দেশে দেশে জাতিসংঘ ওরফে ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার অফিসমূহের পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী কার্যক্রমের ইতিহাস (১৩তম পর্ব)
, ০৪ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২০ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ১৯ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ০৪ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) ইতিহাস
কথিত মানবাধিকার বিষয়ে ইহুদীসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক ও বিষয়ভিত্তিক আঙ্গিক (থিমেটিক) তদন্তমূলক বা ইহুদী ষড়যন্ত্রমূলক কাজ:
* নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর বিশেষ কথিত মানবাধিকার বিষয়ে ইহুদীসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক বা রিপোর্টিয়ার (ঝঢ়বপরধষ জধঢ়ঢ়ড়ৎঃবঁৎ) নিয়োগ দেয়, যেমন:
* মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যার অর্থ পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার বিরুদ্ধে মত প্রকাশের স্বাধীনতা। তারা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা (ঋৎববফড়স ড়ভ ড়ঢ়বহরড়হ) এর নামে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করাকে মানবাধিকার বলে প্রচার করে আর ইহুদীবাদ, খ্রিস্টবাদ বা তাদের মনগড়া যে কোন মতবাদের বিরোধীতা করাকে মানবাধিকারের লঙ্ঘন বলে অপপ্রচার করে। তাই তো মহান আল্লাহ পাক তিনি কুরআন শরীফ উনার পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফের ৮২ নং আয়াত শরীফে ইহুদী ও মুশরিকদেরকে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় শত্রুরুপে ঘোষণা করেছেন।
* নির্যাতনবিরোধী তদন্ত যার অর্থ ইহুদীদের প্রতি কোন নির্যাতন হচ্ছে কিনা তা তদন্ত করা। আর ইহুদীরা সারা পৃথিবীতে বিশেষ করে মুসলমানদের উপরে যে জুলুম করছে তা যেনো বন্ধ না হয় (নাউযুবিল্লাহ) সেই বিষয়ে তদন্ত করে বিশ্বজুড়ে ইহুদীদের সন্ত্রাসবাদী কার্যক্রমের বিরোধীতাকারীদের দমন করা।
* নারী অধিকার যার অর্থ পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার খেলাফ অধিকার দেয়া। মানবাধিকারের নামে, নারী মুক্তির নামে নারীদেরকে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার বিপরীতে দাঁড় করানো। নাউযুবিল্লাহ!
* ধর্মীয় স্বাধীনতা যার অর্থ কুফরী ও ইহুদী ধর্ম প্রতিষ্ঠার স্বাধীনতা আর একমাত্র কবুলকৃত ও পরিপূর্ণ দ্বীন ইসলাম উনার বিরোধীতার স্বাধীনতা। নাউযুবিল্লাহ!
* বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- যার অর্থ ইহুদী, নাছারা, মুশরিক ও কাফেরদেরকে বিচার বহির্ভূত হত্যা করা হয়েছে কিনা? ইহুদী, নাছারা, মুশরিক ও কাফেরেরা আইনী বিচারে শাস্তির উপযুক্ত হলেও নানান ছুতা-নাতা দিয়ে তাদেরকে রক্ষা করা আর নতুন করে তাদেরকে উত্তেজিত করে মুসলমান শহীদ করতে এবং মুসলমানদের জান-মাল, ইজ্জত-সম্মান-সম্ভ্রমহরণ করতে প্ররোচিত করা, এমনকি একটা কুকুর মারার মিথ্যা অজুহাতে হাজার হাজার মুসলমান শহীদ করাকে বৈধতা দেয়া। নাউযুবিল্লাহ!
ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার কমিশনের ন্যারেটিভ (বয়ান) গুলো এমন যেন- একটা কাফের বা একটা কুকুর কেনো মরলো তার বিচার করতে হবে কিন্তু মুসলমানদেরকে শহীদ করার সময় কোনো বিচার-বিবেচনার প্রয়োজন নেই। বরং নারী, শিশুসহ সকল মুসলমানদেরকে কেনো শহীদ করা যাচ্ছেনা সেটাই তদন্ত করে বের করা এবং তথাকথিত মানবাধিকার ও তথাকথিত শান্তি প্রতিষ্ঠার অজুহাতের আড়ালে নির্বিচারে মুসলমানদেরকে জাতিগতভাবে নিশ্চিহ্ন করার অভিযান পরিচালনা করা। নাউযুবিল্লাহ!
* গুম ও জোরপূর্বক নিখোঁজ হওয়া; যার অর্থ ইহুদী, নাছারা, মুশরিক, কাফিরদের গুম করা হয়েছে কিনা। অথবা এদের কেউ নিখোঁজ হয়েছে কিনা। আর মুসলমানদের কেউ গুম বা নিখোঁজ হলে সেটাকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করা বা কূটচাল করা, রাজনীতি করা। সেই গুমের সংবাদ দিয়ে মুসলমানদেরকে উত্তেজিত করা বা প্রতারিত করে ইহুদী স্বার্থে মুসলমানদের ব্যবহার করা। নাউযুবিল্লাহ!
* তারা সংশ্লিষ্ট দেশে গিয়ে তদন্ত করে, তদন্ত-প্রতিবেদন দেয়। যার অর্থ তদন্ত ও প্রতিবেদন হলো তাদের পক্ষে দেয়া এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে দেয়া- যাতে মুসলমানরা যেনো পেরেশান থাকে। আর মুসলমানদের কি করে আরো কঠিন বিপদে ফেলা যায় সেই বিষয়ে বিভিন্ন মুসলিম দেশে গিয়ে সরেজমিনে তদন্ত করে আরো সূক্ষ¥-গভীর ষড়যন্ত্র ও মুসলমানদেরকে নির্মূল করার নীলনকশা প্রণয়ন করা। নাউযুবিল্লাহ!
মুসলমানদের ধোঁকা দিয়ে চাপে ফেলে পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমানদের ক্ষতি করার জন্য তথাকথিত মানবাধিকার সংগঠনের লোক দেখানো প্রস্তাব (রেজুলিউশন) গ্রহণ করা:
* কোনো দেশে কথিত মানবাধিকার লঙ্ঘন হলে অর্থাৎ পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমানদের প্রচার-প্রসারের কার্যক্রম বৃদ্ধি পেলে এরা মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে প্রচার করে। এরপর টঘঐজঈ একটি “রেজুলিউশন” (প্রস্তাব) পাস করে যেনো আন্তর্জাতিকভাবে পদক্ষেপের আহ্বান জানাতে পারে। মূলত ইহুদীদেরকে সহায়তা করার জন্য তারা লোক দেখানো বিভিন্ন নিন্দা প্রস্তাব করে মুসলমানদেরকে সহায়তা করার আশ্বাস দিয়ে বোকা বানিয়ে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার হুকুম-আহকামের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব পেশ করে। নাউযুবিল্লাহ!
উদাহরণ: গাজায় সন্ত্রাসী ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইহুদীসংঘের লোক দেখানো নিন্দা প্রস্তাব, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের জাতিগতভাবে নিধন অভিযানের জন্য মিয়ানমারের সামরিক জান্তার নিন্দা ইত্যাদি। এক্ষেত্রে তারা বাহ্যত নিন্দা জানায় কিন্তু প্রতিহত করার কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেনা। বরং কাফিরদেরকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে উস্কিয়ে দেয় এবং অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করে। ফলে মুসলমানরা ইহুদীসংঘের কোন সাহায্য তো পায়ইনা বরং উল্টো আরো কঠিন জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হয়।
কারণ এটা তাদের পূর্বপরিকল্পিত কার্যক্রম। আর এই নিন্দা প্রস্তাবের দ্বারা তারা দেখে কারা কারা ইহুদীদের পক্ষে আছে আর কারা কারা বিপক্ষে আছে। পরে যারা তাদের বিপক্ষে তাদেরকে ইহুদীদের পক্ষে আনার জন্য বা চুপ করে দেয়ার জন্য বিভিন্ন রকম চাপে ফেলে এবং প্রতারণা করে। এভাবেই মুসলমানদেরকে শহীদ করা এবং জুলুম করার কাজটাকে তারা বৈধ করে এবং স্বাভাবিকিকরণ করে। (সংকলিত)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
আফ্রিকান মুসলমান ইউরোপকে যেভাবে সমৃদ্ধ করেছেন
১৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সন্ত্রাসী সংগঠন ‘আইএস’ এর মাধ্যমে মুসলিম বিশ্ব ভাঙ্গার মানচিত্র বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়ে এখন গাজা যুদ্ধের মাধ্যমে সেই চেষ্টা করছে ক্রুসেডার জোট
১৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসী ইহুদী-খ্রিস্টানদের নজরদারী, তথ্যচুরি, ফিৎনা সৃষ্টিকারী, সন্ত্রাস সৃষ্টিকারী এবং বিমান হামলার কাজে ব্যবহৃত সন্ত্রাসী আমেরিকা ভিত্তিক মুসলিম বিদ্বেষী এক তথ্যজালিকা (২)
১৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হিজরী চর্তুদশ শতকের মহান মুজাদ্দিদ, ফুরফুরা শরীফের মুজাদ্দিদে যামান হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্বী ফুরফুরাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সংক্ষিপ্ত সাওয়ানেহ উমরী মুবারক
১১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আমেরিকা আবিষ্কারের যে সঠিক তথ্যটি আড়াল করা হয়েছে
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুসা বিন আবী গাসসান: হার না মানা এক অকুতোভয় মুসলিম সিপাহী
০৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বৃটিশরা কুচক্রীদের সহযোগিতায় মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে চালু করে সেক্যুলার নামক নাস্তিক্যবাদী সিলেবাস। (২য় পর্ব)
০৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
দেশে দেশে জাতিসংঘ ওরফে ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার অফিসমূহের পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী কার্যক্রমের ইতিহাস (১১ম পর্ব)
০৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সংক্ষিপ্ত জীবনী মুবারক (৫)
০৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বৃটিশরা কুচক্রীদের সহযোগিতায় মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে চালু করে সেক্যুলার নামক নাস্তিক্যবাদী সিলেবাস। (১ম পর্ব)
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সংক্ষিপ্ত জীবনী মুবারক (৪)
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সংক্ষিপ্ত জীবনী মুবারক (২)
০২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












