মন্তব্য কলাম
উৎপাদনহীন অর্থনীতি: সংকটের মূল কোথায়?
, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) মন্তব্য কলাম
দেশের উন্নয়ন নিয়ে সবাই অনেক কথাই বলে। কিন্তু একটি মৌলিক প্রশ্ন সবাই এড়িয়ে যায়-আমাদের অর্থনীতির ভিত্তি কতটা উৎপাদনশীল?
বাস্তবতা খুবই স্পষ্ট: একটি দেশ তখনই এগিয়ে যায়, যখন তার উৎপাদনশীল খাত শক্তিশালী হয়। বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ। এই জনসংখ্যা- সমস্যা হবে না সম্পদ হবে- তা নির্ভর করছে আমরা তাদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পেরেছি কী না? যদি কাজ দিতে পারি, এই জনসংখ্যাই হবে শক্তি; আর যদি না পারি, সেটাই হয়ে উঠবে বোঝা।
আজকের বাস্তবতায় হকার সমস্যা, ব্যাটারিচালিত রিকশার সমস্যা-এসব কোনো আলাদা সমস্যা নয়; এগুলো কর্মসংস্থানের অভাবের বহিঃপ্রকাশ। আপনি হকার উচ্ছেদ করলেন, রিকশা বন্ধ করলেন- সমস্যা কি সমাধান হবে? হবে না। কারণ সমস্যার শিকড় রয়ে যাবে। বরং হকাররা দেশীয় উৎপাদনের একটি বড় বিপণন চ্যানেল; তাদের সরিয়ে দিলে দেশীয় শিল্পও ধীর হয়ে পড়ে। অথচ সরকারের সাম্প্রতিক কার্যক্রমে উৎপাদনশীল খাতের চেয়ে ভর্তুকিনির্ভর উদ্যোগ-ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড- বেশি চোখে পড়ে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিকে শক্তিশালী না করে বরং নির্ভরতা বাড়ায়।
এখানেই আরেকটি উদ্বেগজনক দিক সামনে আসে। সম্প্রতি সরকারের একজন বুদ্ধিজীবি কার্বন ক্রেডিটের মাধ্যমে ১ বিলিয়ন ডলার আয়ের কথা বলেছে। প্রশ্ন হচ্ছে-এটাই কি আমাদের কৌশল? শিল্প-কারখানা হ্রাস করে কার্বন নিয়ন্ত্রণ করে আয় করা বাস্তব সমাধান নয়। বাস্তবতা হলো, শিল্প উন্নয়ন ঘটাতে পারলে শত বিলিয়ন ডলার আয়ও সম্ভব; কিন্তু সেই পথে না গিয়ে শিল্প বন্ধ করে অনুদান ভিত্তিক আয়ের স্বপ্ন দেখানো হচ্ছে, যা অর্থনীতিকে আরো বেহাল করবে।
দেশীয় পর্যটনের ক্ষেত্রেও একই চিত্র। নারিকেল জিঞ্জিরা দ্বীপ উন্মুক্ত না থাকায় মানুষ দেশের ভেতরে ঘুরতে না পেরে বিদেশে যাচ্ছে-মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া, ভারত-ফলে দেশের অর্থ বাইরে চলে যাচ্ছে এবং অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়ছে।
আরো উদ্বেগজনক বিষয় হলো তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি না করে বরং নতুন মাদক আইনে ভেপ, ই-সিগারেট, নিকোটিন পাউচ নামক মাদক দ্রব্যের বৈধতা দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, যা খুবই ভয়ঙ্কর বিষয়।
বর্তমানে বৈশি^ক সংকটের প্রভাবে দেশের ভেতরেও আসছে। কিন্তু এই সংকট সবার জন্য সমান নয়; কারো জন্য এটি দুর্যোগ, কারো জন্য সুযোগ। যারা সংকটকে কাজে লাগাতে পারে, তারাই এগিয়ে যায়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও সেই সুযোগ ছিল, এখনো আছে। দেশে তেল, গ্যাস, লোহা, কয়লার মজুদ থাকা সত্ত্বেও সেগুলো উত্তোলনে দৃশ্যমান সাহসী উদ্যোগ নেই; বরং আমদানিনির্ভরতা বজায় রাখার প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে।
মূল প্রশ্ন হলো- আমরা কি সত্যিই স্বনির্ভর হতে চাই? যদি চাই, তবে বন্ধ শিল্পকারখানা চালু করা, নতুন উৎপাদনশীল খাত তৈরি, দেশীয় বিনিয়োগে আস্থা ফিরিয়ে আনা, পর্যটনসহ অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কার্যক্রম বাড়ানো এবং তরুণদের জন্য বাস্তব কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা ছাড়া বিকল্প নেই।
সবচেয়ে বড় কথা- নীতিগত সাহস দেখাতে হবে। কারণ সংকট নিজে কখনো সুযোগ হয়ে ওঠে না; মানুষই সেটিকে সুযোগে পরিণত করে। আজকের এই অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের জন্য একটি পরীক্ষা- আমরা কি ব্যর্থ হবো, নাকি এই সংকটকে কাজে লাগিয়ে একটি শক্তিশালী উৎপাদনভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলবো, সেই সিদ্ধান্ত আমাদেরই নিতে হবে।
-আমিমুল ইসলাম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
বাংলাদেশের মহাকাশ প্রতিরক্ষা কৌশল: ৫০ লক্ষাধিক বহরের সমন্বিত বাহিনীর জন্য কৃত্রিম উপগ্রহ প্রযুক্তির রূপরেখা (পর্ব-৪)
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (১১)
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বর্তমান জ্বালানী সংকটে অনেক দেশই এখন কয়লার দিকে ঝুকছে। কয়লার উপর নির্ভরতা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। দেশে বিপুল পরিমাণ কয়লার মজুদ থাকার পরও রহস্যজনকভাবে তা উত্তোলনে আগ্রহ নেই সরকারের। ৭ হাজার ৮০০ মিলিয়ন টন কয়লা মজুদের দেশে কয়লার ঘাটতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বন্ধ কেন?
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা: ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (১০)
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (৯)
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বিশ্বের সবচেয়ে দামি আম মিয়াজাকি, পুষ্টিগুণেও ভরপুর
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
“বাংলাদেশের ওষুধ রফতানি হচ্ছে ১৪০টির বেশি দেশে”- গত পরশু (৮ই জুন) এই বিবৃতি দেয়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী কী ভেবে দেখবেন মার্কিনীদের সাথে করা গোলামী চুক্তিতে তার এই উচ্ছাস পুরোটাই গভীর এবং চরম-পরম উৎকণ্ঠায় পর্যবসিত হয়েছে মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের জন্যও মহা ধ্বংস প্রক্রিয়া বাংলাদেশের ৫১ কোটি নাগরিকের নিরাপত্তা নির্মূলীকরণ প্রক্রিয়া। মহা আত্মঘাতী, সর্বনাশী, দেশের সার্বভৌমত্ব বিক্রিকারী এ চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে (১ম পর্ব)
১১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
শুধু একটি মৃত্যুর খবর, নাকি একটি সমাজের ভবিষ্যৎ?
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সস্তা জনপ্রিয়তার বিপরীতে সস্তা জনরোষের পথেই কী হাটতে চায় সরকার? মাত্র ১০/১৫ হাজার কোটি টাকার জন্য ওয়াদা খেলাফ করে বিদ্যুতের দাম আবার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতির আগুনে আরো ঘি ঢালছে সরকার। জনভোগান্তির জুলুম থেকে সরে আসতে হবে সরকারকে।
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (৮)
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
১৯৯০ সালে কাঁচা চামড়া রফতানীর নিষিদ্ধ করণের প্রেক্ষাপট বর্তমানে নেই। এ মুহুর্তে কাঁচা চামড়া রফতানীর অনুমোদন বর্তমান সংকটকে অনেকটাই কমাতে পারে।
০৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
কুরবানী আসে-যায় মৌসুমী কসাইরা অরক্ষা আর অবহেলাতেই থেকে যায়। তাদের অনেকে আহত হয়, পঙ্গু হয়, আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যায়- মৌসুমী কসাইদের প্রশিক্ষণ ও পৃষ্টপোষকতার পাশাপাশি ঈদুল আদ্বহায় বিশেষ স্বাস্থসেবা চালু করা দরকার।
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












