১৩ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে মিল্লাত, শহীদে বালাকোট, আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (১১)
, ১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম
পবিত্র মক্কা শরীফ ও পবিত্র মদীনা শরীফ উনাদের যে সমস্ত জায়গা তিনি যিয়ারত করেন তা হচ্ছে- জান্নাতুল মুয়াল্লা, আকাবার প্রান্তর, হুদাইবিয়া, জান্নাতুল বাকী, উহুদ প্রান্তর, মসজিদে কুবা, মসজিদে কিবলাতাইন, মসজিদে খায়েফ, বাইয়াতে রিদওয়ান, ওয়াদীয়ে ছোগরা (যেখানে বদরী ছাহাবী, হযরত আবূ উবাইদা বিন হারিস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার পবিত্র মাজার শরীফ রয়েছে)। তিনি এ সমস্ত বরকতময় ও পবিত্র জায়গা জিয়ারত মুবারক করেন।
তরীকায়ে মুহম্মদিয়া বা আওর মুহম্মদিয়া তরীকার সংস্কার:
ত্বরীকায়ে মুহম্মদিয়া বা আওর মুহম্মদিয়া ত্বরীকাহ কোন নতুন তরীকাহ নয়। বরং পাক ভারত উপমহাদেশে মশহুর ত্বরীকাগুলোর যেমন, কাদেরীয়া, চিশ্তিয়া, নকশ্বন্দীয়া, মুজাদ্দেদীয়া, সোহরাওয়ার্দীয়া তরীকাহগুলোর নির্জাসমাত্র। এই তরীকায় নতুন কোন সবক সন্নিবেশিত করা হয়নি। বরং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সূক্ষ¥তিসূক্ষ¥ মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক অনুসরণই হচ্ছে- এই তরীকাহর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেমন, কাফির-মুশরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ-জিহাদ মুবারক করেছেন, সম্মানিত দ্বীন উনার দাওয়াত মুবারক দিয়েছেন, সম্মানিত হিজরত মুবারক করেছেন, একাধিক শাদী মুবারক করেছেন, সবার আগে সালাম দিয়েছেন, দুস্থঃ ও ইয়াতিমদের মাথায় হাত বুলিয়েছেন, জানাযার নামাজ ও রোগীদের খবরা-খবর নিয়েছেন, শত্রু কর্তৃক বিষপানে আক্রান্ত হয়েছেন ইত্যাদি ইত্যাদি মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারকসমূহ মহান আল্লাহ পাক উনার খাছ ওলী হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার হায়াত মুবারকেও দেখতে পাওয়া যায়।
হিজরত ও শিখদের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা:
মুঘল সাম্রাজ্য পতনের পর ভারত বিবিধ সমস্যার সম্মুখীন হয়ে পড়ে। আওরঙ্গজেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পরবর্তী অধিকাংশ শাসকগণ ছিল বিলাস প্রিয় জীবনে অভ্যস্ত ও দেশ পরিচালনায় অনুপযুক্ত। ফলে বিদেশী শক্তি তাদের উপর চেপে বসে। প্রথমতঃ যেমন ইংরেজ শক্তি বাণিজ্য করার নামে উপমহাদেশের বিপুল সম্পদ কুক্ষিগত করার জন্য মুঘল শাসন পতনের অপেক্ষায় ছিল। এছাড়া ইরানের নাদীর শাহ, আফগানিস্থানের আহম্মদ শাহ আবদালীর আগমণ বিবিধ সম্পদ লুক্তন, হত্যা যজ্ঞ কার্য পরিচালনার মধ্য দিয়ে ভারতবর্ষ ধ্বংসের মুখোমুখি হলো। দ্বিতীয়তঃ মারাঠা ও পাঞ্জাব সীমান্তে শিখদের যুলুম অত্যাচার এর মাত্রা এত বৃদ্ধি পেয়েছিল যে, মুসলমানদের শান্তিতে বসবাস করাই অসম্ভব হয়ে পড়েছিলো। সেই সময় শিখদের অত্যাচারে মুসলমানগণ কত যে অসহায় ছিলো তার সত্যিকার পরিচয় মিলে হযরত শাহ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার একটি কবিতার মধ্যে। তিনি উনার স্বচক্ষে দেখা শিখদের অত্যাচার সম্পর্কে কাব্যিক ভাষায় বলেন-
আল্লাহ পাক! শিখ ও মারাঠাদের প্রতিশোধ নিন,
তাদের ঘৃণ্য উপদ্রব নিকটে, দূরে নয়।
তারা আমাদের অনেককে হত্যা করেছে।
শীতকাল প্রায় আগত, তাই মন উৎকক্তিত শিখদের ভয়ে, এবং সেই ভয় যথার্থ।
আল্লাহ পাক তাদের এদেশ থেকে উচ্ছেদ করুন!
যেহেতু তারা নিকৃষ্ট শত্রু আর তারা সন্ত্রাসের সমষ্টি।
হযরত শাহ আব্দুল আজীজ মুহাদ্দিস দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার এ কবিতা হতে বুঝা যায় তৎকালে শিখ সম্প্রদায় মুসলমানদের উপর অনেক জোর-জুলুম চালাতো। মসজিদ গুলিকে ঘোড়ার ঘর বানিয়েছিল। লাহোরের শাহী মসজিদের হুজরা গুলি শাহী আস্তা বলে পরিণত করেছিল। আজানের উপর নিষেধাজ্ঞা জারী করেছিল। মুসলিম নর-নারীদের মান সম্ভ্রম নষ্ট করতো এবং তাদের দ্বারা দাসীবান্দীর কাজ জোর করে করানো হতো। সীমান্তে মুসলমান কৃষকদের শস্যের ক্ষেতগুলি ও তাদের বাড়ী ঘরে প্রায় সময় আগুন ধরিয়ে দেয়া হতো। অন্যান্য সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত, হুকুমত সেখানে পালন করা কোন অবস্থাতেই সম্ভবপর ছিল না। মোট কথা সেখানকার সমগ্র মুসলমান হতাশা, বঞ্চনা ও অবমাননাকর অবস্থায় মধ্য দিয়ে দিন গুজরান করছিল। তারা একজন নিঃস্বার্থ ও নিবেদিত মুসলিম আমীরের প্রতীক্ষায় ছিলো। যিনি তাদের এহেন অবস্থায় থেকে বিশেষ করে শিখদের কবল থেকে মুক্তি দিতে পারেন।
মুজাহিদে মিল্লাত, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি মুসলমানদের এ অবস্থা লক্ষ্য করে সীমান্তে বিশেষ করে সারা ভারতে তাগুত শক্তির বিরুদ্ধে জিহাদের ডাক দিলেন। এতে তার সঙ্গী-সাথী, খলিফা ও সাধারণ মানুষের মধ্য থেকে বিপুল সাড়া পাওয়া গেল। ইতোমধ্যে তিনি কয়েকবার ভারতবর্ষের এ প্রান্ত থেকে ঐ প্রান্ত পর্যন্ত সফর করে সরে জমিনে মুসলমানদের দুরাবস্থা পর্যবেক্ষন করেছিলেন।
১২৪১ হিজরী ৭ই জুমাদাল ঊখরা মোতাবেক ইংরেজী ১৮২৬ সালের ১৭ই জানুয়ারী তিনি উনার মাতৃভূমি নিজস্ব বাড়ি থেকে আহলিয়া-সন্তান, আত্মীয়-স্বজন ত্যাগ করে সারা জীবনের জন্য মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় বেরিয়ে পড়েন। শাহাদাত মুবারক লাভের আগ পর্যন্ত আর কোন দিন দেশে ফেরেননি। তিনি রাজপুতনা, মারওয়াড়, সিন্ধু, বেলুচিস্থান, আফগানিস্থান ও সীমান্তের বিভিন্ন গিরি পর্বত, বন জঙ্গল, মালভূমি, নদী-নালা অতিক্রম করে শিখদের এলাকায় এসে তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। শিখদের সাথে তার যে সমস্ত যুদ্ধ হয়েছে তার মধ্যে নওশেরার যুদ্ধ, সিদুর যুদ্ধ, আকোড়ার যুদ্ধ, পানজ তারের যুদ্ধ, মায়ার যুদ্ধ, মর্দান যুদ্ধ ও বালাকোটের যুদ্ধ প্রধান।
-মুহাদ্দিস আহমদ হুসাইন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
১৩ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে মিল্লাত, শহীদে বালাকোট, আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (১০)
১৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
১৩ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে মিল্লাত, শহীদে বালাকোট, আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (৯)
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
১৩ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে মিল্লাত, শহীদে বালাকোট, আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (৮)
০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৯ম পর্ব)
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
১৩ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে মিল্লাত, শহীদে বালাকোট, আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (৭)
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
১৩ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে মিল্লাত, শহীদে বালাকোট, আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (৬)
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৪র্থ পর্ব)
৩১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৮ম পর্ব)
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৭ম পর্ব)
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৬ষ্ঠ পর্ব)
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের প্রতিও বিশুদ্ধ আক্বীদা ও হুস্নে যন পোষণ করা অত্যাবশ্যকীয়
১৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৫ম পর্ব)
১৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












