দেশে দেশে জাতিসংঘ ওরফে ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার অফিসমূহের পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী কার্যক্রমের ইতিহাস (১৫তম পর্ব)
, ২৫ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১০ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৯ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ২৫ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
ইহুদীসংঘের তথাকথিত মানবাধিকার সনদের পরিচিতি:
ক্রিমিনোলজি (অপরাধ বিজ্ঞান) এর আলোকে, মানুষ মূলত একটি জটিল সত্তা যার আচরণ বিভিন্ন কারণ দ্বারা প্রভাবিত হয়।
ক্রিমিনোলজির প্রধান কথা হলো কিছু মানুষের মধ্যে আগ্রাসী বা আত্মনিয়ন্ত্রণে দুর্বলতা দেখা যেতে পারে, যা তাদের অপরাধ করার প্রবণতাকে বাড়িয়ে তোলে।
অথচ মানবাধিকার সনদে এই আত্মনিয়ন্ত্রণ বা নফস নিয়ন্ত্রণের এবং শয়তানের কুমন্ত্রনা থেকে বেঁচে থাকার কোনো কথা, সংজ্ঞা, ব্যাখ্যা বা আলোচনা নেই।
বরং ইহুদীসংঘের তথাকথিত সনদ অনুযায়ী নফস ও শয়তানের খেয়াল খুশি মত চলা এবং চলতে দেয়া অর্থাৎ পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার বিরোধী অধিকারেরই নাম হলো মানবাধিকার সনদ। নাউযুবিল্লাহ!
এ ধারাবাহিকতায় ইহুদীসংঘের তথাকথিত মানবাধিকার সনদে সমকামীদের পক্ষে, অনেক ধারা রয়েছে।
অনুচ্ছেদ ২:
এখানে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ নির্বিশেষে সকলের জন্য সমান অধিকার ও স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে। এই ধারাটি বৈষম্যহীনতার নীতির উপর জোর দেয় এবং সমকামী জনগোষ্ঠীর প্রতি বিরোধী আচরণ প্রতিরোধের প্রশ্রয় দেয়। অর্থাৎ সমকামীতার প্রসার, প্রতিষ্ঠা ও সুরক্ষা দেয়া। নাউযুবিল্লাহ!
অনুচ্ছেদ ১২:
কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত জীবনে অযথা হস্তক্ষেপ করা যাবে না। এসব ধারাসহ আরো অনেক ধারা সমকামী জনগোষ্ঠীর মূল চেতনার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ এবং তাদের প্রতি সুরক্ষামূলক। নাউযুবিল্লাহ!
ইহুদীসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিভিন্ন কমিটি এবং সংস্থা সমকামী জনগোষ্ঠীর অধিকারের প্রতি সব সময় সমর্থন জানিয়েছে এবং তাদের বিরোধীতাকারীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে। নাউযুবিল্লাহ!
অতএব পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমানদের বিরোধিতা করাই হচ্ছে ইহুদীসংঘের মানবাধিকার সনদের মূল বিষয়।
সংক্ষিপ্ত বিবৃতি:
* ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার কমিশন ১৯৪৬ সালে গঠিত হয়ে বিশ্বব্যাপী কথিত মানবাধিকার সুরক্ষার নামে বিশ্বব্যাপী ইহুদীদের পবিত্র দ্বীন ইসলাম বিদ্বেষী প্রকল্প বাস্তবায়নে তাদের গৃহীত প্রথম বৃহৎ আন্তর্জাতিক উদ্যোগ। ২০০৬ সালে আধুনিকায়নের মাধ্যমে এটি কথিত মানবাধিকার কাউন্সিল রূপে পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমানদের বিরোধিতায় নতুন রুপে আত্মপ্রকাশ করে এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার রক্ষার নামে পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমানদের ক্ষতি করতে এবং সারা পৃথিবীতে ইহুদীদের পরোক্ষ শাসন প্রতিষ্ঠায় সূক্ষ¥ ষড়যন্ত্রমূলক ভূমিকা পালন করছে। মুসলমানদের উচিত ইহুদী-নাছারা, কাফির-মুশরিকদের ধোঁকা সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং তাদের মিষ্টি মিষ্টি বিভিন্ন চটকদার বক্তব্যের আড়ালে লুকানো সূক্ষ¥ ও স্থুল সব ধরণের ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত থেকে সাবধান থাকা।
* ইহুদীসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে কথিত মানবাধিকার উপাদান (ঝড় পধষষবফ ঐঁসধহ জরমযঃং ঈড়সঢ়ড়হবহঃং রহ টঘ চবধপব (unpeace > conflict) Missions): শান্তিরক্ষা অর্থাৎ অশান্তি সৃষ্টিকারী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে অশান্তি-ফিৎনা-ফাসাদ সৃষ্টিকারী কাজ করে।
* ইহুদীসংঘের দেশীয় দলে (কান্ট্রি টিমে) কথিত মানবাধিকার উপদেষ্টা (So called Human Rights Advisers in UN Country Teams): বিভিন্ন দেশে ইহুদীসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয়ের (Resident Coordinator's Office) সাথে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার বিরুদ্ধে কাজ করে।
ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার কমিশন/পরিষদ (UNHRC) কোনো বিচার কাজ বা সামরিক অভিযান করে না:
বিচার কাজ (Judicial Power):
UNHRC ev OHCHR নিজে কোনো আদালত নয়, তাই তারা প্রকাশ্যে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করতে, শাস্তি দিতে, বা বিচার পরিচালনা করতে পারে না। তবে গোপনে সবই করে।
প্রকাশ্যে তারা যা করতে পারে তা হলো:
তদন্ত করা, প্রতিবেদন তৈরি করা, নিন্দা জানানো, সুপারিশ করা এবং প্রমাণ ইহুদীসংঘ বা আন্তর্জাতিক আদালতের কাছে পাঠানো অর্থাৎ তারা প্রকৃতপক্ষে পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে, প্রতিবেদন তৈরী করে, নিন্দা জানায় এবং মুসলমানদের ঈমান ও আমল নষ্ট করার সুপারিশ করে। সাথে সাথে তাদের কার্যক্রমের প্রমাণও ইহুদীসংঘের আদালতে পাঠায়। অর্থাৎ পবিত্র দ্বীন ইসলাম বিরোধী যাবতীয় কার্য পরিচালনা করে।
উদাহরণ ও প্রমাণ:
* মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমান হত্যাযজ্ঞ বিষয়ে টঘঐজঈ প্রমাণ সংগ্রহ করে, পরে তা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC)-এ পাঠায়।
* সিরিয়া ও সুদানের যুদ্ধাপরাধ নিয়েও তারা মুসলমানদের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দিয়ে বিচারিক সংস্থাগুলোকে সহায়তা করেছে।
সামরিক বা পুলিশি ক্ষমতা (Military/Enforcement Power):
UNHRC ev OHCHR প্রকাশ্যে কোনো সেনা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ন্ত্রণ করে না।
তারা কোনো দেশ আক্রমণ, অভিযান বা গ্রেপ্তার পরিচালনা করতে পারে না।
তবে তারা:
* কোনো দেশে কথিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রমাণ অর্থাৎ পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার কার্যক্রম বন্ধ করার কোশেশের প্রমাণ ইহুদীসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ (UN Security Council)-এ পাঠাতে পারে। (সংকলিত)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া হারাম
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি আদেশ মুবারক করেছেন-
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বঙ্গ, বাংলা, বাঙ্গালী শব্দের উৎপত্তি মুসলমানদের মাধ্যম দিয়েই (৫)
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যেই ২৬ খানা আয়াত শরীফ বাদ দেয়ার জন্য ভারতের আদালতে রিট করেছিলো ইসলামবিদ্বেষীরা
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা শক্ত হারাম, রয়েছে কঠিন শাস্তি
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পর্দা পালন করা নারী-পুরুষ সকলের জন্যই শান্তি ও পবিত্রতা হাছিলের কারণ
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার উপদেশ মুবারক
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
তিতির পাখির উপদেশ: একটি শিক্ষণীয় ঘটনা
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
আক্বীদা বিশুদ্ধ রাখার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












