আফ্রিকান মুসলমান ইউরোপকে যেভাবে সমৃদ্ধ করেছেন
, ০৩ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১৯ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ১৮ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ০৩ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) ইতিহাস
বর্তমানে ইউরোপজুড়ে মুসলিমবিদ্বেষ চরম আকার ধারণ করেছে। ইউরোপের অমুসলিম দেশগুলোতে মুসলমানদের উপর চলছে অবর্ননীয় নির্যাতন-নিপীড়ন। অথচ এই ইউরোপকেই সমৃদ্ধ করেছেন মুসলমানরা। বিশেষ করে আফ্রিকান মুর মুসলিমরা।
শুধু আধুনিক কালেই আফ্রিকার মুসলিমরা ইউরোপকে জ্ঞান-বিজ্ঞানে সমৃদ্ধ করেননি, বরং প্রাচীনকালেও ইউরোপে সভ্যতার আলো দান করেছিলেন তারা।
পশ্চিমা বিশ্বের ইতিহাস পড়ানোর সময় মধ্যযুগকে সাধারণভাবে অন্ধকার যুগ বলা হয়। অথচ, এর পেছনে রয়েছে গভীর ষড়যন্ত্র ও বিদ্বেষ। কারন এই মধ্যযুগে জ্ঞান বিজ্ঞানে উন্নতির চরম শিখর স্পর্শ করেছিলেন মুসলমানরা। বিশেষ করে আফ্রিকান মুর মুসলিমরা। মধ্যযুগে আফ্রিকার মুসলিম সালতানাতগুলো জ্ঞান বিজ্ঞানে অনেক উন্নত ছিলো এবং বিশ্বের শিক্ষাকেন্দ্রগুলো আফ্রিকান মুসলিমদের দ্বারা পরিচালিত হয়েছিলো। সে সময় ইউরোপীয়রাই মূলত ছিলো অনাচারী বর্বর।
মুসলিম স্পেনে শিক্ষা ছিলো সর্বজনীন। বিপরীতে সে সময় খ্রিস্টান ইউরোপের ৯৯ শতাংশ জনগণ ছিলো নিরক্ষর। এমনকি কোনো কোনো তথাকথিত খ্রিষ্টান শাসক লিখতেও জানতো না। যখন ইউরোপে মাত্র দুটি বিদ্যালয় ছিলো, তখন মুর মুসলমানদের ছিলো সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়। পরবর্তীতে মুসলিম স্পেনের বিদ্যালয়গুলো পরিদর্শনের পর অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতারা অনুপ্রাণিত হয়েছিলো।
বর্তমান বিশ্বের সর্বপ্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয় হলো মরক্কোর আল-কারউইন বিশ্ববিদ্যালয়, যা মুর সালতানাতের স্বর্ণযুগে ৮৫৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ফাতেমা আল-ফিহরি নামক একজন মুর নারীর মাধ্যমে।
আধুনিক যুগের ইউরোপ যেসব বিষয় নিয়ে গর্ব করে তাদের অনেক কিছুই তারা মুসলিম স্পেন থেকে লাভ করেছিলো। বিশেষত মুক্ত বাণিজ্য, কূটনীতি, মুক্ত সীমান্ত, শিষ্টাচার, উন্নত সমুদ্রযাত্রা, গবেষণা পদ্ধতি ও রসায়নের মৌলিক উন্নতি।
যখন মুররা ছয় শর বেশি পাবলিক গোসলখানা তৈরি করেছিলেন এবং মুসলিম শাসকরা জমকালো প্রাসাদে বসবাস করতেন, তখন জার্মানি, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের শাসকরা জনসাধারণকে বোঝাত পরিচ্ছন্নতা পাপ এবং ইউরোপীয় শাসকরা বড় শস্য গুদামে বসবাস করত। যেখানে না ছিলো কোনো জানালা, না ছিলো কোনো চিমনি। ছাদে শুধু একটি ছিদ্র রাখা হতো ধোঁয়া বের হওয়ার জন্য।
দশম খ্রিস্টাব্দে কর্ডোভা শুধু মুসলিম স্পেনের রাজধানী ছিলো না, বরং এটা ছিলো ইউরোপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও আধুনিক শহর। সে সময় কর্ডোভায় পাঁচ লাখ মানুষ বাস করত। এই শহরের ছিলো সড়ক বাতি, ৫০টি হাসপাতাল, পানির সরবরাহ ব্যবস্থা, পাঁচ শ মসজিদ ও ৭০টি পাঠাগার। যার একটি পাঠাগারে ছিলো পাঁচ লক্ষাধিক বই। মুসলিম স্পেন যখন সামাজিক জীবনে এসব অগ্রগতি অর্জন করেছে, তখন লন্ডন ছিলো ২০ হাজার মূর্খ মানুষের বসতি। লন্ডন ও প্যারিসে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত সড়ক বাতি ও পাকা রাস্তা দেখা যায়নি। তখন ক্যাথলিক চার্চ অর্থ ঋণ দেওয়া নিষিদ্ধ করেছিলো, যা অর্থনৈতিক উন্নতিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিলো। মধ্যযুগের ইউরোপ ছিলো এমন এক দুর্ভাগ্যজনক জায়গা, যা কুৎসা, বর্বরতা, অশিক্ষা ও রহস্যবাদে পরিপূর্ণ। কিন্তু মুসলমানরা সে সময় ছিলেন সর্বোন্নত।
-মুহম্মদ শাহজালাল।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
বঙ্গ, বাংলা, বাঙ্গালী শব্দের উৎপত্তি মুসলমানদের মাধ্যম দিয়েই (২)
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ডাক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে মুসলমানদের অবদান (২)
০৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
ডাক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে মুসলমানদের অবদান (১)
৩১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
উসমানীয় গেরিলা বাহিনী ‘দেলিলার’
২৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
দেশে দেশে জাতিসংঘ ওরফে ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার অফিসমূহের পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী কার্যক্রমের ইতিহাস (১৩তম পর্ব)
১৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সন্ত্রাসী সংগঠন ‘আইএস’ এর মাধ্যমে মুসলিম বিশ্ব ভাঙ্গার মানচিত্র বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়ে এখন গাজা যুদ্ধের মাধ্যমে সেই চেষ্টা করছে ক্রুসেডার জোট
১৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসী ইহুদী-খ্রিস্টানদের নজরদারী, তথ্যচুরি, ফিৎনা সৃষ্টিকারী, সন্ত্রাস সৃষ্টিকারী এবং বিমান হামলার কাজে ব্যবহৃত সন্ত্রাসী আমেরিকা ভিত্তিক মুসলিম বিদ্বেষী এক তথ্যজালিকা (২)
১৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হিজরী চর্তুদশ শতকের মহান মুজাদ্দিদ, ফুরফুরা শরীফের মুজাদ্দিদে যামান হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্বী ফুরফুরাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সংক্ষিপ্ত সাওয়ানেহ উমরী মুবারক
১১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আমেরিকা আবিষ্কারের যে সঠিক তথ্যটি আড়াল করা হয়েছে
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুসা বিন আবী গাসসান: হার না মানা এক অকুতোভয় মুসলিম সিপাহী
০৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বৃটিশরা কুচক্রীদের সহযোগিতায় মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে চালু করে সেক্যুলার নামক নাস্তিক্যবাদী সিলেবাস। (২য় পর্ব)
০৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
দেশে দেশে জাতিসংঘ ওরফে ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার অফিসমূহের পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী কার্যক্রমের ইতিহাস (১১ম পর্ব)
০৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












