আজ পবিত্র ১৪ই মুহররম শরীফ। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক উনার খালিছ ওলী খাজায়ে খাজেগাঁ, হযরত খাজা বাহাউদ্দীন নকশবন্দ বুখারী আল হানাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
এ দিবস উনার তাৎপর্য অনুধাবন গোটা মুসলিম উম্মাহর জন্য ফরয-ওয়াজিব।
, ১৪ মুহররম শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০১ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ৩০ জুন, ২০২৬ খ্রি:, ১৬ আষাঢ়, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) সম্পাদকীয়
সব প্রশংসা মুবারক খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; যিনি সকল সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক।
(১)
আজ পবিত্র ১৪ই মুহররম শরীফ। খাজায়ে খাজেগাঁ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, হযরত খাজা বাহাউদ্দীন নকশবন্দ বুখারী আল হানাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার সম্মানিত দিবস। যে দিনটি কুল-কায়িনাতের সকলের জন্য ঈদ বা খুশির দিন। সুবহানাল্লাহ!
তিনি ৭১৮ হিজরী সনের পবিত্র ১৪ই মুহররম শরীফ, ইয়াওমুল জুমুয়াহ শরীফ বুখারার নিকটবর্তী “কাছরে আরেফান” নামক স্থানে পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!
জানা যায় হযরত শেখ বাহাউদ্দিন মুহম্মদ নকশবন্দ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মুরীদদিগকে “আল্লাহ” শব্দের নকশা লিখে দিতেন যাতে তারা মোরাকাবা-এর মাধ্যমে এ নাম পাকের নকশা স্বীয় কলবে প্রতিফলিত করতে পারে। ‘নক্শবন্দ’ শব্দের অর্থ ‘নকশাকর’। এ ত্বরীকার সূফীরা মহান আল্লাহ পাক উনার মহিমার নকশা হৃদয়ে ধারণ করেন এ অর্থে তাদের বলা হয় নক্শবন্দী। শেখ বাহাউদ্দিন মোহাম্মদ নকশবন্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি এজন্য নকশবন্দী উপাধিতে সুখ্যাতি অর্জন করেন।
(২)
তিনি সুদীঘকাল ইবাদত রিয়াজত, মোযাহাদা ও মোরাকাবায় মগ্ন ছিলেন। তিনি দেশে বিদেশে, পাহাড়ে, জঙ্গলে মহান আল্লাহ পাক উনার প্রেমে মাতোয়ারা হয়ে ঘুরে বেড়াতেন। দুনিয়ার কোন আকর্ষনই উনার ছিল না। প্রায়ই উনার পরিধেয় বস্ত্র ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত, নগ্ন পদে কন্টকাকীণ পথ চলতে চলতে উনার কদম মুবারক ক্ষত-বিক্ষত হয়ে যেত। কিন্তু সেদিকে তার কোন ভ্রুক্ষেপ ছিল না। উনার এক মাত্র ধ্যান ও সাধনা ছিল কিভাবে মাবুদ মাওলার সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভ করা যায়। সুদীর্ঘকাল এভাবে পাহাড়ে জঙ্গলে কঠিন ইবাদত-রিয়াজত ও সাধনার মাধ্যমে অতিবাহিত করেন। সে যুগের শ্রেষ্ঠ ওলীদের তারবীয়ত ও সোহবত লাভে তিনি ধন্য হন এবং দীর্ঘ প্রায় পঞ্চাশ বছর কঠোর রিয়াযাত ও সাধনা দ্বারা কামালিয়াত অর্জন করেন। এ সময় তিনি বুখারার সব খানকাহ ও মাদ্রাসার প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহ করতেন, তাছাড়া মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী ও দরবেশদের খিদমত ও তাদের ইস্তিঞ্জাখানা পরিস্কার করার কাজও করতেন।
উল্লেখ্য যে নাফসের পবিত্রতা লাভের জন্য দীর্ঘ চল্লিশ-পঞ্চাশ বছর কঠোর পরিশ্রমের পর তিনি চিন্তা করেন যে, পরবর্তী সময়ের মানুষের হায়াত দীর্ঘ হবে না এবং মহান আল্লাহ্ তায়ালা উনার মারিফাত ও মহব্বত হাসিলের জন্য তারা এত কষ্ট স্বীকার করতে পারবে না। কারণ, যতই দিন যাবে, ততই মানুষ দুনিয়ামুখী হবে এবং দুনিয়ার ঝামেলায় জড়িয়ে পড়বে। তাই একটি সহজ ত্বরীকা লাভের আশায় তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার দরবারে লাগাতার পনের দিন সিজদায় পড়ে থাকেন। নামাযের সময় হলে শুধুমাত্র জামায়াতে ফরয নামায আদায় করতেন এবং বাকী সময় সিজদায় পড়ে থাকতেন। এ সময় কোন দিন তিনি এক লোকমা খানা বা এক ফোঁটা পানি স্পর্শ করেননি।
(৩)
মহান আল্লাহ পাক উনার পুরস্কার স্বরূপ উনার দোয়াও কবুল করেছেন। এবং ত্বরীকার ছবক নফস থেকে শুরু না করে ক্বলব থেকে শুরু করতে ইলহাম-ইলকা লাভ করেছেন। আগের মত রিয়াজত-মাশাক্কাত-এর পরিবর্তে সুন্নত উনার আমল শুরুতেই শুরু করার নির্দেশ পেয়েছিলেন।
হযরত খাজা বাহাউদ্দীন নকশবন্দ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, মহাসম্মানিত সুন্নতে নববী মুবারক উনার উপর চলা অনেক বড় আমল। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরণ এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের অনুকরণ, এ দু’টি কাজ সংক্ষিপ্ত কিন্তু এর উপকার অনেক বেশী।
(৪)
নক্শবন্দিয়া ত্বরীকায় আটটি বিশেষ তাসাওউফি পরিভাষা রয়েছে, যেগুলিকে এ ত্বরীকার ভিত্তি মনে করা হয়।
হযরত খাজা বাহাউদ্দীন নকশবন্দ বুখারী আল হানাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উপর্যুক্ত বিষয়গুলির সঙ্গে আরও তিনটি বিষয় সংযোজন করেন। সেগুলি হলো: ১. ওয়াকূফ-ই-জামানী- নিজের সময় ও গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ; ২. ওয়াকূফ-ই-কালবী- হৃদয় নিয়ন্ত্রণ এবং ৩. ওয়াকূফ-ই-‘আদাদী- জিকির ইত্যাদি বেজোড় সংখ্যায় সম্পন্নকরণ।
(৫)
বলাবাহুল্য আখেরী জামানায় তাসাউফের ধারাবাহিকতা তথা সর্বশ্রেষ্ঠ ত্বরীকা নকশবন্দীয়া ত্বরীকার যে প্রসার তার মূলত হযরত খাজা বাহাউদ্দীন নকশবন্দ বুখারী আল হানাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বদৌলতেই।
সঙ্গতকারণেই হযরত খাজা বাহাউদ্দীন নকশবন্দ বুখারী আল হানাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিলাদত শরীফ দিবসে উনার পবিত্র সাওয়ানেহ উমরী মুবারক আলোচনা করার লক্ষ্যে মাহফিল করে এবং পবিত্র মীলাদ শরীফ, পবিত্র ক্বিয়াম শরীফ করে সর্বাত্মক ঈদ বা খুশি প্রকাশ করার জন্য সরকারী বেসরকারী যুগপৎভাবে যুথবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন।
ছহিবে সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্র্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারক-এ কেবলমাত্র তা লাভ করা সম্ভব। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। আমীন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
“সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসই হবে রাষ্ট্রের যাবতীয় কার্যাবলীর মূল ভিত্তি- এই অনুচ্ছেদ পূনর্বহালের প্রতিশ্রুতির সাথে চতুর্থ শ্রেণী থেকে খেলাধূলা এবং সংস্কৃতির নামে হারাম নাচ-গান বাজনার ইত্যাদি বাধ্য করার ঘোষণা চরম সাংঘর্ষিক।
০৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
৮৭ হাজার থেকে শিক্ষা খাতে বাজেট বেড়ে ১ লাখ সাড়ে ৩৬ হাজার কোটি টাকা কিন্তু গবেষণায় বরাদ্দ কতটুকু?
০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আত তাসিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার মহাপবিত্র নিসবাতুল আযীম শরীফ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আম্রিকা, ইসরাইল আর ফ্রান্সের ষড়যন্ত্রে- মুসলিম দেশ ইথিওপিয়ায় চলছে মর্মান্তিক গৃহযুদ্ধ আর ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ।
০৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আলাল আলামীন, আফদ্বালুন নাস ওয়ান নিসা বা’দা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আস সাবিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার এবং লখতে জিগারে সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম, কুতুবুল আলম, সাইয়্যিদাতুন নিসা, আহলে বাইতে রসূল, সাইয়্যিদাতুনা হযরত নিবরাসাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস।
০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
আজ ক্বায়িম-মাক্বামে সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম, সাইয়্যিদুনা হযরত শাহ নাওয়াদা আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ গ্রহণের সপ্তম দিন। তথা মহিমান্বিত আক্বীক্বা শরীফ।
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
লাখো অভিনব অর্জন, কর্মদক্ষতা তথা সাফল্যের মাঝে বিজিবির খুব কম কাজের খবরই গণমাধ্যমে আসে।
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নীরব ঘাতক ‘প্যারাকোয়াট’ সহ ১৭ রকমেরঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশক অবাধে ব্যবহার হচ্ছে।
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ঈদে আকবর মুবারক! ঈদে আ’যম মুবারক!! মহা ঈদ মুবারক!!! ক্বায়িম মাক্বামে সাইয়্যিদা শাবাবি আহলিল জান্নাহ। সুবহানাল্লাহ! ক্বায়িম-মাক্বামে সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম, সাইয়্যিদুনা হযরত শাহ নাওয়াদা আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন।
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যা গাউছুল আ’যম, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, মাহবুবে সুবহানী, কুতুবে রব্বানী হযরত বড়পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশের সুমহান দিবস।
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সালাফী ধর্মপ্রতিমন্ত্রী, ধর্মমন্ত্রী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ সংশ্লিষ্টরা। দায় এড়াতে পারেনা জুলাই সনদের এল.জি.বি.টি.কিউর সমর্থনকারী ধারা এবং সমর্থনকারী জামাতীরা।
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনার মহাপবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












