সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১২তম পর্ব)
, ০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) আইন ও জিহাদ
মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
قَدْ يَعْلَمُ اللَّـهُ الْمُعَوِّقِينَ مِنكُمْ وَالْقَائِلِينَ لِإِخْوَانِهِمْ هَلُمَّ إِلَيْنَا ۖ وَلَا يَأْتُونَ الْبَأْسَ إِلَّا قَلِيلً. أَشِحَّةً عَلَيْكُمْ ۖ فَإِذَا جَاءَ الْخَوْفُ رَأَيْتَهُمْ يَنظُرُونَ إِلَيْكَ تَدُورُ أَعْيُنُهُمْ كَالَّذِي يُغْشَىٰ عَلَيْهِ مِنَ الْمَوْتِ ۖ فَإِذَا ذَهَبَ الْخَوْفُ سَلَقُوكُم بِأَلْسِنَةٍ حِدَادٍ أَشِحَّةً عَلَى الْخَيْرِ ۚ أُولَـٰئِكَ لَمْ يُؤْمِنُوا فَأَحْبَطَ اللَّـهُ أَعْمَالَهُمْ ۚ وَكَانَ ذَٰلِكَ عَلَى اللَّـهِ يَسِيرًا.
অর্থ: “অবশ্যই মহান আল্লাহ পাক তিনি জানেন আপনাদের মধ্যে কারা আপনাদেরকে জিহাদে অংশগ্রহণে বাধা দেয় এবং তাদের ভ্রাতাদের বলে তোমরা আমাদের সঙ্গে এসো। তারা কমই জিহাদে অংশ নেয়। তারা আপনাদের প্রতি কুন্ঠাবোধ করে। যখন কোন পরীক্ষা আসে তখন আপনি দেখবেন, মৃত্যু ভয়ে অচেতন ব্যক্তির মত চক্ষু উল্টিয়ে তারা আপনার দিকে তাকিয়ে আছে। কিন্তু যখন পরীক্ষা বা ভয় চলে যায় তখন তারা সম্পদের লালসায় আপনাদের সাথে বাকচাতুরীতে অবতীর্ণ হয়। নাউযুবিল্লাহ! ঐ সমস্ত লোক তারা মূলত ঈমান আনেনি, অতঃপর মহান আল্লাহ পাক তিনি (তাদের মুনাফিকির কারণে) তাদের কার্যাবলী নিষ্ফল করে দিয়েছেন এবং মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষে এটা খুবই সহজ।” (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ: ১৮-১৯)
অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি এখানে জানিয়ে দিয়েছেন, আমি ভালো করে জানি, মুনাফিকদের কার্যকলাপ সম্পর্কে। যারা মুনাফিক তারাতো নিজেরা জিহাদে যায় না বরং তারা অন্যদেরকেও সম্মানিত জিহাদে গমন করতে বাধা দেয়। যেমন নিজেদের সন্তান-সন্ততি, সঙ্গী-সাথী, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজনদেরকে তারা জিহাদে যেতে বাধা দিয়ে থাকে। তারা বলে, তোমরা জিহাদে না গিয়ে আমাদের সঙ্গেই স্বীয় ঘর-বাড়ীতে থাকো। নাউযুবিল্লাহ! তোমরা কখনও এই সুন্দর আরাম-আয়েশ, জমি-জমা ও পরিবারবর্গকে পরিত্যাগ করে জিহাদে যোগদান করো না। নাউযুবিল্লাহ! কোন কোন সময় তারা জিহাদের প্রাক্কালে মুখ দেখিয়ে যায় এবং নাম লিখিয়ে দেয় জিহাদের তালিকায় কিন্তু জিহাদের ময়দানে তাদেরকে খুঁজে পাওয়া যায় না। নাউযুবিল্লাহ!
আর মুনাফিক সরদার উবাই বিন সুলূল ও তার অনুচররা ছিলো খুবই বখিল বা কৃপণ। মুসলমানরা কখনই তাদের কাছ থেকে বিন্দুমাত্র কোন প্রকার আর্থিক সহযোগিতা পাননি এবং মুসলমানদের প্রতি তাদের অন্তরে কোন সহানুভূতিও ছিলো না। আর মুনাফিকরা এসব কিছু করতো মুসলমানদের প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে। নাউযুবিল্লাহ!
উল্লেখ্য যে, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা যখন গনীমতের মাল প্রাপ্ত হন তখন তারা অসন্তুষ্ট হয়। হিংসায় তারা তাদের আঙ্গুল কামড়াতে থাকে। আর আপনারা দেখবেন, যখন নিজেদের তথা মুনাফিকদের ধ্বংস আসে তখন তারা মৃত্যুর ভয়ে অচেতন ব্যক্তির মত চক্ষু উল্টিয়ে মুসলমানদের দিকে তাকিয়ে থাকে, যাতে বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উছীলা মুবারকে তাদের উপর থেকে বিপদ দূর হয়ে যায় তখন তারা সম্পদ লাভের আশায় আপনাদের সাথে বাকচাতুরীতে অবতীর্ণ হয়। নাউযুবিল্লাহ!
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে তারা বলে, আমরাতো আপনারই ছাহাবী। আমরা আপনার খিদমত মুবারকে থেকেই রীতিমত জিহাদ করেছি। সুতরাং গনীমতের মালে আমাদেরও অংশ রয়েছে। নাউযুবিল্লাহ! কিন্তু জিহাদের সময় তাদেরকে দেখা যায়নি। তারা সবসময় পলাতকদের আগে এবং মুসলিম সৈন্যদের পিছনে থাকে। ধন-সম্পদের দিকে তারা মাছির মত লোভাতুর দৃষ্টিতে তাকায়। মিথ্যা ও কাপুরুষতা এ দুটো দোষই তাদের মধ্যে শক্তভাবে বিদ্যমান। এ দুটো দোষে যারা দোষী হয় তাদের কাছে কল্যাণের কোন আশা করা যায় কি? শান্তির সময় প্রতারণা, দুশ্চরিত্রতা এবং রূঢ়তা, আর জিহাদের সময় ভীরুতা ও নারীত্বপনা মুনাফিকদের বদ স্বভাব। মাল-সম্পদ নেয়ার সময় গাধার মত লোভনীয় দৃষ্টি নিক্ষেপ করাই মুনাফিকদের কাজ। আর মুনাফিকদের সরদার উবাই বিন সুলূল ছিলো এসমস্ত বদ কার্যকলাপের মূলহোতা।
এজন্য পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে স্পষ্ট এসেছে, এইসব মুনাফিকরা আসলে ঈমানদার নয়। মহান আল্লাহ পাক তিনি মুনাফিকদের সমস্ত কার্যাবলী, তাদের ষড়যন্ত্রসমূহ, তাদের দুষ্টচিন্তা ও ভাবনা নিষ্ফল করে দিয়েছেন। আর এসব করা মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট খুবই সহজ। সুবহানাল্লাহ!
কাজেই বলার অপেক্ষা রাখে না, সমস্ত মুনাফিকরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের এবং সমস্ত মুসলমানদের শত্রু এবং সম্মানিত দ্বীন ইসলামের শত্রু। (তাফসীরে ইবনে কাছীর, তাফসীরে মাযহারী) (ইনশাআল্লাহ চলবে)
-আল্লামা সাইয়্যিদ শা’বীব আহমদ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৩)
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১২)
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১২)
২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১২)
২২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়:
২১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১১)
২০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১০ম পর্ব)
১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১০)
১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১১)
০৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (৯ম পর্ব)
০৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (৯)
০৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১০)
০১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












