স্থাপত্য-নিদর্শন
পবিত্র মসজিদে জুমুয়াহ
, ১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) স্থাপত্য নিদর্শন
চিত্র-০১: পবিত্র মসজিদে জুমুয়ার ঐতিহাসিক ছবি
আল জুমুয়া মসজিদ (আরবি: مسجد الجمعة), এছাড়াও মসজিদটি বনী সেলিম মসজিদ, আল গুবাইব মসজিদ বা আতিকাহ মসজিদ হিসেবে পরিচিত, মসজিদটি পবিত্র মদীনা শরীফ শহরে অবস্থিত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা পবিত্র মক্কা শরীফ থেকে পবিত্র মদীনা শরীফে হিজরত মুবারকের সময় প্রথমবারের মত এই স্থানে পবিত্র জুমার নামাজ আদায় করেছিলেন।
মসজিদের অবস্থান:
মসজিদটি পবিত্র মদীনা শরীফ শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমে, ওয়াদি রানুনার নিকটে, মসজিদে কুবা থেকে ৯০০ মিটার উত্তরে এবং পবিত্র মসজিদে নববী থেকে ৬ কিমি দূরত্বে অবস্থিত।
চিত্র-০২: পবিত্র মসজিদে জুমুয়ার মানচিত্র
ইতিহাস:
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং হযরত মুহাজির ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা পবিত্র মক্কা শরীফ থেকে পবিত্র মদীনা শরীফ পর্যন্ত হিজরত মুবারকের পথে, হিজরী ১ম বর্ষের পবিত্র শাহরুল আ’যম, রবীউল আউওয়াল শরীফ মাসের ১২ই শরীফ, ইছনাইনিল আযীম শরীফ (সোমবার), চার দিনের জন্য কুবা অঞ্চলে কাফেলা থামিয়েছিলেন। জুমুয়াবার সকালে উনারা পুনরায় পবিত্র মদীনা শরীফ উনার পথে রওয়ানা শুরু করেন এবং ওয়াদি রানুনা অঞ্চলে কাফেলা থামিয়ে সেখানে জুমার নামাজ আদায় করেছিলেন। এ অঞ্চলটিকে আজও ‘জুমুয়া’ বলে উল্লেখ করা হয়।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র মদীনা শরীফ গমনের অধ্যায়ে বলা হয়েছে যে, যখন তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশ মুবারকে জুমুয়াবার কুবা থেকে পবিত্র মদীনা শরীফের দিকে রওয়ানা হন, তখন সালিম ইবনে আওফের গোত্রের নিকট পৌঁছলে জুমুয়ার নামাযের সময় হয়। সেখানে তিনি জুমুয়ার নামায আদায় করেন। পবিত্র মদীনা শরীফ এলাকায় এটিই ছিলো উনার প্রথম জুমুয়ার নামায। এই মসজিদের সন্নিকটে একটি উপত্যকা আছে। এই উপত্যকার পশ্চিম প্রান্তে সালিম ইবনে আওফ গোত্রের বাড়ি ছিলো। যার নিদর্শন এখনো বিদ্যমান। সেখানে বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত ইতবান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার বাড়ি ছিলো।
এ প্রসঙ্গে বিস্তারিত বর্ণনা পবিত্র বুখারী শরীফে বর্ণিত আছে। তিনি একবার নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র দরবার শরীফে এসে আরজু করেন, “ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমার দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হয়ে গেছে। এ কারণে আমি বৃষ্টি হওয়ার সময় মসজিদে গিয়ে নামাযের জামায়াতে শরিক হতে পারি না। যদি আপনি আমার ঘরে তাশরীফ মুবারক এনে নামায আদায় করেন, আমি সে স্থানেই নামায পড়বো।”
এটাও বর্ণিত রয়েছে, বনী সালামের মধ্যে দুটো মসজিদ ছিলো। উভয়ের মধ্যে মসজিদে জুমা ছোট ছিলো। সম্ভবত বড় মসজিদ ওটাই ছিলো যেখানে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নামায পড়ার কথা এই হাদীছ শরীফে বর্ণিত হয়েছে।
চিত্র-০৩: পবিত্র মসজিদে জুমুয়া
মসজিদের ভিত্তি:
মসজিদটি সর্বপ্রথম পাথরের শিলা দ্বারা নির্মিত হয়েছিলো, পরে পুরাতন হয়ে বিভিন্ন স্থানে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় পরবর্তীতে সংস্কার করা হয়। সংস্কারের পূর্বে মসজিদটির দৈর্ঘ্য ছিলো ৮ মিটার, প্রস্থে ৪.৫ মিটার এবং লম্বায় ৫.৫ মিটার। মসজিদের একমাত্র গম্বুজটি ছিলো লাল ইট দ্বারা নির্মিত। পূর্ব অংশের সাথে ৮ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৬ মিটার প্রস্থসহ একটি উঠান ছিলো। ১৯৮৮ খৃ: মসজিদটি পুণঃনির্মাণ করা হয়, যেখানে ইমাম এবং মুয়াজ্জিন থাকার জন্য একটি বাসভবন, একটি গ্রন্থাগার, তাহফিজ আল কুরআন নামে একটি মাদ্রাসা, একটি হাম্মামখানা নির্মাণ করা হয়। ৬৫০ জন হজ্জযাত্রীর ধারণক্ষমতা সম্পন্ন একটি প্রধান গম্বুজ এবং চারটি ছোট গম্বুজ নিয়ে নির্মিত মসজিদটি ১৯৯১ খৃ: জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।
সংস্কারের সময়রেখা:
দ্বিতীয় সংস্কারটি হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ রহমতুল্লাহি আলাইহি করেছিলেন।
তৃতীয় সংস্কারটি আব্বাসীয় শাসনামলে ৭৩৪ খৃ: থেকে ৭৪৮ খৃ: মধ্যে পরিচালিত হয়েছিলো।
চতুর্থ সংস্কারটি চৌদ্দ শতকের সময় সায়ামসুদ্দিন কাওয়ান পরিচালনা করেছিলেন।
উসমানীয় সাম্রাজ্যের আমলে সংস্কারের নেতৃত্বে ছিলেন সুলতান বায়েজিদ।
উনিশ শতকের মাঝামাঝি সংস্কারের নেতৃত্বে ছিলেন সাইয়্যিদ হাসান আসি-সিয়ারবাটলি।
এ মসজিদের পুরাতন ইমারত নষ্ট হওয়ার পর ৯০০ হিজরীতে কোন একজন মসজিদটি পুনঃনির্মাণ করেন। এ মসজিদের ছাদ ও দেয়াল ছিলো এবং মসজিদের কিবলা ছিলো সিরিয়ার দিকে, মসজিদটি দৈর্ঘ্য ২০ গজ, আর পূর্ব ও পশ্চিমে প্রস্থ ছিলো ১৬ গজ। (আস-সামহুদী, ওয়াফাউল ওয়াফা বি-আখবারি দারিল মুস্তাফা)
-মুহম্মদ নাইম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সম্মানিত ইসলামী সভ্যতার অনবদ্য নিদর্শন নাফত বা পেট্রোলিয়াম
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ভারতের সাদা রত্ন ঐতিহাসিক মতি মসজিদ
২৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নহরে জুবাইদা: ঐতিহাসিক মিষ্টি পানির খাল
১৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হযরত নূর কুতুবে আলম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নামকরণে তৈরী করা হয়েছিলো ভারতের যে মসজিদ: ফিরোজাবাদে যুগের সাক্ষী ঐতিহাসিক নিদর্শন কুতুব শাহি মসজিদ
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ভারতের জান্নাতবাদে ঐতিহাসিক জাহানীয়া মসজিদ
১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সুবা বাংলার ঐতিহাসিক শেখ বাহার উল্লাহ শাহী জামে মসজিদ
০৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ঢাকায় ৩০০ বছর আগের মুঘল আমলের ঐতিহাসিক মসজিদ
২৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ফুলের মতোই সুন্দর মালয়েশিয়ার পুত্রাজায়ায় অবস্থিত পুত্রা মসজিদ
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান” (৫ম পর্ব)
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান” (৪র্থ পর্ব)
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান” (৩য় পর্ব)
০৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান”
০১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












