স্থাপত্য-নিদর্শন
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান” (১ম পর্ব)
, ০৬ শাবান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৮ ছামিন, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ১২ মাঘ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) স্থাপত্য নিদর্শন
স্বর্ণযুগে মুসলমানগণ শুধুমাত্র বিজ্ঞান, গণিতশাস্ত্র, দ্বীনশাস্ত্র, ইত্যাদি ক্ষেত্রেই মুন্সিয়ানা দেখাননি বরং শিল্প ও স্থাপত্যকলার উন্নয়ন সাধনেও ব্যাপক ভূমিকা রেখেছিলেন। বস্তুত সে সময়ে আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান, ৩য় আব্দুর রহমান, সুলতান সুলাইমান ‘দ্য মাগনিফিসিয়েন্ট’ এবং শাসক শাহজাহানের মত প্রভাবশীল মুসলিম শাসকগণের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় দুনিয়ার বুকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ কিছু স্থাপনা নির্মিত হয়েছিলো।
ফিলিস্তিনে বিস্ময়ে বাকরুদ্ধ করা সৌন্দর্যের প্রতীক পবিত্র বাইতুল মুকাদ্দাস শরীফ এবং কুব্বাত আল-সাখরা; গ্রানাডার বিস্ময়কর আলহামরা প্রাসাদ অথবা ইস্তাম্বুলের অপরুপ সৌন্দর্যমন্ডিত সুলাইমানিয়া কমপ্লেক্স; আগ্রার অমরকীর্তি তাজমহল কিংবা লাহোরের অবিশ্বাস্য মনমুগ্ধকর বাদশাহী মসজিদ; ডোমেস্কের চিত্তাকর্ষক উমাইয়া মসজিদ কিংবা কায়রোর ঐতিহাসিক আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়; ইসফাহানের অভিজাত জুম্মা মসজিদ নাকি এডিরনের অসাধারণ সুন্দর সেলিমীয়া কমপ্লেক্স। একটির তুলনায় অপরটি নান্দনিক সৌন্দর্যতায় অতুলনীয়।
স্বর্ণযুগে মুসলমানদের সাম্রাজ্য কালে এরকম আরও অসংখ্য জগতবিখ্যাত স্থাপনা নির্মিত হয়েছিলো যেগুলো আজও কালের ও গৌরবের স্বাক্ষী হয়ে তাদের সভ্যতার উৎর্ষতা ও অসাধারণ সৌন্দর্যবোধের পরিচয় বহন করে আসছে। এভাবে মুসলমানগণ যেমন অনেক বিখ্যাত স্থাপনা নির্মাণ করে জগতবাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তেমনি তারা দুনিয়াবাসীকে কিছু সংখ্যক অসাধারণ প্রতিভাবান স্থাপত্যবি এবং নির্মাতা উপহার দিয়েছেন; এদের মধ্যে কয়েকজন হলেন, মুহম্মদ তাহির আঘা এবং মাহমুদ আঘা ভ্রাতৃদ্বয়, যারা ইস্তাম্বুলের ব্লু মসজিদের নির্মাতা, ফজলুর রহমান খান, যিনি শিকাগোর সিয়ার্স টাওয়ারের নকশা প্রণয়ন করেন, তাজমহলের প্রধান স্থপতি আহমদ শাহ লহৌরি ইত্যাদি। কিন্তু সন্দেহাতীতভাবে মুসলিমদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম স্থাপত্যবিদদের অন্যতম হলেন মিমার সিনান।
মিমার সিনান পাশার জন্ম ও বেড়ে উঠা:
তৎকালীন মধ্য আনাতোলিয়ার কায়সেরিয়া প্রদেশে (বর্তমান তুরস্ক) ১৪৮৮/৮৯ খৃ: মিমার সিনান পাশা জন্মগ্রহণ করেন। উনার পিতা গ্রীক বংশোদ্ভূত (কেউ আর্মেনিয়া, কেউবা আলবেনিয়ান এবং অতি সম্প্রতি তাকে তুর্কি বংশোদ্ভূতও বলা হয়) আব্দুল মান্নান পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার ছায়াতলে এসে মুসলিম এবং উসমানী সালতানাতের বেসামরিক ও প্রশাসনিক সেবায় নিয়োজিত একজন প্রসিদ্ধ ব্যক্তি ছিলেন। ইতিহাসে পাওয়া তথ্য মতে উনার পিতা একজন পাথুরে খোঁদাইশিল্পী ছিলেন। ফলে উনার পিতার কাছ থেকে কারিগরি শিক্ষা লাভ করেন এবং একজন সামরিক প্রকৌশলী হয়ে ওঠেন। মিমার সিনান পাশা এমন এক পরিবারে প্রতিপালিত হয়েছিলেন যারা উসমানী সালতানাতের প্রতি খুবই অনুগত ছিলো। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত হবার পরে উনারও পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে উসমানী সালতানাতের বিশেষ বাহিনী ‘জেনিসারি’তে যোগদান করেন। ‘জেনিসারি’ তুর্কি শব্দ; যার অর্থ ‘নতুন সেনা’। মূল তুর্কি উচ্চারণ ‘ইয়েনি চেরি’- সেটাই ইংরেজিতে হয়ে গেছে ‘জেনিসারি’। তারা ছিলো রাজকীয় সৈনিক বাহিনী। এরা ছিলো খুবই কৌশলী এবং যুদ্ধে পারদর্শী এক যোদ্ধা বাহিনী। সাহসিকতা, বীরত্ব ও রণকৌশলে এই বাহিনী ছিলো প্রবাদতুল্য।
সম্পাদনায়: মুহম্মদ নাইম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
৫০০ বছরের ঐতিহ্য স্থাপত্যর এক অনন্য নিদর্শন রাজশাহীর বাঘা শাহী মসজিদ
০৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুন্সীগঞ্জের দরগাহবাড়ি: সাড়ে পাঁচ শতাব্দী পেরিয়ে বাবা আদম মসজিদ
০৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
শ্যামপুর দায়রা শরীফ : ঐতিহ্য ও স্থাপত্যের নিদর্শন
০২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সউদীতে ১৩শ’ বছর পুরোনো মসজিদ
০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বাগেরহাটের ঐতিহাসিক চুনাখোলা মসজিদ
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
স্পেনের কুরতুবা বা কর্ডোবা মসজিদ
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বাগেরহাটের ঐতিহাসিক চুনাখোলা মসজিদ
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সিলেটে ৯০০ বছরের প্রাচীন ‘গায়েবি মসজিদ’
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
অলৌকিক ঘটনা ও ঐতিহ্যের স্মারক বিবিচিনি মসজিদ
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পিরামিডের রহস্যভেদ নিয়ে নতুন তথ্য!
০৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
উসমানীয় স্থাপত্যের কালজয়ী প্রতীক নীল মসজিদ
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইউরোপের সর্বশেষ ইসলামী দুর্গ স্পেনে কী দেখেছিলেন ইবনে বতুতা?
৩০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












