সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৩তম পর্ব)
, ২৪ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৩ ছানী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৩ মে, ২০২৬ খ্রি:, ৩০ বৈশাখ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) আইন ও জিহাদ
যারা মুনাফিক তারা জিহাদে যেতো না বিপরীতে তারা কসমও খেতো। সেটাই বলা হয়েছে, মুনাফিকরা যতই কসম খেয়ে স্বীকারোক্তি করুক না কেন তাদের কসমের কোনই মূল্য নেই। এটা তাদের মিথ্যাকে সত্য বানাবার একটা মাধ্যম মাত্র। মুনাফিক সরদার উবাই বিন সুলূল মুনাফিকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কসম খেতো আর মিথ্যা বলাতে সে ছিলো পটু। নাউযুবিল্লাহ!
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উবাই বিন সুলূল তথা মুনাফিকদেরকে চিনার জন্য অনেক আলামত বা লক্ষণ বলে দিয়েছেন। এখানে আমরা কতিপয় আলামত পেশ করবো।
পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ آيَةُ الْمُنَافِقِ ثَلاَثٌ إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ، وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ، وَإِذَا اؤْتُمِنَ خَانَ.
অর্থ: “হযরত আবূ হুরাইরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, মুনাফিকের আলামত বা চিহ্ন তিনটিঃ ১. যখন কথা বলে মিথ্যা বলে ২. ওয়াদা করলে ভঙ্গ করে ৩. আমানত রাখা হলে খিয়ানত করে। (বুখারী শরীফ: পবিত্র হাদীছ শরীফ: ৩৩, মুসলিম শরীফ: পবিত্র হাদীছ শরীফ: ২২০, সুনানে আবূ দাউদ, সুনানে তিরমিযী, সুনানে নাসায়ী, মুসনাদে আহমদ, সুনানে বাইহাকী)
পবিত্র হাদীছ শরীফে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ لِلْمُنَافِقِينَ عَلاَمَاتٍ يُعْرَفُونَ بِهَا تَحِيَّتُهُمْ لَعْنَةٌ، وَطَعَامُهُمْ نُهْبَةٌ، وَغَنِيمَتُهُمْ غُلُولٌ، وَلاَ يَقْرَبُونَ الْمَسَاجِدَ إِلاَّ هَجْرًا، وَلاَ يَأْتُونَ الصَّلاَةَ إِلاَّ دَبْرًا، مُسْتَكْبِرِينَ، لاَ يَأْلَفُونَ وَلاَ يُؤْلَفُونَ، خُشُبٌ بِاللَّيْلِ، صُخُبٌ بِالنَّهَارِ.
অর্থ: “হযরত আবূ হুরাইরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, নিশ্চয়ই মুনাফিকদের বহু নিদর্শন রয়েছে যেগুলো দ্বারা তাদের চেনা যায়। যেমন তাদের সালাম হলো লা’নত, তাদের খাদ্য হলো লুটতরাজ, তাদের গণীমত হলো আত্মসাৎ বা চুরির মাল, তারা পবিত্র মসজিদের নিকটবর্তী হওয়াকে অপছন্দ করে, পবিত্র নামাযের সময় তারা শেষ সময়ে উপস্থিত হয়ে থাকে, তারা অহংকারী ও আত্মগর্বী হয় এবং তারা নম্রতা ও বিনয় প্রকাশ হতে বঞ্চিত থাকে। তারা নিজেরাও ভালো কাজ করে না এবং অন্যদেরকেও ভালো কাজের প্রতি উৎসাহ প্রদান করে না। তারা রাত্রে কাঠ এবং দিনে শোরগোলকারী।” অন্য বর্ণনায় রয়েছে যে, তারা দিনে খুবই পানাহারকারী হয় এবং রাত্রে শুষ্ক কাঠের মত পড়ে থাকে। নাউযুবিল্লাহ! (মুসনাদে আহমদ, শুয়াইবুল ঈমান, মুসনাদে আল বায্যার)
সম্মানিত জিহাদের উদ্দেশ্যে রওয়ানা:
মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফে ইরশাদ মুবারক করেন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا هَلْ أَدُلُّكُمْ عَلَىٰ تِجَارَةٍ تُنجِيكُم مِّنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ. تُؤْمِنُونَ بِاللَّـهِ وَرَسُولِهِ وَتُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّـهِ بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنفُسِكُمْ ۚ ذَٰلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ.
অর্থ: “হে ঈমানদারগণ! আমি তোমাদের এমন একটি ব্যবসার কথা বলে দিবো না, যা তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে নাজাত দিবে? তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি এবং উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ঈমান আনবে। অতঃপর তোমাদের মাল ও জান দ্বারা মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় জিহাদ করবে। এটাই তোমাদের জন্য সর্বোত্তম, যদি তোমরা বুঝতেন”। (পবিত্র সূরা ছফ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ- ১০-১১)
মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-
إِنَّ اللَّـهَ اشْتَرَىٰ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ أَنفُسَهُمْ وَأَمْوَالَـهُم بِأَنَّ لَـهُمُ الْـجَنَّةَ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّـهِ فَيَقْتُلُونَ وَيُقْتَلُونَ.
অর্থ: “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি মু’মিনদের মাল ও জান খরিদ করে নিয়েছেন জান্নাতের বিনিময়ে। তারা জিহাদ করবে মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায়। অতঃপর তারা কতল বা মারবে এবং শহীদ হবে।” (পবিত্র সূরা তওবা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ: ১১১)
পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
إِنَّ فِي الْـجَنَّةِ مِائَةَ دَرَجَةٍ أَعَدَّهَا اللهُ لِلْمُجَاهِدِينَ فِي سَبِيلِ اللهِ مَا بَيْنَ الدَّرَجَتَيْنِ كَمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ فَإِذَا سَأَلْتُمُ اللهَ فَاسْأَلُوهُ الْفِرْدَوْسَ.
অর্থ: “(নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন) নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় জিহাদকারী ব্যক্তিদের জন্য মহান আল্লাহ পাক তিনি জান্নাতে একশ’টি মর্যাদার স্তর মুবারক প্রস্তুত করে রেখেছেন। দু’টি স্তরের ব্যবধান আসমান ও যমীনের দূরত্বের মত। তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট চাইলে জান্নাতুল ফেরদাউস চাইবে। কেননা এটাই হলো সবচেয়ে উত্তম ও সর্বোচ্চ জান্নাত।” সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ: পবিত্র হাদীছ শরীফ: ২৭৯০, ছহীহ তারগীব ওয়া তারহীব, মিশকাত শরীফ) (ইনশাআল্লাহ চলবে)
-আল্লামা সাইয়্যিদ শা’বীব আহমদ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৭)
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৭)
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়:(১৫তম পর্ব)
০২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৬)
২৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৬)
২০ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৪তম পর্ব)
১৯ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৫)
১৮ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৫)
১৩ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৪)
১১ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১২তম পর্ব)
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৩)
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১২)
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












