ইলমে তাছাওউফ
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৬৩)
, ২০ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৫ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৪ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ২০ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) ইলমে তাছাউফ
ছোট-বড় সকল বিষয়েই স্বীয় মুর্শিদ কিবলা উনার অনুসরণ-অনুকরণ করবে। উনার কাজ দেখে “ফিক্বাহ”-এর মাসয়ালা শিক্ষা করবে। (মাকতুবাতে ইমামে রব্বানী)
মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন-
وَالسَّابِقُونَ الْأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي تَحْتَهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
অর্থ: “মুহাজির ও আনছার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মধ্যে প্রথম ঈমান আনয়নে যারা অগ্রগামী। আর যারা উত্তমভাবে উনাদের অনুসরণ-অনুকরণকারী উনাদের উপর মহান আল্লাহ পাক তিনি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং উনারাও মহান আল্লাহ পাক উনার উপর সন্তুষ্ট। মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদের জন্য এমন জান্নাতের ব্যবস্থা করে রেখেছেন, যার তলদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত থাকবে। আর সেখানে উনারা চিরদিন অবস্থান করবেন। ইহা হচ্ছে মহান পুরস্কার।” (পবিত্র সূরা তওবা শরীফ/১০০)
উল্লেখ্য যে, আখেরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হাকীকী অনুসরণ-অনুকরণ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মাধ্যমে হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের সিলসিলায় অনুপ্রবেশ ঘটেছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত তার ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। উনাদের নজিরবিহীন সেই অনুসরণ-অনুকরণের শিক্ষাকে নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করতে প্রয়াস পেয়ে আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ স্ব-স্ব কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ কিবলা উনার পুঙ্খানুপুঙ্খ-সূক্ষ¥াতিসূক্ষ¥ অনুসরণ-অনুকরণ করেছেন।
উনাদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন- সাইয়্যিদুল আওলিয়া, গাউছুল আ’যম, হযরত বড়পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি, সুলত্বানুল মাশায়িখ, গরীবে নেওয়াজ, হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন চিশ্তী আজমিরী সানজিরী রহমতুল্লাহি আলাইহি, ইমামে রব্বানী, আফজালুল আওলিয়া, হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি, মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইউস সুন্নাহ, আওলাদে রসূল, আহলে বাইতে রসূলিল্লাহ, রাজারবাগ শরীফের হযরত মুর্শিদ কিবলা, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনিসহ অসংখ্য আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম। যার ফলশ্রুতিতে উনাদের প্রতিও অসংখ্য অগনিত বার ইলহাম-ইলকা করা হয়েছে যে-
غَفَرْتُ لَكَ وَمَنْ تَوَسَّلَ بِكَ بِوَاسِطَةٍ اَوْ بِغَيْرِ وَاسِطَةٍ اِلٰى يَوْمِ الْقِيَامَةِ.
অর্থ: “আমি আপনাকে ক্ষমা করে দিয়েছি এবং কিয়ামত পর্যন্ত যে ব্যক্তি মধ্যস্থতায় কিংবা বিনা মধ্যস্থতায় আপনার সিলসিলায় দাখিল হবে তাকেও ক্ষমা করে দিলাম।” সুবহানাল্লাহ! (রওজাতুল কাউয়ুমিয়াত)
২৬। মুর্শিদ কিবলা উনার নিকট থেকে প্রস্থান কালে উনাকে কখনও পিঠ প্রদর্শন করবে না। বরং ফিরে আসার সময় উনার দিকে মুখ রেখে পিছনের দিকে হেঁটে আসবে। অতঃপর দৃষ্টির আড়াল হলে স্বাভাবিকভাবে চলতে পারবে।
হুজ্জাতুল ইসলাম, হযরত ইমাম গাজ্জালী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি একজন ছাত্রকে উপদেশ দিতে গিয়ে বললেন, “যদি কোন কামিল ওলী উনার সাক্ষাত পাও তাহলে উনাকে পবিত্র খানায়ে কা’বার ন্যায় সম্মান করবে”। (ছিরাতুল মুস্তাকীম)
আর পবিত্র কা’বা শরীফের সম্মানার্থে হাজী ছাহেবগণ পবিত্র কা’বা শরীফের দিকে পিঠ প্রদর্শন করেন না। বরং পবিত্র কা’বা শরীফকে সামনে রেখে পিছন দিকে হেঁটে আসেন। ফিকাহ এর বিশ্বখ্যাত কিতাব “শরহে বিকায়াহ” এর মধ্যে উল্লেখ আছে-
ويرجع قهقري حتي يخرج من المسجد
অর্থ: “পিছপা হয়ে সেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করে পবিত্র মসজিদে হারাম শরীফ হতে বের হয়ে আসবে।” কিবলার দিকে পিঠ করবে না। কেননা কিবলার দিকে পিঠ দেয়া বেয়াদবি।
সুলতানুল মাশায়িখ, ছহিবে মিল লাদুন্না ইলমা, মাখযানুল মা’রিফাহ, হযরত আবুল হাসান খারকানী রহমতুল্লাহি আলাইহি প্রথম জীবনে সূদীর্ঘ ২০ বৎসর যাবত এ অভ্যাস করে নিয়েছিলেন যে, খারকানে ইশার নামায জামায়াতের সাথে আদায় করে দীর্ঘ তিন ক্রোশ বা ছয় মাইল পথ পায়ে হেঁটে সুলতানুল আরিফীন, হযরত বায়েজিদ বোস্তামী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মাযার শরীফ যিয়ারত করার নিমিত্তে বোস্তাম শহরে উপনীত হতেন। সেখানে পৌঁছে তিনি সারা রাত ইবাদত-বন্দেগী, পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত, যিকির-ফিকির করে পরিশেষে উনার উছীলা দিয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট এ বলে দোয়া করতেন যে, “আয় মহান আল্লাহ পাক! সুলতানুল আরিফীন, হযরত বায়েজিদ বোস্তামী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে আপনি যে নিয়ামত ও খিল্য়াত দান করেছেন উনার কিছু অংশ আমাকেও দান করুন।” প্রতিনিয়ত তিনি এরূপ দোয়া করে রাতেই খারকানে ফিরে আসতেন এবং ইশার নামাযের ওজু দ্বারাই ফজরের নামায আদায় করতেন। সুবহানাল্লাহ!
এই বিশ বৎসরে তিনি সুলতানুল আরিফীন, হযরত বায়েজিদ বোস্তামী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মাযার শরীফের দিকে কখনও পিঠ প্রদর্শনও করেননি। অর্থাৎ মাযার শরীফকে কখনও পিছনে রাখেননি। বরং প্রতিদিন যিয়ারত হতে প্রত্যাবর্তনকালে মাযার শরীফের দিকে মুখ রেখে পিছনের দিকে হেঁটে সুদূর খারকানে পৌঁছতেন। সুবহানাল্লাহ! (তাযকিরাতুল আউলিয়া, হালাতে মাশায়েখে নক্শবন্দীয়া মুজাদ্দেদীয়া) (অসমাপ্ত)
-আল্লামা মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পাঁচ তরীক্বার শাজরা শরীফ (৩)
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পাঁচ তরীক্বার শাজরা শরীফ (২)
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৬২)
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৬১)
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৬০)
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার প্রতি আদব (৪)
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার প্রতি আদব (৩)
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার প্রতি আদব (২)
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রত্যেক উম্মতকে শরীয়ত এবং তাছাওউফ দেয়া হয়েছে
০৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার প্রতি আদব (১)
০১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার প্রতি ইমামুল মুসলিমীন, হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার চূড়ান্ত আদবের পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন
২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হক্কানী রব্বানী আউলিয়ায়ে কিরাম উনাদের শানে সবসময় সার্বিকভাবে হুসনে যন পোষণ করা আবশ্যক
১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












