সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (৬ষ্ঠ পর্ব)
, ১৩ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৩ আশির, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৩ মার্চ, ২০২৬ খ্রি:, ১৮ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) আইন ও জিহাদ
হযরত নু’মান ইবনে মালিক আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন-
يَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، لاَ تَحْرِمْنِا الْجَنَّةَ، فَوَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ لأَدْخُلَنَّ الْجَنَّةَ. فَقَالَ لَهُ: بِمَ؟ قَالَ بِأَنِّي أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ، وَأَنَّكَ رَسُولُ اللَّهِ، وَأَنِّي لاَ أَفِرُّ مِنَ الزَّحْفِ.
অর্থ: “ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমাদের জন্য সম্মানিত জান্নাতকে হারাম করবেন না। যিনি আপনাকে সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন উনার ক্বসম! আমরা অবশ্যই জান্নাতে যাবো। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত নু’মান ইবনে মালিক আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে বললেন, কিসের ভিত্তিতে আপনি এমন কথা বললেন? তখন হযরত নু’মান ইবনে মালিক আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, কেননা আমরা এ কালিমা শরীফ উনার উপর সাক্ষ্য প্রদান করি যে, ‘মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই এবং নিশ্চয়ই আপনি উনার মহাসম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।’ আর আমরা কখনও সম্মানিত জিহাদের ময়দান থেকে পলায়ন করবো না।” (তাফসীরে তবারী, তারিখুল উমাম ওয়াল মুলূক, উস্দুল গবা, সীরাতুল মুস্তফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
অপর এক বর্ণনায় এসেছে যে, হযরত নু’মান ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি আরো বলেন-
لِأنِّي أُحِبُّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. فَقَالَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَدَقْتَ.
অর্থ: “এজন্য যে, আমি মহান আল্লাহ পাক উনাকে এবং উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মুহব্বত করি। সুবহানাল্লাহ! তা শুনে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, আপনি সত্যিই বলেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (তারিখুল উমাম ওয়াল মুলূক, সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ)
এ কথা মুবারক শুনে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মধ্যে জযবা পয়দা হলো। সকলেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য কুরবান হতে প্রস্তুত হলেন। সেই সম্মানিত জিহাদ মুবারকে আপনার জন্য আমাদের মাল-জান কুরবান হোক।
এদিকে মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি সম্মানিত ওহী মুবারক নাযিল করলেন যেন তিনি পবিত্র মদীনা শরীফ উনার বাইরে গিয়ে কাফির মুশরিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ! ফলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হুজরা শরীফে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করলেন এবং সম্মানিত জিহাদের জন্য লৌহবর্ম পরিধান করে বেরিয়ে আসলেন। সুবহানাল্লাহ! এ ঘটনা সংঘটিত হয়েছিলো ইয়াওমুল জুমুয়া’ পবিত্র জুমুয়ার নামায আদায়ের পর। সুবহানাল্লাহ! আর ঐ দিনে বনূ নাজ্জারের আনছার ছাহাবী হযরত মালিক ইবনে আমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার জানাযার নামায পড়ান।
আরো বর্ণিত রয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র জুমুয়া মুবারক উনার খুতবা মুবারকে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের লক্ষ্য করে অনেক নছীহত মুবারক করলেন। সমস্ত কাজ মনোযোগ সহকারে সম্পাদন করার তা’লীম মুবারক দিলেন এবং উনাদেরকে বলা হয়েছিলো, যদি আপনারা সংকল্পে দৃঢ়তা, ধৈর্য অবলম্বন করেন এবং সর্বক্ষেত্রে অটল অবিচল থাকেন তবে বিজয় আপনাদের সুনিশ্চিত। সুবহানাল্লাহ!
এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
فَإِذَا عَزَمْتَ فَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّـهِ ۚ إِنَّ اللَّـهَ يُحِبُّ الْمُتَوَكِّلِينَ.
অর্থ: “আপনি যখন কোন কাজের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন তখন মহান আল্লাহ পাক উনার উপর তাওয়াক্কুল বা ভরসা করুন। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি তাওয়াক্কুলকারীকে মুহব্বত করেন।” (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৫৯)
সুতরাং মহান আল্লাহ পাক উনার উপর এবং উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উপর তাওয়াক্কুল বা ভরসা করা সমস্ত জীন-ইনসানের জন্য আবশ্যক। আর উনাদের উপর তাওয়াক্কুল করার মধ্যেই রয়েছে পরিপূর্ণ কামিয়াবী ও পূর্ণ বিজয়। সুবহানাল্লাহ! (চলবে)
-আল্লামা সাইয়্যিদ শা’বীব আহমদ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৯)
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৬তম পর্ব)
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৮)
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৭)
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৭)
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়:(১৫তম পর্ব)
০২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৬)
২৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৬)
২০ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৪তম পর্ব)
১৯ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৫)
১৮ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৫)
১৩ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৩তম পর্ব)
১২ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












