সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১০ম পর্ব)
, ২৫ শাওওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৪ হাদী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৪ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রি:, ০১ বৈশাখ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) আইন ও জিহাদ
মুনাফিক সরদার উবাই বিন সুলূল তার ৩০০ সহচর নিয়ে পলায়ন:
উল্লেখ্য, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বেশি কষ্ট দিয়েছিলো কাফির-মুশরিক, বেদ্বীন-বদদ্বীন, ইহুদী নাছারারা। কিন্তু ইহুদী-নাছারা, কাফির, মুশরিকদের থেকেও বেশি কষ্ট দিয়েছিলো মুনাফিকরা। কারণ কাফির-মুশরিকরা যে মুসলমানদের শত্রু এটা স্পষ্ট; কিন্তু মুনাফিকরা মুসলমানদের মধ্যে অবস্থান করে চু-চেরা করা, ওয়াসওয়াসা দেয়া ও চুপেচুপে ষড়যন্ত্র করা ইত্যাদি আরো বেশি কষ্টদায়ক। এজন্য এদেরকে পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট বলা হয়েছে এবং এদের শাস্তি জাহান্নামের সর্বনিম্নে বলা হয়েছে।
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের কিভাবে খিদমত মুবারকে আঞ্জাম দেয়া যায় এই চিন্তা-ফিকিরে মশগুল থাকতেন। বিপরীতে যারা মুনাফিক ছিলো তারা ভাবতো কি করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এবং উনার মহাসম্মানিত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে কষ্ট দেয়া যায়। নাউযুবিল্লাহ! কাট্টা মুনাফিক সরদার উবাই বিন সুলূল সে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সবসময় কষ্ট দেয়ার চেষ্টা করতো। মাঝে মাঝে তার মুনাফিকি প্রকাশ পেতো। সম্মানিত উহুদ জিহাদে সেটাই প্রকাশ পেয়েছে যে, সে আসলেই মুনাফিক তথা মুনাফিকদের সরদার।
সম্মানিত উহুদ জিহাদের সময় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহান আল্লাহ পাক উনার ফায়সালা মুবারক তার নাকি মনঃপুত হয়নি। নাউযুবিল্লাহ! এই সম্মানিত ওহী মুবারক উনার মাধ্যমে নাযিলকৃত ফায়সালা মুবারক মানতে সে নারাজ। নাউযুবিল্লাহ! তার ভিতরে নিফাকে পূর্ণ থাকায় সে বিরোধিতা করেছে। নাউযুবিল্লাহ!
আর মুসলমানরা যেন জিহাদে না যান বা জিহাদের ময়দান থেকে ফিরে আসেন বা মুসলমানদের মধ্যে ফাটল ধরুক এটাই মুনাফিকরা সবসময় চাইতো। যখন মুসলমানরা জিহাদ মুবারকের প্রস্তুতি নিতেন বা জিহাদের জন্য রওয়ানা দিতেন বা জিহাদের ময়দানে পৌঁছে যেতেন তখন মুনাফিকরা মুসলমানদেরকে ওয়াসওয়াসা দিতো এবং উনাদেরকে ভয়-ভীতিও দেখাতো যাতে উনাদের মন অস্থির হয়ে পড়ে। নাউযুবিল্লাহ! আর সেই কাজটির মূল হোতা ছিলো উবাই বিন সুলূল। নাউযুবিল্লাহ!
উল্লেখ্য যে, মুনাফিকদের বদস্বভাব হলো জিহাদ থেকে পিছে থাকা ও পলায়ন করা। মুনাফিকদের অন্তরে নিফাক্বী থাকায় তারা জিহাদ মুবারকে অংশগ্রহণে আগ্রহ বোধ করে না বরং জিহাদে অংশগ্রহণ না করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। নাউযুবিল্লাহ!
এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
فَرِحَ الْمُخَلَّفُونَ بِمَقْعَدِهِمْ خِلَافَ رَسُولِ اللَّـهِ وَكَرِهُوا أَن يُجَاهِدُوا بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ فِي سَبِيلِ اللَّـهِ وَقَالُوا لَا تَنفِرُوا فِي الْحَرِّ ۗ قُلْ نَارُ جَهَنَّمَ أَشَدُّ حَرًّا ۚ لَّوْ كَانُوا يَفْقَهُونَ.
অর্থ: “যারা পশ্চাতে থেকে গেলো তারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরুদ্ধাচরণ করে বসে থাকাতেই তারা আনন্দ লাভ করলো এবং তাদের ধন-সম্পদ ও তাদের জীবন দ্বারা মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় জিহাদ করা পছন্দ করেনি এবং তারা বলেছিলো, গরমের মধ্যে জিহাদে বের হয়ো না। আপনি বলে দিন, উত্তাপে জাহান্নামের আগুন প্রচন্ডতম। যদি তারা বুঝতে পারতো। (পবিত্র সূরা তওবা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ-৯)
অর্থাৎ মুনাফিকরা জিহাদের সময় সমগত হলে বিভিন্নরকম অজুহাত পেশ করে জিহাদ থেকে বিরত থাকতো। তারা বাইরে বাইরে ঈমানদার বলে নিজেদেরকে প্রকাশ করলেও অন্তরে তারা ছিলো হক্ব বা সত্য প্রত্যাখ্যানকারী।
জিহাদ না করতে উদ্ধুদ্ধ করা এবং ভীতিকর গুজব ছড়ানো হচ্ছে মুনাফিকদের একটি বদস্বভাব। সম্মানিত জিহাদের আদেশ মুবারক আসলে মুসলমানরা যাতে জিহাদে না যেতে পারেন এজন্য তারা বিভিন্ন রকম ওয়াসওয়াসা দিতো। নাউযুবিল্লাহ!
এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
وَمِنْهُم مَّن يَقُولُ ائْذَن لِّي وَلَا تَفْتِنِّي ۚ أَلَا فِي الْفِتْنَةِ سَقَطُوا ۗ وَإِنَّ جَهَنَّمَ لَمُحِيطَةٌ بِالْكَافِرِينَ.
অর্থ: “তাদের মধ্যে এমন লোক আছে যে, তারা বলে আমাকে অব্যাহতি দিন এবং আমাকে ফিতনায় ফেলবেন না। সবাধান! তারাতো পূর্ব থেকেই ফিৎনাগ্রস্ত বা পথভ্রষ্ট। আর নিশ্চয়ই জাহান্নাম কাফিরদের চারিদিকে ঘিরে রয়েছে।” (পবিত্র সূরা তাওবা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ-৪৯)
মহান আল্লাহ পাক তিনি উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে মুনাফিকদের কতিপয় বদস্বভাব উল্লেখ করে জিন-ইনসানকে সাবধান করে দিয়েছেন যাতে জিন-ইনসান সতর্ক থাকে। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, আমার সম্মানিত হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! কিছু মুনাফিক আপনাকে বলবে আমাদেরকে বাড়িতে বসে থাকার অনুমতি দান করুন। আপনাদের সাথে জিহাদে গিয়ে কোন ফিৎনায় পড়ে যাই কি না। নাউযুবিল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, যারা এ ধরণের কথা বলে তারা মূলত; ফিৎনায় পড়েই রয়েছে। অর্থাৎ তারা জিহাদে না যাওয়ার জন্য তাদের নানাপ্রকার তালবাহানা প্রকাশ করে থাকে। নাউযুবিল্লাহ! (ইনশাআল্লাহ চলবে)
-আল্লামা সাইয়্যিদ শা’বীব আহমদ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১১)
২০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১০)
১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১১)
০৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (৯ম পর্ব)
০৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (৯)
০৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১০)
০১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
খরচ করার ব্যাপারে মহান আল্লাহ পাক উনার ফায়সালা
৩১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (৮ম পর্ব)
৩১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (৯)
২৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (৮)
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (৮)
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা উম্মাহর মাঝে শ্রেষ্ঠতম মর্যাদায় আসীন
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












