সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (৯ম পর্ব)
, ১৯ শাওওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৮ হাদী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৮ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রি:, ২৫ চৈত্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) আইন ও জিহাদ
মুনাফিক সরদার উবাই বিন সুলূল তার ৩০০ সহচর নিয়ে পলায়ন:
উল্লেখ্য, উবাই বিন সুলূল সে বনূ সালামার লোক ছিলো। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে হারাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি এই মুনাফিকদের পিছু পিছু গিয়ে বললেন, হে আমার সম্প্রদায়ের লোকেরা! আমি তোমাদেরকে মহান আল্লাহ পাক উনার কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি। তোমরা তোমাদের নিজ সম্প্রদায় ও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে রেখে এভাবে যেওনা। জবাবে তারা বললো, যদি জানতাম, আপনারা জিহাদের সম্মুখীন হবেন, তবে আপনাদেরকে শত্রুর হাতে সমর্পণ করতাম না। কিন্তু আমাদের ধারণায় জিহাদ ঘটবে না।
যখন মুনাফিকরা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে হারাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার কথা মুবারক মানলো না এবং ফিরে যেতে চাইলো, তখন তিনি তাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, হে মহান আল্লাহ পাক উনার দুশমনেরা! মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদেরকে উনার রহমত থেকে দূরে রাখুন। অচিরেই মহান আল্লাহ পাক তিনি ও উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা তোমাদেরকে লাঞ্চিত করবেন। হযরত ইবনে হিশাম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেন-
أَنّ الْأَنْصَارَ يَوْمَ أُحُدٍ، قَالُوا لِرَسُولِ اللّهِ صَلّى اللّهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ يَا رَسُولَ اللّهِ صَلّى اللّهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ! أَلَا نَسْتَعِينُ بِحُلَفَائِنَا مِنْ يَهُودَ ؟ فَقَالَ لَا حَاجَةَ لَنَا فِيهِمْ.
অর্থ: “উহুদ জিহাদের দিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে হযরত আনছার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমরা আমাদের ইহুদী মিত্রদের সাহায্য নিবো কি? নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, আমাদের জন্য তাদের খিদমতের কোন প্রয়োজন নেই।” সুবহানাল্লাহ! (সীরাতুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- ইবনে হিশাম রহমতুল্লাহি আলাইহি, সীরাতুল হালাবিয়্যা, উয়ূনুল আছার, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া)
হযরত যিয়াদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, হযরত মুহম্মদ ইবনে ইসহাক্ব তিনি আমার কাছে বলেছেন, “যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অগ্রসর হয়ে বনূ হারিছার হাররা নামক স্থানে পৌঁছলেন, তখন একটি ঘটনা ঘটলো যে, জনৈক ব্যক্তির ঘোড়া মাছি তাড়ানোর জন্য সজোরে লেজ নাড়লো, আর তা যেয়ে তার তরবারির কব্জির উপর পড়লো, ফলে তরবারি খাপ থেকে বেরিয়ে আসলো।” হযরত ইবনে হিশাম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেন-
قَالَ رَسُولُ اللّهِ صَلّى اللّهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ لِأَصْحَابِهِ مَنْ رَجُلٌ يَخْرُجُ بِنَا عَلَى الْقَوْمِ مِنْ كَثَبٍ أَيْ مِنْ قُرْبٍ مِنْ طَرِيقٍ لَا يَمُرّ بِنَا عَلَيْهِمْ ؟ فَقَالَ أَبُو خَيْثَمَةَ أَخُو بَنِي حَارِثَةَ بْنِ الْحَارِثِ أَنَا يَا رَسُولَ اللّهِ فَنَفَذَ بِهِ حَرّةَ بَنِي حَارِثَةَ.
অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের লক্ষ্য করে বললেন, কে আছেন যে, শত্রুর কাছে এমন পথ ধরে আমাদের নিয়ে যাবেন, যা শত্রুর সামনে দিয়ে অতিক্রম হবে না। আবূ খাইছাম বনূ হারিছা ইবনে হারিছের এক (ভাই) লোক বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি নিয়ে যাবো। এই কথা বলে তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বনূ হারিছার হাররায় নিয়ে চললেন।”
“পথে লোকদের বাগান ইত্যাদির কথাও আলোচনা করলেন। এক সময় তারা মিরবা’ ইবনে ফায়যা- এর বাগানের কাছ দিয়ে অতিক্রম করলেন। সে মুনাফিক ছিলো এবং অন্ধ ছিলো। সে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের আগমনের কথা অনুভব করে উনাদের চেহারা মুবারক লক্ষ্য করে মুঠ ভরে ভরে মাটি ছুড়তে লাগলো এবং বলতে লাগলো, আপনি যদি মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হয়ে থাকেন তবে আপনার জন্য আমার বাগানে আসার অনুমতি নেই। নাউযুবিল্লাহ! (সীরাতুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- ইবনে হিশাম রহমতুল্লাহি আলাইহি, মুখতাছারু সীরাতু রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উয়ূনুল আছার ফি ফুয়ূনিল মাগাযী, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া)
আরো বর্ণিত রয়েছে, এই কাট্টা মুনাফিক সে হাতে মাটি নিয়ে বলতে লাগলো, আয় মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! যদি আমি জানতে সক্ষম হতাম যে, এই মাটি আপনি ছাড়া আর অন্য কারো চেহারায় লাগবে না তবে অবশ্যই আমি তা আপনার নূরুর রহমত বা চেহারা মুবারক উনার উপর ছুড়ে মারতাম। নাউযুবিল্লাহ! এ কথা শুনে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা তাকে হত্যা করার জন্য অগ্রসর হলেন। কিন্তু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন-
لَا تَقْتُلُوهُ فَهَذَا الْأَعْمَى أَعْمَى الْقَلْبِ، أَعْمَى الْبَصَرِ.
অর্থ: ‘আপনারা তাকে হত্যা করবেন না। কেননা সে একই সাথে চক্ষু ও অন্তরের অন্ধ।’ (সীরাতুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- ইবনে হিশাম রহমতুল্লাহি আলাইহি, রওদ্বুল উনূফ, সুবুলুল হুদা ওয়া রাশাদ) (ইনশাআল্লাহ চলবে)
-আল্লামা সাইয়্যিদ শা’বীব আহমদ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৬)
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২৩ তম পর্ব)
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৫)
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২২ তম পর্ব)
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৪)
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২১ তম পর্ব)
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৩)
১৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (২০ তম পর্ব)
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২২)
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৯ তম পর্ব)
০৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২১)
০১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












