১৩ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে মিল্লাত, শহীদে বালাকোট, আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (১০)
, ৩০ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১৫ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ১৪ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ৩০ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম
ত্রয়োদশ শতাব্দীর মুজাদ্দিদ, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি:
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَن حَضْرَتْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ اللَّهَ يَبْعَثُ لِهَذِهِ الأُمَّةِ عَلَى رَأْسِ كُلِّ مِائَةِ سَنَةٍ مَنْ يُجَدِّدُ لَهَا دِينَهَا"
অর্থ: নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি এই উম্মতের জন্য প্রত্যেক শতাব্দীর শুরুতে এমন একজন ব্যক্তিকে প্রেরণ করেন, যিনি উনার যামানায় সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার সংস্কার করেন।” (আবূ দাউদ শরীফ)
এই পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ব্যাখ্যায় আল্লামা রুহুল আমীন বশিরহাটী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার একখানা “বিজ্ঞাপন রদ” কিতাবের ৫-৬ পৃষ্ঠায় বলেছেন, ত্রয়োদশ শতাব্দীর মুজাদ্দিদ হচ্ছেন, আমিরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি।
আলিম কুল শিরোমণি, হাদীয়ে যামান, আল্লামা কারামত আলী জৈনপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার “মুকাশিকাতে রহমত” কিতাবে এ সম্পর্কে বলেন, প্রকৃতপক্ষে আমিরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এই যামানার প্রত্যেক লোকের মুর্শিদ, কেউ ইহা অবগত হোক অথবা না হোক, মান্য করুক অথবা না করুক তিনি ত্রয়োদশ শতাব্দীর মুজাদ্দিদ। উনাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি মুজাদ্দিদ করেছেন উনার ত্বরীকায় দাখিল হওয়া দ্বীনের দৃঢ়তার লক্ষণ। যেহেতু উনার ত্বরীকায় মহাসম্মানিক সুন্নত মুবারক উনার পায়রবী করা হয়। সুবহানাল্লাহ!
তৎকালে ভারতবর্ষে মুসলমানদের অবস্থা:
হযরতুল আল্লামা কারামত আলী জৈনপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিখ্যাত “মুকাশিফাতে রহমত” কিতাবে তৎকালে ভারতবর্ষে মুসলমানদের অবস্থা সম্পর্কে বর্ণনা করেন এইভাবে- “মানুষ তাদের ভালো অবস্থা ও চরিত্রকে অসৎ চরিত্র দ্বারা কলঙ্কিত করে ফেললো। বিদয়াত ও কুফরী চাল-চলন, প্রতিমা পূজা, মূর্তি বানানো, নাচ-গান, ঢাক-ঢোল, তানপুরা ইত্যাদি সম্মানিত শরীয়ত গর্হিত কাজে মশগুল হলো হিন্দুদের রথযাত্রা, দোলযাত্রায় অংশ নিতো। কিছু লোক পাদ্রী গোশাইর চাল-চলনে চলতো। পবিত্র কালিমা ত্বইয়্যিবা শরীফ উনার মর্ম না বুঝার কারণে শিরক করতো।
নামাজ, রোযা, হজ্জ, যাকাত, কুরবানী, ছদক্বা, ফিতরা, জুমুয়াহ, জামায়াত, দুই ঈদ একেবারে ছেড়ে দিয়েছিলো। তাদের মধ্যে দাড়ি মুন্ডানোর নিয়ম ছিলো। হিন্দু-মুসলমান চেনা যেতো না। কতক লোক রোযা রাখতো কিন্তু ইফতার করা ও সাহরী খাওয়ার সময় সম্পর্কে জ্ঞান রাখতো না। সুবহে সাদিক হলেও পানাহার করতো। নাউযুবিল্লাহ!
নিজেদের ইচ্ছামত মোহর ধার্য্য করতো। পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, ওয়াজ-নছীহত শ্রবণ করা একেবারে বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো। আযানের শব্দ শুনা যেতো না। পবিত্র কুরআন শরীফ পাঠের বদলে বালকদেরকে ফার্সি শিক্ষা দেয়া উত্তম মনে করতো। নামাজ, রোযা, হায়েজ-নিফাসের মাসয়ালা একেবারে মানতো না। এমনকি মহিলারা বেপর্দা হতো এবং কতক মহিলা রাত্রি বেলায় সজ্জিত হয়ে মেলায় যেতো। তাদের এই করুণ অবস্থায় মহান আল্লাহ পাক তিনি খলীফাতুল মুসলিমীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে মুজাদ্দিদ হিসেবে প্রেরণ করেন। তিনি দ্বীনের সংস্কার করেন।
যিকির-ফিকির, মুরাবাকার মাধ্যমে অসাবধান লোকদেরকে সতর্ক করে তোলেন। উনার আগমণে বহু বছরের কুপ্রথা, শিরক, বিদয়াত-বেশরার উচ্ছেদ ঘটে। পুনরায় হাকীকী সম্মানিত দ্বীন ইসলাম কায়িম হয়। পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ শিক্ষা, নামাজ, রোযা, হজ্জ, যাকাত, তারাবীহ, জুমুয়াহ, জামায়াত, আযান, পুনরায় পূর্ণদ্যমে চালু হলো। উনার আলিম খলিফাগণ পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, আকাঈদ, তাসাউফ, ফিকাহ কিতাব থেকে মানুষকে নতুনভাবে তা’লীম দিতে লাগলেন।
পবিত্র হজ্জে সম্মানিত বাইতুল্লাহ শরীফ ও সম্মানিত মদীনা শরীফ যিয়ারত মুবারক:
১২৩৬ হিজরী মোতাবেক, ইংরেজী ১৮২১ সালে তিনি এক বিশাল কাফেলাসহ হজ্জের জন্য হারামাইন শরীফের উদ্দেশ্যে গৃহ ত্যাগ করেন। পথের বিভিন্ন জায়গা যেমন ইলাহাবাদ, বেনারস, মির্জাপুর, চুনারগড়, গাজীপুর, দানাপুর, ফুলওয়ার শরীফ, আযিমাবাদ, কলিকাতা, তিব্বত প্রভৃতি জায়গা হতে উনার নিকট হাজার হাজার লোক এসে বাইয়াত হয়ে উনার কাফেলায় শরীক হয়।
১৮২২ সালের ১৬ মে তিনি পবিত্র হেরেম শরীফে প্রবেশ করেন। এই সময় পবিত্র হারাম শরীফের মাশাইখ-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট বাইয়াত হওয়ার জন্য দ্রুত ছুটে আসেন। যেমন, শায়েখ মুহম্মদ উমর রহমতুল্লাহি আলাইহি (হানাফী মুসাল্লার ইমাম), শায়েখ মুস্তফা মিরদাদ রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত শায়েখ আতা মিছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি, শায়েখ মুহম্মদ আলী হিন্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি, সাইয়্যিদ আকিল রহমতুল্লাহি আলাইহি, সাইয়্যিদ হামযা খাজা আলমাস রহমতুল্লাহি আলাইহি, শায়েখ আহমদ বিন ইদ্রিস রহমতুল্লাহি আলাইহি, শায়েখ বোখারামী রহমতুল্লাহি আলাইহি, শায়েখ হাসান আফেন্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি, শায়েখ শামসুদ্দীন রহমতুল্লাহি আলাইহি ও প্রমূখ হারামাইন শরীফের মাশাইখ-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহি কেউ সরাসরি কেউ কাশ্ফের মাধ্যমে অবগত হয়ে উনার নিকট এসে বাইয়াত হন।
একথা “মাখজানে আহম্মদী, সীরাতে সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ, সাওয়ানে আহমদী, কারামতে আহমদী” কিতাবে বর্ণিত আছে। পবিত্র মক্কা শরীফের হজ্জ পর্ব সমাপনের পর তিনি পবিত্র মদীনা শরীফের দিকে রওয়ানা হন। এখানে তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত রওজা শরীফ জিয়ারত মুবারক করেন। বাতেনীভাবে তিনি উনার নিকট থেকে অসংখ্য নিয়ামত মুবারক লাভ করেন। পবিত্র মদীনা শরীফ উনারও বহু শায়েখ উনার নিকট বাইয়াত হন।
-মুহাদ্দিস আহমদ হুসাইন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
১৩ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে মিল্লাত, শহীদে বালাকোট, আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (৯)
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
১৩ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে মিল্লাত, শহীদে বালাকোট, আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (৮)
০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৯ম পর্ব)
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
১৩ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে মিল্লাত, শহীদে বালাকোট, আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (৭)
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
১৩ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে মিল্লাত, শহীদে বালাকোট, আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (৬)
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৪র্থ পর্ব)
৩১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৮ম পর্ব)
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৭ম পর্ব)
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৬ষ্ঠ পর্ব)
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের প্রতিও বিশুদ্ধ আক্বীদা ও হুস্নে যন পোষণ করা অত্যাবশ্যকীয়
১৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৫ম পর্ব)
১৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৪র্থ পর্ব)
১৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












