সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়:
, ০৩ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২২ হাদী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ২২ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রি:, ০৯ বৈশাখ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) আইন ও জিহাদ
(১১তম পর্ব)
মুনাফিক সরদার উবাই বিন সুলূল তার ৩০০ সহচর নিয়ে পলায়ন:
এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক করেন-
وَإِذْ قَالَت طَّائِفَةٌ مِّنْهُمْ يَا أَهْلَ يَثْرِبَ لَا مُقَامَ لَكُمْ فَارْجِعُوا ۚ وَيَسْتَأْذِنُ فَرِيقٌ مِّنْهُمُ النَّبِيَّ يَقُولُونَ إِنَّ بُيُوتَنَا عَوْرَةٌ وَمَا هِيَ بِعَوْرَةٍ ۖ إِن يُرِيدُونَ إِلَّا فِرَارًا.
অর্থ: “এবং তোমাদের মধ্যে একদল যখন বলেছিলো, হে পবিত্র মদীনাবাসী! এখানে আপনাদের কোন স্থান নেই, অতএব আপনারা ফিরে চলুন এবং তাদের মধ্যে একদল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট অব্যাহতি প্রার্থনা করে বলছিলো, আমাদের বাড়িঘর অরক্ষিত। অথচ উহা অরক্ষিত ছিলো না। আসলে পলায়ন করাই ছিলো তাদের উদ্দেশ্য।” নাউযুবিল্লাহ! (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ: ১২)
মুনাফিকরা কাল্পনিক ও মনগড়া কারণ উপস্থাপন করে জিহাদে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকে। এজন্য মিথ্যা কৈফিয়াতের সম্মুখীন হলে তাদের মিথ্যা অজুহাত পেশের অন্ত থাকে না। মহান আল্লাহ পাক তিনি মুনাফিকদের সে কথা তুলে ধরেছেন। আর মুসলমানরা বিন্দু থেকে বিন্দু মাত্র কোন প্রকার কারণ তালাশ করেন না এবং উনারা সন্দেহ পোষণও করেন না। সুবহানাল্লাহ!
এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-
يَعْتَذِرُونَ إِلَيْكُمْ إِذَا رَجَعْتُمْ إِلَيْهِمْ ۚ قُل لَّا تَعْتَذِرُوا لَن نُّؤْمِنَ لَكُمْ قَدْ نَبَّأَنَا اللَّـهُ مِنْ أَخْبَارِكُمْ ۚ وَسَيَرَى اللَّـهُ عَمَلَكُمْ وَرَسُولُهُ ثُمَّ تُرَدُّونَ إِلَىٰ عَالِمِ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَيُنَبِّئُكُم بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ.
অর্থ: “আপনারা তাদের কাছে যখন ফিরে আসবেন তখন তারা আপনাদের কাছে ওজর পেশ করবে। আপনি বলে দিন, কোন ওজর-আপত্তি উপস্থাপন করো না। আমরা আর কখনও তোমাদেরকে বিশ্বাস করবো না। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইতিমধ্যেই তোমাদের অবস্থা আমাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি ও উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অবশ্যই তোমাদের কার্যকলাপ দেখছেন। অতঃপর অদৃশ্য ও দৃশ্যের জ্ঞানী মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট তোমাদেরকে প্রত্যাবর্তিত করা হবে এবং তোমরা যা করে থাকো তা তিনি তোমাদেরকে জানিয়ে দিবেন। (পবিত্র সূরা তওবা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ: ৯৪)
আলোচ্য পবিত্র আয়াত শরীফে ওই সকল মুনাফিকদের কথা বিবৃত হয়েছে, যারা বিভিন্ন টালবাহানা করতো সম্মানিত জিহাদ থেকে বিরত থাকার জন্য। আর মুসলমানগণ জিহাদ থেকে ফিরে মুনাফিকদের সাথে কি আচরণ করবেন সেটাও বলে দেয়া হয়েছে। আপনারা তাদের নিকট ফিরে এলে তারা আপনাদের নিকট অজুহাত পেশ করবে। কিন্তু আপনারা বলবেন আমরা তোমাদেরকে কখনও বিশ্বাস করবো না। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তোমাদের কর্ম সম্পর্কে জানিয়ে দিয়েছেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদের সকল অপকথন ও অপকর্ম সম্পর্কে সম্মানিত ওহী মুবারক উনার মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!
অর্থাৎ যারা মুনাফিক তারা মুসলমানদের বুঝাতে চাচ্ছিলো যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে জিহাদ মুবারকে নিয়ে যাচ্ছেন তাতে পরাজয় অনিবার্য। নাউযুবিল্লাহ! কাট্টা মুনাফিক উবাই বিন সুলূল ও তার অনুসারীরা আদেশ-নির্দেশ মুবারক মানেনি। এটাই সত্য কথা।
এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
فِيْ قُلُوْبِهِم مَّرَضٌ فَزَادَهُمُ اللهُ مَرَضاً وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيْمٌ بِمَا كَانُوْا يَكْذِبُوْنَ.
অর্থ: “এদের (মুনাফিকদের) অন্তরের মধ্যে রয়েছে মারাত্মক ব্যাধি। অতঃপর তাদের প্রতারণার কারণে মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদের ব্যাধিকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছেন। তাদের মিথ্যাবাদিতার কারণে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন পীড়াদায়ক শাস্তি।” (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ: ১০)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন সম্মানিত উহুদ জিহাদের প্রস্তুতি মুবারক নিচ্ছিলেন তখন মুনাফিকরা চূ-চেরা ও ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছিলো। নাউযুবিল্লাহ! তারা বিভিন্নরকম মিথ্যা অজুহাত দেখিয়ে সম্মানিত জিহাদ থেকে পিছন দিকে পলায়ন করেছিলো। নাউযুবিল্লাহ! (ইনশাআল্লাহ চলবে)
-আল্লামা সাইয়্যিদ শা’বীব আহমদ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১২)
২২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১১)
২০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১০ম পর্ব)
১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১০)
১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১১)
০৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (৯ম পর্ব)
০৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (৯)
০৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১০)
০১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
খরচ করার ব্যাপারে মহান আল্লাহ পাক উনার ফায়সালা
৩১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (৮ম পর্ব)
৩১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (৯)
২৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (৮)
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












