ইলমে তাছাওউফ
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৬২)
, ১৯ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৪ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৩ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ১৯ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) ইলমে তাছাউফ
ছোট-বড় সকল বিষয়েই স্বীয় মুর্শিদ কিবলা উনার অনুসরণ-অনুকরণ করবে। উনার কাজ দেখে “ফিক্বাহ”-এর মাসয়ালা শিক্ষা করবে। (মাকতুবাতে ইমামে রব্বানী)
কাজেই হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র ছোহবত মুবারকে থেকে কিরূপ অনুসরণ-অনুকরণ করেছেন সে সম্পর্কে কিছু ধারণা থাকা আবশ্যক। যদিও বা এ স্বল্প পরিসরে তার পুরোপুরি বর্ণনা দেয়া সম্ভব নয়।
ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীকত, হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি একবার জিজ্ঞাসিত হলেন যে, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরণ-অনুকরণে কিরূপ ছিলেন?
জাওয়াবে তিনি বলেছিলেন যে, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সম্পর্কে তোমাদেরকে কি বলবো! তোমরা যদি উনাদেরকে দেখতে তাহলে পাগল বলে আখ্যায়িত করতে। আর উনারা যদি তোমাদেরকে দেখতেন তবে তোমাদেরকে মুনাফিক বলে মনে করতেন। অর্থাৎ অনুসরণ-অনুকরণের ক্ষেত্রে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ ছিলেন পাগল প্রায়।
আদনা ছে আদনা বা ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতম বিষয়কেও উনারা কখনও পরিহার করেননি। সর্বপ্রকার প্রতিকুলতাকে উপেক্ষা করে নিজের জীবনকে বাজী রেখে উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরণ-অনুকরণকে নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করেছেন।
এ প্রসঙ্গে বর্ণিত আছে, একবার হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে এক স্থানে উনার সওয়ারীর ঘোরাকে (চক্কর কাটতে) দেখা গেল। উনাকে এরূপ করার কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন-
لَا اَدْرِى اِلَّا اَنِّى رَاَيْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَعَلَهٗ فَفَعَلْتُهٗ
অর্থ: “আমি সাইয়্যিদুল মুুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এরূপ করতে দেখেছি তাই আমিও এরূপ করেছি। এছাড়া আমি আর কিছুই জানিনা। (হুকুকুল মুস্তফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
হযরত রঈসুল মুহাদ্দিছীন মুজাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি হতে বর্ণিত। তিনি বলেন-
كُنَّا مَعَ ابْنِ عُمَرَ فِي سَفَرٍ، فَمَرَّ بِمَكَانٍ فَحَادَ عَنْهُ، فَسُئِلَ لِمَ فَعَلْتَ ؟ فَقَالَ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَعَلَ هٰذَا فَفَعَلْتُ.
অর্থ: “একবার আমরা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সাথে সফরে ছিলাম। পথিমধ্যে তিনি একটি স্থান অতিক্রম করলেন এবং হঠাৎ একদিকে মুখ ফিরে দূরে সরে গেলেন। এর কারণ সম্পর্কে উনাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, আমি সাইয়্যিদুল মুুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এখানে পৌঁছে এমন করতে দেখেছি। এজন্য (উনার অনুসরণে) আমিও এরূপ করলাম।” সুবহানাল্লাহ! (জামউল ফাওয়ায়েদ)
এ প্রসঙ্গে আরো বর্ণিত আছে, একবার হজ্জের সময় খলীফাতুল মুসলিমীন, হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি যুল হুলাইফা নামক স্থানে ইহরাম বেঁধে দু’রাকায়াত নামাজ আদায় করেন এবং তালবিয়া পাঠ করার পর বলেন-
أَصْنَعُ كَمَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصْنَعُ
অর্থ: “আমি সাইয়্যিদুল মুুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যেমন করতে দেখেছি আমিও তেমনি করেছি। (হুকুকুল মুস্তফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
তিনি হাজরে আসওয়াদকে চুম্বন দেয়ার সময় পাথরটিকে উদ্দেশ্য করে বলেন-
وَاللهِ اِنَّكَ حَجَرٌ لَا يَنْفَعُ وَلَا يَضُرُّ وَلَوْلَا أَنِّي رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُقَبِّلُكَ مَا قَبَّلْتُكَ
অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! নিঃসন্দেহে তুমি একটি পাথর ব্যতীত আর কিছু নও। তোমার না কারো উপকার করার ক্ষমতা আছে, আর না কারো ক্ষতি করতে পারো। আমি যদি সাইয়্যিদুল মুুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বুছা (চুম্বন) দিতে না দেখতাম তাহলে আমিও তোমাকে বুছা দিতাম না। (মিশকাত শরীফ/২২৪)
অর্থাৎ আখেরী রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরণ-অনুকরণই ছিলো উনাদের শ্রেষ্ঠ আমল। মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সন্তুষ্টি-রেজামন্দি মুবারক হাছিলের উৎস। সর্বপ্রকার কার্যকলাপ সুসম্পন্ন করার প্রেরণা। যার ফলশ্রুতিতে মহান আল্লাহ পাক উনার এমনি চরম-পরম সন্তুষ্টি রেজামন্দি হাছিল করেছেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি সেই সন্তুষ্টির কথা ঘোষণা করেছেন। শুধু তাই নয় বরং কিয়ামত পর্যন্ত আগত যে কেউ উনাদেরকে পরিপূর্ণ অনুসরণ-অনুকরণ করবে সে ব্যক্তিও মহান আল্লাহ পাক উনার সে সন্তুষ্টি রেজামন্দির অংশীদার হবেন। (অসমাপ্ত)
-আল্লামা মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পাঁচ তরীক্বার শাজরা শরীফ
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পাঁচ তরীক্বার শাজরা শরীফ
০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পাঁচ তরীক্বার শাজরা শরীফ
১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৭২)
১৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৭১)
১৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৭০)
১৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৬৯)
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার প্রতি আদব (৬)
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৬৮)
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৬৭)
১০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৬৬)
০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পাঁচ তরীক্বার শাজরা শরীফ (৫)
০৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












