জীবনী মুবারক
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৯ম পর্ব)
পবিত্র বিলাদত শরীফ: (তারিখ উল্লেখ নেই) পবিত্র বিছাল শরীফ: হিজরী ৩৮ সন (৬৫৭ খ্রি:)
, ২১ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৬ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৫ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ২১ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম
বিছাল শরীফ:
হযরত আছবাগ বিন নুবাতাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি, যিনি একজন তাবেঈ এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার ছাত্রদের একজন ছিলেন, তিনি বর্ণনা করেন, আমি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার সাথে ছিফফীনের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। যুদ্ধের প্রাক্কালে তিনি ঘোষণা করলেন, মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হয়ে কে কে আমার হাতে বাইয়াত গ্রহণ করবে? অতঃপর ৯৯ জন লোক উনার হাতে বাইয়াত গ্রহণ করেন। অতঃপর সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম বললেন, ‘একশত’ পরিপূর্ণ করার লোকটি কে? অতঃপর পশমী বস্ত্র পরিহিত, মস্তক-মুন্ডিত এক ব্যক্তি উপস্থিত হয়ে বাইয়াত গ্রহণ করলেন। লোকেরা বললেন, এই ব্যক্তি হচ্ছেন হযরত উওয়াইস আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি। অতঃপর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে তিনি যুদ্ধ করতে লাগলেন এবং অবশেষে শহীদ হয়ে গেলেন। (সিয়ারু আলামিন নুবালা)
অন্য একটি বর্ণনায় আছে, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার সাথে সাক্ষাতের পরে হযরত উওয়ায়েস রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, আমীরুল মু’মিনীন আমাকে প্রসিদ্ধ করে দিয়েছেন এবং আমার নাম ছড়িয়ে গিয়েছে। অতঃপর তিনি পাঠ করলেন-
اللهم صل على سيدنا محمد وعلى آله وسلام
অর্থাৎ তিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦তামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উপর ছলাত ও সালাম (দুরুদ শরীফ) পাঠ করলেন এবং অবনত মস্তক হলেন। অতঃপর বহুদিন পর্যন্ত উনার কোন খোঁজ খবর পাওয়া গেল না। পরবর্তীতে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার খিলাফত আমলে তিনি ফিরে আসেন এবং ছিফফীনের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে শাহাদাত মুবারক বরণ করেন। শাহাদাতের পরে উনার শরীর মুবারকে চল্লিশটির অধিক আঘাত দেখা গিয়েছিল। (সিয়ারু আলামিন নুবালা)
এই যুদ্ধ সংঘটিত হয় হিজরী ৩৮ সনে।
উনার কতিপয় ক্বওল শরীফ:
১। যে ব্যক্তি তিনটি জিনিসকে মুহব্বত করে, জাহান্নাম তার গলার খুব নিকটে-
-- অধিক খাদ্য ভক্ষণকারী।
-- অহংকারী পরিচ্ছদ পরিধানকারী।
-- আমীরের (বড়লোকদের) মোসাহেবী।
২। যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনাকে চিনতে পেরেছে, তার কাছে কোন কিছুই গোপন নেই। তার মাধ্যমেই মহান আল্লাহ পাক উনাকে জানা যায়।
৩। নির্জনতাতেই প্রশান্তি।
৪। তাওহীদের জ্ঞান শুধু তখনই লাভ হয়, যখন মহান আল্লাহ পাক ছাড়া অন্য চিন্তা মনে স্থান না পায়। একাকী থাকা ঠিক নয়। কারণ শয়তান দুই ব্যক্তিকে একত্রে দেখলে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। মনকে মহান আল্লাহ পাক উনার সমীপে হাযির রাখবে, তাহলে শয়তান সেখানে সুযোগ পাবে না।
৫। উচ্চ আসন তালাশ করছিলাম, বিনয় দ্বারা তা পেয়েছি। সর্দারী পেতে চেয়েছিলাম, সত্যের মাঝে তা পেয়েছি। গৌরব তালাশ করে দরিদ্রতার মধ্যে তা পেয়েছি। আভিজাত্য তালাশ করে পরহেজগারীর মধ্যে তা পেয়েছি। মহত্ব তালাশ করে তুষ্টিতে (কানা‘য়াত) তা পেয়েছি। নির্ভরতা তালাশ করে মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি নির্ভরতায় (তাওয়াক্কুল) তা লাভ করেছি। (তাযকিরাতুল আওলিয়া) সূত্রসমূহ: তাবাকাতে ইবনে সা‘দ, হেলইয়াতুল আওলিয়া, তাযকিরাতুল আওলিয়া, সিয়ারু আলামিন নুবালা, মুসলিম শরীফ।
-আল্লামা সাঈদ আহমদ গজনবী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
১৩ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে মিল্লাত, শহীদে বালাকোট, আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (৭)
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
১৩ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে মিল্লাত, শহীদে বালাকোট, আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (৬)
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৪র্থ পর্ব)
৩১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৮ম পর্ব)
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৭ম পর্ব)
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৬ষ্ঠ পর্ব)
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের প্রতিও বিশুদ্ধ আক্বীদা ও হুস্নে যন পোষণ করা অত্যাবশ্যকীয়
১৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৫ম পর্ব)
১৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৪র্থ পর্ব)
১৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৩য় পর্ব)
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (২য় পর্ব)
১২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (১ম পর্ব)
০৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












