পাঠক কলাম:
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ : জ্বালানিসংকট সামলাতে প্রয়োজন দক্ষ ব্যবস্থাপনা আমদানিনির্ভর জ্বালানিনীতির আত্মঘাতী সিদ্ধান্তে স্বাধীনতার পর থেকেই হাঁটছে বাংলাদেশ গভীর জ্বালানি সংকটের দিকে এগোচ্ছে দেশ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান ও উৎপাদনের বিকল্প নেই
, ২৬ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৬ আশির, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৬ মার্চ, ২০২৬ খ্রি:, ২ চৈত্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) মন্তব্য কলাম
বর্তমানে বছরে প্রায় ৭০ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করতে হচ্ছে। এতে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৬০-৬৫ হাজার কোটি টাকা।
দেশীয় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দেওয়া বিশেষ জরুরী
(১ম পর্ব)
ইরান-মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধে এই তিন দেশ যুদ্ধ করলেও আক্রান্ত হয়েছে কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, লেবাননও। এসব দেশের তেল শোধনাগারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও অবকাঠামোতে একের পর এক হামলা হচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জ্বালানি তেল-গ্যাসের উৎস।
বন্ধ রয়েছে দেশগুলোর স্বাভাবিক কাজকর্ম। ব্যাহত হচ্ছে দেশে দেশে বিমান চলাচল। প্রবাসীরা কাজহীন অসহায় অবস্থায়।
এই সংঘাত এখন কেবল আঞ্চলিক সীমায় আবদ্ধ নেই, বরং এটি একটি বৈশ্বিক জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সংকটে রূপ নিয়েছে।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ কার্যত স্থবির হয়ে পড়ায় এবং তেল শোধনাগারগুলোতে উপর্যুপরি হামলার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এরই মধ্যে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলার অতিক্রম করেছে এবং পরিস্থিতি শান্ত না হলে এটি ১৫০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই যুদ্ধের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাবে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল ও জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলো এক ভয়াবহ সংকটের সম্মুখীন হচ্ছে, যার প্রভাব প্রতিটি খাতে গভীরভাবে অনুভূত হচ্ছে।
কী নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে : চলমান এই সংকটের সবচেয়ে বড় ধাক্কা বাংলাদেশে পড়তে শুরু করেছে।
এখানে জ্বালানি তেলের দুষ্প্রাপ্যতা গভীরভাবে অনুভূত হচ্ছে। দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার একটি বড় অংশ আমদানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অভ্যন্তরীণ বাজারে তেলের রেশনিং শুরু হয়েছে। তেলের এই অভাব সরাসরি পরিবহন খাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান চলাচল সীমিত হয়ে পড়ছে। পণ্য পরিবহনের খরচ কয়েক গুণ বেড়ে যাচ্ছে।
এর ফলে রাজধানীসহ সারা দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। সাধারণ মানুষের যাতায়াত খরচ যেমন বাড়ছে, তেমনি পরিবহনের উচ্চ ব্যয়ের কারণে বাজারে প্রতিটি পণ্যের দামও সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
জ্বালানিসংকটের প্রভাব অত্যন্ত প্রকট হয়ে উঠেছে দেশের কৃষি এবং শিল্প খাতেও। বর্তমানে বোরো মৌসুম চলায় সেচকাজের জন্য ডিজেলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তেলের সংকট ও উচ্চমূল্যের কারণে কৃষকরা সময়মতো সেচ দিতে পারবেন কি না এমন ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। যদি তা ব্যাহত হয়, তবে ধানসহ অন্যান্য ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে। এর পাশাপাশি প্রাকৃতিক গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের কারণে সার কারখানাগুলো বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। দেশে সারের পর্যাপ্ত উৎপাদন ও সরবরাহ না থাকলে দীর্ঘ মেয়াদে খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে ডিজেল ও ফার্নেস অয়েল চালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো জ্বালানির অভাবে উৎপাদন কমাতে বাধ্য হচ্ছে। এর ফলে শিল্প-কারখানাগুলোতে লোডশেডিংয়ের মাত্রা বাড়ছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের মতো রপ্তানিমুখী শিল্পে উৎপাদন খরচ বেড়ে গেলে বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা কমবে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব। জ্বালানি তেল ঘিরে পুরো সরবরাহব্যবস্থায় খরচ বাড়লে প্রতিটি নিত্যপণ্যের দামও বাড়ে পাল্লা দিয়ে। এই প্রভাব শুরু হয়ে গেছে। এমনিতেই উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। নতুন করে এর মাত্রা বাড়লে সাধারণ ও নিম্নবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রার মান আরো নিচে নেমে যাবে। উচ্চমূল্যের বাজারে টিকে থাকতে গিয়ে মানুষ তাদের সঞ্চয় হারানোসহ মৌলিক চাহিদাগুলো কাটছাঁট করতে বাধ্য হচ্ছে। জ্বালানির এই সংকট যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং তেলের দাম ১৫০ ডলারে পৌঁছে, তবে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এক দীর্ঘমেয়াদি স্থবিরতা নেমে আসতে পারে, যা পুনরুদ্ধার করা অত্যন্ত কঠিন হবে। সামগ্রিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ বাংলাদেশকে এক বহুমুখী সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে, যেখানে খাদ্য, বিদ্যুৎ, জ্বালানি এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা-প্রতিটি ক্ষেত্রেই এখন চরম ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
দেশে প্রতি বছর প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকার জ্বালানি পণ্য আমদানি হচ্ছে। এর মধ্যে আছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), পরিশোধিত-অপরিশোধিত জ্বালানি তেল, এলপিজি ও কয়লা।
প্রায় এক দশক ধরে জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানি অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী, আমলা ও একশ্রেণীর ব্যবসায়ীর যোগসাজশে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়। দেশে গ্যাস খাতে অনুসন্ধান, উত্তোলনে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করা হয়নি। সেই সঙ্গে জ্বালানি খাতের মজুদ, টেকসই সরবরাহ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের গড়িমসি ছিল। এভাবে আওয়ামী আমলে জ্বালানি খাতে আমদানিনির্ভরতা অতিমাত্রায় বাড়িয়ে তোলা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি খাত দিন দিন ঋণ ও দায়দেনায় জর্জরিত হয়েছে। অন্যদিকে জ্বালানি সরবরাহকারী দেশগুলোয় বিভিন্ন সময়ে যুদ্ধ-সংঘাত পরিস্থিতির কারণে আমদানি তথা দেশে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জ্বালানি খাতে অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন বন্ধ করা এবং এ খাতকে দায়দেনা থেকে বের করে আনার বড় প্রত্যাশা ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে। কিন্তু তারা আইনি কিছু সংস্কার করলেও আওয়ামী সরকারের আমদানিনির্ভর নীতি অব্যাহত রাখায় ভঙ্গুর দশা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি দেশের জ্বালানি খাত।
দুই দশক ধরে জ্বালানি খাতের অব্যবস্থাপনা, একমুখী নীতি বাস্তবায়ন ও দুর্নীতি-অনিয়ম বর্তমান নির্বাচিত সরকারকে মেয়াদের শুরু থেকেই বড় ধরনের চাপে ফেলেছে। সেই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে সদ্য শুরু হওয়া যুদ্ধ দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনাকে বড় চাপে ফেলে দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাশ্রয়ী মূল্যের গ্যাসের ওপর ভিত্তি করে দেশের অর্থনীতির ভিত্তি গড়ে উঠলেও এ খাতের উৎপাদন বৃদ্ধিতে বড় কোনো বিনিয়োগ করা হয়নি। যে কারণে অব্যাহতভাবে গ্যাস উত্তোলন কমেছে। আর এমন প্রেক্ষাপটে আমদানি বৃদ্ধির নীতি কার্যকর হয়েছে। এতে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়েছে এবং একশ্রেণীর সুবিধাভোগী বড় অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে।
বর্তমানে বছরে প্রায় ৭০ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করতে হচ্ছে। এতে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৬০-৬৫ হাজার কোটি টাকা। দেশে জ্বালানি তেলের দাম কমাতে ও সংকটকালীন পরিস্থিতি মোকাবেলায় ইস্টার্ন রিফাইনারির সক্ষমতা বাড়ানো যায়নি। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ইস্টার্ন রিফাইনারির পরিশোধনক্ষমতা ১৫ লাখ টনে সীমাবদ্ধ রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর ইস্টার্ন রিফাইনারির সক্ষমতা ৩০ লাখ টন বাড়িয়ে মোট ৪৫ লাখ টন করার উদ্যোগ নেয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সর্বশেষ অন্তর্বর্তী সরকার সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়নের অনুমোদন দিয়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণ করা গেলে দেশে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের আমদানি কমে যেত। বর্তমানে ৫০-৫৫ হাজার কোটি টাকার পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে সরকার। এ অবস্থায় জ্বালানি তেলের পরিশোধনক্ষমতা বাড়ানো গেলে আমদানি কমানো যেত। অন্যদিকে সংকটকালে মজুদ সক্ষমতাও বাড়ত।
দেশের জ্বালানি খাতে বর্তমানে যে তীব্র সংকট বিদ্যমান তা নীতিগত ব্যর্থতারই প্রতিফলন। বিগত সরকার আমলে স্থানীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনে মনোযোগ না দিয়ে জ্বালানি খাতকে আমদানিনির্ভর করা হয়েছে।
দেশের জ্বালানি খাতে বর্তমানে যে তীব্র সংকট বিদ্যমান তা নীতিগত ব্যর্থতারই প্রতিফলন। বিগত সরকার আমলে স্থানীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনে মনোযোগ না দিয়ে জ্বালানি খাতকে আমদানিনির্ভর করা হয়েছে। ব্যয়বহুল জ্বালানি আমদানির কারণে দেশের অর্থনীতি চাপের মুখে পড়েছে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে ডলার সংকটের কারণে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি আমদানিও নিশ্চিত করা যায়নি। কেবল তাই নয়, বিগত সরকারের অংশীজনদের কাছে জ্বালানি খাত ছিল অনিয়ম-দুর্নীতির বড় মাধ্যম। অন্যদিকে নানা সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তার মুখে জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘœ ঘটেছে। সব মিলিয়ে দেশে জ্বালানি সংকট দিন দিন তীব্র হয়ে উঠেছে।
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার সময় বড় প্রতিশ্রুতি ছিল অর্থনৈতিক সংস্কার ঘিরে। সরকার এর অংশ হিসেবে জ্বালানি খাতের জন্য স্বল্পমেয়াদে হলেও কার্যকর নীতি কৌশল নেবে, যা স্থানীয় গ্যাস উৎপাদন ও সরবরাহ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে- সেই প্রত্যাশা ছিল। বিশেষ করে সেই নীতি পরবর্তী সরকারের সময়ও অব্যাহত থাকবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে অন্তর্বর্তী সরকারও বিগত সরকারের ধারা বজায় রেখেছে। অনুসন্ধান প্রতিবেদন জানাচ্ছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দীর্ঘমেয়াদি ও স্পট থেকে ১১৫ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
এ পরিমাণ কার্গো আমদানিতে ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ৫১ হাজার ৫৪০ কোটি টাকা, যেখানে এর আগের অর্থবছরে ৪০ হাজার ৭৫২ কোটি টাকার এলএনজি কেনা হয়েছে।
এর আগের তথা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪২ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকার এলএনজি কেনা হয়েছিল।
অর্থাৎ চলতি অর্থবছরে এলএনজি আমদানি ব্যয় আরো বেড়েছে। কিন্তু গ্যাস সংকট কাটেনি। বরং আরো তীব্র হচ্ছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সরবরাহ সংকটও বেড়েছে।
আবার জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন যে বিশ্বের পরাশক্তিগুলোর নানামুখী তৎপরতার কারণে এলএনজি আমদানিও ব্যাহত হতে পারে, যা গ্যাস সংকট আরো বাড়িয়ে তুলবে।
যদিও স্বল্পমেয়াদি ও কার্যকর পরিকল্পনার মাধ্যমে বর্তমান অনিশ্চয়তার অনেকটাই এড়ানো সম্ভব ছিল।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, দেশে স্থানীয়ভাবে গ্যাসের উত্তোলন বৃদ্ধিতে পতিত আওয়ামী লীগ সরকার সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের দরপত্র আহ্বানের উদ্যোগ এগিয়ে নিতে পারত। কিন্তু এক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের তেমন কোনো উদ্যোগ দায়িত্ব নেয়ার দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান হয়নি। আবার জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ বৃদ্ধিতে যে অবকাঠামো নির্মাণ প্রয়োজন ছিল, সেদিকেও মনোযোগ দেয়নি এ সরকার। অথচ দেশে এলএনজি সরবরাহে দুটি টার্মিনাল রয়েছে। দুটির সক্ষমতা দৈনিক ১০০ কোটি ঘনফুট। আবার ২০২২ সালের শেষে তৎকালীন সরকার ৫০টি কূপ খননের উদ্যোগ নেয়। লক্ষ্য ছিল ২০২৫ সালে এসব কূপ খনন করে জাতীয় গ্রিডে ৬১৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত করা। মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও এ প্রকল্পের আওতায় প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কূপের কাজ এখনো শেষ করা যায়নি। পাশাপাশি প্রকল্পের আওতায় কূপ খনন করে যতটুকু গ্যাস মিলেছে তার অর্ধেকের বেশি গ্রিডে যুক্ত করা যায়নি। এর কারণ হলো পাইপলাইন নির্মাণ করা হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকার গ্যাস কূপ খনন ও পাইপলাইন প্রকল্প সমন্বয় করে সেটি বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ নিলে গ্রিডে সরবরাহ কিছুটা হলেও বাড়ানোর যেত। কিন্তু এজন্যও তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। যদিও অন্তর্বর্তী সরকার নতুন করে আরো ১০০টি কূপ খননের পরিকল্পনা নিয়েছে। কিন্তু সে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপের ঘাটতি রয়ে গেছে। কূপ খননের জন্য প্রয়োজনীয় রিগ বা খননযন্ত্রের ঘাটতিসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতায়ও বড় ধরনের ঘাটতি রয়ে গেছে।
এলএনজি আমদানিতে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে, তা আংশিকভাবেও যদি পরিকল্পিত অনুসন্ধান ও অবকাঠামোয় বিনিয়োগ করা হতো, তবে বর্তমানে দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি এতটাও নাজুক হয়ে উঠত না। দীর্ঘদিন ধরেই নীতিনির্ধারকরা এ বিষয়ে সতর্ক করে আসছিলেন।
দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা যেখানে প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট, সেখানে সরবরাহ রয়েছে মাত্র ২৫৮ কোটি ঘনফুট। গ্যাসের মজুদ ও উৎপাদন উভয়ই কমছে। পেট্রোবাংলার তথ্যমতে, গত এক বছরে দেশে গ্যাস উত্তোলনে নিয়োজিত পাঁচ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চারটির উৎপাদন কমেছে। এমনকি দেশের মোট গ্যাস সরবরাহের প্রায় অর্ধেক জোগানদাতা শেভরনের উৎপাদনও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। সরকারের ভাষ্যমতে, ক্রমবর্ধমান গ্যাসের ঘাটতি মেটাতে এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু এতে দেশের জ্বালানি খাত আরো অশ্চিয়তার মধ্যেই পড়েছে। গ্যাসের মজুদ ও উৎপাদন কমার প্রেক্ষাপটেই বরং প্রয়োজন ছিল অনুসন্ধান ও স্থানীয় উৎপাদনের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেয়া।
স্থানীয় গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়া ও আমদানিনির্ভরতার কারণে দেশের শিল্প ও বিনিয়োগ পরিবেশে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। এরই মধ্যে গ্যাসের অভাবে অনেক শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। এতে উৎপাদন কমে রফতানি প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। জ্বালানি সংকট অব্যাহত থাকলে তা ভবিষ্যতে শিল্প খাতের জন্য আরো বড় হয়ে চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে। আর এর সামগ্রিক প্রভাব পড়বে দেশের অর্থনীতিতে। বিশেষ করে শিল্প সম্প্রসারণ না ঘটলে কর্মসংস্থান প্রবৃদ্ধি ঘটবে না, যা বেকারের সংখ্যা বাড়াবে।
জ্বালানি খাতের বিদ্যমান সংকট দ্রুত সমাধানের সুযোগ নেই। তবে সুচিন্তিত নীতির মাধ্যমে ঝুঁকি কমানো সম্ভব। কিন্তু বর্তমানে সরকারের শেষ মেয়াদে সেটি আর সম্ভব বলে প্রতীয়মান হয় না। আগামীতে নির্বাচিত সরকারের উচিত জ্বালানি সংকটে অগ্রাধিকারে রাখা। নয়তো সেটি সরকারের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে। জ্বালানি খাতকে অবশ্যই আমদানিনির্ভরতা থেকে বের করে আনার ওপর জোর দিতে হবে। এজন্য দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। এর অংশ হিসেবে সরকারকে স্থল ও সমুদ্রে নতুন গ্যাস ক্ষেত্র অনুসন্ধানের কাজ ত্বরান্বিত করার উদ্যোগ নিতে হবে।
(ইনশাআল্লাহ চলবে)
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সুদী মহাজন ও বড় চোর, সমকামীমনা, ১৬৮ মামলার আসামী, দেশ বিক্রিকারী মার্কিন চুক্তিকারী, ক্ষমতার মসনদে বসে অর্থ লুটকারী, অন্যায় সুবিধা গ্রহণকারী, পাহাড় সম অপরাধ মব-সন্ত্রাসের জনক কুখ্যাত ইউনুসের প্রতি ভীষণ বীতশ্রদ্ধ।
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সুদী মহাজন ও বড় চোর, সমকামীমনা, ১৬৮ মামলার আসামী, দেশ বিক্রিকারী মার্কিন চুক্তিকারী, ক্ষমতার মসনদে বসে অর্থ লুটকারী, অন্যায় সুবিধা গ্রহণকারী, পাহাড় সম অপরাধ মব-সন্ত্রাসের জনক কুখ্যাত ইউনুসের প্রতি ভীষণ বীতশ্রদ্ধ। এই কুলাঙ্গার আবারো ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে, রাষ্টের শীর্ষ পদে তথা প্রেসিডেন্ট পদে আলোচনায় আসে কি করে? নেপথ্যে কি মার্কিন দূত গর? অথচ “ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়”- বিএনপির শ্লোগান
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বাংলাদেশের সামরিক কৌশল বাড়ানো উচিত
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বিএনপির নেতা কর্মী বর্তমান উপদেষ্টা মন্ত্রীরা-এমপিরাও, সুদী মহাজন ও বড় চোর, সমকামীমনা, ১২৬ মামলার আসামী, দেশ বিক্রিকারী মার্কিন চুক্তিকারী, ক্ষমতার মসনদে বসে অর্থ লুটকারী, অন্যায় সুবিধা গ্রহণকারী, পাহাড় সম অপরাধ মব-সন্ত্রাসের জনক কুখ্যাত ইউনুসের প্রতি ভীষণ বীতশ্রদ্ধ।
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
এই কুলাঙ্গার আবারো ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে, রাষ্টের শীর্ষ পদে তথা প্রেসিডেন্ট পদে আলোচনায় আসে কি করে? নেপথ্যে কি মার্কিন দূত গর? অথচ “ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়”- বিএনপির শ্লোগান
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আম্রিকা, চীন, ভারত, রাশিয়া সবার নজর বাংলাদেশের দিকে।
৩০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নতুন নতুন উন্নয়ন প্রকল্পের অজুহাতে চলছে শোষণ প্রকল্প।
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আর দ্বীনদার ব্যক্তির জন্য দ্বীন ইসলামই সবচেয়ে বড়
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইহুদীরাই আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট বানায়, নামায় তথা আমেরিকা চালায়।
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
‘ছবি’ ও ‘বেপর্দা’- বর্তমানে সমস্ত পাপ কাজের মূল উৎস
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
তেল আমদানিতে আমাদের যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হয়, এতে আমাদের রিজার্ভে চাপ পড়ে। সমস্যা কৃষকের সক্ষমতায় নয়, বরং নীতিগত অগ্রাধিকার ও বিনিয়োগের ঘাটতিতে।
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পাকিস্তান থেকে বেরিয়ে ভারতীয় খপ্পরে বাংলাদেশ!
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












