ডান হাতে আহার করা, আঙ্গুল ও বাসন পরিস্কার করে চেটে খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (৩)
, ১২ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২৮ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৭ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ১২ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
খাবারে পাত্র চেটে পরিস্কার করে খাওয়ার মহাসম্মানিত নির্দেশ মুবারক:
খাবার গ্রহণের মহাসম্মানিত সুন্নতী তরীক্বাহ রয়েছে। বাসনে খাবার নেয়ার পর অনেকেই তা সম্পূর্ণ খায় না। কথিত সৌজন্যতা বা কথিত সামাজিকতা কিংবা কথিত আত্ম-সম্মানবোধের কারণ দেখিয়ে বাসনে কিছু খাবার রেখে দেয়, যা সম্মানিত দ্বীন ইসলামে কোন ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কোন অবস্থাতেই খাবার নষ্ট করা যাবে না।
এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
كُلُوا وَاشْرَبُوا وَلَا تُسْرِفُوا ۚ إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُسْرِفِينَ ﴿٣١﴾
অর্থ: তোমরা খাও ও পান কর এবং অপচয় করো না। তিনি (মহান আল্লাহ পাক) অপচয়কারীদেরকে পছন্দ করেন না। (পবিত্র সূরা আরাফ শরীফ ; পবিত্র আয়াত শরীফ: ৩১)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ جَابِر رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَ بِلَعْقِ الْأَصَابِعِ وَالصَّفْحَةِ وَقَالَ: إِنَّكُمْ لَا تَدْرُونَ: فِي أَيّهِ الْبَرَكَة؟
অর্থ: হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার হতে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি (খাওয়ার শেষে) অঙ্গুলিসমূহ ও খাদ্যপাত্র চেটে খেতে নির্দেশ দিয়েছেন এবং বলেছেনঃ খাদ্যের কোন অংশটির মধ্যে বরকত রয়েছে নিশ্চয়ই তোমরা তা জানো না। (মুসলিম শরীফ ১৩৩, মুসনাদে আহমাদ শরীফ ১৫২২৪, ছহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ২১৫৯, ইরওয়া ৭/৩১, মুসান্নাফ ইবনু আবূ শায়বাহ্ ২৪৪৫৫, আল মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ১১২৩২)
মনে রাখতে হবে, পাত্রের খাবার সম্পূর্ণ না খেয়ে কিছু রেখে দেয়া কুপ্রথার শামিল। এতে খাদ্যের যেমন অপচয় হয় আবার তাতে মহান আল্লাহ পাক উনার দেয়া পবিত্র নেয়ামতের অকৃতজ্ঞতাও প্রকাশ পায়।
তাই, খাবার গ্রহণ করার সময় প্রত্যেকেরই উচিত খাওয়ার শেষে ভালোভাবে বাসন চেটে খাওয়া। আর তাতেই খাবারের বাসনও মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে খাবার গ্রহণকারীর জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তির দোয়া করে।
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র দ্বীনি মজলিসে বা মাহফিলে বসার মহাসম্মানিত সুন্নতী তরীক্বাহ
১৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
আপদ-বিপদ ও অনিষ্টতা থেকে মুক্তির জন্য ঘুমানোর পূর্বে আগুন/বাতি নিভিয়ে রাখতে হবে; যা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত
১৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফের গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (২)
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফের গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (১)
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
অনিষ্টতা থেকে হিফাযতের জন্য খাবারের পাত্র ঢেকে রাখতে হবে; যা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত
১০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ-মহিলার জন্য আবশ্যক হচ্ছে, সর্বক্ষেত্রে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক অনুযায়ী আমল করা
০৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করার গুরুত্ব-ফযীলত ও খাছ সুন্নতী তারতীব
০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার অন্যতম সুমহান তাজদীদ মুবারক “সুন্নতী সামা শরীফ মাহফিল”
০৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রতিক্ষেত্রে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অনুসরণ করা যেমন ফরয; অনুরূপভাবে প্রতিক্ষেত্রেই কাফির- মুশরিকদের খিলাফ করাও ফরয (২)
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রতিক্ষেত্রে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অনুসরণ করা যেমন ফরয; অনুরূপভাবে প্রতিক্ষেত্রেই কাফির- মুশরিকদের খিলাফ করাও ফরয (১)
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হাত ও পায়ের নখ কাটার মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব মুবারক
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা, আত্মীয়দের হক্ব আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য আবশ্যক। যা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত (৪)
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












