১৩ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে মিল্লাত, শহীদে বালাকোট, আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (৬)
, ০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম
উনার কতিপয় কারামত মুবারক:
(১)
“তাওয়ারীখে আযীবা” কিতাবের ২০/২১ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, এক সময় হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার হুজরা শরীফে শোয়া অবস্থায় চিন্তা করতেছিলেন, না জানি এই যামানার কুতুবুল আকতাব (গাউছ) কে? তখন তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট উক্ত কুতুবুল আকতাবের যিয়ারতের জন্য আরজু করলেন। এই দোয়া করা মাত্র তা কবুল হয়। মহান আল্লাহ পাক তিনি বাতাসকে আদেশ মুবারক দিলেন যে, বিছানাসহ হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে সেই যামানার কুতুবুল আকতাব উনার নিকট পৌঁছে দিতে।
তিনি অনেক দেশ, পাহাড় ও বন-জঙ্গল দেখতে দেখতে অল্প সময়ের মধ্যে শাম দেশে (সিরিয়ায়) উপস্থিত হলেন। তিনি তখন দেখলেন উক্ত কুতুবুল আকতাব একজন সুন্দর যুবক। উনার চেহারা অনেক নূরানী, বংশ সাইয়্যিদ, হুসাইনী। তিনি নদীর উপকূলে মুরীদানদের সাথে বসে আছেন। প্রকাশ্যভাবে তিনি আদৌ হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার দিকে দৃষ্টিপাত করলেন না।
তখন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনাকে বললেন, ‘মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক লাভ করা ব্যতীত আপনার সাক্ষাতে আমার অন্য কোন উদ্দেশ্য নেই।’ কিন্তু তারপরেও সেই গাউছ তিনি উনার দিকে লক্ষ্য করলেন না। এতে হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার অন্তরে এক প্রকার কষ্ট অনুভূত হলো।
কিন্তু মহান আল্লাহ পাক তিনি এর বদৌলতে উনাকে একটি নিয়ামত ও কারামত দান করলেন। যে চল্লিশজন রেজালুল গায়েবকে কুতুবুল আকতাবের জন্য নিয়োজিত করা হয়, উনাদেরকে হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার জন্যও নিয়োজিত করা হলো। সুবহানাল্লাহ!
যাই হোক; এই নতুন নিয়ামত লাভের পরে মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাকে যেমন শাম দেশে নিয়ে গিয়েছিলেন সেরূপভাবে উনাকে উনার পূর্বের স্থানে পৌঁছে দিলেন। কিছু দিন পরে পুনরায় মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাকে উক্ত নিয়ামতসহ ঐ কুতুবুল আকতাবের নিকট পৌঁছে দিলেন, এবার মহান আল্লাহ পাক তিনি সেই কুতুবুল আকতাবকে জানিয়ে দিলেন যে, উনার পরে উক্ত মাক্বাম হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি প্রাপ্ত হবেন। এজন্য এবার সেই “গাউছ” তিনি হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাথে অত্যন্ত ভদ্রতা ও নম্রতার সাথে সাক্ষাত করলেন। এ ঘটনা ঘটার কয়েক বছর পর যে সময় তিনি খোরাসানে উপস্থিত হয়েছিলেন। (তখন তিনি বলেছিলেন) আমি ইতোপূর্বে এই পাহাড় ও ময়দানগুলোর উপর দিয়ে শাম দেশে গিয়েছি। সুবহানাল্লাহ!
(২)
“ওয়াসীলে ওয়াজীর, মাখজানে আহমদী ও তাওয়ারিখে আযীবা” কিতাবের ৫৬, ৫৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, (শ্রীহট্টে) একজন অর্থশীল হিন্দু বাস করতো। এক রাত্রে সে স্বপ্নে দেখলো যে, একটা বড় লম্বা সিঁড়ি আসমান হতে নেমে আসছে। সে ব্যক্তি উক্ত সিঁড়িতে আরোহণ করে আসমানের উপর চলে গেলো। একটি দরজা দিয়ে আসমানে প্রবেশ করে একজন উৎকৃষ্ট পরিচ্ছদধারী খুব ছূরতওয়ালা লোককে কুরসীর উপর বসা দেখলো। ঐ ব্যক্তি উনার নিকট উপস্থিত হয়ে আদবের সাথে সালাম করলো এবং জিজ্ঞাসা করলো, হুযূর আপনার নাম মুবারক কি? জবাবে তিনি বললেন, আমি সমস্ত মানুষের পিতা সাইয়্যিদুনা হযরত আদম ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম। তারপর সেই ব্যক্তি উনার বাম দিকে দোযখের ভীষণ যন্ত্রণা ও আযাব দেখে জ্ঞান হারা হয়ে পড়লো। এতে সাইয়্যিদুনা হযরত আদম ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি একজন লোককে বললেন, একে ডান দিকে নিয়ে যাও। তখন ঐ ব্যক্তি সেখানকার জান্নাতের অতুলনীয় সুখ শান্তি দেখে আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে গেলো।
ঐ ব্যক্তি সাইয়্যিদুনা হযরত আদম ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে এই দু’স্থানের কথা জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, সম্মানিত জান্নাত হচ্ছে, ঈমানদারদের স্থান এবং দোযখ পৌত্তলিক, মুশরিক ও মহাসম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অমান্যকারীদের স্থান। তুমি মুশরিকদের দলে। এই অবস্থায় তুমি যদি মারা যাও তাহলে দোযখে যাবে। তারপর তিনি বললেন, এই সময় “হযরত সাইয়্যিদ আহমদ রহমতুল্লাহি আলাইহি” নামীয় একজন আল্লাহওয়ালা, হাদী কলকাতায় অবস্থান করছেন তুমি দ্রুত উনার নিকট উপস্থিত হয়ে বাইয়াত গ্রহণ করে নিজের স্থান জান্নাতে করে নাও। ঐ ব্যক্তি (এইসব শুনার পর) কলকাতায় গিয়ে হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট এই সমস্ত ঘটনা বর্ণনা করে উনার নিকট তওবা করে, মুসলমান হয়ে উনার মুরীদ হয়ে গেলো। সুবহানাল্লাহ!
-মুহাদ্দিস আহমদ হুসাইন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
১৩ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে মিল্লাত, শহীদে বালাকোট, আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (১৩)
০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
১৩ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে মিল্লাত, শহীদে বালাকোট, আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (১২)
২০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
১৩ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে মিল্লাত, শহীদে বালাকোট, আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (১১)
১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
১৩ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে মিল্লাত, শহীদে বালাকোট, আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (১০)
১৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
১৩ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে মিল্লাত, শহীদে বালাকোট, আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (৯)
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
১৩ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে মিল্লাত, শহীদে বালাকোট, আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (৮)
০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৯ম পর্ব)
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
১৩ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে মিল্লাত, শহীদে বালাকোট, আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (৭)
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৪র্থ পর্ব)
৩১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৮ম পর্ব)
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৭ম পর্ব)
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৬ষ্ঠ পর্ব)
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












