স্থাপত্য-নিদর্শন
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান”
, ১২ শাবান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৩ তাসি, ১৩৯৩ শামসী সন , ০১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ১৮ মাঘ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) স্থাপত্য নিদর্শন
(২য় পর্ব)
কর্মজীবন:
শারীরিকভাবে শক্তিশালী, প্রখর বুদ্ধিমত্তা এবং সাংগঠনিক দক্ষতার জন্য অতি অল্প সময়েই তিনি উসমানীয় বাহিনীতে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরী করতে সক্ষম হন। সূক্ষ যন্ত্রচালনা, যুদ্ধ ও সৈন্য পরিচালনায় অসাধারণ দক্ষতা, এবং অস্ত্র-শস্ত্রের নিপুণ কারিগর হিসেবে উনার সেনাবাহিনীতে নিজেকে অপরিহার্য করে তুললেন। সুলতান সেলিম প্রথম এর সাম্রাজ্য কালেই উনার প্রায় ১৫০টির অধিক নৌ যুদ্ধযান তৈরী করেছিলেন যার সাহায্যে উসমানীয়রা তার বহিঃশত্রুর বিপক্ষে নিজেদের শ্রেষ্ঠতর বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন। ১৫২০ খৃ: সুলতান সেলিম প্রথম এর উত্তরসুরী হিসেবে সুলতান সুলাইমান ক্ষমতাসীন হয়েই হাঙ্গেরী, বেলগ্রেড, রোডস আইল্যান্ডসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করেন। সকল জায়গাতেই মিমার সিনান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। যুদ্ধের সময়ে উনার এমন এক আর্টিলারি পদ্ধতি গড়ে তোলেন যার ফলে শত্রুরা একেবারে হতবুদ্ধি হয়ে পরাজিত হয়। সামরিক কৌশলের ক্ষেত্রে তার অসাধারণ বীরত্ব, কুশলতা ও সাহসিকতার মুগ্ধ হয়ে সুলতান তাকে কামান পরিচালনা বিভাগের চিফ অব স্টাফ হিসেবে পদোন্নতি দেন। যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুততম সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া, ব্রীজ নির্মাণ, ধ্বংসপ্রাপ্ত রাস্তাঘাট মেরামত, যুদ্ধ সরঞ্জামাদি মেরামত ইত্যাদি কাজে তিনি অতি দক্ষ ছিলেন।
এই সামরিক সফরের সময় উনার সমগ্র সাম্রাজ্য জুড়ে ভ্রমণ করেন, যথা, বাগদাদ, দামেশক, পারস্য ও মিশর। এসব ভ্রমণ থেকে তিনি অনেক অগাধ শিক্ষালাভ করেন।
মিমার সিনার নিজে বলেছেন-
"I swa the monuments, the great ancient remains. From every ruin I learned, from every building I absorbed something."
“আমি স্মৃতিস্তম্ভ গুলোতে সমৃদ্ধ অতীতকে খুঁজে ফিরি। প্রত্যেকটি ধ্বংসাবশেষ থেকে আমি শিখি, প্রত্যেকটি নির্মাণ থেকে আমি কিছু না কিছু গ্রহণ করি।”
প্রধান রাজ স্থপতি এবং নির্মাতা:
স্থাপত্যকলায় অসাধারণ পারঙ্গমতা এবং বহুবিধ গুণ ও যোগ্যতার বলে ১৫৩৮ খৃ: ৪৯ বছর বয়সে সুলতান সুলাইমানের রাজকীয় সভায় প্রধান স্থপতি এবং নির্মাতা হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন তিনি। একটানা পঞ্চাশ বছর তিনি এই পদে বহাল ছিলেন। যদিও তার নিয়োগের সময়ে রাজসভায় ডজনখানেক নামকরা স্থাপত্যবিদ এবং নির্মাতা কাজ করছিলেন। তবু সুলতান তার নিয়োগের ব্যাপারে ছিলেন প্রতিজ্ঞাবদ্ধ এবং সুলতান চেয়েছিলেন মিমার সিনানের মাধ্যমেই রাজ্যের প্রধান প্রধান স্থাপনা নির্মিত হোক। এটি শুধু যে মিমার সিনান পাশার জীবনের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করলো তাই না বরং ইসলামী স্থাপত্য ও শিল্পকলার ইতিহাসে সবচেয়ে ফলপ্রসূ এক যুগের সূচনা হলো। সুলতান সুলাইমানের আন্তরিক পৃষ্ঠপোষকতায় তার মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে চোখ ঝলসানো এবং অনুকরণীয় স্থাপত্য নির্মাণ করেন।
মিমার সিনান পাশার জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ:
মিমার সিনান পাশার অন্যান্য স্থাপনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নমুনা হলো- পবিত্র মসজিদুল হারাম শরীফ পুনঃসংস্কার। ১৫৭০ খৃ: সুলতান সেলিম দ্বিতীয় হারামাইন শরীফ উনার মসজিদের পুনঃসংস্কারের জন্য মিমার সিনানকে দায়িত্ব দেন। উনার মসজিদের অভ্যন্তরীণ সমতলভাগকে সুশোভিত গম্বুজ দিয়ে সজ্জিত করেন এবং ইসলামী ক্যালিগ্রাফিযুক্ত নতুন সাপোর্ট কলাম স্থাপন করেন। এগুলো বর্তমান মসজিদ এর সবচেয়ে প্রাচীন স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য হিসাবে স্বীকৃত যা এখনো টিকে আছে।
সম্পাদনায়: মুহম্মদ নাইম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান” (৪র্থ পর্ব)
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান” (৩য় পর্ব)
০৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান” (১ম পর্ব)
২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইস্তাম্বুলে হযরত আবু আইয়ূব আল আনসারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মসজিদ (৩)
১৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইস্তাম্বুলে হযরত আবু আইয়ূব আল আনসারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মসজিদ (২)
১১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইস্তাম্বুলে হযরত আবু আইয়ূব আল আনসারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মসজিদ (১)
০৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
খেজুরের পাতায় লিখা পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ
২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে মোঘল আমলের ইদ্রাকপুর দুর্গ
২১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের উজ্জ্বল সাক্ষী সাতৈর শাহী মসজিদ (১)
০৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
অস্থায়ী হাসপাতাল নির্মাণে মুসলমানদের অবদান
২৩ নভেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মালয়েশিয়ার ঐতিহাসিক মসজিদ “মসজিদ নেগারা”
১৬ নভেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
যে মসজিদ থেকে গভীর রাতে ভেসে আসতো যিকিরের আওয়াজ
০৯ নভেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












