সুন্নত মুবারক তা’লীম
পথচলা এবং চলার পথে এদিক সেদিক দৃষ্টিপাত করার মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব (২)
, ১৬ মুহররম শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৩ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ০২ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ১৮ আষাঢ়, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ كَانَ النَّبِىُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا مَشَى كَأَنَّهُ يَتَوَكَّأُ.
অর্থ: হযরত আনাস বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন পথ চলতেন তখন মনে হতো তিনি যেন (লাঠি কিংবা অন্য কোন জিনিসের উপর) ভর দিয়ে পথ চলছেন। অর্থাৎ তিনি সম্মুখের দিকে ঝুঁকে পথ চলতেন। (আবূ দাউদ শরীফ, মু’জামুল আওসাত, আল মুসতাদরিক, মুসনাদে আবী ই’য়ালা)
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ كان رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا مَشَى تَكَفَّأَ.
অর্থ: হযরত আনাস বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মুখের দিকে ঝুঁকে পথ চলতেন। (মুসলিম শরীফ)
সবলে পা তুলে তুলে হাঁটা খাছ সুন্নত মুবারক ,এ ব্যাপারে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عن حضرت عاصم بن لقيط بن صبرة رضى الله تعالى عنه عن أبيه أنه أتى حضرت ام المؤمنين الثالثة الصديقة عليها السلام هو وصاحب يطلبان النبی صلى الله عليه وسلم فلم يجداه فلم ينشب أن جاء النبي يتقلع يتكفا
অর্থ: হযরত আসিম ইবনে লাক্বীত ইবনে সাবুরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উনার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি (হযরত আসিমে ইবনে লাক্বীত ইবনে সাবুরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা উনার পিতা) উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার খিদমত মুবারকে উপস্থিত হন। এ সময় তিনি ও উনার এক সাথী উভয়ে , নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে খুঁজছিলেন। কিন্তু উনারা , নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে উপস্থিত পাননি। কিছুক্ষণ পরেই, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এমন অবস্থায় আগমন করলেন যেন তিনি (মাটিতে মহাসম্মানিত নূরুদ দারাজাত (মহাসম্মানিত পা) মুবারক টেনে চলার পরিবর্তে) মাটি থেকে মহাসম্মানিত নূরুদ দারাজাত (মহাসম্মানিত পা) মুবারক তুলে তুলে সম্মুখের দিকে ঝুঁকে হাঁটছেন।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أَبِي عِنَبَةَ الْخَوْلَانِيِّ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا مَشَى أَقْلَعَ.
অর্থ: হযরত আবূ ইনাবা খাওলানী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন হাঁটতেন তখন মাটি থেকে সবলে মহাসম্মানিত নূরুদ দারাজাত (মহাসম্মানিত পা) মুবারক তুলে তুলে হাঁটতেন। ( ছহীহুস সুনান ওয়াল মাসানীদ, আখলাকুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
সম্মুখের দিকে ঝুঁকে ঝুঁকে পথ চলাও খাছ সুন্নত মুবারক, এব্যাপারে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ كرم الله وجهه عليه السلام قَالَ كان النبی صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا مَشَى تَكَفَّأَ تَكَفِّيًا كَأَنَّمَا يتقلع مِنْ صَبَبٍ لَمْ أَرَ قَبْلَهُ وَلا بَعْدَهُ مِثْلَهُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الصبب المنحدر من الأرض.
অর্থ: সাইয়্যিদুনা হযরত কাররমাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিয়ম মুবারক ছিলো তিনি যখন পথ চলতেন তখন সম্মুখের দিকে ঝুঁকে ঝুঁকে চলতেন। (আপাত দৃষ্টিতে মনে হতো) তিনি যেন সবলে মহাসম্মানিত নূরুদ দারাজাত (মহাসম্মানিত পা) মুবারক উত্তোলন পূর্বক ঢালু জায়গা দিয়ে অবতরণ করছেন। আমি উনার মত (ছিফত মুবারক সম্পন্ন) না পূর্বে কখনো দেখেছি আর না পরে অর্থাৎ উনার কোন মেছাল নেই, তিনি বেমেছাল। সুবহানাল্লাহ! (আখলাকুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عن حضرت ربيعة رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قال دخلنا على انس بن مالك رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ فسألنا عن صفة النبي صلى الله عليه وسلم صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فقال كان إذَا مَشَى كَأَنَّمَا يَمْشِي فِي صَبَبٍ.
অর্থ: হযরত রাবীয়াহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার দরবার শরীফে গেলাম এবং উনাকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত খুছ’ছিয়্যাত মুবারক সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। জবাবে তিনি বললেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন পথ চলতেন তখন তিনি যেন কোনো ঢালু ভূমি দিয়ে চলছেন। (অর্থাৎ চলার পথে উনার হাঁটার গতি ছিল কিছুটা দ্রুত।) (আখলাকুন নবী ছল্লাল্লাহু আলঅইহি ওয়া সাল্লাম)
উপরোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ সমূহে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পথ চলার বৈশিষ্ঠ্য মুবারক,তর্য-তরীক্বাহ মুবারক বর্ণনা করা হয়েছে। এ সকল পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের আলোকে বোঝা যায় যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পথ চলার মধ্যে তিন ধরনের বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান ছিলোঃ
এক. তিনি উম্মতকে নম্রতা ও বিনয় শিক্ষাদানের লক্ষ্যে সম্মুখের দিকে ঝুঁকে চলতেন। অহংকারসুলভ বুকটান করে হাঁটতেন না। (তবে যুদ্ধের ময়দানে মুজাহিদগণের ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম রয়েছে। কেননা উনাদের ব্যাপারে নির্দেশ মুবারক হলো কাফিরদের মুকাবিলায় বিনয় ও নম্রতার প্রকাশ নয়; বরং নিজেদের শক্তি, বীরত্ব ও অপ্রতিরোধ্য ক্ষমতার প্রকাশ করা আবশ্যক।)
দুই. নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পথ চলার সময় মাটি থেকে মহাসম্মানিত নূরুদ দারাজাত (মহাসম্মানিত পা) মুবারক তুলে তুলে সবল হাঁটতেন।
তিন. তিনি তুলনামূলকভাবে দ্রুত চলতেন। খুব ধীর গতিতে অলসের মত হাঁট তিনি পছন্দ করতেন না।
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা-ছিফত মুবারক বর্ণনা করা, খিদমত মুবারক করা, সকল হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত সুন্নত মুবারক (৩)
১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা-ছিফত মুবারক বর্ণনা করা, খিদমত মুবারক করা, সকল হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত সুন্নত মুবারক (২)
১৬ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা-ছিফত মুবারক বর্ণনা করা, খিদমত মুবারক করা, সকল হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত সুন্নত মুবারক (১)
১৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র দ্বীনি মজলিসে বা মাহফিলে বসার মহাসম্মানিত সুন্নতী তরীক্বাহ
১৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
আপদ-বিপদ ও অনিষ্টতা থেকে মুক্তির জন্য ঘুমানোর পূর্বে আগুন/বাতি নিভিয়ে রাখতে হবে; যা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত
১৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফের গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (২)
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফের গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (১)
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
অনিষ্টতা থেকে হিফাযতের জন্য খাবারের পাত্র ঢেকে রাখতে হবে; যা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত
১০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ-মহিলার জন্য আবশ্যক হচ্ছে, সর্বক্ষেত্রে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক অনুযায়ী আমল করা
০৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করার গুরুত্ব-ফযীলত ও খাছ সুন্নতী তারতীব
০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার অন্যতম সুমহান তাজদীদ মুবারক “সুন্নতী সামা শরীফ মাহফিল”
০৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রতিক্ষেত্রে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অনুসরণ করা যেমন ফরয; অনুরূপভাবে প্রতিক্ষেত্রেই কাফির- মুশরিকদের খিলাফ করাও ফরয (২)
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












