মন্তব্য কলাম
ডিম ও মুরগির গোশত দেশের সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী প্রাণিজ প্রোটিনের উৎস। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জাতীয় পোল্ট্রি উন্নয়ন নীতিমালা-২০২৬-এ খসড়া নীতিমালার ৫.৮.১.২ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক পোল্ট্রি পালনের জন্য একদিন বয়সী বাচ্চা আমদানি করা যাবে না।
, ০৭ শাবান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৯ ছামিন, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ১৩ মাঘ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) মন্তব্য কলাম
খসড়া নীতিমালাটি শিগগিরই অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অনুমোদনের পায়তারা চলছে।
কিন্তু আমদানি পুরোপুরি বন্ধ হলে ছোট ও মাঝারি খামারিদের টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়বে।
বাচ্চার সংকট তৈরি হলে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে ভোক্তা পর্যায়ে।
এতে ডিম ও মুরগির গোশতের দাম বাড়লে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের প্রোটিন গ্রহণ চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হবে, যা জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তার জন্য মহা উদ্বেগজনক।
জরুরি প্রয়োজনে বাচ্চা বা প্যারেন্ট স্টক আমদানি করলেও তা দীর্ঘ ও জটিল প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে করতে হয়।
ফলে আকস্মিক সংকট দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে আমদানির মাধ্যমে বাজার স্থিতিশীল রাখা কার্যকরভাবে সম্ভব নয়।
একদিন বয়সী বাচ্চা আমদানি পুরোপুরি বন্ধ করলে বাজারে সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হওয়ার পাশাপাশি প্রান্তিক খামারিরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
প্রসঙ্গত আমদানী সংকট তৈরী করে এলপিজি গ্যাসের দাম বাড়িয়ে দেশে হাহাকার তৈরী করা হয়েছে।
এখন ঠিক রোজায় পূর্ব মুহুর্তে মুরগীর বাচ্চা আমদানী বন্ধ করে মুরগীর বাচ্চার তীব্র কিন্তু কৃত্রিম সংকটে তৈরী করে
দাম বাড়িয়ে যোগসাজসকারী সিন্ডিকেটকে চরম অনৈতিক সুবিধা দেয়ার ব্যবস্থা তথা দুরবস্থা করা হচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ।
এখনও কী জনগণ জেগে উঠবে না?
একদিন বয়সী মুরগির বাচ্চা উৎপাদনে দেশ এখনো স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। ফলে চাহিদার ১০-১৫ শতাংশ আমদানি করতে হয়। এমন প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি জাতীয় পোলট্রি উন্নয়ন নীতিমালা ২০২৬-এর চূড়ান্ত খসড়া প্রকাশ করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।
চলতি মাসের ১৩ তারিখে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে জাতীয় পোল্ট্রি উন্নয়ন নীতিমালা-২০২৬-এর খসড়া প্রকাশ করা হয়।
খসড়া নীতিমালার ৫.৮.১.২ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক পোল্ট্রি পালনের জন্য একদিন বয়সী বাচ্চা আমদানি করা যাবে না। কেবল একদিন বয়সী গ্র্যান্ড প্যারেন্ট স্টক এবং বাচ্চার সংকট দেখা দিলে ক্ষেত্রবিশেষে প্যারেন্ট স্টক আমদানি করা যাবে।
দৈনিক আল ইহসানের অনুসন্ধানে জানা গেছে, নিষিদ্ধ ঘোষণার পর কোনো সংকটে আমদানির প্রয়োজন দেখা দিলে নীতিমালা সংশোধনের প্রয়োজন পড়বে, যা সময়সাপেক্ষ। একই সঙ্গে প্যারেন্ট স্টক (পিএস) আমদানিতেও বাধার মুখে পড়তে হবে। কারণ, মাত্র কয়েকটি প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স থেকে গ্র্যান্ড প্যারেন্ট স্টক বা দাদা-দাদি আনার সক্ষমতা রাখে। ফলে সেসব প্রতিষ্ঠান থেকেই হ্যাচারিগুলোকে পিএস সংগ্রহ করতে হবে। আবার খামারিদেরও বাধ্য হয়ে হ্যাচারি থেকে বেশি দামে বাচ্চা কিনতে হবে।
অনুমোদনের জন্য খসড়া নীতিমালাটি শিগগিরই অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অনুমোদনের পায়তারা চলছে।
ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, সরকার আমদানিনির্ভরতা কমানোর কথা বললেও প্রস্তাবিত নীতিমালাটি ভোক্তা ও খামারিদের স্বার্থ ক্ষুণœ করতে পারে। কারণ, বাচ্চা উৎপাদন ও প্যারেন্ট স্টক সরবরাহের সক্ষমতা বর্তমানে গুটিকয় প্রতিষ্ঠানের হাতে কেন্দ্রীভূত। এতে এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরতা আরও বেড়ে যেতে পারে।
ইতিমধ্যে প্রস্তাবিত নীতিমালার বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে আলোচনার সুযোগ চেয়ে ১৫ জানুয়ারি সরকারকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন (বিপিআইএ)। এদিকে বিপিআইএ গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আশঙ্কা ব্যক্ত করেছে, নতুন নীতিমালা ‘গভীর ফাঁদে’ পরিণত হতে পারে।
প্রাণিসম্পদ-সচিবকে লেখা চিঠিতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আমদানির সুযোগ না থাকলে মুষ্টিমেয় কয়েকটি ফার্মের হাতে বিষয়টি একচেটিয়াভাবে চলে যেতে পারে।
‘নির্দিষ্ট সময়ে বাচ্চা না পেলে পুরো ব্যাচ লোকসানে পড়ে যায়। তখন আমদানির সুযোগ থাকলে অন্তত উৎপাদন চালু রাখা সম্ভব হয়। কিন্তু আমদানি পুরোপুরি বন্ধ হলে ছোট ও মাঝারি খামারিদের টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়বে।’
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ডিম উৎপাদনও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ডিম উৎপাদন ছিল ১১৯১.২৪ কোটি, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪৪০.৬৫ কোটিতে। খাত-সংশ্লিষ্টদের মতে, এই উৎপাদন ধরে রাখতে হলে ধারাবাহিক বাচ্চা সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় উৎপাদন ব্যাহত হলে ডিম ও মুরগির গোশতের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পোল্ট্রি উৎপাদন একটি দীর্ঘ ও ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। জিপি স্টক আমদানি করে সেগুলো বড় হতে সময় লাগে। এরপর ডিম উৎপাদন, সেখান থেকে পিএস এবং পরে বাণিজ্যিক বাচ্চা উৎপাদন- এই পুরো চক্র সম্পন্ন হতে কয়েক মাস থেকে এক বছরের বেশি সময় প্রয়োজন হয়। ফলে হঠাৎ কোনো রোগ প্রাদুর্ভাব বা উৎপাদন ব্যাঘাত ঘটলে তাৎক্ষণিক সমাধান হিসেবে এক দিনের বাচ্চা বা হ্যাচিং ডিম আমদানির বিকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগির বাচ্চার চাহিদা প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ। সোনালি ও রঙিন জাতের বাচ্চার চাহিদা সপ্তাহে প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ। কোনো কারণে উৎপাদন ব্যাহত হলে বাচ্চা সরবরাহে সংকটের আশঙ্কা থাকে।
২০২৪ সালেও এক দিন বয়সী মুরগির বাচ্চার দাম সর্বোচ্চ ৯০ থেকে ১০০ টাকায় উঠেছিল। দেশে বর্তমানে তালিকাভুক্ত হ্যাচারি রয়েছে ৫০টির বেশি। সরকারি মুরগির খামার রয়েছে ২৮টি, এর মধ্যে ১৫টি খামারে বাচ্চা উৎপাদন করা হয়।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে পোল্ট্রি খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে মুরগির সংখ্যা ছিল ২৬৮৩.৯৩ লাখ, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩৬০.৭০ লাখে। একই সময়ে হাঁসসহ মোট পোল্ট্রির সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪০৬৬.৫২ লাখ। এই বিশাল উৎপাদন ব্যবস্থার বড় অংশই নির্ভর করছে ধারাবাহিক ও সময়মতো এক দিন বয়সি বাচ্চা সরবরাহের ওপর।
সরকার বলছে, দেশীয় পোল্ট্রি শিল্পকে স্বনির্ভর করতে ধীরে ধীরে আমদানিনির্ভরতা কমানোই এই নীতিমালার মূল লক্ষ্য। তবে, বাস্তবতায় সেই সক্ষমতা এখনো তৈরি হয়নি বলে দাবি করছেন খামারিরা। তাদের মতে, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া আমদানি বন্ধ করা হলে বাজারে তীব্র বাচ্চা সংকট তৈরি হবে।
প্রান্তিক খামারিদের সংগঠনগুলো চায় এটা উন্মুক্ত থাকুক। তাদের দাবি, স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো একচেটিয়া বাজারকে নিয়ন্ত্রণ করে। যখন চাহিদা বেশি থাকে, তখন এক দিন বয়সী বাচ্চার দাম ৯০ থেকে ১০০ টাকায় উঠে যায়। আবার যখন চাহিদা কম থাকে, তখন এই দাম ১০ টাকাতেও নামে। কিন্তু খামারিরা যৌক্তিক দামের পক্ষে। কখনো যাতে ১০ টাকাতেও না আসে, আবার ১০০ টাকায়ও না ওঠে। এ কারণে আমদানি উন্মুক্ত রাখা প্রয়োজন। তা না হলে এর প্রভাব গিয়ে পড়বে ভোক্তা স্বার্থের ওপর। খামারি ও ভোক্তা উভয়েই তখন ক্ষতির মুখে পড়বে। অনেক সময় নিম্নমানের বাচ্চাও সরবরাহ করে কোম্পানিগুলো।
গত ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ব্রয়লারের মোট প্যারেন্ট স্টক আমদানি হয়েছে প্রায় ৫ লাখ ২০ হাজারটি। একই সময়ে গ্র্যান্ড প্যারেন্ট স্টক আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৬ হাজারটি। বর্তমানে একটি প্যারেন্ট স্টক মুরগির দাম ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা। হ্যাচারির মালিকরা জানান, এই দাম বড়জোর ১০০ থেকে ১২০ টাকা হওয়া উচিত। প্যারেন্ট স্টক আমদানি কঠিন হলে দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিআইএ) সভাপতি বলেন, ‘আমাদের যত বাচ্চার চাহিদা, তার ১০-১৫ শতাংশের মতো আমদানি করতে হয়। আমদানি তখনই করা হয়, যখন স্থানীয় বাজারে সেটি পাওয়া যায় না। প্রয়োজন হলে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় বাজার থেকে বাচ্চা করা যায়। কিন্তু আমদানি করতে হলে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, ক্ষেত্রবিশেষে একদিনের বাচ্চা শর্টেজ হলে আমদানি করা যেতে পারে। আমাদের আপত্তি এখানেই। কখন সংকট হবে তা আগে থেকে জানার সুযোগ নেই, তাহলে হঠাৎ সংকট দেখা দিলে কী হবে?’
তারা আরো বলেন, ‘দেশে যেসব কোম্পানি বাচ্চা উৎপাদন করছে তাদের ফার্মগুলোয় বিভিন্নভাবে অ্যাটাক হতে পারে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিতে পারে। ফলে কোনো একটি কোম্পানি এখানে ক্ষতিগ্রস্ত হলে বাজারের অস্থিতিশীলতা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন? এমন একটি ঘটনা ঘটলেই অন্তত এক বছর দেশবাসীকে ভুগতে হবে। ডিম উৎপাদনে মুরগির বাচ্চার অভাব দেখা দিলে ডিমের বাজারও তখন অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। এজন্য আমদানি বন্ধ করলেও সেটি পরিকল্পনামাফিক করতে হবে। অন্যথায় প্রান্তিক খামারিরা এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।’
বর্তমান কাঠামোয় পি এস (প্যারেন্ট স্টক) বাচ্চা আমদানি সীমিত বা নিয়ন্ত্রিত হলে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবে হাতে গোনা কয়েকটি বৃহৎ করপোরেট প্রতিষ্ঠান, যারা একই সঙ্গে জিপি (গ্র্যান্ড প্যারেন্ট), পি এস (প্যারেন্ট স্টক), কমার্শিয়াল লেয়ার ও ব্রয়লার বাচ্চা, ফিড উৎপাদন এবং কন্ট্রাক্ট গ্রোয়িং ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত। এর ফলে এই করপোরেট গোষ্ঠীর বাইরে থাকা অধিকাংশ হ্যাচারি ও ব্রিডার ফার্ম-যারা মূলত একদিন বয়সী লেয়ার ও ব্রয়লার বাচ্চা উৎপাদন করেন-পি এস বাচ্চা পাওয়ার সুযোগ থেকে কার্যত বঞ্চিত হবেন। এতে বাজারে প্রতিযোগিতা নষ্ট হয়ে একটি অলিগোপলি কাঠামো তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা প্রস্তাবিত পোল্ট্রি নীতিমালা ২০২৬-এর মাধ্যমে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিতে পারে।
এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবও হবে সুদূরপ্রসারী। পোল্ট্রি খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত লাখো মানুষের কর্মসংস্থান ঝুঁকির মুখে পড়বে, গ্রামাঞ্চলে আয় ও অর্থপ্রবাহ কমবে এবং জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা হুমকিতে পড়বে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো-উৎস পর্যায়ে যদি সরবরাহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়ে যায়, তাহলে সরকারের পক্ষে বাজার নিয়ন্ত্রণ, মূল্য স্থিতিশীল রাখা কিংবা ভোক্তা স্বার্থ রক্ষা করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে। এতে সরকার খাদ্য নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান সুরক্ষা ও বাজার ব্যবস্থাপনায় বহুমুখী চাপে পড়বে।
ইচওঅ দৃঢ়ভাবে মনে করে, পি এস বাচ্চা আমদানিতে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা বা অতি-কঠোর নিয়ন্ত্রণ কোনো টেকসই সমাধান নয়। বরং আমদানিকে উন্মুক্ত ও নমনীয় রাখা জরুরি, যাতে সংকটকালে দ্রুত পি এস বাচ্চা বা হ্যাচিং ডিম আমদানি করা সম্ভব হয়। এ বিষয়ে বাংলাদেশের বিদ্যমান পশু রোগ নিয়ন্ত্রণ আইন এবং ডিম ও মুরগি আমদানি সংক্রান্ত নীতিমালায় সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে। প্রয়োজন হলো-এসব আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন, বায়োসিকিউরিটি নিশ্চিত করা এবং একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
পোল্ট্রি খাতের টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রতিযোগিতামূলক বাজার ব্যবস্থা, বহুমুখী সরবরাহ উৎস উন্মুক্ত রাখা এবং প্রান্তিক ও মাঝারি খামারির সুরক্ষা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। সরকারি নীতিনির্ধারণে যদি কোনো গোষ্ঠীস্বার্থ প্রাধান্য পায়, তবে তার মাশুল দিতে হবে ভোক্তা, খামারি এবং সামগ্রিক অর্থনীতিকে-যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তাই ইচওঅ সংশ্লিষ্ট সকল নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে, পি এস (প্যারেন্ট স্টক) বাচ্চা আমদানির বিষয়ে বাস্তবসম্মত, ভোক্তা-স্বার্থবান্ধব এবং বাজার স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকারী নীতি গ্রহণ করার। অন্যথায়, প্রস্তাবিত “পোল্ট্রি নীতিমালা ২০২৬”-এর এই সিদ্ধান্ত ডিম ও মুরগির ভোক্তাদের জন্য এক গভীর ফাঁদে পরিণত হতে পারে।
ইচওঅ মনে করে, এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠান প্রথমে নিজেদের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করবে এবং পরবর্তীতে অবশিষ্ট পি এস বাচ্চা অত্যন্ত চড়া দামে বাজারে ছাড়বে। উৎপাদন কৌশলগতভাবে সীমিত রেখে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হলে প্রান্তিক ও মাঝারি খামারিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। অনেক খামার বাচ্চা সংকটে বন্ধ হয়ে যাবে, উৎপাদন কমে আসবে এবং এর সরাসরি প্রভাব পড়বে ডিম ও মুরগির গোশতের বাজারে যেখানে ভোক্তাদের অস্বাভাবিক উচ্চমূল্যে এসব নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য কিনতে বাধ্য হতে হবে।
ডিম ও মুরগির গোশত দেশের সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী প্রাণিজ প্রোটিনের উৎস। বাচ্চার সংকট তৈরি হলে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে ভোক্তা পর্যায়ে। এতে ডিম ও মুরগির গোশতের দাম বাড়লে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের প্রোটিন গ্রহণ বাধাগ্রস্ত হতে পারে, যা জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক। জরুরি প্রয়োজনে বাচ্চা বা প্যারেন্ট স্টক আমদানি করলেও তা দীর্ঘ ও জটিল প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে করতে হয়। ফলে আকস্মিক সংকট দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে আমদানির মাধ্যমে বাজার স্থিতিশীল রাখা কার্যকরভাবে সম্ভব নয়। একদিন বয়সী বাচ্চা আমদানি পুরোপুরি বন্ধ করলে বাজারে সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হওয়ার পাশাপাশি প্রান্তিক খামারিরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।
পোল্ট্রি প্রোডাকশন অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন স্পেশালিস্ট সংশ্লিষ্টরা জানায়, এই নীতিমালা বাস্তবায়িত হলে ত্রিমুখী সংকট তৈরি হবে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বেন প্রান্তিক খামারি ও ভোক্তারা। এই নীতিমালা বাস্তবায়নের আগে একটি গণশুনানি প্রয়োজন, যেখানে সব স্টেকহোল্ডার অংশগ্রহণ করে তাঁদের মতামত দেবেন। এরপর বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে এটি অনুমোদন দেওয়া উচিত। প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার শিল্পে এমন নীতিমালা করা উচিত নয়, যা নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে খামারিদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে-এমন কিছুই করা উচিত নয়। আমদানি নিষিদ্ধের দিকে নজর না দিয়ে বাজার ব্যবস্থাপনা ও প্রান্তিক খামারিদের দিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
পোল্ট্রি খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, নীতিমালা প্রণয়নের আগে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে আয়োজিত একাধিক বৈঠকে তারা একদিন বয়সী বাচ্চা আমদানি বন্ধ না করার পক্ষে মত দিয়েছিলেন। সে সময় অধিকাংশ অংশগ্রহণকারী খাদ্যনিরাপত্তা ও ভোক্তাস্বার্থের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার ওপর জোর দিলেও চূড়ান্ত খসড়ায় নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত যুক্ত হওয়ায় তারা হতাশা প্রকাশ করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, খাদ্যনিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানের দিক থেকে পোলট্রি খাত একটি বিশাল শিল্পে পরিণত হয়েছে। তাই নতুন কোনো নীতিমালা করতে হলে সব অংশীজনের অংশগ্রহণে গণশুনানি হওয়া উচিত।
উল্লেখ্য, পোল্ট্রি খাত শুধু একটি শিল্প নয়-এটি দেশের প্রাণিজ আমিষের প্রধান উৎস, গ্রামীণ অর্থনীতির চালিকাশক্তি এবং লাখো মানুষের জীবিকা ও কর্মসংস্থানের ভিত্তি।
তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, জাতীয় পোল্ট্রি উন্নয়ন নীতিমালা-২০২৬ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশীয় পোল্ট্রি শিল্পকে আরও সংগঠিত ও শক্তিশালী করা হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে খাদ্যনিরাপত্তা জোরদার করা হবে।
এতে বাণিজ্যিক পোলট্রি পালনের জন্য একদিন বয়সী মুরগির বাচ্চা আমদানি নিষিদ্ধের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতেই আপত্তি জানিয়েছেন খামারিরা।
ডিম থেকে ফুটার পর থেকে ৭২ ঘণ্টা বয়সী পোলট্রির বাচ্চাকে একদিনের বাচ্চা বা ডিওসি বলা হয়। খসড়া নীতিমালার একটি ধারায় বলা হয়েছে, ‘বাণিজ্যিক পোলট্রি পালনের জন্য একদিন বয়সী বাচ্চা আমদানি করা যাবে না।
সিলেটের অয়েস্টার পোলট্রি অ্যান্ড ফিশারিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ‘আমদানির সুযোগটা রাখা উচিত। এমনটি রাখা না হলে বাচ্চার দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় না। হঠাৎ করে যদি বার্ড ফ্লু বা অন্য কারণে বাচ্চা মারা যায় তখন কী করবেন? জরুরি মুহূর্তে উদ্যোগ নিয়ে তখন আমদানি করা সম্ভব হবে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘পোলট্রির বাচ্চার দামে স্থিতিশীল রাখা, উৎপাদনের ধারাবাহিকতা ও রোগবালাইয়ের আগাম প্রস্তুতি হিসেবে আমদানির বিষয়টি উন্মুক্ত রাখা উচিত। তবে উন্মুক্ত মানে এটা নয় যে দেশী শিল্পকে ধ্বংস করে বাজার উন্মুক্ত করা। আমরা চাই এখানে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান থাকবে।’
বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন বলছে, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও বিকল্প উৎপাদন সক্ষমতা নিশ্চিত না করে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হলে দেশে ডিম ও মুরগির গোশতের সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে, যা সরাসরি জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তা ও বাজার স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানিমেল প্রোডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আমদানি বন্ধ করার আগে সংকটকালে সমস্যা তৈরি হওয়ার শঙ্কা আছে কি না এবং যদি থাকে, তবে তার বিকল্প কী ব্যবস্থা রাখা হয়েছে-তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মুরগির বাচ্চা আমদানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সব অংশীজনের ইতিবাচক মত আছে কি না, সেটিও দেখতে হবে। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আগে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যকর কাঠামো নিশ্চিত না করা হলে নীতির লক্ষ্য অর্জনের বদলে পোল্ট্রি শিল্প, খামারি ও ভোক্তা-সবাই চাপের মুখে পড়তে পারেন।
প্রসঙ্গত বর্তমানে এলপিজি গ্যাসের চরম সংকটের পেছনে রয়েছে সরকারের আমদানী প্রতিবন্ধকতা তৈরী। গত ১৫ই জানুয়ারি সংবাদ শিরোনাম হয়- ‘দেশে এলপিজি আমদানি কমেছে দেড় লাখ টন, দ্বিগুণ দামেও সিলিন্ডার পাচ্ছেন না ভোক্তা’
খবরে বলা হয়-
দেশে প্রতিবছর ১০ শতাংশের বেশি হারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) চাহিদা বাড়ে। তাই বাজারে সরবরাহ বাড়াতে হয়। ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে আমদানি বেড়েছে প্রায় ৩ লাখ ৩৬ হাজার টন।
আর আগের বছরের তুলনায় গত বছর আমদানি কমেছে প্রায় দেড় লাখ টন। বছরের শেষ তিন মাসে আমদানি কমার হার ছিল বেশি। এতে এলপিজির বাজারে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে।
গত তিন বছরে দেশে এলপিজি আমদানির এমন চিত্র দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
পর্যবেক্ষক মহল বলছেন- আমদানীতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে সরকার সংশ্লিষ্ট মহল। এরপর অবস্থা মহাসংকটে পরিণত হলে সরকার নিজেই আবার আমদানীতে জোর দেয়।
গত ১৭ই জানুয়ারি গণমাধ্যমে শিরোনাম হয়- ‘দামের লাগাম টানতে সরাসরি আমদানিতে সরকার’।
খবরে বলা হয়-
বিপিসির চেয়ারম্যান মো. আমিন উল আহসান জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করেন, বর্তমানে বাজারে এলপিজি সিলিন্ডারের তীব্র সংকট এবং অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিভিন্ন জটিলতার কারণে অনেক বেসরকারি অপারেটর নিয়মিত এলপিজি আমদানি করতে পারছেন না। এই সুযোগে কোথাও কোথাও কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
মূলত: সরকারের যোগসাজসে সিন্ডিকেটকে সুযোগ করে দেয়ার জন্যই আমদানী সংকট তৈরী হয়। এর ফলে নেকভাজনদের খুব স্বল্প সময়ে অকল্পনীয় মুনাফা তৈরীর সুযোগ করে দেয়া হয়।
এলপিজি গ্যাসের পর এখন নতুন ক্ষেত্র বাচ্চা আমদানী বন্ধ। কিন্তু জনগণের মুখও কেন বন্ধ?
আর করে তারা জাগবে?
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
উৎপাদনহীন অর্থনীতি: সংকটের মূল কোথায়?
২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
“স্কুলে সংস্কৃতি চর্চা হলে দেশে উগ্রবাদ থাকবে না” নতুন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর এ বক্তব্য ফ্যাসিস্ট গত সরকার, তার ইসলাম বিরোধী সংস্কৃতি নীতি ও কুখ্যাত আওয়ামী সংস্কৃতিমন্ত্রীর হুবহু কণ্ঠস্বর। সংস্কৃতির নামে ঠগ সঙ্গীত, ঠগ বন্দনা, নাচ-গান তথা হিন্দুয়ানী সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতা ছিল আওয়ামী রাজনীতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। দ্বীনদার মুসলমান ও সন্ত্রাসবাদের নাটক ছিলো তাদের, ইসলাম দমনের হাতিয়ার।
২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি এবং উনার অনবদ্য তাজদীদ ‘আত-তাক্বউইমুশ শামসী’ সম্পর্কে জানা ও পালন করা এবং শুকরিয়া আদায় করা মুসলমানদের জন্য ফরয। মুসলমান আর কতকাল গাফিল ও জাহিল থাকবে?
২২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
লালদিয়া: উন্নয়নের স্বপ্ন, নাকি সার্বভৌমত্বের সওদা?
২১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার দোয়ার বরকতে প্রতি বছরই বাড়ছে বাংলাদেশের ভূখ-। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বিভিন্ন নদীর মোহনায় যে চর পড়েছে তা সুপরিকল্পিতভাবে সুরক্ষা ও উদ্ধার করা হলে অন্তত ১ লাখ বর্গকিলোমিটার ভূমি উদ্ধার করা সম্ভব হবে।
২১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
আইনের খাঁচায় বন্দি বিচার, আর কতকাল নিখোঁজ থাকবেন নওমুসলিম ’জারা’?
২০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না। যানজট নিরসনের মূল কারণ চিহ্নিত ও পদক্ষেপ নিতে না পারাই ঢাকায় যানজটের প্রধান কারণ। (৫)
২০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সিলেটের সবুজ অরণ্যে পাপাচারের কালো ছায়া-চা বাগানের পৌত্তলিক শ্রমিকদের মদ্যপতা ও অনৈতিকতা: উম্মাহর জন্য এক সতর্কসংকেত
১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ডলারের শিকল ভাঙা: গোল্ড রিজার্ভ, ডলার বর্জন এবং মুসলিম বিশে^র অভিন্ন মুদ্রার দাবি
১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
৯৮ শতাংশ মুসলমানের দেশে এ কেমন ধৃষ্টতা? কুড়িগ্রামে মুসলমান যখন নিজ ভূমে পরবাসী!
১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মাদক পাচারের কলঙ্কিত ইতিহাস নিয়ে মেডলগ-এর হাতে পানগাঁও বন্দর তুলে দেয়া কি সঠিক?
১৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সৌদি জনগণের চরম বিরোধীতা এবং আতঙ্ক প্রকাশের পরও মার্কিন ঘাটি স্থাপন হয়। ৬০০ বিলিয়ন সামরিক চুক্তি এবং ১ ট্রিলিয়ন বিনিয়োগ চুক্তির পরও ড্রাম্প সৌদি যুবরাজকে অপমান করেছে। আর ভ্রাতৃপ্রতীম পাকিস্তান ঠিকই চুক্তি অনুযায়ী সৌদিকে সহায়তায় এগিয়ে আসছে।
১৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












