সম্মানিত শরীয়ত উনার ফায়ছালা মতে কুলাঙ্গার ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি কাট্টা কাফির ও চিরজাহান্নামী (৩)
, ১২ মুহররম শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২৯ আউওয়াল, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৮ জুন, ২০২৬ খ্রি:, ১৪ আষাঢ়, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) ইতিহাস
হযরত আল্লামা আলূসী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “রূহুল মাআনী” তাফসীর গ্রন্থে ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি প্রসঙ্গে আরো বলেন- “আমি বলছি, আমার এটাই অধিক ধারণা যে, খবীসটি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে রসূল বলে বিশ্বাস করতো না। সে মহান আল্লাহ পাক উনার হেরেম শরীফ-এ (পবিত্র কা’বা শরীফ প্রান্তে) অবস্থানকারীদের সাথে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হেরেম শরীফ (মদীনা শরীফ) উনার মধ্যে অবস্থানকারীদের সাথে এবং উনার পূত-পবিত্র বংশধর উনাদের সাথে উনাদের জীবদ্দশায় ও উনাদের পবিত্র বিছাল শরীফ উনার পরে যে আচরণ করেছে, এছাড়া তার দ্বারা যে সমস্ত অনাচার প্রকাশ পেয়েছে তা তার ঈমান না থাকার ব্যাপারটিই স্পষ্ট করে, (তার ঈমান থাকার) ব্যাপারটি প্রমাণ করতে কোনো দুর্বল দলীলও নেই। কারণ এ কাজটি ছিলো পবিত্র কুরআন শরীফ উনার পাতা অবহেলা অবজ্ঞার সাথে ময়লা-আবর্জনায় নিক্ষেপ করার মতো অন্যায়।
আমার ধারণা তখন তার কার্যকলাপ অধিকাংশ মুসলমানদের নিকট অজানা ছিলো না। কিন্তু উনারা অসহায় ছিলেন। ধৈর্যধারণ করা ব্যতীত উনাদের গত্যন্তর ছিলো না। মহান আল্লাহ পাক উনার যা করার তিনি যেন তা করেন। অগত্যা যদি ধরে নেয়া হয় যে, খবীসটি মুসলমানই ছিলো, তাহলে বলতে হয় সে এমন মুসলমান ছিলো যে যাবতীয় বড় পাপ একত্র করেছে। যা বর্ণনা করার ভাষা নেই। আর আমার অভিমত হলো, নাম করে তার মতো ব্যক্তির প্রতি অভিসম্পাত (লা’নত) করা বৈধ। তার ন্যায় অন্য কোনো পাপীর ধারণা করা যায় না। (তাফসীরে রূহুল মাআনী: ২৫ খ-, ৭৩ পৃষ্ঠা)
হযরত আল্লামা আলূসী রহমতুল্লাহি আলাইহি একজন সুন্নী তাফসীরকার। তিনি ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহিকে খবীস, নিকৃষ্ট পাপী বলে উল্লেখ করেছেন। আর তার ঈমান ছিলো না বলেই তিনি স্বীয় অভিমত ব্যক্ত করেছেন। পবিত্র কুরআন শরীফ অবমাননা করার জন্য কেউ তা বিষ্ঠা পুঞ্জে নিক্ষেপ করলে নিক্ষেপকারীর ঈমান থাকেনা। এরূপ ব্যক্তি কাফির হয়ে যায়। আল্লামা আলূসী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন, ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি সে এর চেয়েও অবমাননাকর কাজ করেছে পবিত্র হারামাইন শরীফাইন উনার বাসিন্দাদের সাথে। কাজেই তাকে কাফির বলা জায়িয। আর এরূপ ব্যক্তির প্রতি সুনির্দিষ্টভাবে লা’নত করা বৈধ। কারণ ইয়াযীদের ন্যায় নরাধম পাপিষ্ঠ গোটা যমীনে আর কেউ নেই।
যারা ইয়াযীদের প্রতি লা’নত করাকে বৈধ মনে করবে না, তাকে পাপী মনে করবে না তারা ইয়াযীদের সহচরদের অন্তর্ভুক্ত বলে হযরত আল্লামা আলূসী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন। আর তিনি ইয়াযীদের সহচরদের প্রতি ইয়াযীদের ন্যায় লা’নত করেছেন। তিনি বলেন- “আর লা’নতের উপযোগী হওয়ার ব্যাপারে ইয়াযীদের সাথে শামিল উবায়দুল্লাহ ইবনু যিয়াদ, আমর ইবনু সাআদ এবং তাদের দলবল। তাদের সবার প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার লা’নত ও অভিসম্পাত। তাদের সাহায্যকারী ও শুভানুধ্যায়ী এবং সাঙ্গ পাঙ্গদের প্রতি লা’নত। আর যারা তাদের প্রতি সহানুভূতি দেখাবে তাদের প্রতিও লা’নত কিয়ামতের দিন পর্যন্ত, যতদিন হযরত আবূ আব্দুল্লাহ সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য একটি মাত্র চোখও অশ্রু ঝরাবে।” (তাফসীরে রূহুল মাআনী, ২৫ খ-, ৭৩ পৃষ্ঠা)
যারা ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহিকে ইতিহাসের নিপীড়িত ব্যক্তি বলে তার সাফাই গাইছে তারাও আল্লামা আলূসী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মতে লা’নতের যোগ্য। তারাও ইয়াযীদের দলভুক্ত, ইয়াযীদের শুভানুধ্যায়ী। তাদের প্রতিও ইয়াযীদের ন্যায় লা’নত করা বৈধ বলে হযরত আল্লামা আলূসী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সুচিন্তিত অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
আর যারা চরম ইয়াযীদপন্থী, ইয়াযীদের প্রতি যারা কোনোরূপ দোষারোপ করতে চায় না তাদের প্রসঙ্গে হযরত আল্লামা আলূসী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন- আমি কসম করে বলি, এটা হলো চরম ভ্রষ্টতা। যা ইয়াযীদের ভ্রষ্টতাকেও অতিক্রম করেছে। (তাফসীরে রূহুল মাআনী, ২৫ খ-, ৭৩ পৃষ্ঠা)
উল্লেখ্য, ইবনে যিয়াদ ইয়াযীদের নির্দেশে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে বন্দী করে এবং কারবালায় শাহাদাতপ্রাপ্ত শহীদানের কর্তিত মস্তক মুবারক নিয়ে মিছিল করে দামেস্কে নিয়ে যাওয়ার জন্য শিমার ইবনে জুল জাউশান ইবনে সা’লাবা, শীস ইবন রাবী, আমর ইবনে হাজ্জাজ এবং আরো কতক লোককে নিযুক্ত করে। তাদেরকে হুকুম দেয় তারা যে শহরে পৌঁছবে সেখানেই যেন কর্তিত মস্তক মুবারক উনার প্রদর্শনী করা হয়। নাঊযুবিল্লাহ! এরূপে মিছিলটি পহেলা ছফর দামেস্ক শহরের দ্বার দেশে পৌঁছে। ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি তখন জায়রূন রাজ প্রাসাদে অবস্থান করছিলো। সে প্রাসাদের বেলকুনীতে বসে এ দৃশ্য উপভোগ করছিলো। নাঊযুবিল্লাহ!
সে দেখতে পেলো হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বন্দী অবস্থায় আসছেন। কর্তিত শির মুবারকসমূহ বর্শার আগায় বিদ্ধ রয়েছে। জায়রূন উপকণ্ঠে মিছিল পৌঁছলে পরে ওখানকার কাকগুলো কলরব করে বিলাপ প্রকাশ করতে থাকে। ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি তখন কবিতা আবৃত্তি করে বিজয় উল্লাস করে বলে- “যখন ওইসব বাহন চোখে পড়লো, আর ওইসব মস্তক সামনে ভেসে উঠলো জায়রূন উপকণ্ঠে তখন কাককুল কলরব করে উঠলো। আমি বললাম, কলরব করো বা নাই করো, আমি রসূলের নিকট হতে আমার ঋণগুলো শোধ করে নিয়েছি।” নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ!
-আবুল খায়ের মুহম্মদ আযীযুল্লাহ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
হারামাইন শরীফে পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালনের ইতিহাস
২৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সংক্ষিপ্ত জীবনী মুবারক (১)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শাহাদাত মুবারক
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বীর বিক্রম আক্রমণ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসারীদের শাহাদাত মুবারক
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
তাওয়াক্কুল উনার মাক্বাম হাছিলের পথে ফানা বা বিলীন হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
কারবালায় ঐতিহাসিক পবিত্র ১০ই মুহররমুল হারাম শরীফে শত্রুর মুখোমুখি হওয়ার পূর্ব মুহূর্ত
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আমিরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার নৌবাহিনী গঠন এবং বিজিত এলাকার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত নিযামুদ্দিন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মাজার শরীফ প্রাঙ্গণে বসন্ত পঞ্চমী উৎসবের বানোয়াট ইতিহাসের ব্যবচ্ছেদ
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
অশ্লীল চিত্র দেখা ও তৈরিতে যে সমস্ত বিধর্মী রাষ্ট্র শীর্ষে...
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বিধর্মীদের কুকীর্তিগুলো লিখিত রূপ দেয়নি কোনো লেখক, ফলে তাদের অপকীর্তিগুলো মুসলমানদের জানার আড়ালেই থেকে যাচ্ছে
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি বিধর্মী-কাফির, মুশরিকরা কতবেশি বিদ্বেষ পোষণ করে তার একটি উদাহরণ
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












