স্থাপত্য-নিদর্শন
হযরত নূর কুতুবে আলম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নামকরণে তৈরী করা হয়েছিলো ভারতের যে মসজিদ: ফিরোজাবাদে যুগের সাক্ষী ঐতিহাসিক নিদর্শন কুতুব শাহি মসজিদ
, ১১ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ৩০ হাদী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রি:, ১৭ বৈশাখ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) স্থাপত্য নিদর্শন
ভারতের মালদা জেলার পান্ডুয়াতে রয়েছে মুসলমানদের অনেক ঐতিহাসিক নিদর্শন। হারিয়ে যাওয়া যুগের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এখানকার বিভিন্ন ইসলামিক স্থাপত্য। যেমন আদিনা মসজিদ, কুতুব শাহি মসজিদ, একলাখি মাজারসৌধ কিংবা বিভিন্ন আউলিয়ায়ে ক্বিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদের মাজার শরীফ। বাংলা স্বাধীন সুলতান শামসউদ্দিন ইলিয়াস শাহ এখানে তাঁর রাজধানী স্থাপন করেছিলেন। ইলিয়াস শাহি বংশের বেশ কয়েকজন সুলতান শাসনকার্য চালাতেন এখান থেকেই। এই শহরের আরেক নাম ছিলো ফিরোজাবাদ, যে নাম সম্ভবত বাংলার আরেক সুলতান শামসউদ্দিন ফিরোজ শাহের থেকে এসেছে। টাঁকশালের জন্য খ্যাতি ছিলো এই শহরের। সম্মানিত পান্ডুয়াতে রয়েছে হযরত জালালউদ্দিন তবরিজি রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং চিশতিয়া ত্বরিকার বিশিষ্ট বুজুর্গ হযরত নূর কুতুবে আলম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদের পবিত্র খানকাহ শরীফ। তাই, শহরটিকে হজরত পান্ডুয়া বলেও ডাকা হয়। হযরত নূর কুতুবে রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নাম মুবারকের সাথে মিল রেখেই এই ঐতিহাসিক মসজিদটির নামকরণ করা হয় কুতুবশাহী মসজিদ।
পান্ডুয়াতে নূর কুতুব আলম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মাজার শরীফ এবং একলাখি মাজারস্থাপত্য মাঝখানে রয়েছে দেখতে খুবই সুন্দর ঐতিহাসিক কুতুব শাহি মসজিদ। একলাখি স্থাপত্যর পাশে থাকলেও দু’টি স্থাপত্যের নির্মাণকালের ফারাক যথেষ্ঠ - দেড় শতাব্দীর কাছাকাছি। পঞ্চদশ শতকের প্রথমভাগে একলাখি স্থাপত্য গড়ে উঠেছিলো। তখন বাংলায় চলছে স্বাধীন সুলতানি শাসন। আর কুতুব শাহি মসজিদ তৈরি হয়েছে ষোড়শ শতকের শেষ দিকে, ১৫৮২ খৃ:। বাংলা তখন মুঘল সাম্রাজ্যের অধীনে। হযরত নূর কুতুব আলম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সম্মানার্থেই এই মসজিদ নির্মাণ করিয়েছিলেন উনার বংশধর মুহম্মদ আল-খালিদি এর পুত্র মখদুম শেখ। মখদুম শেখ হযরত নূর কুতুবে আলম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মুরিদ ছিলেন।
এই ঐতিহাসিক মসজিদটিকে সোনা মসজিদ নামেও ডাকা হয়। এই মসজিদের বাইরে সোনালি রঙের আস্তরণ ছিলো। সূর্য্যের আলোয় তা সোনার মতো ঝলমল করত। বড়ো সোনা মসজিদ এবং ছোটো সোনা মসজিদেও এরকম সোনালি রং ছিলো। কেউ কেউ বলেন, সত্যিকারের সোনায় গিলটি করা ছিলো এই মসজিদ।
গৌড়ের বড় সোনা মসজিদের সঙ্গে এটির বেশ সাদৃশ্য আছে। তবে কোনো সুলতানের রাজকীয় পৃষ্টপোষকতায় কুতুব শাহি মসজিদ গড়ে ওঠেনি। মুঘল আমলে নির্মিত হলেও এই মসজিদের গড়ন সুলতানি রীতিরই অনুসারী।
এই ঐতিহাসিক মসজিদটি চার কোণায় আটকোণাকার বুরুজ দ্বারা সুরক্ষিত আয়তাকার দুই সারিতে পাঁচটি করে দশটি গম্বুজ দ্বারা আবৃত। মসজিদের পশ্চিম দিকে পাঁচটি অবতল কৌণিক খিলান দ্বারা আবৃত মিহরাব রয়েছে। মসজিদের দেয়ালে পাথরের ব্যবহার দেখা যায়। মসজিদের অভ্যন্তরে প্রবেশের জন্য পাঁচটি খিলানাকৃতি প্রবেশপথ রয়েছে। মসজিদের অভ্যন্তর ও বাইরে টেরাকোটার অরঙ্করণ শোভা পাচ্ছে। মসজিদের কারুকার্যের মধ্যে রয়েছে কৌণিক বুরুজ, বক্রাকার কার্নিশ, ঢালু ছাদ প্রভৃতি। গম্বুজ ও দেয়ালে টেরাকোটার অলঙ্করণ শোভা পাচ্ছে।
এই ঐতিহাসিক মসজিদটির মূল উপাদান পাথর এবং ইট। দশটি গম্বুজ ছিলো এক সময়ে, যা কালের গর্ভে হারিয়ে গিয়েছে। আর ছিলো চারটি মিনার। ভিতরে এখনও পাঁচটি মিহরাব দেখা যায়। প্রধান মিহরাবের উত্তরে রয়েছে একটি উঁচু মিম্বর, ঠিক আদিনা মসজিদের মতো। মিম্বারের সামনে একটি আয়তাকার পাথরের মতো উচু স্থান রয়েছে, যা স্থানীয় কোনো একজন দরবেশের মাজার বলে জানা যায়। সূত্র: মসজিদ দেশ দেশান্তরে, বঙ্গদর্শন।
-মুহম্মদ আবু নাঈম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ভারতের জান্নাতবাদে ঐতিহাসিক জাহানীয়া মসজিদ
১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সুবা বাংলার ঐতিহাসিক শেখ বাহার উল্লাহ শাহী জামে মসজিদ
০৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ঢাকায় ৩০০ বছর আগের মুঘল আমলের ঐতিহাসিক মসজিদ
২৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ফুলের মতোই সুন্দর মালয়েশিয়ার পুত্রাজায়ায় অবস্থিত পুত্রা মসজিদ
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান” (৫ম পর্ব)
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান” (৪র্থ পর্ব)
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান” (৩য় পর্ব)
০৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান”
০১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান” (১ম পর্ব)
২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইস্তাম্বুলে হযরত আবু আইয়ূব আল আনসারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মসজিদ (৩)
১৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইস্তাম্বুলে হযরত আবু আইয়ূব আল আনসারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মসজিদ (২)
১১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইস্তাম্বুলে হযরত আবু আইয়ূব আল আনসারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মসজিদ (১)
০৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












