আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা, আত্মীয়দের হক্ব আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য আবশ্যক। যা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত (৪)
, ১৮ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৩ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ০২ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ১৮ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা পাপাচারীদের কাজ:
আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা, আত্মীয়তার হক আদায় না করা পাপাচারীদের বৈশিষ্ট্য। অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত নির্দেশ মুবারক অমান্য করার শামীল।
মহান আল্লাহ পাক তিনি আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারীদের ব্যাপারে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেনÑ
الَّذِينَ يَنقُضُونَ عَهْدَ اللَّهِ مِن بَعْدِ مِيثَاقِهِ وَيَقْطَعُونَ مَا أَمَرَ اللَّهُ بِهِ أَن يُوصَلَ وَيُفْسِدُونَ فِي الْأَرْضِ ۚ أُولَٰئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ ﴿٢٧﴾
অর্থ: যারা মহান আল্লাহ পাক উনার সঙ্গে সুদৃঢ় অঙ্গীকার করার পর তা ভঙ্গ করে এবং যে সম্পর্ক অক্ষুণœ রাখার মহান আল্লাহ তিনি সম্মানিত নির্দেশ মুবারক করেছেন, তা ছিন্ন করে এবং পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করে, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত। (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ নং : ২৭)
মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-
وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ.
অর্থ: আর তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো, যাঁর মহাসম্মানিত নাম মুবারকে তোমরা একে অপরের কাছে চাও এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা থেকে বেঁচে থাকো। (পবিত্র সূরা নিসা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১)
মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-
وَآتِ ذَا الْقُرْبَىٰ حَقَّهُ
অর্থ: আর আত্মীয়-স্বজনকে তাদের প্রাপ্য দিয়ে দাও। (পবিত্র সূরা বনী ইসরাইল শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২৬)
আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী ব্যক্তি সম্মানিত জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবেনা
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ مُحَمَّدِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ رحمة الله عليه عَنْ أَبِيهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لاَ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ قَاطِعٌ.
অর্থ: হযরত মুহম্মদ ইবনে জুবাইর রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি উনার পিতা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, কর্তনকারী (আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী) সম্মানিত জান্নাতে যেতে পারবে না। (তিরমিযী শরীফ; পবিত্র হাদীছ শরীফ নং: ১৯০৯)
আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা মানে রক্ত ও বৈবাহিক সূত্রে যাদের সাথে আমাদের সম্পর্ক আছে, সম্পর্ক অনুযায়ী তাদের খোঁজ-খবর রাখা, তাদের সাথে সদাচরণ করা, বিপদ আপদে তাদের পাশে দাঁড়ানো, সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্য করা, নেক কাজের দাওয়াত দেওয়া, হক্ব মত-পথ প্রদর্শন করা, নেককাজে আদেশ ও খারাপ কাজে নিষেধ করা।
আত্মীয়তার সম্পর্ক ঠিক রাখার উপায় :
১) খোঁজ-খবর নেওয়া : নিয়মিত ফোন করে কিংবা দেখা করে আত্মীয়দের খোঁজ-খবর নেওয়া।
২) হাদিয়া দেওয়া : সাধ্যমতো হাদিয়া দেওয়া। কেননা, হাদিয়া দিলে পরস্পরের মধ্যে মুহব্বত বৃদ্ধি হয়।
৩) দাওয়াত দেওয়া : ঈদে, পবিত্র আইয়্যামুল্লাহ শরীফের মাহফিলে, বাৎসরিক মাহফিলে, বিবাহে এবং বাড়ির যে কোন মজলিসে আত্মীয়দেরকে দাওয়াত দিয়ে ডেকে নেওয়া।
৪) নেককাজে উৎসাহিত করা : সর্বাবস্থায় হক্ব মত পথে চলার জন্য উপদেশ দেওয়া।
৫) পারিবারিক তা’লীমের ব্যবস্থা করা : নিয়মিত পারিবারিক তা’লীমের ব্যবস্থা করে, সবার আমল-আখলাক্ব, ইবাদত-বন্দেগীর খোঁজ-খবর নেওয়া।
৬) ক্ষমা করা : রাগ থাকলেও প্রথমে সালাম দেওয়া। ছোটখাটো ভুল বা রাগ এড়িয়ে ক্ষমা করার গুণ অর্জন করা।
৭) অহংকার ত্যাগ : কে আগে খোঁজ নিল তা না ভেবে নিজে থেকেই সম্পর্ক বজায় রাখার উদ্যোগ নেওয়া।
৮) সহযোগিতা করা : অসুস্থায় সেবা করা, বিপদে-আপদে ও আর্থিক কষ্টে আত্মীয়দের পাশে দাঁড়ানো।
৯) হক্বের দাওয়াত দেওয়া : আত্মীয়ত কোন বাতিল আক্বীদাহর লোক হলে, ধৈর্য ও উত্তম আচরণের মাধ্যমে হক্ব পথের দাওয়াত দেওয়া। হক্ব পথে আনার কোশেষ করা।
খ¦লিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে সম্মানিত শরীয়তসম্মত উপায়ে আত্মীয়তার সম্পর্ক ঠিক রাখার, আত্মীয়দের হক্ব আদায় করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা, আত্মীয়দের হক্ব আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য আবশ্যক। যা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত (৩)
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা, আত্মীয়দের হক্ব আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য আবশ্যক। যা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত (২)
৩১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা, আত্মীয়দের হক্ব আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য আবশ্যক। যা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত
৩০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সকল রোগের শেফা, মহাসম্মানিত সুন্নতী খাদ্য কালোজিরা (২)
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সকল রোগের শেফা, মহাসম্মানিত সুন্নতী খাদ্য কালোজিরা (১)
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ডান হাতে আহার করা, আঙ্গুল ও বাসন পরিস্কার করে চেটে খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (৩)
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ডান হাতে আহার করা, আঙ্গুল ও বাসন পরিস্কার করে চেটে খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (২)
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ডান হাতে আহার করা, আঙ্গুল ও বাসন পরিস্কার করে চেটে খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
স্বভাবজাত মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক
২৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
হায়াত থেকে মউত পর্যন্ত অর্থাৎ সর্বক্ষেত্রে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক অনুযায়ী আমল করতে হবে
২৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পানির মশক ব্যবহার করা খাছ সুন্নত মুবারক (২)
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পানির মশক ব্যবহার করা খাছ সুন্নত মুবারক (১)
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












