ইলমে তাছাওউফ
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৬৫)
, ২৩ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৮ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৭ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ২৩ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) ইলমে তাছাউফ
মুর্শিদ কিবলা উনার ছোহবত মুবারককে মহান আল্লাহ পাক উনার নিয়ামত মনে করে উনার ছোহবত মুবারককেই নিজের জন্য লাজিম করে নিবে
এ প্রসঙ্গে সাইয়্যিদুল মুজাহিদীন, হযরত আবূ আলী দাক্কাক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “যে গাছগুলো নিজ থেকে জন্মে, যাকে আগাছা বলা হয়; যাতে কোনরূপ যত্মাদি করা হয় না, তাতে পত্র পল্লব হয় বটে কিন্তু সে গাছে ফল ধরে না। যদিও বা ধরে, সে ফল তেমন সুস্বাদু হয় না বরং তা হয় বিস্বাদ। ঠিক একইভাবে মুর্শিদ কিবলা বা কামিল শায়েখের পক্ষ থেকে যে সকল মুরীদগণ ফায়েজ-তাওয়াজ্জুহ লাভ করে না তেমন মুরীদগণ কস্মিনকালেও সফলতা লাভে সক্ষম হয় না।”
হযরত আবূ আলী দাক্কাক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি আরো বলেন, “এ কথাটি কিন্তু আমার নয়। আমি আমার মুর্শিদ কিবলা হযরত আবুল কাসেম নাছিরাবাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মুখে শুনেছি, আবার তিনিও একথা নিজে বলেননি, তিনি উনার মুর্শিদ কিবলা হযরত আবু বকর শিবলী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কাছে শুনে বলেছেন।”
২৮। কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ কিবলা উনার দেয়া সবক বা অযীফা ছাড়া অন্য কোন নফল ইবাদত করবে না। কোন নফল ইবাদত করতে হলে মুর্শিদ কিবলা উনার নিকট অনুমতি কামনা করবে। যদি তিনি অনুমতি প্রদান করেন তবে তা আদায় করবে অন্যথায় তা হতে বিরত থাকবে। কেননা অনেক ক্ষেত্রে তাতে উপকারের চেয়ে অপকারই বেশী হয়ে থাকে।
এ প্রসঙ্গে বর্ণিত আছে, হযরত আবু আলী দাক্কাক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার এক বণিক মুরীদ একবার রোগাক্রান্ত হয়ে পড়লো। হযরত আবু আলী দাক্কাক রহমতুল্লাহি আলাইহি তাকে দেখতে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “তোমার রোগের কারণ কি বলতো?” সে মুরীদ বললো, “সেদিন রাতে আমি তাহাজ্জুদ নামায পড়ার জন্য ঘুম থেকে উঠে ওজু করে যেইমাত্র নামাযের জন্য দাঁড়িয়ে গেলাম তখন হঠাৎ আমার ভীষণ কোমর ব্যাথা শুরু হলো এবং সাথে সাথে মারাত্মক জ্বর আসলো।”
সেই মুরীদের কথা শুনে হযরত আবু আলী দাক্কাক রহমতুল্লাহি আলাইহি অত্যন্ত গোস্বা করে বললেন, “তোমার তাহাজ্জুদ নামায আদায় করার এমনকি প্রয়োজন ছিলো? তোমার জন্য তো এই যথেষ্ট ছিলো যে, তুমি দুনিয়াবী লিপ্সা পরিহার করে সৎ পথে থাকবে। এটা তোমার জন্য তাহাজ্জুদ নামায অপেক্ষা বেশী ভালো হতো। এরূপ না করার ফলে তো তুমি সর্বদাই কোমর ব্যাথায় ভুগবে। আর দৃষ্টান্ত এই যে, যেমন কোন ব্যক্তির মাথা ব্যাথা শুরু হলো কিন্তু সে ওষুধ ব্যবহার করলো পায়ে কিংবা কারও হাতে নাপাক লেগেছে সে বসে গেলো জামার আস্তিন পরিস্কার করতে। এ ধরনের কাজ একেবারেই অর্থহীন।” (তাযকিরাতুল আওলিয়া)
২৯। কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ কিবলা উনার ব্যবহৃত কোন বস্ত্র কিংবা অন্য কোন দ্রব্য পেলে তা তাবারুক বা বরকতময় মনে করে তার যথাযথ তা’যীম-তাকরীম করবে এবং ওজুসহকারে ব্যবহার করে তার হক আদায় করবে।
হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি বস্তুই তাবারুক তথা বরকতময়। যিনি যত মর্যাদার অধিকারী উনার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোও তেমনি মর্যাদা-মর্তবা ও ফযীলতের অধিকারী।
উবাই বিন সুলূল ছিলো মুনাফিক সরদার। মৃত্যু পর্যন্ত সে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সাথে মুনাফিকী বা কপটতা করেছিলো। যখন সে মারা গেলো তখন তার ছেলে, যিনি ছিলেন বিশিষ্ট ছাহাবী। তিনি উবাই বিন সুলূলের জন্য আখেরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার একখানা কোর্তা (জামা) মুবারক প্রার্থনা করেছিলেন যাতে সে কবরের ভয়াবহ আযাব হতে অব্যাহতি লাভ করতে পারে।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সদয় অনুমতি সাপেক্ষে উবাই বিন সুলূলের কবরে উনার লিবাস বা কোর্তা মুবারক দেয়া হলো। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ পরবর্তীতে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এই জামা মুবারকের বরকতে মুনাফিক সরদার উপকৃত হবে কি-না? নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, “যতদিন পর্যন্ত এই জামা মুবারকের একটি সুতা বাকী থাকবে ততদিন সে কবর আযাব হতে নিরাপদ থাকবে।” সুবহানাল্লাহ!
এই সূত্র ধরেই মুরীদগণ তাদের নিজ নিজ মুর্শিদ কিবলা উনার খিরকা (সূফী সাধকগণের বিশেষ পোশাক) বন্টন করে নেন। যাতে সকলে ফায়দা লাভ করতে পারে। (মাকতুবাতে সাদী)
আফজালুল আওলিয়া, হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব “মাকতুবাত শরীফ”-এর ভূমিকায় উল্লেখ আছে, “ওলীয়ে মাদারজাদ, হাফিজে মাদারজাদ, হযরত মির্জা মাজহার জানে জান শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার মুর্শিদ কিবলা হযরত নূর মুহম্মদ বাদায়ূনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার একখানা টুপি মুবারক বরকতস্বরূপ পেয়েছিলেন। উক্ত টুপি মুবারক তিনি রাতে ভিজিয়ে রাখতেন এবং সকালে তা মর্দন করে তার নিংড়ানো পানিটুকু পান করতেন। পরবর্তীতে তিনি বলেছেন যে, “এ কারণে আমার যেরূপ বাতিনী নিয়ামত প্রাপ্তি তথা উন্নতি হয়েছিলো তা অন্য কোন আমল দ্বারা সাধিত হয়নি।” সুবহানাল্লাহ! (অসমাপ্ত)
-আল্লামা মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পাঁচ তরীক্বার শাজরা শরীফ (৫)
০৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পাঁচ তরীক্বার শাজরা শরীফ (৪)
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৬৪)
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার প্রতি আদব (৫)
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পাঁচ তরীক্বার শাজরা শরীফ (৩)
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৬৩)
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পাঁচ তরীক্বার শাজরা শরীফ (২)
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৬২)
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৬১)
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৬০)
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার প্রতি আদব (৪)
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার প্রতি আদব (৩)
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












