সুন্নত মুবারক তা’লীম
পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করার গুরুত্ব-ফযীলত ও খাছ সুন্নতী তারতীব
, ২৪ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৯ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৮ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ২৪ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত : প্রতি হরফে রয়েছে কমপক্ষে দশ নেকী
পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াতের গুরুত্ব-ফযীলত অতুলনীয়। মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি এই সম্মানিত কিতাব মুবারক নাযিল হয়। সমস্ত আসমানী কিতাব মুবারকের সাইয়্যিদ বা প্রধান হলেন, পবিত্র কুরআন শরীফ। কায়িনাতের মাঝে পবিত্র কুরআন শরীফ শরীফ-ই মহান কিতাব মুবারক, যার তিলাওয়াতে রয়েছে প্রতিটি হরফে হরফে নেকী। সুবহানাল্লাহ!
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
مَنْ قَرَأَ حَرْفًا مِنْ كِتَابِ اللهِ فَلَهُ بِهِ حَسَنَةٌ، وَالحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا، لَا أَقُولُ الم حَرْفٌ، وَلَكِنْ أَلِفٌ حَرْفٌ وَلَامٌ حَرْفٌ وَمِيمٌ حَرْفٌ.
অর্থঃ যে ব্যক্তি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার একটি হরফ পাঠ করলো, তার জন্য রয়েছে একটি নেকী। আর একটি নেকী দশ নেকী সমতুল্য। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমি বলছি না যে, আলিফ লাম মীম- একটি হরফ। বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ এবং মীম একটি হরফ। সুবহানাল্লাহ! (তিরমিযী শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ নং: ২৯১০)
অতএব, আলিফ লাম মীম তিলাওয়াত করলে কমপক্ষে ত্রিশ নেকী লাভ হবে। লক্ষণীয় বিষয় হল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দৃষ্টান্ত স্বরূপ আলিম লাম মীম উল্লেখ করেছেন। আর এটি এমন এক শব্দ, যার অর্থ একমাত্র মহান আল্লাহ পাক ও উনার মহাসম্মানিত হাবীব ও মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা ছাড়া কেউ জানেন না। এখান থেকে বুঝা গেল যে, পবিত্র কুরআন শরীফ উনার অর্থ না বুঝে পড়লেও রয়েছে অনেক ছওয়াব, অনেক ফায়দা। আর যদি কেউ অর্থ বুঝে বুঝে উপলব্ধির সাথে পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করে, তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে আরো কত ছওয়াব দিবেন, তা তো মহান আল্লাহ পাক তিনি-ই ভালো জানেন।
তিলাওয়াতকারীদের জন্য পবিত্র কুরআন শরীফ শাফায়াত করবে:
যে ব্যক্তি দুনিয়ার জীবনে পবিত্র কুরআন শরীফকে নিজের সঙ্গী বানাবে কিয়ামতের দিন পবিত্র কুরআন শরীফ তাকে ভুলবেন না। কিয়ামতের সেই কঠিণ মুহূর্তে পবিত্র কুরআন শরীফ তাকে সঙ্গ দেবেন এবং তার জন্য শাফায়াত (সুপারিশ) করবেন। হযরত আবূ উমামা বাহেলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
اقْرَؤُوا الْقُرْآنَ فَإِنّهُ يَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ شَفِيعًا لأَصْحَابِهِ.
অর্থ: তোমরা পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করো। কেননা কিয়ামতের দিন পবিত্র কুরআন শরীফ তিনি উনার ‘ছাহিবের’ জন্য সুপারিশ করবেন। (মুসলিম শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ নং: ৮০৪)
ছহিবে কুরআন শরীফের পরিচয় ও তিলাওয়াতের মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক:
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার ছাহিব কে? মুহাদ্দিসীনে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা বলেন, ‘ছাহিবে কুরআন শরীফ’ বলা হয় ওই ব্যক্তিকে, যিনি পবিত্র কুরআন শরীফ নিয়ে ব্যতিব্যস্ত থাকেন। পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াতে মশগুল থাকেন। পবিত্র কুরআন শরীফ উনার হিদায়েত ও নির্দেশ মুবারকসমূহ গ্রহণ করেন। পবিত্র কুরআন শরীফ উনার হুকুমগুলো আমলে নেন। পবিত্র কুরআন শরীফ উনার হিফয করেন। (কূতুল মুগতাযী আলা জামিইত তিরমিযী শরীফ ২/৭৩২)
অতএব আমাদেরকে ‘পবিত্র কুরআন শরীফ উনার ছাহিব’ বা পবিত্র কুরআন শরীফওয়ালা হওয়ার জন্য সচেষ্ট থাকতে হবে। আর পবিত্র কুরআন শরীফ উনার ছাহিব হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে ইহতিমামের সাথে তিলাওয়াত করা।
পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করার মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক হচ্ছে, মাদ-মাখরাজ, সমস্ত নিয়ম-কানুন মেনে তারতীলের সাথে, ধীরে ধীরে পাঠ করা। তাড়াহুড়া না করা, ইনিয়ে-বিনিয়ে পাঠ না করা। এক কথায়, খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, রহমাতুল্লিল আলামীন, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি যেভাবে তিলাওয়াত মুবারক করেন, এভাবে তিলাওয়াত করাই খাছ সুন্নত মুবারক।
মহান আল্লাহ পাক তিনি সকলকে খাছ সুন্নতী তারতীবে পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার অন্যতম সুমহান তাজদীদ মুবারক “সুন্নতী সামা শরীফ মাহফিল”
০৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রতিক্ষেত্রে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অনুসরণ করা যেমন ফরয; অনুরূপভাবে প্রতিক্ষেত্রেই কাফির- মুশরিকদের খিলাফ করাও ফরয (২)
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রতিক্ষেত্রে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অনুসরণ করা যেমন ফরয; অনুরূপভাবে প্রতিক্ষেত্রেই কাফির- মুশরিকদের খিলাফ করাও ফরয (১)
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হাত ও পায়ের নখ কাটার মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব মুবারক
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা, আত্মীয়দের হক্ব আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য আবশ্যক। যা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত (৪)
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা, আত্মীয়দের হক্ব আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য আবশ্যক। যা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত (৩)
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা, আত্মীয়দের হক্ব আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য আবশ্যক। যা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত (২)
৩১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা, আত্মীয়দের হক্ব আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য আবশ্যক। যা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত
৩০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সকল রোগের শেফা, মহাসম্মানিত সুন্নতী খাদ্য কালোজিরা (২)
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সকল রোগের শেফা, মহাসম্মানিত সুন্নতী খাদ্য কালোজিরা (১)
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ডান হাতে আহার করা, আঙ্গুল ও বাসন পরিস্কার করে চেটে খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (৩)
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ডান হাতে আহার করা, আঙ্গুল ও বাসন পরিস্কার করে চেটে খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (২)
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












