আফ্রিকার দেশ ঘানার ঐতিহাসিক স্থাপত্য ‘লারাবাঙ্গা মসজিদ’
, ২০ মুহররম শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৭ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৬ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ২২ আষাঢ়, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) স্থাপত্য নিদর্শন
আফ্রিকা মহাদেশের গোল্ড কোস্টখ্যাত দেশ ঘানা। দেশটির সাভানা অঞ্চলের লারাবাঙ্গা নামক এক মুসলিমপ্রধান গ্রামে দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহাসিক স্থাপত্য-‘লারাবাঙ্গা মসজিদ’। শুধু ঘানার সবচেয়ে প্রাচীন মসজিদই নয়, এটি সমগ্র পশ্চিম আফ্রিকার অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহাসিক মসজিদ হিসেবে স্বীকৃত। এর গুরুত্ব ও ঐতিহ্যের কারণে স্থানীয় মানুষ ও পর্যটকদের কাছে এটি ‘পশ্চিম আফ্রিকার মক্কা’ নামে পরিচিত।
লারাবাঙ্গা মসজিদ নির্মাণের ইতিহাসকে ঘিরে বেশ কিছু লোকগাথা প্রচলিত রয়েছে। প্রথমত; ১৪২১ খ্রিষ্টাব্দে আইয়ুবা নামক একজন মুসলিম ব্যবসায়ী সাহারা মরুভূমি পাড়ি দেওয়ার সময় এই অঞ্চলে একটি ‘রহস্যময় পাথর’-এর পাশে রাত্রিযাপন করেন। ঘুমের মধ্যে তিনি একটি স্বপ্ন দেখেন; তাকে এখানে একটি মসজিদ নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।
আশ্চর্যজনকভাবে সকালে ঘুম থেকে উঠে তিনি দেখেন যে মসজিদের ভিত্তি বা ফাউন্ডেশন স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হয়ে আছে। এরপর তিনি সেই ভিত্তির ওপর মসজিদের বাকি অংশ নির্মাণ করেন।
আইয়ুবার মৃত্যুর পর মসজিদের পাশেই তাকে দাফন করা হয়। স্থানীয়দের কথা অনুযায়ী, দাফনের তিন দিন পর তার কবরের ওপর একটি বাওবাবগাছ জন্মায়, যা শত শত বছর ধরে আজও মসজিদটির পাশে টিকে আছে। এই গ্রামের মানুষজন ঔষধি গুণসমৃদ্ধ এই বাওবাবগাছের পাতা ও কা- বিভিন্ন রোগ নিরাময়ের জন্য ব্যবহার করে থাকে।
মসজিদটির প্রতিষ্ঠাতাকে নিয়ে আরেকটি লোকগাথাও প্রচলিত আছে। দ্বিতীয়ত; ১৬০০ খ্রিষ্টাব্দের শেষের দিকে ব্রাইমাহ নামক এক ব্যক্তি যুদ্ধ শেষে একটি বল্লম নিক্ষেপ করেন এবং সিদ্ধান্ত নেন বল্লমটি যেখানে গিয়ে পড়বে, সেখানে তিনি বসতি স্থাপন করবেন। বল্লমটি একটি উজ্জ্বল উঁচু স্থানে গিয়ে পড়ে। সেখানেই তিনি তার ঘর এবং এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। তিনি এই জায়গার নাম দেন ‘লারাবাঙ্গা’, যার অর্থ ‘আরবদের ভূমি’।
বিচিত্রধর্মী স্থাপত্যশৈলী:
শহুরে অঞ্চলের আধুনিক মসজিদের চেয়ে লারাবাঙ্গা মসজিদটি আকারে বেশ ছোট-দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে এটি মাত্র ৮ মিটার বাই ৮ মিটার (প্রায় ২৬ ফুট)। মসজিদটি মূলত কাদা, মাটি ও খড় বা নলখাগড়া দিয়ে তৈরি। এটি মূলত পশ্চিম আফ্রিকার বিখ্যাত ‘সুদানি-সাহেলিয়ান’ ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত, যা মালির বিখ্যাত ‘জেনের বড় মসজিদ’-এর আদলে তৈরি। এই নির্মাণশৈলীকে ‘ফ্ল্যাট-ফুটেড অ্যাডোবি আর্কিটেকচার’ও বলা হয়।
পুরো মসজিদ চুনকাম বা সাদা রঙে আবৃত। এতে দুটি পিরামিড আকৃতির উঁচু টাওয়ার বা মিনার রয়েছে; যার একটি পূর্ব পাশে মক্কা শরীফের দিকে মুখ করা মিহরাব হিসেবে কাজ করে এবং অন্যটি উত্তর-পূর্ব কোণে মিনার হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। মাটির দেয়ালকে শক্ত রাখতে এবং এর ভারসাম্য বজায় রাখতে বাইরে ১২টি মোচাকৃতির শক্তিশালী প্রজেকশন বা টেকো ব্যবহার করা হয়েছে, যেগুলোর ভেতর দিয়ে আনুভূমিকভাবে কাঠের তক্তা বা বিম গুঁজে দেওয়া হয়েছে।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
বন্দরের ঐতিহাসিক নিদর্শন হযরত বাবা সালেহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মাজার শরীফ
০১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র মসজিদে জুমুয়াহ
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সম্মানিত ইসলামী সভ্যতার অনবদ্য নিদর্শন নাফত বা পেট্রোলিয়াম
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ভারতের সাদা রত্ন ঐতিহাসিক মতি মসজিদ
২৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নহরে জুবাইদা: ঐতিহাসিক মিষ্টি পানির খাল
১৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হযরত নূর কুতুবে আলম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নামকরণে তৈরী করা হয়েছিলো ভারতের যে মসজিদ: ফিরোজাবাদে যুগের সাক্ষী ঐতিহাসিক নিদর্শন কুতুব শাহি মসজিদ
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ভারতের জান্নাতবাদে ঐতিহাসিক জাহানীয়া মসজিদ
১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সুবা বাংলার ঐতিহাসিক শেখ বাহার উল্লাহ শাহী জামে মসজিদ
০৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ঢাকায় ৩০০ বছর আগের মুঘল আমলের ঐতিহাসিক মসজিদ
২৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ফুলের মতোই সুন্দর মালয়েশিয়ার পুত্রাজায়ায় অবস্থিত পুত্রা মসজিদ
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান” (৫ম পর্ব)
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান” (৪র্থ পর্ব)
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












