মহাকাশ প্রতিরক্ষার আড়ালে ভূগর্ভস্থ বর্ম:
৫০ লক্ষাধিক সেনাবাহিনীর জন্য বাংলাদেশের বাংকার নেটওয়ার্কের রূপরেখা (পর্ব ৯)
, ১৩ মুহররম শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ৩০ আউওয়াল, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৯ জুন, ২০২৬ খ্রি:, ১৫ আষাঢ়, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) মন্তব্য কলাম
আধুনিক যুদ্ধকৌশন কেবল আকাশ বা স্থলভাগের সমীকরণ দিয়ে নির্ধারিত হয় না। স্যাটেলাইট সাইডেড মিসাইল ড্রোন কনস্টেলেশন এবং দূরপাল্লার প্রিসিশন গাইডেড মারণাস্ত্রের (চএগ) এই যুগে, একটি বৃহৎ বাহিনীর টিকে থাকা এবং পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা নির্ভর করে তার সারভাইভেবিলিটি টিকে থাকার কৌশলের ওপর। বাংলাদেশের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা বাহিনী, রিজার্ভ এবং আধাসামরিক বাহিনী মিলিয়ে যদি ৫০ লক্ষাধিক সদস্যের একটি বিশাল সমন্বিত বহরকে বিন্যস্ত করতে হয়, তবে তাদের জন্য একটি দেশব্যাপী, কৌশলগত এবং উচ্চপ্রযুক্তিসম্পন্ন ভূগর্ভস্থ বাংকার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা অপরিহার্য।
এই বিশাল বহরের জন্য বাংলাদেশের ঠিক কোন কোন ভৌগোলিক পয়েন্টে, কতগুলো এবং কী ধরনের নিখুঁত কারিগরি ক্ষমতাসম্পন্ন বাংকার প্রয়োজন, তার একটি গভীর স্ট্র্যাটেজিক ও কারিগরি বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো:
১. কৌশলগত অবস্থান ও বাংকারের সংখ্যা :
৫০ লক্ষ সদস্যকে এক জায়গায় রাখা সামরিক দিক থেকে আত্মঘাতী। তাই এই বহরকে কৌশলগতভাবে দেশের পাঁচটি প্রধান জোনে ভাগ করে বাংকার নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে
ক) উত্তরাঞ্চল জোন (রংপুর-দিনাজপুর-বগুড়া অক্ষ):
শিলিগুড়ি করিডোর সংলগ্ন এই অঞ্চলটি সমতল হওয়ায় এখানে মাটির নিচে গভীর প্রতিরক্ষা প্রয়োজন।
বাংকারের ধরণ ও সংখ্যা: এখানে মূলত বড় আকারের ১০টি কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল (ঈ২) বাঙ্কার এবং ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৫,০০০ ট্যাকটিক্যাল বাঙ্কার প্রয়োজন। এগুলো প্রধানত মহাসড়ক এবং প্রাকৃতিক ছোপ-ঝোপের নিচে ছদ্মবেশে থাকবে, যা উত্তর সীমান্তকে নিñিদ্র রাখবে।
খ। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল জোন (ফেনী-মিরসরাই-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার অক্ষ):
এটি দেশের সবচেয়ে নাজুক চোখ পয়েন্ট। চট্টগ্রাম বন্দরকে দেশের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার যেকোনো চেষ্টা রুখতে এখানে শক্তিশালী বাঙ্কার চেইন দরকার।
বাংকারের ধরণ ও সংখ্যা: পাহাড়ের প্রাকৃতিক ভূখ-কে কাজে লাগিয়ে এখানে অন্তত ৫০টি হার্ডেন্ড মাউন্টেন বাঙ্কার' তৈরি করতে হবে, যেখানে ভারী আর্টিলারি এবং বিমান বিধ্বংসী মিসাইল সিস্টেম লুকিয়ে রাখা যাবে। এছাড়া উপকূলীয় সুরক্ষায় আরও ৩,০০০ আর্মার্ড পিনবক্স প্রয়োজন।
গ) সিলেট ও পার্বত্য অঞ্চল জোন (পাহাড়ি প্রতিরক্ষা):
পাহাড়ি বনাঞ্চল প্রাকৃতিকভাবেই বাঙ্কারের জন্য আদর্শ।
বাংকারের ধরণ ও সংখ্যা: এখানে প্রায় ৪,০০০ ইন্টার কানেক্টেড টানেল বাংকার প্রয়োজন। মাটির নিচে টানেল দিয়ে একটি বাঙ্কারের সাথে আরেকটি যুক্ত থাকবে, যাতে স্যাটেলাইট বা ড্রোন ওপর থেকে সৈনাদের অবস্থান ট্র্যাক করতে না পারে।
ঘ) মধ্যাঞ্চল ও উপকূলীয় জোন (ঢাকা-পদ্মা-সুন্দরবন অক্ষ):
কমান্ড হাইপার-সেন্টার এবং লজিস্টিকস ব্যাকআপের জন্য।
বাংকারের ধরণ ও সংখ্যা: ঢাকার আশেপাশে অন্তত ৩টি মেগা আন্ডারগ্রাউন্ড ডিপ সিল্টার এবং উপকূলীয় অঞ্চলে পানি ও স্থল উভয় দিকে আঘাত হানতে সক্ষম ২.৫০০টি উভচর বাঙ্কার প্রয়োজন।
২. বাংকার নির্মাণের সূক্ষ কারিগরি খুঁটিনাটি :
৫০ লক্ষ বহরের একটি বাহিনীকে সুরক্ষা দিতে সাধারণ সিমেন্ট-বালুর বাংকার সম্পূর্ণ অনুপযোগী। আধুনিক বাঙ্কারের জন্য যে সকল নিখুঁত কারিগরি প্যারামিটার প্রয়োজন।
ক) মেটেরিয়াল সায়েন্স ও রিইনফোর্সমেন্ট :
আল্ট্রা-হাই পারফরম্যান্স কংক্রিট : বাঙ্কারের দেয়াল সাধারণ কংক্রিটের বদলে ঝটইঝ এবং স্টিল ফাইবার দিয়ে তৈরি হতে হবে, যা প্রতি বর্গইঞ্চিতে অন্তত ১৫.০০০ থেকে ২০,০০০ পাউন্ড চাপ (৫১৫) সহ্য করতে পারে। এর ওপর থাকবে ব্লাস্ট-মিটিগেশন জিও-টেক্সটাইল' স্তর, যা বোমার ধাস্তায় দেয়ালের ভেতরের অংশ ধসে পড়া রোধ করে।
ইএমপি শিল্ডিং : আধুনিক পারমাণবিক বা ট্যাকটিক্যাল মিসাইল বিস্ফোরণের পর যে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক পালস' তৈরি হয়, তা বাঙ্কারের ভেতরের সব ইলেকট্রনিক্স ও যোগাযোগ তার পুড়িয়ে দেয়। এটি ঠেকাতে বাস্কারের ভেতরের দেয়াল সম্পূর্ণ ফ্যারাডে কেজ বা তামার পাত দিয়ে মুড়িয়ে দিতে হবে।
খ) লাইফ সাপোর্ট ও সিবিআরএন প্রটেকশন:
যুদ্ধক্ষেত্রে রাসায়নিক, জৈবিক বা পারমাণবিক হামলা হলে বাঙ্কারের ভেতরের বাতাস বিষাক্ত হতে পারে।
পজিটিভ প্রেশার ওভারপ্রেশার সিস্টেম : বাস্কারের ভেতরের বাতাসের চাপ বাইরের চেয়ে সামান্য বেশি রাখা হয়, যাতে বাইরে কোনো গ্যাস বা বিষাক্ত কণা থাকলে তা সুড়ঙ্গের কোনো লিক দিয়ে ভেতরে ঢুকতে না পারে।
হেপা (এইচইপিএ) এবং চারকোল ফিল্টারিং: বাতাস ভেতরে ঢোকার লাইনে মাল্টি-স্টেজ চারকোল ফিল্টার থাকবে, যা বিষাক্ত গ্যাস ও রেডিয়েশন কণা শুষে নেবে।
গ) স্মার্ট থার্মাল সিগনেচার ম্যানেজমেন্ট:
আধুনিক থার্মাল ড্রোনগুলো মাটির নিচের বাঙ্কারের ভেতরের মানুষের শরীরের তাপমাত্রা বা জেনারেটরের গরম বাতাস ট্র্যাক করে বোমা ফেলতে পারে।
কারিগরি সমাধান: বাঙ্কারের নিষ্কাশন গ্যাস সরাসরি আকাশে না ছেড়ে মাটির নিচে গভীর ঠা-া পানির লাইনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করে তাপমাত্রা কমিয়ে দূরবর্তী কোনো পানি পানিশয়ে বা মাটির গভীরে ছড়িয়ে দিতে হবে, যাতে ড্রোনের ইনফ্রারেড ক্যামেরায় বাস্কারটি অদৃশ্য থাকে।
৩. নেটওয়ার্কিং এবং রিলায়েন্স :
৫০ লক্ষ সৈন্যের এই বিশাল বাঙ্কার নেটওয়ার্কের মধ্যে যোগাযোগ সচল রাখা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
ট্যাকটিক্যাল ফাইবার অপটিক্স: মাটির নিচে কয়েকশ ফুট গভীর দিয়ে বিছানো থাকবে কোয়ান্টাম-এনক্রিপ্টেড ফাইবার অপটিক ক্যাবল।
ভিএলএফ (ভেরি লো ফ্রিকোয়েন্সি) রেডিও। যদি ওপরের সব যোগাযোগ টাওয়ার কাংসও হয়ে যায়, মাটির গভীর ভর ভেদ করে সংকেত পাঠাতে সক্ষম ভিএলএফ অ্যান্টেনা বাঙ্কারের যোগায্যের ব্যবস্থা সচল রাখবে।
একটি বিশাল বাহিনীকে কেবল খোলা ময়দানে বা সাধারণ সেনানিবাসে রেখে আধুনিক প্রক্সি ও হাইব্রিড যুদ্ধ জয় করা সম্ভব নয়। ৫০ লক্ষ বছরের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে একটি দুর্ভেদ্য দেয়ালে পরিণত করতে হলে দেশজুড়ে প্রায় ১৫,০০০ থেকে ২০,০০০ বিভিন্ন ক্যাটাগরির বাঙ্কার ও টানেল নেটওয়ার্ক প্রয়োজন। এই মেগা ইঞ্জিনিয়ারিং প্রজেক্টের পেছনে যে বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি সূক্ষ্মতা প্রয়োজন, তা নিশ্চিত করা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। ভূপৃষ্ঠের ওপরে আমাদের বাহিনী যত বিশালই হোক না কেন, মাটির নিচে তাদের বর্ম যত শক্তিশালী হবে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ততটাই নিñিদ্র হবে।
-মুহম্মদ কুররাতুল আইন হায়দার।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরে বাধ্য করতে। ভারতীয় নীল নকশা বুঝে নিতে। ভারত ছাড়া বাংলাদেশের চলবে। কিন্তু ভারতের বাঁচতে হলে বাংলাদেশকে লাগবে।
২০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ন্যাটোর ধারা ৫ এ বলা হয়েছে- যদি ন্যাটোভুক্ত কোনো সদস্য দেশের উপর সশস্ত্র হামলা হয়, তবে সকল সদস্য দেশ এটিকে নিজেদের উপর হামলা হিসেবে গণ্য করবে এবং আক্রান্ত দেশকে সাহায্য করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে, যার মধ্যে সশস্ত্র শক্তি প্রয়োগও অন্তর্ভুক্ত। অথচ শক্তিশালী মুসলিম দেশগুলো ন্যাটোর বিপরীতে মহা অধিকতর সামরিক জোট কঠিন করে কাফির বিশ্বে নিজেদের শক্তিমত্তা সর্ম্পকে জানান দেয়না। নাউযুবিল্লাহ! প্রসঙ্গত অধিকাংশ মুসলিম শাসকগুলো প্রবৃত্তির দাস সাম্রাজ্যবাদীদের ক্রীড়ানক। কিছু মুসলিম শাসক মুসলিম বিশ্বের সামরিক জোটের কথা বলা শুরু করেছে। তবে এটি আন্তরিক বা জোরদার নয়। এবং সব মুসলিম শাসকেরও বক্তব্য নয়।
১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
অবাধে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ সন্ত্রাসীগোষ্ঠী সর্বহারা পার্টির তাত্ত্বিকদের বই
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
২৫ মার্কিন কোম্পানী, ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর বিশাল বড় অনুলিপি এরা বাংলাদেশের গোটা অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ আম্রিকায় অর্থ পাচার, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে ছিনিমিনি খেলবে। বিশাল মূলধন ও আধুনিক প্রযুক্তি এবং বাংলাদেশ সরকারের দেয়া অতি সুবিধার কারণে এরা বাংলাদেশের শিল্পপতিদের তথা ব্যবসায়ীদের ধ্বসিয়ে দিবে।
১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ভূয়া অস্ত্র বেঁচে টাকা লুট করতে চায় ভূয়া আম্রিকানরা মনে করে আম্রিকা যুদ্ধে সেরা অথচ মেক্সিকো, স্পেন, জার্মানসহ কয়েকটি কাফের রাষ্ট্র ছাড়া কানাডা ভিয়েতনামসহ অনেক কাফের রাষ্ট্রের কাছেও তারা শোচনীয়ভাবে হেরেছে
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্ক বছরের পর বছর চালু রেখে এক সময় বিয়ে না করলে দন্ডবিধির ৩৭৫ ধারায় ধর্ষক হয় পুরুষ।
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর চারপাশে এখন চাপ আর চাপ এসব চাপকে- জনগণের নিজের মনে করতে হবে।
১০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
২০২৬ থেকে ২০৩৯ সাল পর্যন্ত ১৩ বছর মেয়াদে প্রতি বছর ছয়টি করে কার্গো এলএনজি আমদানি কথা চলছে। যা প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে বা কম মূল্যে নির্ধারণ হয়নি। এবং এমন শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে যা দেশের স্বার্থবিরোধী।
০৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বাংলাদেশের ৫০ হাজার একরের বেশি জমি ভারতের দখলে। উদ্ধারে নেই সরকারের সক্রিয়তা।
০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
১৯৪৭ সালের বেনিয়া বৃটিশদের দেশবিভক্তির দোহাই দিয়ে এখন পার্বত্য চট্টগ্রামকে ভারতের ভূখন্ড দাবী করছে উপজাতি বিচ্ছিন্নতাবাদীরা।
০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মার্কিন দূত যে বাংলাদেশকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে গেলো, সরকারকে হুমকী-ধামকি দিলো তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ প্রতিরোধ হলো কৈ? সরকারী দল, বিরোধী দল, তথাকথিত সব ইসলামিক দল থেকে সব সুশীল, চিন্তাশীল, বিশ্লেষক তথা সব মহল কেউই কিন্তু প্রতিবাদ করলো না
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সুদী মহাজন ও বড় চোর, সমকামীমনা, ১৬৮ মামলার আসামী, দেশ বিক্রিকারী মার্কিন চুক্তিকারী, ক্ষমতার মসনদে বসে অর্থ লুটকারী, অন্যায় সুবিধা গ্রহণকারী, পাহাড় সম অপরাধ মব-সন্ত্রাসের জনক কুখ্যাত ইউনুসের প্রতি ভীষণ বীতশ্রদ্ধ।
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












