স্থাপত্য-নিদর্শন
ইস্তাম্বুলে হযরত আবু আইয়ূব আল আনসারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মসজিদ (২)
, ২১ রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৩ ছামিন, ১৩৯৩ শামসী সন , ১১ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ২৭ পৌষ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) স্থাপত্য নিদর্শন
হিজরী ৫২ সনে কনষ্টান্টিনোপোলের যুদ্ধে সম্মুখ সমরে মারাত্মকভাবে আহত হয়ে তিনি যখন শাহাদাতের তামান্নায় অপেক্ষমান, একজন এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করলেন “হে আবু আইয়ূব (রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু)! জীবনের শেষ ইচ্ছা আমাদের বলুন, আমরা তা যথাসম্ভব বাস্তবায়ন করবো। তখন তিনি ব্যক্ত করলেন, আপনারা আমার দেহ মুবারক আমার ঘোড়ায় উঠিয়ে দিন এবং যতদূর সম্ভব কনষ্টান্টিনোপোলের শেষ সীমানায় নিয়ে যান, যাতে আমি মহান আল্লাহ পাক উনার সামনে দাঁড়িয়ে বলতে পারি, “মহান আল্লাহ পাক! আমি যুদ্ধের ময়দান থেকে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণেও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।” দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে উনার ঘোড়া যখন শত্রু ভূমির শেষ সীমানায় পৌঁছে গেলো, সামনে কনষ্টান্টিনোপোলের সুরক্ষা প্রাচীর তারপরই অথৈ সমুদ্র। ততক্ষণে তিনিও পৌঁছে গেছেন মহান আল্লাহ পাক উনার দীদার মুবারকে। উনার সহযোদ্ধারা মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এই বীর হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে সেখানেই দাফন মুবারক সম্পন্ন করলেন। সমস্ত মুসলিম উম্মাহর পরম শ্রদ্ধেয় বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত আবু আইয়ূব আনসারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি লক্ষ কোটি হৃদয়ের অকৃত্রিম ভালবাসায় সিক্ত হয়ে শায়িত আছেন বিগত পনেরশত বছর ইস্তাম্বুলের সীমানা প্রাচীর ঘেষে বসফোরাসের পাশে।
মসজিদের ইতিহাস:
১৪৫৩ খৃ: কনস্টান্টিনোপল বিজয়ের মাত্র পাঁচ বছর পরে উসমানীয় সালতানাতের সুলতান দ্বিতীয় মুহম্মদ ১৪৫৮ খৃ: এই স্থানে একটি মসজিদ কমপ্লেক্স তৈরি করেছিলেন।
বর্ণিত রয়েছে যে, সুলতান দ্বিতীয় মুহম্মদ মসজিদটি নির্মাণের জন্য অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন উনার স্বীয় শায়েখ হযরত আক শামসুদ্দিন বিন হামজাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কাছ থেকে। হযরত আক শামসুদ্দিন বিন হামজাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি ছিলেন বিশিষ্ট বুযূর্গ, ওলীআল্লাহ এবং উসমানীয় সালতানাতের বিশিষ্ট কবি। তিনি হযরত আবু আইয়ূব আল আনসারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার নামে মসজিদ নির্মাণের স্বপ্ন দেখেছিলেন।
১৪৫৮ খৃ: হযরত আক শামসুদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি রুহানীভাবে হযরত আবু আইয়ূব আল আনসারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার মাজার শরীফের সন্ধান পান। মাজার শরীফের সন্ধান পাওয়ার পরেই উনার মাজার শরীফের পাশেই এই ঐতিহাসিক মসজিদটি নির্মাণ করা হয়।
১৮ শতকের প্রথম দিকে, সুলতান তৃতীয় আহমদ এই ঐতিহাসিক মসজিদের দুটি মিনার পুনর্নিমাণ করেন। ১৮ শতকের শেষের দিকে মসজিদটির কিছু অংশ সংস্কারের অভাব দেখা যায়, সম্ভবত ভূমিকম্পে মসজিদের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ১৭৯৮ খৃ: সুলতান তৃতীয় সেলিম মিনারগুলির কাঠামোগত পরিবর্তন করে বারোক শৈলীতে পুনর্নিমাণের নির্দেশ দেন। সুলতান তৃতীয় সেলিমের সংস্কার কাজ শেষ হয় ১৮০০ খৃ: এর দিকে। নতুন মসজিদটি অষ্টভুজাকার বালডাকুইন নকশা অনুসরণ করে ধ্রুপদী উসমানীয় সালতানাতের ঐতিহ্য বহন করছে, এই ঐতিহাসিক মসজিদটি অনেকটা সোকোল্লু মুহম্মদ পাশা মসজিদের সাথে মিল পাওয়া যায়, তবে এই মসজিদের বেশিরভাগ সাজ-সজ্জা সমসাময়িক বারোক শৈলীতে।
মসজিদটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব:
আখেরী রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিশিষ্ট ছাহাবী হিসেবে হযরত আবু আইয়ূব আল-আনসারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনি সমস্ত মুসলমানদের কাছে অনেক সম্মানিত এবং এই কারণেই উনার মাজার শরীফ সংলঘœ মসজিদটি অনেক গুরুত্ব বহন করে। উনার পবিত্র মাজার শরীফ মসজিদের নামাজ কক্ষের প্রধান প্রবেশপথের বিপরীতে একটি উঠানের উত্তর দিকে অবস্থিত।
হযরত আবু আইয়ূব আল-আনসারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার মাজার শরীফের পাশেই উনার নামে এই ঐতিহাসিক মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে। উনার নিসবত মুবারকের লক্ষ্যে তৎকালীন উসমানীয় সালতানাতের সুলতানরা এবং সুলতানদের পরিবারের সদস্যরা চেয়েছেন ইন্তেকালের পরে উনার মাজার শরীফের এবং মসজিদের কাছাকাছি যাতে তাদের দাফন করা হয়।
সম্পাদনায়: মুহম্মদ নাইম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান” (৪র্থ পর্ব)
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান” (৩য় পর্ব)
০৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান”
০১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান” (১ম পর্ব)
২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইস্তাম্বুলে হযরত আবু আইয়ূব আল আনসারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মসজিদ (৩)
১৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইস্তাম্বুলে হযরত আবু আইয়ূব আল আনসারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মসজিদ (১)
০৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
খেজুরের পাতায় লিখা পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ
২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে মোঘল আমলের ইদ্রাকপুর দুর্গ
২১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের উজ্জ্বল সাক্ষী সাতৈর শাহী মসজিদ (১)
০৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
অস্থায়ী হাসপাতাল নির্মাণে মুসলমানদের অবদান
২৩ নভেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মালয়েশিয়ার ঐতিহাসিক মসজিদ “মসজিদ নেগারা”
১৬ নভেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
যে মসজিদ থেকে গভীর রাতে ভেসে আসতো যিকিরের আওয়াজ
০৯ নভেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












