে তুলা উৎপাদনের বিকল্প নেই। আর তুলা উৎপাদন বাড়িয়ে শুধু আমদানি নির্ভরতা কমানো নয়; বরং রফতানীও সম্ভব।
উল্লেখ্য, তুলা উৎপাদনের সম্ভাবনাময় এলাকা হলো একদিকে উত্তরাঞ্চল অপরদিকে পার্বত্যাঞ্চল। বিশেষত, পার্বত্য চট্টগ্রামের দুই জেলা রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে উৎপাদিত রঙিন পাহাড়ি তুলা নতুন সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলছে।
এছাড়া, যশোর, সিলেট, আমানবাড়িয়া, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহসহ বিভিন্ন অঞ্চলে তুলা চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা থাকলেও জনবল সঙ্কটে তা সম্ভব হচ্ছে না। আর গবেষণার অভাবে তুলা উন্নয়ন বোর্ডও ভালো কিছু করতে পারছে না। তুলা উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়- আদা, হলুদ, আম, কাঁঠাল, কলা, মরিচ, গম, মেহগনির বাগান, উছতার ক্ষেত ও আউশ ধানের সঙ্গে তুলা চাষ করতে পারে কৃষকরা। এসব ফসলে ক্ষেতের মধ্যে সাথী ফসল হিসেবে তুলা উৎপাদন করা যাবে। মার্চ থেকে এপ্রিল মাসে মরিচের সঙ্গেও তুলা চাষ করা যায়।
পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট সুত্রমতে, তুলা শুধুমাত্র বস্ত্রশিল্পের জন্যই নয়, অন্তত ৪শ’ রকমের পণ্য তৈরি হয়। বাংলাদেশেও তুলার বীচি থেকে সাবান ফ্যাক্টরির ক্রুড অয়েল তৈরি হয়। আবার ক্রুড অয়েল রঞ্জন পদার্থ ‘গোসিপোল’ থাকে যা মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর বিধায় রিফাইন করে ভোজ্য তেল তৈরি করা হচ্ছে। তুলা বীচির খৈল ব্যবহৃত হয় চিংড়ি ঘেরেও। তুলার বীচি ভাঙানো ও তেল-খৈল তৈরির জন্য দেশে বেশ কিছু ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানও গড়ে উঠেছে। অর্থাৎ তুলা আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়া হলে খুলবে বহুমুখী সম্ভাবনার দ্বার ।
জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ ও তদারকির অভাবে রংপুরসহ শুধুমাত্র উত্তরাঞ্চলে প্রতি মৌসুমে দেড় হাজার কোটি টাকারও বেশি তুলা চাষের সম্ভাবনা কাজে লাগছে না। কৃষি বিজ্ঞানীদের মতে, এই অঞ্চলের আবহাওয়া ও মাটি তুলা চাষের জন্য উপযোগী। গবেষণাগারের কার্যক্রম না থাকা, কৃষকপর্যায়ে ধারণা না থাকা ও বাজার ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘসূত্রতার কারণে তুলা চাষের সম্ভাবনার মুখ থুবড়ে আছে।
বলাবাহুল্য, বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি খাতই অতিসম্ভাবনাময়। যার দ্বারা বাংলাদেশ সব খাতেই নিজ সক্ষমতা তো অবশ্যই বরং স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারে। যার উদাহরণ হলো তুলা। বাংলাদেশে তুলা চাষ করে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি করা সম্ভব। যার জন্য প্রয়োজন শুধু সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা ও বাজেট।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, দেশীয় সক্ষমতা থাকার পরও সরকার বিদেশ থেকে প্রতিবছর ৩০ হাজার কোটি টাকার তুলা আমদানি করছে। যা দিয়ে দেশের অর্থনীতিতে থেকে একটি বিশাল আর্থিক অংশ দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে অন্যদিকে দেশের তুলা খাত পরনির্ভরশীল হয়ে পড়ছে ও হুমকিতে রয়েছে বস্ত্রশিল্প খাত।
সরকারকে অনতিবিলম্বে তুলা খাতের ভারতনির্ভর নীতি থেকে তড়িৎ সরে আসতে হবে। সেইসাথে দেশেই সম্ভাবনাময় এলাকাগুলোতে তুলার চাষ করে নিজস্ব সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। আর পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে তুলা খাতের বিশৃঙ্খলা নিরসন করতে উজবেকিস্তান এবং আফ্রিকার তুলা উৎপাদনকারী দেশগুলো থেকে তুলা আমদানি করে সাম্প্রতিক সঙ্কট নিরসন করাই হবে যুগপৎভাবে সাশ্রয়ী ও বুদ্ধিমানের তথা দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কাজ।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ সম্পোর্কোন্নয়ন কেন শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তিতে? অনন্য উচ্চতায় উঠা এ সম্পর্ক কেন ইসলামী মূল্যবোধ ও মুসলিম ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে উজ্জীবিত হবে না? (১ম পর্ব)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন ও কৌশলগত স্বনির্ভরতা: বাংলাদেশের ৫০ লক্ষ পদাতিক বাহিনীর জন্য ৩য় প্রজন্মের এটিজিএম রোডম্যাপ (পর্ব ৭)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বিশ্বে তৈরী পোশাক রফতানীতে প্রথম বাংলাদেশ কেনো তুলা আমদানীতেও প্রথম? নামে তুলা উন্নয়ন বোর্ড থাকলেও স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত তুলা চাষে কোনো উন্নয়নই নেই অপার সম্ভাবনা থাকলেও দেশে তুলা উৎপাদনে সরকারী কোনো তৎপরতা নেই
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
দেশের ৪ কোটি মানুষ না খেয়ে থাকে। অথচ বছরে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার শস্য নষ্ট হয় খাদ্য অপচয় রোধ করতে ‘নিশ্চয়ই অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই’- পবিত্র কুরআন শরীফ উনার এই নির্দেশ সমাজের সর্বাত্মক প্রতিফলন ব্যতীত কোনো বিকল্প নেই।
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
অলস জমিদারের কায়দায় বসে বসে তালুক বিক্রী করে খাওয়ার মতই জ্যামিতিক হারে ঋণ বাড়িয়ে চলছে সরকার ২০২৮-২৯ অর্থবছর ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে ৩৩ লাখ ৭৭ হাজার ৬০০ কোটি টাকায়। দুর্নীতি বন্ধের পাশাপাশি উৎপাদন বাড়ানো রফতানী বৃদ্ধি ও বহুর্মুখীকরণ করার উদ্যম নেই সরকারের দেশ জাতিকে করে যাচ্ছে সুদী মহাজনদের কাছে জিম্মি ও বিক্রী।
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (১৩)
২১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ঋণ নির্ভর বাজেট প্রণয়ন না করে রফতানী বহুর্মুখীকরণের দ্বারা সমৃদ্ধ বাজেট প্রণয়ন খুব সহজেই সম্ভব। কাঁঠাল উৎপাদনে বাংলাদেশ প্রথম হলেও রফতানীতে তলানীতে। কাঁঠাল রফতানী করেও বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় সম্ভব।
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় ৫০ লক্ষ সেনাবাহিনীর অপ্রতিরোধ্যকরণের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদির বিবরণ (পর্ব ৬)
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় ৫০ লক্ষ সেনাবাহিনীর অপ্রতিরোধ্যকরণের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদির বিবরণ (পর্ব- ৫)
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
“বাংলাদেশের ওষুধ রফতানি হচ্ছে ১৪০টির বেশি দেশে”- গত পরশু (৮ই জুন) এই বিবৃতি দেয়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী কী ভেবে দেখবেন মার্কিনীদের সাথে করা গোলামী চুক্তিতে তার এই উচ্ছাস পুরোটাই গভীর এবং চরম-পরম উৎকণ্ঠায় পর্যবসিত হয়েছে মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের জন্যও মহা ধ্বংস প্রক্রিয়া বাংলাদেশের ৫১ কোটি নাগরিকের নিরাপত্তা নির্মূলীকরণ প্রক্রিয়া। মহা আত্মঘাতী, সর্বনাশী, দেশের সার্বভৌমত্ব বিক্রিকারী এ চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে (২য় পর্ব)
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বাংলাদেশের মহাকাশ প্রতিরক্ষা কৌশল: ৫০ লক্ষাধিক বহরের সমন্বিত বাহিনীর জন্য কৃত্রিম উপগ্রহ প্রযুক্তির রূপরেখা (পর্ব-৪)
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (১১)
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












