ইলমে তাছাওউফ
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৬০)
, ০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) ইলমে তাছাউফ
২৫। নামায-রোযা, ইবাদত-বন্দেগী, পোশাক-পরিচ্ছদ, খাওয়া-দাওয়া ইত্যাদি ছোট-বড় সকল বিষয়ে স্বীয় কামিল শায়েখ উনার অনুসরণ-অনুকরণ করবে। উনার কাজ দেখে “ফিক্বাহ”-এর মাসয়ালা শিক্ষা করবে।” (মাকতুবাতে ইমামে রব্বানী)
কামিল শায়েখ উনার পরিপূর্ণ অনুসরণ-অনুকরণ করার অর্থই হচ্ছে, মহান আল্লাহ পাক ও উনার সম্মানিত হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হাকীকী অনুসরণ-অনুকরণ করা। সুতরাং যে সালিক বা মুরীদ স্বীয় কামিল শায়েখ উনার যে পরিমাণ অনুসরণ-অনুকরণ করবে, সে সালিক সে পরিমাণ মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বত-মা’রিফাত, সন্তুষ্টি-রেজামন্দি হাছিল করতে সক্ষম হবে।
মা’রিফাত-মুহব্বত হাছিলের ক্ষেত্রে হক্কানী-রব্বানী আলিম তথা কামিল শায়েখ উনার অনুসরণ-অনুকরণের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা স্বীয় কামিল শায়েখ উনার পরিপূর্ণ অনুসরণ-অনুকরণ করলে, উনার নির্দেশ মুতাবিক নিজেকে পরিচালনা করতে পারলে শরীয়তের নির্দেশিত পথে চলা সহজসাধ্য হয়ে যায়। খাহেশাতে নফসানীর পরিসমাপ্তি ঘটে। প্রবৃত্তির ওয়াসওয়াসা বা ধোঁকা হতে নিরাপত্তা লাভ করে। অসৎ গুণাবলীর অবসান হয়ে সৎ স্বভাব বা সৎ গুণাবলীর সমাবেশ ঘটে। ফলে সালিকের অন্তর মহান আল্লাহ পাক উনার মা’রিফাত ও মুহব্বতের নূরে উদ্ভাসিত হয়। অর্জিত হয় পরম প্রত্যাশিত মা’রিফাত-মুহব্বতের খাজিনাহ। সর্বোপরি উলিল-আমর বা কামিল শায়েখ উনাদের পরিপূর্ণ অনুসরণ-অনুকরণ করা, মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারই নির্দেশ মুবারক।
মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন-
يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ
অর্থ: “হে ঈমানদারগণ! তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার অনুগত হও, অনুগত হও মহাসম্মানিত রসূল (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উনার এবং তোমাদের মধ্যে যারা “উলিল আমর” রয়েছেন উনাদের অনুগত হও (অনুসরণ-অনুকরণ করো)।” (সূরা নিসা শরীফ/৫৯)
মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো বলেন-
وَاتَّبِعْ سَبِيلَ مَنْ أَنَابَ إِلَيَّ
অর্থ: “যিনি আমার দিকে রুজু হয়েছেন (মনোনিবেশ করেছেন) উনারই অনুসরণ-অনুকরণ করো।” (সূরা লুকমান শরীফ/১৫)
মূলত, মানুষ অনুসরণ-অনুকরণ প্রিয়। অনুসরণ-অনুকরণ তাদের স্বভাব। অন্যকে দেখে তার কথা শুনে সে অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করতে অভ্যস্ত। সেক্ষেত্রে অনুসরণীয়-অনুকরণীয় ব্যক্তি যদি মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মত ও পথের উপর পূর্ণ প্রতিষ্ঠিত থাকেন, অনুগত হন তাহলে অনুসরণকারী ব্যক্তিও উনাদের মত ও পথের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকতে পারেন, মা’রিফাত-মুহব্বত, সন্তুষ্টি-রেজামন্দি হাছিল করতে পারেন।
কামিল শায়েখ উনার অনুসরণ-অনুকরণ এবং নফ্সের দাসত্ব পরস্পর বিপরীতমুখী দু’টি বিষয়। যেখানে কামিল শায়েখ উনার অনুসরণ-অনুকরণ বিরাজমান সেখানে নফ্স নিস্ক্রিয়, প্রবৃত্তি কোনঠাসা। পক্ষান্তরে তার বিপরীতে নফ্স সক্রিয়। যদিও উখরুবী বিষয় তথা নামায, রোযা, হজ্জ, যাকাত, যিকির-ফিকির ইত্যাদি যাই হোক না কেন। অর্থাৎ শরীয়তের আহ্কাম পালন করা ব্যতীত যেমন দ্বীন ইসলামের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকা যায় না তেমনি স্বীয় কামিল শায়েখ উনার হাক্বীক্বী অনুসরণ-অনুকরণ করা ব্যতীত কিংবা উনার ইচ্ছা বহির্ভূত আমল দ্বারা মা’রিফাত-মুহব্বত হাছিল করার আশা করাও কল্পনা বৈ কিছুই নয়।
স্বীয় কামিল শায়েখ উনার হাকীকী অনুসরণ-অনুকরণ ব্যতীত সালিক যে আমল বা কাজই করুক না কেন তা সবই স্বীয় নফ্স বা প্রবৃত্তির খোরাকে পর্যবসিত হয়। নফ্সের খোরাক জোগান দিয়ে নফ্সের শক্তিকে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি করা যায়। তা দিয়ে মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হাকীকী মা’রিফাত-মুহব্বত হাছিল করা যায় না। কামিয়াবী লাভ হয় না। পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে ব্যর্থ জীবন-যাপন করতে বাধ্য হতে হয়। এজন্যই পূর্ববর্তী আওলিয়ায়ে কিরামগণ কঠোর রিয়াজত, মুজাহাদা, মুশাহাদা, সাধনা করে স্বীয় নফ্সকে পূর্ণরূপে কামিল শায়েখ উনার অনুসরণ-অনুকরণমুখী করতেন।
এ পথে উনাদের অনেক ত্যাগ, কষ্ট শিকার করতে হয়েছে। কেননা নফ্সের ধোঁকা এমনি সূক্ষ্ম যে, অনেক সময় তা কুফরী ও র্শিক এর কর্মকান্ডে লিপ্ত করে গোমরাহ্ বা পথভ্রষ্ট করে দেয়ার সম্ভাবনা থাকে।
এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন-
أَفَرَأَيْتَ مَنِ اتَّخَذَ إِلَهَهُ هَوَاهُ وَأَضَلَّهُ اللَّهُ عَلَى عِلْمٍ وَخَتَمَ عَلَى سَمْعِهِ وَقَلْبِهِ وَجَعَلَ عَلَى بَصَرِهِ غِشَاوَةً فَمَنْ يَهْدِيهِ مِنْ بَعْدِ اللَّهِ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ
অর্থ: “আয় মহাসম্মানিত রসূল (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আপনি কি তার প্রতি লক্ষ্য করেছেন, যে তার নফ্স বা প্রবৃত্তিকে স্বীয় মাবুদ বা উপাস্য সাব্যস্ত করেছে? আর মহান আল্লাহ পাক তিনি (সত্য উপলব্ধির) ইলিম থাকা সত্ত্বেও তাকে পথভ্রষ্ট করে দিয়েছেন। কান ও অন্তরের উপর মোহর মেরে দিয়েছেন। আর চোখের উপর এঁটে দিয়েছেন পর্দা। সুতরাং মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত এরূপ ব্যক্তিকে কে হিদায়েত দান করবে, তোমরা কি তাও বুঝো না?” (সূরা জাসিয়াহ শরীফ/২৩) (অসমাপ্ত)
-আল্লামা মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার প্রতি আদব (৪)
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার প্রতি আদব (৩)
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার প্রতি আদব (২)
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রত্যেক উম্মতকে শরীয়ত এবং তাছাওউফ দেয়া হয়েছে
০৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার প্রতি আদব (১)
০১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার প্রতি ইমামুল মুসলিমীন, হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার চূড়ান্ত আদবের পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন
২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হক্কানী রব্বানী আউলিয়ায়ে কিরাম উনাদের শানে সবসময় সার্বিকভাবে হুসনে যন পোষণ করা আবশ্যক
১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
কৃপণতা জঘণ্যতম বদ খাছলত
১০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫৭) কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়কে সর্বশ্রেষ্ঠ ও বরকতময় মনে করে যথাযথ তা’যীম-তাকরীম করার গুরুত্ব
০৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
শায়েখ বা মুর্শিদ কিবলা উনার সাথে তায়াল্লুক-নিসবত ব্যতীত মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সাথে তায়াল্লুক-নিসবত মুবারক রাখার দাবি করা অবান্তর
০৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ইসলামী শরীয়তের আলোকে কুকুর নিধন (১১)
০৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫৬) কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়কে সর্বশ্রেষ্ঠ ও বরকতময় মনে করে যথাযথ তা’যীম-তাকরীম করার গুরুত্ব
০২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












