সকল রোগের শেফা, মহাসম্মানিত সুন্নতী খাদ্য কালোজিরা (২)
, ১৪ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ৩০ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৯ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ১৪ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে কালোজিরার অনেক উপকারিতা বর্ণিত রয়েছে । এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَا مِنْ دَاءٍ إِلَّا فِي الْحَبَّةِ السَّوْدَاء مِنْهُ شِفَاءٌ إِلَّا السَّامَ.
অর্থ: “হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, মৃত্যু ছাড়া এমন কোন রোগ নেই কালোজিরায় যার আরোগ্য নেই।” (মুসলিম শরীফ : কিতাবুস সালাম : পবিত্র হাদীছ শরীফ নং ৫৬৬১)
কালোজিরার স্বাস্থ্য উপকারিতা:
কালোজিরাকে সব রোগের ওষুধ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। অন্যান্য সব ভেষজের মতো কালোজিরা নিয়েও গবেষণা কম হয়নি। ১৯৬০ সালে মিসরের গবেষকরা নিশ্চিত হন যে, কালোজিরায় বিদ্যমান নাইজেল-এর কারণে হাঁপানী উপশম হয়। জার্মানী গবেষকরা বলেছে, কালো জিরার অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-মাইকোটিক প্রভাব রয়েছে। এটি বোনম্যারো ও প্রতিরক্ষা কোষগুলোকে উত্তেজিত করে এবং ইন্টারফেরন তৈরী বাড়িয়ে দেয়।
আমেরিকার গবেষকরা কালোজিরার টিউমারবিরোধী প্রভাব সম্পর্কে মতামত দেয়। শরীরে ক্যান্সার উৎপাদনকারী ফ্রি-রেডিক্যাল অপসারিত করতে পারে কালোজিরা। মোটকথা, কালোজিরা সব ধরনের রোগের বিরুদ্ধে তুলনাহীন। কালোজিরা পিষে তেল বের করে নিলে কার্যকারিতা অনেকগুণে বৃদ্ধি পায়।
আসুন জেনে নিই কালোজিরার এমন কিছু ব্যবহার, যেগুলো একেবারেই অপ্রচলিত।
১. স্মরণশক্তি বৃদ্ধিতে: কালোজিরা মস্তিষ্কে রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধি করে স্মৃতিশক্তি বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে। প্রতিদিন নিয়ম করে আধা চা চামচ কাঁচা কালোজিরা অথবা ১ চা চামচ কালোজিরার তেল খাওয়া যায়।
২. ব্যথা কমাতে: যেকোনো ধরণের ব্যথা কমাতে কালোজিরার জুড়ি নেই। কালোজিরার তেল হালকা গরম করে নিয়ে ব্যথার জায়গায় মালিশ করলে ব্যথা সেরে যায়। বিশেষ করে বাতের ব্যথায় বেশ ভালো উপকার পাওয়া যায়।
৩. ফোঁড়া: ফোঁড়া সারাতে ব্যথাযুক্ত ফোঁড়া সারাতে কালোজিরা সাহায্য করে। তিলের তেলের সাথে কালোজিরা বাটা বা কালোজিরার তেল মিশিয়ে ফোঁড়াতে লাগালে ব্যথা উপশম হয় ও ফোঁড়া সেরে যায়।
৪. মেদ কমাতে: চায়ের সাথে কালোজিরা মিশিয়ে পান করলে তা বাড়তি মেন ঝরে যেতে সাহায্য করে। চুলার উপরে একটি পাত্রে পানি নিয়ে, পানি ফুটলে চা পাতা ও সমপরিমাণ কালোজিরা পানিতে দিতে হবে। চায়ের রং হয়ে এলে নামিয়ে ছেঁকে নিয়ে সাধারণ চায়ের মতোই পান করা যায়।
৫. দাঁতের ব্যথায়: দাঁত ব্যথা হলে, মাড়ী ফুলে গেলে বা রক্ত পড়লে কালোজিরা তা উপশমে সহায়ক। পানিতে কালোজিরা দিয়ে ফুটিয়ে নিয়ে, পানির তাপমাত্রা কমে স্বাভাবিক গরম অবস্থায় এলে তা দিয়ে কুলি করতে হয়। এতে দাঁত ব্যাথা কমে যায়, মাড়ীর ফোলা বা রক্ত পড়া বন্ধ হয়। এছাড়া জিহ্বা, তালু ও মুখের জীবাণু ধ্বংস হয়।
৬. মাথা ব্যথায়: ঠা-াজনিত মাথাব্যথা দূর করতে একটি সুতি কাপড়ের টুকরায় খানিকটা কালোজিরা নিয়ে পুঁটুলি তৈরী করে নাকের কাছে নিয়ে শ্বাস টানতে থাকলে কিছুক্ষণের মধ্যেই ব্যথা সেরে যায়।
কালোজিরার তেল: কালোজিরা পিষে তেল বের করে নিলে কার্যকারিতা অনেকগুণ বৃদ্ধি পায়। যেমন-
* কপালের দুই পাশে এবং কানের পাশে দিনে তিন-চারবার কালোজিরার তেল মালিশ করুন মাথাব্যথা ভালো হয়ে যাবে।
* চুল পড়া কালোজিরার তেল চুলের গোড়ায় নিয়মিতভাবে মালিশ করতে হয়। ২ টেবিল চামচ যয়তুন তেল ও ১ চা চামচ কালোজিরার তেল একসাথে মিশিয়ে হালকা গরম করে চুলের গোড়ায় ভালো করে লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট ম্যাসাজ করে, ১ ঘণ্টা পর চুল ধুয়ে ফেলতে হয়।
* উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কালোজিরার তেল ব্যবহার করা হয়। শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানী দূর করে। হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণ করে।
* পক্ষাঘাত (প্যারালাইসিস) ও কম্পন রোগে কালোজিরার তৈল মালিশ করলে আশ্চর্যজনক ফল পাওয়া যায়।
* জ্বর, ব্যথা, সর্দি-কাশিতে তাড়াতাড়ি ভালো ফল পেতে বুকে ও পিঠে কালোজিরার তেল মালিশ করা যায়।
* সকালে খালি পেটে ১২/১৩ ফোঁটা কালোজিরার তেল ও ১৫/১৬ ফোঁটা মধু খেলে ডায়াবেটিসের উপকার হয়।
* ১০/১২ ফোঁটা কালোজিরার তেল গরম পানিতে মিশিয়ে খেলে বাত রোগের উপকার হয়। (সমাপ্ত)
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা-ছিফত মুবারক বর্ণনা করা, খিদমত মুবারক করা, সকল হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত সুন্নত মুবারক (১)
১৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র দ্বীনি মজলিসে বা মাহফিলে বসার মহাসম্মানিত সুন্নতী তরীক্বাহ
১৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
আপদ-বিপদ ও অনিষ্টতা থেকে মুক্তির জন্য ঘুমানোর পূর্বে আগুন/বাতি নিভিয়ে রাখতে হবে; যা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত
১৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফের গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (২)
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফের গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (১)
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
অনিষ্টতা থেকে হিফাযতের জন্য খাবারের পাত্র ঢেকে রাখতে হবে; যা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত
১০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ-মহিলার জন্য আবশ্যক হচ্ছে, সর্বক্ষেত্রে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক অনুযায়ী আমল করা
০৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করার গুরুত্ব-ফযীলত ও খাছ সুন্নতী তারতীব
০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার অন্যতম সুমহান তাজদীদ মুবারক “সুন্নতী সামা শরীফ মাহফিল”
০৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রতিক্ষেত্রে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অনুসরণ করা যেমন ফরয; অনুরূপভাবে প্রতিক্ষেত্রেই কাফির- মুশরিকদের খিলাফ করাও ফরয (২)
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রতিক্ষেত্রে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অনুসরণ করা যেমন ফরয; অনুরূপভাবে প্রতিক্ষেত্রেই কাফির- মুশরিকদের খিলাফ করাও ফরয (১)
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হাত ও পায়ের নখ কাটার মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব মুবারক
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












