১৩ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে মিল্লাত, শহীদে বালাকোট, আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (৮)
, ২৪ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৯ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৮ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ২৪ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম
উনার কতিপয় কারামত মুবারক:
(৬)
“তাওয়ারীখে আযীবা” কিতাবের ৫০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, একবার হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “কুএল” নামক স্থানে ছিলেন। এমতাবস্থায় আকবর আলী খাঁ নামক একজন লোক উনাকে শহীদ করার ইচ্ছায় অস্ত্রসহ সেখানে উপস্থিত হলো। হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ইলহাম কর্তৃক অবগত হয়ে উনার মুরীদদেরকে বললেন, ‘এমন নামধারী এক ব্যক্তি আমার নিকট আসতেছে তাকে ভিতরে আসতে বাধা দিও না।’ একটু পরে সেই অস্ত্রধারী লোকটি উনার সামনে এসে বসে গেলো এবং বললো, ‘আপনার নিকট আমার কিছু জিজ্ঞাসা করার আছে।’ সাইয়্যিদুল আউলিয়া, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, ‘আগ্রহ সহকারে জিজ্ঞাসা করো।’ ইহা বলা মাত্র তার সর্ব শরীরে কম্পন শুরু হলো। হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, ‘খাঁ সাহেব ভালতো’? এতে তার শরীরের কম্পন আরোও বেড়ে গেলো। অবশেষে সব অস্ত্র খুলে ফেলে হাত লম্বা করে উনার নিকট মুরীদ হয়ে গেলো এবং প্রকাশ করলো, ‘হুযূর! আমি আপনাকে শহীদ করার জন্য এসেছিলাম। কিন্তু আপনার সামনে বসার পর আমার ইচ্ছার পরিবর্তন হয়ে যায়।’ সুবহানাল্লাহ!
(৭)
“তাওয়ারিখে আযীবা” কিতাবের ৫৩ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, ছাহিবুল আসরার, রঈসুল আউলিয়া, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি আপন বোনকে একটা টাকা বরকতের জন্য দিয়েছিলেন। তিনি উক্ত টাকাটি একটা সিন্ধুকে রেখে দিয়েছিলেন। উনার (বোনের) যত টাকার দরকার হতো তিনি উক্ত সিন্দুক হতে বের করে ব্যয় করতেন কখনও উনার টাকার অভাব হতো না। সুবহানাল্লাহ!
(৮)
“তাওয়ারিখে আযীবা” কিতাবের ৫৩ পৃষ্ঠায় আরো উল্লেখ আছে, কলকাতা শহরে একজন অর্থশীল লোক ছিলো। সে সর্বদা মদপান করতো। সেই লোকটি এক দিন রঈসুল আউলিয়া, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার খিদমতে উপস্থিত হয়ে বলতে লাগলো, হুযূর! আমি মদ পান করতে এরূপ অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি যে, আমি তা করা ব্যতীত বেঁচে থাকতে পারি না। আমি আপনার নিকট সমস্ত গুনাহ হতে তওবা করতে পারি কিন্তু মদ পান ত্যাগ করতে পারবো না।
হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, আচ্ছা বাবা! তাই করো। কিন্তু আমার সাক্ষাতে আসার সময় (আমার সামনে) মদ পান করো না। সে ব্যক্তি শর্ত স্বীকার করে উনার নিকট বাইয়াত হলো। বাড়িতে উপস্থিত হয়ে তার মদ পানের ইচ্ছা প্রবল হলে খাদেমের নিকট মদ চাইলো। খাদেম পিয়ালায় মদ ঢেলে তার নিকট আনলো। যখনই সে ব্যক্তি পেয়ালাটি মুখের নিকট আনলো তখনই দেখতে পেলো যে, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি দাঁতে অঙ্গুলি দিয়ে তার সম্মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছেন।
তৎক্ষনাৎ সে ব্যক্তি মদের পেয়ালাটি নিক্ষেপ করে তওবা করে দাঁড়িয়ে পড়লো কিন্তু তারপরে আর উনাকে সেখানে দেখতে পেলো না। এতে সে বুঝলো যে, হয়তো তার ভুল হয়েছে। হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এখানে কিভাবে আসবেন? দ্বিতীয়বার সে ব্যক্তি খাদেমকে হুকুম দিলো যে, অন্য একটি পেয়ালায় মদ আনো। খাদেম মদ আনলো। সে ব্যক্তি মদের পেয়ালা হাতে নিয়ে পান করার ইচ্ছা করলো, পূর্বের ন্যায় এবারও সে হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে দন্ডায়মান দেখে পেয়ালাটি ফেলে দিলো ও হুযূর বলে সে উনার দিকে অগ্রসর হলো। (কিন্তু এবারও) সেখানে কাউকে দেখতে পেলো না।
তারপরে সে ব্যক্তি একটি কামরায় প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে মদের পেয়ালা মুখের নিকট নেয়া মাত্র হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে সম্মুখে দেখতে পেয়ে তৎক্ষনাৎ পেয়ালাটি ফেলে দিলো এবং উনাকে অনুসন্ধান করতে লাগলো। কিন্তু উনার কোন চিহ্ন পাওয়া গেলো না। অবশেষে নিরুপায় হয়ে ইস্তেঞ্জাখানার মধ্যে মদ পান করার ইচ্ছা করা মাত্র উক্ত ব্যক্তি হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে সম্মুখে দন্ডায়মান দেখে মদ পান হতে তওবা করলো এবং সমস্ত শরাবের পাত্র ভেঙ্গে ফেললো। মদ পান করা ছেড়ে দিলো। সুবহানাল্লাহ!
-মুহাদ্দিস আহমদ হুসাইন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৯ম পর্ব)
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
১৩ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে মিল্লাত, শহীদে বালাকোট, আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (৭)
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
১৩ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে মিল্লাত, শহীদে বালাকোট, আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (৬)
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৪র্থ পর্ব)
৩১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৮ম পর্ব)
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৭ম পর্ব)
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৬ষ্ঠ পর্ব)
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের প্রতিও বিশুদ্ধ আক্বীদা ও হুস্নে যন পোষণ করা অত্যাবশ্যকীয়
১৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৫ম পর্ব)
১৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৪র্থ পর্ব)
১৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৩য় পর্ব)
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (২য় পর্ব)
১২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












