জীবনী মুবারক
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৮ম পর্ব)
পবিত্র বিলাদত শরীফ: (তারিখ উল্লেখ নেই) পবিত্র বিছাল শরীফ: হিজরী ৩৮ সন (৬৫৭ খ্রি:)
, ১৪ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ৩০ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৯ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ১৪ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম
উনার জীবনের অন্যান্য ঘটনা:
তাযকিরাতুল আওলিয়া কিতাবে উল্লেখ আছে, এক বর্ণনাকারী বলেন, আমি একদিন হযরত উওয়াইস রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাথে সাক্ষাত লাভের আশায় উনার খিদমতে হাযির হয়ে দেখলাম, তিনি ফজরের নামায পড়ছেন। নামায শেষে তছবীহ পড়তে লাগলেন ও যোহরের সময় পর্যন্ত তা পড়লেন। যোহরের নামাযের পর থেকে আছর পর্যন্ত তছবীহ পাঠ করে সে নামাযও শেষ করলেন। এভাবে তিনি তিনদিন পর্যন্ত কিছুই খেলেন না এবং শয়নও করলেন না। চতুর্থ রাত্রিতে দেখলাম, তিনি সামান্য কিছু সময় ঘুমালেন। ঘুম ভাঙ্গার পর মুনাজাত করতে লাগলেন, আয় বারে ইলাহী! তৃপ্তির ঘুম এবং পেট পুরে খাওয়ার ত্রুটি থেকে আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি। এই বাক্য শুনে আমি অবাক হয়ে ফিরে আসলাম।
* বর্ণিত আছে যে, তিনি রাত্রে শয়ন করতেন না এবং বলতেন, এ রাত রুকুর জন্য, এ রাত সিজদার জন্য, এ রাত দাঁড়িয়ে থাকার জন্য- এভাবে তিনি প্রতিটি রাত জেগে কাটিয়ে দিতেন। মানুষ উনাকে জিজ্ঞেস করত হযরত উওয়াইস রহমতুল্লাহি আলাইহি! কেমন আছেন? উত্তরে তিনি বলতেন, রাত্রে সিজদায় গিয়েسُبْحَانَ رَبِّىَ الْأَعْلَى (সুবহানা রব্বিয়াল আ’লা) বলতে না বলতেই প্রভাত হয়ে যায়। আমি ফেরেশতাদের মত ইবাদত করতে চাই, কিন্তু পারছি না।
* একদিন হযরত উওয়াইস রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে জিজ্ঞেস করা হলো, নামাযে একাগ্রতা কিরূপ? প্রতি উত্তরে তিনি বললেন, নামাযে রত থাকা অবস্থায় নামাযীকে তীর মারলেও যদি বোধ না হয়, তাহলে সে একমনে নামায পড়ছে মনে করতে হবে। এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল, কেমন আছেন? উত্তরে তিনি বললেন, আচ্ছা বলুন তো, তার অবস্থা আবার কেমন- যে সকাল বেলা উঠে জানতে পারে না যে, মৃত্যু সন্ধ্যা পর্যন্ত তাকে অবকাশ দিবে কিনা? লোকটি আবার বলল, তবুও বলুন কি অবস্থা? তিনি উত্তরে বললেন, তিনি পথের সম্বলহীন এবং উনার পথও সুদীর্ঘ।
* একদিন হযরত উওয়াইস রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে জানানো হলো, কাছেই এক ব্যক্তি ত্রিশ বছর যাবত কবরে বসে গলায় কাফন ঝুলিয়ে কান্নাকাটি করে দিন যাপন করছে। তিনি বললেন, আমাকে সে স্থানে নিয়ে চলুন, আমি তাকে দেখব। তারা হযরত উওয়াইস রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে লোকটির নিকট নিয়ে গেলে তিনি দেখেন যে, লোকটি জীর্ণ-শীর্ণ ও বিবর্ণ হয়ে গেছে এবং কাঁদতে কাঁদতে পরিশ্রান্ত হয়ে পড়েছে। তখন তিনি বললেন-
يَا فُلَانٌ شَغَلَكَ الْقَبْرُ عَنِ اللهِ
(হে অমুক ব্যক্তি! কবর ও কাফন আপনাকে মহান আল্লাহ পাক উনার থেকে সরিয়ে দিয়েছে)। অথচ আপনি এ দু’টিতে মত্ত হয়ে আছেন। এ দু’টিই আপনার গন্তব্য পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। হযরত উওয়াইস রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কথায় লোকটি নিজের ভুল বুঝতে পেরে চিৎকার দিয়ে উঠেন এবং সেই কবরেই উনার ইনতিকাল হয়ে যায়।
* কোন এক সময় হযরত উওয়াইস রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনদিন অনাহারে ছিলেন। চতুর্থ দিন খাদ্যের সন্ধানে বের হয়ে পথে একটি দীনার দেখতে পেলেন। কেউ তা হারিয়েছে ভেবে তিনি তা নিলেন না। অগত্যা শাক-লতা আহার করবেন বলে ঠিক করলেন। ঠিক সে সময় একটি ছাগল একটি গরম রুটি মুখে করে এনে উনার সামনে রেখে দিল। ছাগলটি উনাকে সেটি গ্রহণ করতে ইঙ্গিত করে বলল, আপনি যে মহান আল্লাহ পাক উনার বান্দা, আমি উনারই বান্দা। হযরত উওয়াইস রহমতুল্লাহি আলাইহি রুটিখানা গ্রহণ করা মাত্রই ছাগলটি অদৃশ্য হয়ে গেল।
* হযরত উওয়াইস রহমতুল্লাহি আলাইহি এক ব্যক্তিকে নছীহত করে বললেন, আপনি যদি আসমান ও যমীন পরিমাণ ইবাদত করেন, কিন্তু মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার মহাসম্মানিত রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উপর ঈমান না আনেন, তাহলে তা কবুল হবে না। লোকটি জানতে চাইলেন আচ্ছা, কিভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার উপর ঈমান আনব? তিনি বললেন, আপনার যা আছে তাতেই আপনি তুষ্ট এবং নিশ্চিন্ত থাকবেন, যেন অন্য কোন বস্তুর প্রতি আপনি আকৃষ্ট না হন। (তাযকিরাতুল আওলিয়া)
* বর্ণিত আছে যে, যখন সন্ধ্যা হতো, হযরত উওয়াইস রহমতুল্লাহি আলাইহি বলতেন, এই রাত রুকুর জন্য, অতঃপর সকাল হওয়া পর্যন্ত রুকুতে অবস্থান করতেন। অপর সন্ধ্যায় বলতেন, এই রাত সিজদার জন্য, অতঃপর সারা রাত সকাল পর্যন্ত সিজদায় অবস্থান করতেন। প্রত্যেক সন্ধ্যায় উনার নিকট প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাদ্য ও পানীয় যা থাকত, তা তিনি দান করে দিতেন। অতঃপর বলতেন, আয় মহান আল্লাহ পাক! কেউ যদি ক্ষুধার যন্ত্রণায় মারা যায়, তাহলে আমাকে পাকড়াও করবেন না, কেউ যদি বস্ত্রহীন হয়ে মারা যায়, তাহলে আমাকে পাকড়াও করবেন না। (সিয়ারু আলামিন নুবালা) (চলবে)
-আল্লামা সাঈদ আহমদ গজনবী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৭ম পর্ব)
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৬ষ্ঠ পর্ব)
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের প্রতিও বিশুদ্ধ আক্বীদা ও হুস্নে যন পোষণ করা অত্যাবশ্যকীয়
১৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৫ম পর্ব)
১৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৪র্থ পর্ব)
১৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৩য় পর্ব)
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (২য় পর্ব)
১২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (১ম পর্ব)
০৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন চিশ্তী আজমেরী সানজেরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার “আনিসুল আরওয়াহ্” নামক কিতাবে দস্তরখানা ব্যবহারের গুরুত্ব-ফযীলত মুবারক
০৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার তাক্বওয়া পরহেযগারী: সাত বছর ছাগলের গোশত খেলেন না!
০৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












