ইলমে তাছাওউফ
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৬১)
, ১৮ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৩ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ০২ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ১৮ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) ইলমে তাছাউফ
২৫। নামায-রোযা, ইবাদত-বন্দেগী, পোশাক-পরিচ্ছদ, খাওয়া-দাওয়া ইত্যাদি ছোট-বড় সকল বিষয়ে স্বীয় কামিল শায়েখ উনার অনুসরণ-অনুকরণ করবে। উনার কাজ দেখে “ফিক্বাহ”-এর মাসয়ালা শিক্ষা করবে।” (মাকতুবাতে ইমামে রব্বানী)
নফস বা প্রবৃত্তির দাসত্বের শিকল থেকে মুক্ত হয়ে শরীয়তের যাবতীয় হুকুম-আহকামকে পূর্ণরূপে পালন করা, মহান আল্লাহ পাক উনার হাকীকী গোলামে পরিণত হওয়ার লক্ষ্যে ১ লক্ষ ২৪ হাজার মতান্তরে ২ লক্ষ ২৪ হাজার নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মহান আল্লাহ পাক তিনি যমীনে পাঠিয়েছেন। কেননা শুধুমাত্র আসমানী কিতাব তথা কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ বা অন্য কোন দ্বীনি কিতাবাদী পাঠ করেই মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি-রেজামন্দি পাওয়া যায় না। উনার হুকুম মত জীবনযাপন করা কঠিন। সর্বোপরি নফস বা প্রবৃত্তির দাসত্ব হতে মুক্ত হওয়া যায় না।
নফসের দাসত্ব হতে মুক্তি পাওয়ার জন্য মহান আল্লাহ পাক উনার মনোনীত বান্দা তথা হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম এবং উনাদের অবর্তমানে উনাদের নায়েব হযরত আওলিয়ায়ে কিরাম উনাদের ছোহবত মুবারক ও উনাদের পূর্ণরূপে অনুসরণ-অনুকরণ করা আবশ্যক।
মূলতঃ এ লক্ষ্যেই মহান আল্লাহ পাক তিনি মানব জাতির হিদায়েতের জন্য আসমানী কিতাব অবতীর্ণের সাথে সাথে হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে পাঠিয়েছেন। সুতরাং যারা উনাদের হাকীকী অনুসরণ-অনুকরণ করেছেন উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি-রেজামন্দি পেয়েছেন। আরো পেয়েছেন উনার নিয়ামত ভান্ডার।
এক্ষেত্রে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের নাম মুবারক বিশেষভাবে উল্লেখ্য। হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের পর শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী হচ্ছেন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ যা সর্বজনমান্য ও সর্বস্বীকৃত। উনাদের এ শ্রেষ্ঠত্বের অন্যতম কারণ হচ্ছে, আখেরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরিপূর্ণ অনুসরণ-অনুকরণ, ইতায়াত বা আনুগত্য। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যেরূপ অনুসরণ-অনুকরণ করেছেন তা নজীরবিহীন।
মেছালস্বরূপ বলা যায়, বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। তিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরণ-অনুকরণের বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
একবার তিনি উনার বিশিষ্ট ছাত্র ইমাম নাফে’ রহমতুল্লাহি আলাইহিসহ কতিপয় ছাত্র নিয়ে কোথাও যাচ্ছিলেন। পথ চলতে চলতে এক স্থানে গিয়ে উনার মাথা নীচু করলেন একটু পরে আবার মাথা উঠিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলতে লাগলেন। উনার এরূপ আচরণ দেখে অন্যরা বললেন, হুজুর! বেয়াদবী মাফ করবেন, আপনি এখানে কেন এরূপভাবে আপনার মাথা মুবারক নীচু করলেন? তখন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন, আমরা যখন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে এ রাস্তা দিয়ে সফর করতাম। এখানে একটি গাছ ছিলো। সে গাছের একটি ডাল এ রাস্তার উপর বিস্তৃত ছিলো। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন এখানে আসতেন তখন উনার মহাপবিত্র নূরুল হুদা মুবারক (মাথা মুবারক) নীচু করে এ স্থানটুকু অতিক্রম করতেন আবার স্বাভাবিকভাবেই চলতেন। আজকে যদিও সে গাছটি এখানে নেই, ডালটিও নেই কিন্তু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সেদিনের অনুসরণ-অনুকরণের উদ্দেশ্যেই আমি আমার মাথা নীচু করতঃ সে স্থান অতিক্রম করলাম। সুবহানাল্লাহ!
প্রসঙ্গঃ ছোট-বড় সকল বিষয়েই স্বীয় মুর্শিদ কিবলা উনার অনুসরণ-অনুকরণ করবে। উনার কাজ দেখে “ফিক্বাহ”-এর মাসয়ালা শিক্ষা করবে। (মাকতুবাতে ইমামে রব্বানী)
স্বীয় মুর্শিদ ক্বিবলা উনার ঠিক সেরূপই অনুসরণ-অনুকরণ করতে হবে যেরূপ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ আখেরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরণ-অনুকরণ করেছেন। প্রত্যেক সালিক বা মুরীদকে উনাদের আদর্শেই আদর্শবান হতে হবে। কেননা কিয়ামত পর্যন্ত আগত “উলিল আমর” সম্মানিত দ্বীনের ধারক-বাহক।
হযরত আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম গণের অনুসরণ-অনুকরণের কাইফিয়াত বা পদ্ধতি কিরূপ হওয়া আবশ্যক সে দৃষ্টান্ত জগতের বুকে স্থাপন করার জন্য মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদেরকে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরম পবিত্র ছোহবত মুবারকের জন্য মনোনীত করেছেন। সেক্ষেত্রে অনুকরণ-অনুসরণে যিনি যত অগ্রসর ছিলেন তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার সম্মানিত রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তত বেশি মা’রিফাত-মুহব্বত, সন্তুষ্টি-রেজামন্দি হাছিল করেছেন।
সুতরাং একথা বলার আবশ্যক হয় না যে, মুরীদ স্বীয় মুর্শিদ কিবলা উনাকে যত সূক্ষ¥াতিসূক্ষ¥-পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসরণ-অনুকরণ করবে সে মুরীদ মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সেরূপ হাকীকী সন্তুষ্টি রেজামন্দি হাছিল করতে পারবে। (অসমাপ্ত)
-আল্লামা মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৬০)
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার প্রতি আদব (৪)
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার প্রতি আদব (৩)
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার প্রতি আদব (২)
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রত্যেক উম্মতকে শরীয়ত এবং তাছাওউফ দেয়া হয়েছে
০৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার প্রতি আদব (১)
০১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার প্রতি ইমামুল মুসলিমীন, হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার চূড়ান্ত আদবের পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন
২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হক্কানী রব্বানী আউলিয়ায়ে কিরাম উনাদের শানে সবসময় সার্বিকভাবে হুসনে যন পোষণ করা আবশ্যক
১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
কৃপণতা জঘণ্যতম বদ খাছলত
১০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫৭) কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়কে সর্বশ্রেষ্ঠ ও বরকতময় মনে করে যথাযথ তা’যীম-তাকরীম করার গুরুত্ব
০৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
শায়েখ বা মুর্শিদ কিবলা উনার সাথে তায়াল্লুক-নিসবত ব্যতীত মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সাথে তায়াল্লুক-নিসবত মুবারক রাখার দাবি করা অবান্তর
০৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ইসলামী শরীয়তের আলোকে কুকুর নিধন (১১)
০৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












