মুতার জিহাদ এবং মুসলমানদের বেমেছাল বীরত্ব (৮)
, ০৯ মুহররমুল হারাম শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ১৮ ছানী, ১৩৯২ শামসী সন , ১৬ জুলাই, ২০২৪ খ্রি:, ০১ শ্রাবণ, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) আইন ও জিহাদ
কিতাবে বর্ণিত রয়েছেন-
أن حضرت خالدا رضي الله تعالى عنه لما أخذ اللواء حمل على القوم فهزمهم الله أسوأ هزيمة حتى وضع المسلمون أسيافهم حيث شاؤوا وأظهر الله المسلمين.
অর্থ : নিশ্চয়ই হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি সম্মানিত পতাকা মুবারক গ্রহণ করে কাফিরদের উপর কঠিনভাবে আক্রমণ করেন। তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি কাফিরদেরকে অত্যন্ত লাঞ্ছিতভাবে পরাজিত করেন। মুসলমানরা সম্মানিত জিহাদ মুবারক শেষ করে উনাদের সম্মানিত তরবারী মুবারক রেখে দেন। আর মহান আল্লাহ পাক তিনি মুসলমানদেরকে মহাসম্মানিত বিজয় মুবারক হাদিয়া করেন। সুবহানাল্লাহ! (আস সীরাতুল হালাবিয়্যাহ্ ৩/৯৭)
সবশেষে হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার হাত মুবারকেই সম্মানিত মুসলমানদের বিজয় মুবারক অর্জিত হন। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সীসাঢালা ঐক্য মুবারক, বেমেছাল তাওয়াক্কুল মুবারক, গভীর নিসবত মুবারক, অসীম ইস্তিক্বামত মুবারক, অপরিসীম বীরত্ব মুবারক, অকৃতিম শাহাদাত প্রিয়তা এবং হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার অতুলনীয় যুদ্ধ কৌশল ও পারদর্শীতা এবং সর্বোপরি মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের বিশেষ গায়েবী মদদ মুবারক-এ এই বিরাট বিজয় মুবারক অর্জিত হন। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি এই সম্মানিত জিহাদ মুবারক উনার মাধ্যমে সমস্ত কায়িনাতবাসী সবাইকে শিক্ষা দিয়েছেন যে, মুসলমানরা কখনও ধনবল, জনবল, মনবল, রাজ্যবল বা সৈন্যবল অর্থাৎ দুনিয়াবী কোনো বল দ্বারা কামিয়াবী হাছিল করেন না; বরং উনারা কামিয়াবী হাছিল করেন একমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের গায়েবী মদদ মুবারক-এ। সুবহানাল্লাহ! সেটাই যিনি খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَلَا تَهِنُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَنْتُمُ الْأَعْلَوْنَ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ.
অর্থ : তোমরা চিন্তিত হইও না, পেরেশান হইও না; তোমরাই কামিয়াবী হাছিল করবে, যদি তোমরা মু’মিন হতে পারো। সুবহানাল্লাহ! (সূরা আলে ইমরান শরীফ : আয়াত শরীফ ১৩৯)
মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-
إِنَّ الَّذِينَ قَالُوا رَبُّنَا اللَّهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوا تَتَنَزَّلُ عَلَيْهِمُ الْمَلَائِكَةُ
অর্থ : নিশ্চয়ই যাঁরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে (এবং উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অর্থাৎ উনাদেরকে) মানেন অতঃপর ইস্তিক্বামত থাকেন, (উনাদেরকে গায়েবী মদদ করা হয়,) উনাদের সাহায্যের জন্য হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা নাযিল হন। সুবহানাল্লাহ! (সূরা ফুছ্ছিলাত শরীফ : আয়াত শরীফ ৩০)
তাই বর্তমান বিশ্বের সমস্ত মুসলমানদের জন্য ফরযে আইন হচ্ছে- হাক্বীক্বী মু’মিন-মুত্তাক্বী হওয়া এবং ইস্তিক্বামত থাকা। তাহলে অবশ্যই মুসলমানরা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের অনুসরণে আবারো কাফির-মুশরিকদের বিরুদ্ধে কামিয়াবী হাছিল করবেন এবং সারা বিশ্বে হাক্বীক্বী দ্বীন ইসলাম সুপ্রতিষ্ঠিত হবেন। সুবহানাল্লাহ!
-মুহম্মদ আল আমিন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৭)
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৭)
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়:(১৫তম পর্ব)
০২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৬)
২৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৬)
২০ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৪তম পর্ব)
১৯ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৫)
১৮ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৫)
১৩ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৩তম পর্ব)
১২ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৪)
১১ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১২তম পর্ব)
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৩)
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












