স্থাপত্য-নিদর্শন
ভারতের জান্নাতবাদে ঐতিহাসিক জাহানীয়া মসজিদ
, ৩০ শাওওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৯ হাদী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রি:, ০৬ বৈশাখ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) স্থাপত্য নিদর্শন
জাহানীয়া মসজিদ ভারতের জান্নাতবাদে বিদ্যমান সুলতানি আমলের সর্বশেষ ঐতিহাসিক নিদর্শন। এ মসজিদকে আবার স্থানীয় অনেকে মিয়ার মসজিদ বা ‘ঝনঝনিয়া মসজিদ’ও বলে থাকে। মসজিদের দরজার উপরের একটি শিলালিপি থেকে জানা যায় যে, ১৫৩৫ খৃ: সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহ এর পুত্র সুলতান গিয়াসউদ্দীন মাহমুদ শাহ এর শাসনামলে মালতি বিবি নামে একজন এই ঐতিহাসিক মসজিদটি নির্মাণ করেন। ‘জাহানীয়া মসজিদ’ নামটি সচরাচর পরিচিত নয়। জাহানীয়া মসজিদের নামটি সুলতানী আমলের মখদুম জাহানীয়া জাহানগাস্ত নামে এক আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নামানুসারে নামকরণ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ভারতে অবস্থিত জান্নাতবাদ বর্তমানে গৌড় নামে পরিচিত। মুসলমানরা যখন এই অঞ্চল শাসন করেছেন তখন এই অঞ্চলের নাম ছিলো জান্নাতবাদ। তখন বাংলার রাজধানী ছিলো জান্নাতবাদেই।
এই ঐতিহাসিক মসজিদটি চিশতিয়া তরিক্বার বিশিষ্ট বুযুর্গ সূফী শায়েখ আঁখি সিরাজউদ্দীন উছমান আওদাহী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পবিত্র মাজার শরীফ এর কিছুটা দক্ষিণে অবস্থিত, জান্নাতবাদ সাগর দিঘির উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। জান্নাতবাদের ঐতিহাসিক জাহানীয়া মসজিদটি ইটের তৈরি। মসজিদের বাইরের দিকের পরিমাপ ১৭.৫ মি.দ্ধ ১২.৮ মি. এবং ভেতরের দিকের পরিমাপ ১২.২০ মি.দ্ধ ৮ মি.। মসজিদের অভ্যন্তরীণ অংশ দুটি লাইনে বিভক্ত, যার প্রতিটি লাইনে তিনটি বর্গাকার গম্বুজ রয়েছে। মসজিদের পূর্বদিকে তিনটি প্রবেশপথ এবং কোণগুলিতে অষ্টভুজাকৃতি মিনার রয়েছে, মিনারের উপরের অংশটি সূচের ডগার মতো ছোট করে নির্মান করা হয়েছিলো। মিনারের উপরের মোল্ডিং করা বাঁকা কার্নিস অনেকটা বাংলা কুঁড়েঘরের মতো দেখতে। বারান্দাহীন এই ঐতিহাসিক মসজিদে মোট গম্বুজের সংখ্যা ৮টি।
মসজিদের দেয়াল ভূপৃষ্ঠের সঙ্গে সমান্তরাল করে নির্মাণ করা হয়েছে। দেয়ালে অবস্থিত দরজায় যে নকশা করা হয়েছে তা সু-শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হয়েছে, এগুলিকে উপরের দিকে লম্বা প্যাঁচানো রশির নকশা দ্বারা বিভক্ত করা হয়েছে। সুস্পষ্টভাবে এরূপ নকশা প্রথম চিকা ভবন নামে পরিচিত নাসিরুদ্দীন মাহমুদ শাহ এর মাজারে ও দাখিল দরওয়াজা বা জান্নাতবাদের প্রধান প্রবেশপথের দরজার কোণার বুরুজগুলিতে এবং পুরাপুরিভাবে কদম রসূল মসজিদে দেখা যায়। ভারতের জান্নাতবাদের এই ঐতিহাসিক জাহানীয়া মসজিদটি ও কদম রসূল মসজিদটি স্থাপত্যর এক নান্দনিক ইতিহাস ধারণ করে আছে। এই ঐতিহাসিক মসজিদ দুটির বৈশিষ্ট্যে জান্নাতবাদের অন্যান্য স্থাপত্য নিদর্শন থেকে আলাদা। সূত্র: মসজিদ দেশ-দেশান্তরে, বাংলাপিডিয়া।
-মুহম্মদ নাইম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ফ্রান্সের ইতিহাসে মুসলিম অবদানের এক জীবন্ত দলিল
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
তাজ-উল-মসজিদ ভারতের সর্ববৃহৎ মসজিদ
১৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সুনামগঞ্জে কালের সাক্ষী শত বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী পাগলা বড় মসজিদ
১৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মোঘল শাসক আওরঙ্গজেবের শাসনামল নিয়ে প্রচলিত ভাষ্য বদলে দিতে পারে ৩০০ বছর আগের নথি
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
উমাইয়া আমলের মুসলিম স্থাপত্য ‘কুসাইর আমরা দুর্গ’
১৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আফ্রিকার দেশ ঘানার ঐতিহাসিক স্থাপত্য ‘লারাবাঙ্গা মসজিদ’
০৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বন্দরের ঐতিহাসিক নিদর্শন হযরত বাবা সালেহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মাজার শরীফ
০১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র মসজিদে জুমুয়াহ
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সম্মানিত ইসলামী সভ্যতার অনবদ্য নিদর্শন নাফত বা পেট্রোলিয়াম
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ভারতের সাদা রত্ন ঐতিহাসিক মতি মসজিদ
২৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নহরে জুবাইদা: ঐতিহাসিক মিষ্টি পানির খাল
১৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হযরত নূর কুতুবে আলম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নামকরণে তৈরী করা হয়েছিলো ভারতের যে মসজিদ: ফিরোজাবাদে যুগের সাক্ষী ঐতিহাসিক নিদর্শন কুতুব শাহি মসজিদ
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












