হাররার ঘটনা এবং ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহির কুফরী কাজের ফিরিস্তি (১ম পর্ব)
, ০২ মুহররমুল হারাম শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৯ আউওয়াল, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৮ জুন, ২০২৫ খ্রি:, ১৪ আষাঢ়, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) আইন ও জিহাদ
হাররার ঘটনা কি?
হযরত আব্দুল হক্ব মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “কারবালায় সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে শহীদ করার পরে পবিত্র মদীনা শরীফে ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহির নির্দেশে যে লোমহর্ষক ও মর্মান্তিক ঘটনা সংঘটিত হয় এটাই ‘হাররার ঘটনা’ নামে অভিহিত। এই স্থানটি পবিত্র মদীনা শরীফ থেকে এক মাইল দূরে অবস্থিত। এই ঘটনা সংঘটিত হয়- ৬৩ হিজরী শরীফ উনার ২৭ বা ২৮ যিলহজ্জ শরীফ ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)। ” (জযবুল কুলূব)
কারণ ও প্রেক্ষাপট:
১. ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি কতৃর্ক সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে শহীদ করার স্বীকৃতি এবং সম্মানিত ওহী মুবারক অস্বীকার: সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে উনার পরিবারের সমস্ত পুরুষগণকে একজন ব্যতিত কারবালার প্রান্তরে শহীদ করার পর ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি প্রকাশ্যে অনেক কুফরী করে। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত সির বা মাথা মুবারক নিয়ে যখন ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহির সামনে রাখা হয়, তখন সে তার হাতের লাঠি দিয়ে মহাসম্মানিত সির মুবারক উনার মধ্যে আঘাত করে বলে-
لَيْتَ اَشْيَاخِىْ بِبَدْرٍ شَهِدُوْا ... وَقْـعَةَ الْـخَزْرَجِ مِنْ وَقْعِ الْاَسَلْ
قَدْ قَـتَـلْـنَا القَرْنَ مِنْ سَادَاتِـهِمْ ... وَعَدَلْـنَاهُ بِبَدْرٍ فَاعْتَدَلْ
“বদর প্রান্তরে নিহত আমার পূর্বপুরুষরা যদি দেখতে পেত, মস্তক্বসমূহ দেহচ্যুত হচ্ছে দেখে খাযরাজ গোত্র শোক ও বিলাপ করছে। আমরা তাদের পূর্বপুরুষদের বংশধর থেকে প্রধান (সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উনাকে শহীদ করেছি। আমরা বদর যুদ্ধের প্রতিশোধ গ্রহণ করেছি, তাই এ প্রতিশোধ গ্রহণ হয়েছে ন্যায়সংগত!” নাঊযুবিল্লাহ! (তাযকিরাতুল খাওয়াছ ৫৩৯ পৃষ্ঠা)
ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি উক্ত পংক্তিগুলোতে আরো বৃদ্ধি করে বলে-
لَعِبَتْ هَاشِمٌ بِالْمُلْكِ فَلَا ... خَبْـرٌ جَاءَ وَلَا وَحْىٌ نَـزَلْ وَلَسْتُ مِنْ خَنْدَفٍ اِنْ لَّـمْ اَنْـتَقِمْ..... مِنْۢ بَـنِـىْ اَحْـمَدَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا كَانَ فَـعَلْ
অর্থ: “বনী হাশিম রাজত্ব নিয়ে খেল-তামাশা করেছে, না (অদৃশ্য জগত থেকে) এসেছে কোনো বার্তা, না অবতীর্ণ হয়েছেন কোনো ওহী মুবারক। নাঊযুবিল্লাহ!
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কৃতকর্মের জন্য উনার বংশধর উনাদের থেকে যদি আমি প্রতিশোধ না নেই, তাহলে তো আমি খান্দাফের বংশধর নই। ” নাঊযুবিল্লাহ! (তাযকিরাতুল খাওয়াছ ৫৩৯ পৃষ্ঠা, তারীখে ত্ববারী)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি যে পবিত্র ওহী মুবারক নাযিল হতো এখানে ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি তা সুস্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছে এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এবং হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে যে সে শহীদ করেছিলো, সেটাও স্বীকার করেছে। না‘ঊযুবিল্লাহ! তাহলে এর চেয়ে বড় কুফরী আর কি হতে পারে?
২. স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক উনাকে অস্বীকার এবং উনার বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করা: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে উদ্দেশ্য করে ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি লিখে-
اُدْعُوْ اِلٰـهَكَ فِـى السَّمَاءِ فَاَنَّنِـىْ .. اَدْعُوْ عَلَيْكَ رِجَالَ عَكَّ وَاَشْعَرْ
كَـيْفَ النَّجَاةُ اَبَا خُبَـيْبٍ مِنْـهُمْ .. فَاحْتَلْ لِنَـفْسِكَ قَـبْلَ اَتَى الْعَسْكَـرْ
অর্থ: “আপনি আপনার ইলাহ্ উনাকে ডাকুন যিনি আসমানে আছেন। আর আমি আপনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আক ও আশআর গোত্রের যোদ্ধাদের ডাকি। আবূ খুবাইব (হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) তিনি কিভাবে তাদের থেকে মুক্তি পাবেন? কাজেই সৈন্য আসার পূর্বে আপনি নিজের উপর দখলদারিত্ব করুন। ” নাঊযুবিল্লাহ! (মরূজুয যাহাব ৩৭৮ পৃষ্ঠা)
৩. সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনাকে অস্বীকার, মদকে হালাল ঘোষণা এবং মদের প্রশংসা করা: ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি মদকে হালাল ঘোষণা করে এবং মদের প্রশংসায় সে বলে- “পাত্রের মধ্যে মদভা-ার রূপার ন্যায়। আর মদের সাথে প্রিয় সাকী (মদ পরিবেশনকারী তরুণী) তারকারাজির ন্যায়। মদ হচ্ছে দয়ার সূর্য আর তার কক্ষপথ হচ্ছে পাত্রের তলানী। তার উদয়স্থল হচ্ছে সাকী (মদ পরিবেশনকারী তরুণী) এবং তার অস্তস্থল হচ্ছে আমার মুখ।
فَاِنْ حَرُمَتْ يَـوْمًا عَلـٰى دِيْنِ اَحْـمَدَ (صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ) ... فَخُذْهَا عَلـٰى دِيْنِ الْمَسِيْحِ بْنِ مَرْيَـمَ
‘যদি কোনো দিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত দ্বীন উনার মধ্যে মদ হারাম হয়ে থাকে, তাহলে হযরত ঈসা ইবনে মারইয়াম আলাইহিস সালাম উনার দ্বীনের উপর ভিত্তি করে তুমি তা গ্রহণ করো’। ” নাঊযুবিল্লাহ! (তাফসীরে মাযহারী ৫/২৭১)
-মুহাদ্দিস ইবনে মারইয়াম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (৬ষ্ঠ পর্ব)
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (৬)
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মুহব্বত ঈমান, আর উনাদের সমালোচনা করা লা’নতগ্রস্ত হওয়ার কারণ
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (৬)
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
দ্বীন ইসলাম ব্যতিত অন্য কোন তন্ত্র-মন্ত্র নিয়মনীতি শরীয়তসম্মত নয়
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (৫ম পর্ব)
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (৫)
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (৫)
১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (৪র্থ পর্ব)
১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (৪)
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (৪)
১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (৩য় পর্ব)
১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












