সম্মানিত বনু কায়নুকার জিহাদ (৩)
, ০৭ রবীউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ১২ খ্বমিস , ১৩৯২ শামসী সন , ১১ অক্টোবর , ২০২৪ খ্রি:, ২৫ আশ্বিন, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) আইন ও জিহাদ
স্মরণীয় যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন পবিত্র হিজরত মুবারক করে পবিত্র মদীনা শরীফ উনার মধ্যে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেছিলেন তখন বনু কায়নুকা, বনু কুরায়জা ও বনু নাযীর ইহুদী গোত্রদের সাথে এ চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিলো যে, আমরা তোমাদের সাথে জিহাদ করবো না এবং তোমরা কোন শত্রুকে আমাদের বিরুদ্ধে সাহায্য করবে না। অথচ এই বনু কায়নুকা তারা সর্বপ্রথম সন্ধি ভঙ্গ করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে রূঢ় জবাব দেয় এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরুদ্ধে যুদ্ধের সংকল্প গ্রহণ করে। নাউযুবিল্লাহ!
হযরত ইবনে হিশাম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, বনু কায়নুকার এই জিহাদের সময় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র মদীনা শরীফ উনার খিদমত মুবারকের দায়িত্ব দিয়েছিলেন হযরত আবূ লুবাবা বাশীর ইবনে আব্দুল মুনযির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে। বনু কায়নুকা তারা পবিত্র মদীনা শরীফ থেকে দূরবর্তী স্থানে অবস্থান করতো। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে নিয়ে ইহুদীদের কেল্লায় তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করে তাদেরকে অবরুদ্ধ করেন। এই বনু কায়নুকার ইহুদীদের অবরুদ্ধের ১৫ দিন পর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাদেরকে পানি পান করার অনুমতি দান করেন।
হযরত ইবনে ইসহাক্ব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে জানিয়েছেন হযরত উবাদা ইবনে ওয়ালীদ ইবনে উবাদা ইবনে সামিত রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সূত্রে। তিনি বলেন, বনু কায়নুকা গোত্র যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দিলো, তখন মুনাফিক উবাই বিন সুলূল তাদের পক্ষে কথা বলার দায়িত্ব নিলো এবং সে তাদের পক্ষ অবলম্বন করলো।
হযরত উবাদা ইবনে সামিত রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট আসেন। আর ইহুদী গোত্র কায়নুকা এর মৈত্রীচুক্তি ছিলো বানূ আওফ গোত্রের হযরত উবাদা ইবনে সামিত রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সাথে। মুনাফিক উবাই বিন সুলূল সে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট উপস্থিত হয়ে ওই চুক্তি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিলো এবং সে তাদের সাথে সম্পর্ক বর্জন করে মহান আল্লাহ পাক তিনি ও উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পক্ষ অবলম্বন করলো। মুনাফিক বললো, ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সাথে রয়েছি। সাথে সাথে আরো বললো, এসব ইহুদী কাফিরদের সাথে সম্পাদিত চুক্তি ও বন্ধুত্ব আমি প্রত্যাহার করে নিচ্ছি।
এ সম্পর্কে প্রসিদ্ধ তারিখ ও গ্রন্থসমূহে উল্লেখ রয়েছে-
لَمَّا حَارَبَتْ بَنُو قَيْنُقَاعٍ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ, تَشَبَّثَ بِأَمْرِهِمْ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أُبَيٍّ, وَقَامَ دُونَهُمْ. ومَشَى عُبَادَةُ بْنُ الصَّامِتِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ, وَكَانَ أَحَدَ بَنِي عَوْفِ بْنِ الْخَزْرَجِ مَنْ لَهُ حِلْفُهُمْ مِثْلُ الَّذِي لَهُمْ مِنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أُبَيٍّ, فَخَلَعَهُمْ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ, وَتَبْرَأَ إِلَى اللَّهِ وَإِلَى رَسُولِهِ مِنْ حِلْفِهِمْ, وَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَتَبْرَأُ إِلَى اللَّهِ وَإِلَى رَسُولِهِ مِنْ حِلْفِهِمْ وَأَتَوَلَّى اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَالْمُؤْمِنِينَ, وَأَبْرَأُ مِنْ حِلْفِ الْكُفَّارِ وَوَلاَيَتِهِمْ
অর্থ: (হযরত ইবনে ইসহাক্ব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন) বনু কায়নুকা যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরুদ্ধে যুদ্ধের সম্মুখীন হলো, তখন উবাই বিন সুলূল ইহুদীদের ব্যাপারে মাথা ঘামাতে লাগলো এবং তাদের পক্ষ হয়ে দাঁড়ালো।
বর্ণনাকারী বলেন, হযরত উবাদা ইবনে সামিত রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারকে আসলেন। আর তিনি ছিলেন বানূ আওফ ইবনে খাযরাজ গোত্রের একজন ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, অনুরূপভাবে মুনাফিক উবাই বিন সুলূলও ছিলো সেই গোত্রের। বনু কায়নুকার সাথে হযরত উবাদা ইবনে সামিত রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার মিত্রতার সেই সম্পর্ক ছিলো। হযরত উবাদা ইবনে সামিত রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে গিয়ে তাদের মিত্রতার সম্পর্ক ছিন্ন করে ফেললেন এবং মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পক্ষ হয়ে তাদের থেকে সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা দিয়ে বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ও হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাদেরকে মুহব্বত করি। আমি এসব কাফির মুশরিকদের বন্ধুত্ব ও মিত্রতা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। ” (আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, মুখতাসারু তারিখে দামেশক, রওদ্বুল উনূফ ফি গারীবিস সীর) (অসমাপ্ত)
-আল্লামা সাইয়্যিদ আহমদ শাবীব।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৭)
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৭)
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়:(১৫তম পর্ব)
০২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৬)
২৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৬)
২০ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৪তম পর্ব)
১৯ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৫)
১৮ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৫)
১৩ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৩তম পর্ব)
১২ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৪)
১১ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১২তম পর্ব)
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৩)
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












