আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা, আত্মীয়দের হক্ব আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য আবশ্যক। যা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত
, ১৫ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ৩১ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ৩০ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ১৫ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
সম্মানিত দ্বীন ইসলামে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের বিভিন্ন জায়গায় আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করার মহাসম্মানিত নির্দেশ মুবারক দেওয়া হয়েছে। আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারীদের নিন্দা করা হয়েছে।
আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করার অনেক গুরুত্ব ও ফযীলত মুবারক রয়েছে। যা দুনিয়া ও আখিরাত অর্থাৎ উভয় জাহানের কল্যাণকেই শামিল করে; যা সম্মানিত শরীয়ত উনার আলোকে বিভিন্ন দলীল-আদিল্লাহর দ্বারা সাব্যস্ত।
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُم مِّن ذَكَرٍ وَأُنثَىٰ وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا ۚ إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِندَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ ﴿١٣﴾
অর্থ: হে মানুষেরা, আমি তোমাদেরকে একজন সম্মানিত পুরুষ ও একজন সম্মানিতা মহিলা উনাদের থেকে সৃষ্টি করেছি আর তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি। যাতে তোমরা পরস্পর পরিচিত হতে পার। তোমাদের মধ্যে মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে সেই অধিক মর্যাদাসম্পন্ন যে তোমাদের মধ্যে অধিক তাক্বওয়া সম্পন্ন। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত। (পবিত্র সূরা হুজুরাত শরীফ, পবিত্র আয়াত শরীফ: ১৩)
অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি মানুষকে সাইয়্যিদুনা হযরত (আদম) ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল বাশার (হাওয়া) আলাইহাস সালাম উনাদের মাধ্যমে সৃষ্টি মুবারক করেছেন। এবং বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছেন পরস্পর পরিচিত হওয়ার জন্য।
প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে, তার গোত্রের, সম্প্রদায়ের, আত্মীয়-স্বজনদের খোঁজ-খবর রাখা, আপদে-বিপদে সাড়া দেওয়া ও হক্ব আদায় করা। কেননা, এই আত্মীয়তার সম্পর্ক মহান আল্লাহ পাক কর্তৃক নির্ধারিত। এই সম্পর্ক রক্ষা করা সকলের জন্যই আবশ্যক; যা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أَبِي سَلَمَةَ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ قَالَ اشْتَكَى حَضْرَتْ أَبُو الرَّدَّادِ اللَّيْثِيُّ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ فَعَادَهُ حَضْرَتْ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ فَقَالَ خَيْرُهُمْ وَأَوْصَلُهُمْ مَا عَلِمْتُ حَضْرَتْ أَبَا مُحَمَّدٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ. فَقَالَ حَضْرَتْ عَبْدُ الرَّحْمَنِ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ قَالَ اللَّهُ أَنَا اللَّهُ وَأَنَا الرَّحْمَنُ خَلَقْتُ الرَّحِمَ وَشَقَقْتُ لَهَا مِنَ اسْمِي فَمَنْ وَصَلَهَا وَصَلْتُهُ وَمَنْ قَطَعَهَا بَتَتُّهُ
অর্থ: হযরত আবূ সালামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হযরত আবূ রাদ্দাদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু একবার অসুস্থ হলে উনাকে আব্দুর রহমান ইবন আউফ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি দেখতে আসেন। হযরত আবূ রাদ্দাদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমার জানামতে সবচেয়ে উত্তম ও সর্বাধিক আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষাকারী ব্যক্তি হলেন হযরত আবূ মুহম্মদ (আব্দুর রহমান ইবনে আউফ) রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। হযরত আব্দুর রহমান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ইরশাদ মুবারক করতে শুনেছিঃ পরিপূর্ণ কল্যাণ ও প্রাচুর্যের অধিকারী মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেনঃ ‘আমিই মহান আল্লাহ পাক এবং আমিই রহমান। আত্মীয়তার সম্পর্ককে আমিই সৃষ্টি করেছি এবং আমার মহাসম্মানিত নাম মুবারক হতে নির্গত করে এই নাম (রহমান হতে রেহেম) রেখেছি। যে ব্যক্তি এই সম্পর্ক বহাল রাখবে আমিও তার সাথে (রহমতের) সম্পর্ক বহাল রাখব। আর এই সম্পর্ক যে ব্যক্তি ছিন্ন করবে আমিও তার হতে (রহমতের) সম্পর্ক ছিন্ন করব’। (তিরমিযী শরীফ; পবিত্র হাদীছ শরীফ নং: ১৯০৭)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَيْسَ الْوَاصِلُ بِالْمُكَافِئِ وَلَكِنَّ الْوَاصِلَ الَّذِي إِذَا انْقَطَعَتْ رَحِمُهُ وَصَلَهَا.
অর্থ: হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, সমানরূপ ব্যবহারের মনোভাব নিয়ে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষাকারী প্রকৃত আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষাকারী নয়; বরং কেউ কোন ব্যক্তির সাথে সম্পর্ক নষ্ট করলেও সে যদি তার সাথে সম্পর্ক বজায় রাখে তবে সেই হচ্ছে প্রকৃত সম্পর্ক স্থাপনকারী। (তিরমিযী শরীফ; পবিত্র হাদীছ শরীফ নং: ১৯০৮)
- আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সকল রোগের শেফা, মহাসম্মানিত সুন্নতী খাদ্য কালোজিরা (২)
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সকল রোগের শেফা, মহাসম্মানিত সুন্নতী খাদ্য কালোজিরা (১)
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ডান হাতে আহার করা, আঙ্গুল ও বাসন পরিস্কার করে চেটে খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (৩)
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ডান হাতে আহার করা, আঙ্গুল ও বাসন পরিস্কার করে চেটে খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (২)
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ডান হাতে আহার করা, আঙ্গুল ও বাসন পরিস্কার করে চেটে খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
স্বভাবজাত মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক
২৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
হায়াত থেকে মউত পর্যন্ত অর্থাৎ সর্বক্ষেত্রে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক অনুযায়ী আমল করতে হবে
২৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পানির মশক ব্যবহার করা খাছ সুন্নত মুবারক (২)
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পানির মশক ব্যবহার করা খাছ সুন্নত মুবারক (১)
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার মাধ্যমেই সর্বপ্রকার নেয়ামত মুবারক হাছিল করা সহজ ও সম্ভব
২০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আয়না ব্যবহার করা মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক
১৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মহাসম্মানিত সুন্নতী খাবার “মাছ” (২)
১৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












