দেশে দেশে জাতিসংঘ ওরফে ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার অফিসমূহের পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী কার্যক্রমের ইতিহাস (১৪তম পর্ব)
, ১৮ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৩ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ০২ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ১৮ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
বিভিন্ন দেশে তাদের দালালদের তৈরী স্থানীয় কথিত মানবাধিকার সংস্থা ও এনজিওর সঙ্গে কাজ করা:
* তারা বিভিন্ন দেশে তাদের দালালদের তৈরী এনজিও, আইনজীবী সংগঠন, সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের মতামত গ্রহণ করে। তাদের তৈরী এইসব স্থানীয় এনজিও, আইনজীবী সংগঠন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, সাংবাদিক ও নাগরিক সংগঠনগুলো ইহুদীসংঘের ইহুদীবাদী সকল প্রকল্প ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করে।
* যেমন: বাংলাদেশে বেলা (BELA), পবা, আসক (Ain o Salish Kendra) ব্লাস্ট (BLAST-Bangladesh Legal Aid and Services Trust), অধিকার (Odhikar), নারী মৈত্রী, নারীবাদী বিভিন্ন সংগঠন, হিজরাদের সংগঠন, সমানাধিকারের দাবীদার সংগঠন ইত্যাদি সংস্থা তাদের তথ্য সরবরাহ করে এবং তাদের কু-উদ্দেশ্য সফল করার অপচেষ্টা করে। কিছু কিছু আন্তর্জাতিক সংগঠনও বা বড়-সড় এনজিও বা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বিভিন্ন দেশে তাদের বিভিন্ন এজেন্ডা বা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করে। যেমন: ব্র্যাক, গ্রামীণ, কারিতাস, অক্সফ্যাম, ওয়ার্ল্ড ভিশন, ইউএস এইড ইত্যাদি। আবার কিছু আঞ্চলিক এনজিও বা সংগঠন বা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা তাদের দালালী করে। যেমন: বাংলাদেশের বিদ্যানন্দ, বিডি ক্লিন, আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশন, কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন, গণস্বাস্থ্য, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, ইসকন, আশা এবং এই রকম দেশীয় ও স্থানীয় শত শত এনজিও ইত্যাদি।
কথিত মানবাধিকার শিক্ষার নামে পবিত্র দ্বীন ইসলাম বিরোধী এবং সামাজিক অবকাঠামো ভেঙে দেয়ার জন্য কু-শিক্ষার প্রচার:
বিশ্বব্যাপী কথিত মানবাধিকার শিক্ষার নামে দ্বীন ইসলাম বিরোধী এবং দেশের সামাজিক অবকাঠামো বিরোধী বিভিন্ন বিষয়ে উস্কানিমূলক ও কু-মন্ত্রণামূলক শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও তথাকথিত সচেতনতা কার্যক্রম চালায়, বিশেষত স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে। বিশেষ করে তারা পরিবেশবাদ, লিঙ্গ সমতা, নারীবাদ, সমানাধিকার, আদিবাসী ইত্যাদির নামে পবিত্র দ্বীন ইসলামবিরোধী এবং সেই দেশের সামাজিক অবকাঠামো ভেঙে দেয়ার জন্য যত প্রকার অপশিক্ষা আর কু-শিক্ষা বা শয়তানি শিক্ষা আছে সেগুলোর ব্যাপক প্রচার করে এবং প্রসারের চেষ্টা করে।
কথিত মানবাধিকারের নামে আমেরিকার আঙ্গিকে বা মডেলে সারা পৃথিবীতে তারা ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান দুই রকম বিশ্বাস, দর্শন, শিক্ষা ও আদর্শের প্রসার ঘটায়। আমেরিকার তৈরী ডেমোক্র্যাট আর রিপাবলিকান দুই মেরুর দুই পক্ষের গণতান্ত্রিক রাজনীতির টানাটানিতে আমেরিকার কোনো ক্ষতি হয়না। কারণ তারা দুই পক্ষই চায় আমেরিকাকে টিকিয়ে রাখতে, আরো প্রভাবশীল করতে।
রসুনের কোয়াগুলো পৃথক থাকলেও গোড়া যেমন এক জায়গায় ঠিক তেমনি আমেরিকার এই দুই পক্ষের উদ্দেশ্য এক। আর সেই উদ্দেশ্যের নেপথ্যে আছে বিশ্বব্যাপী ইহুদী দখলদারী, ইহুদী নিয়ন্ত্রণ এবং ইহুদী সাম্রাজ্যবাদ। সারা বিশ্বে তাদের দুই ধরণের কার্যক্রমের ফলে বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক ক্ষত আরো গভীর হয় এবং আস্তে আস্তে সেই দেশটা পঙ্গু হয়ে যায়।
করাত যেমন একবার সামনে যেয়ে সামনে কাটে আর একবার পিছনে যেয়ে পিছনে কাটে। এভাবে আস্তে আস্তে কাটার ক্ষত গভীর হতে থাকে। ঠিক তেমনি আমেরিকার তৈরী মূলত ইহুদীদের তৈরী তথাকথিত গণতান্ত্রিক রাজনীতির এই দুই টানাটানিতে একটি দেশ ইহুদীবাদী করাতের সৃষ্ট ক্ষতে গভীরভাবে ক্ষত বিক্ষত হয় এবং ইহুদীদের হাতের মুঠোয় চলে যায়।
ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার বিষয়ক দূত বা উচ্চায়োগ বা হাইকমিশনারের (ইহুদী কুটচাল ও কুপরিকল্পনা বাস্তবায়ক এর) কার্যালয় OHCHR -এর সঙ্গে সমন্বয় করা:
* United Nation Human Rights Council-UNHRC নীতিনির্ধারণ করে। নীতি হলো ইহুদীদের পক্ষে এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে আইন প্রণয়ন।
* আর OHCHR (Office of the High Commissioner for Human Rights) মাঠপর্যায়ে সেই নীতির বাস্তবায়ন ও প্রতিবেদন তৈরির কাজ করে।
বাংলাদেশ প্রসঙ্গে: ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকারের আড়ালে ইহুদীদের দখলদারী ও নিয়ন্ত্রণ এবং রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ইহুদীদের হস্তক্ষেপ।
টঘঐজঈ বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের বিষয়ে:
* গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-, ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন প্রণয়ন অর্থ পবিত্র দ্বীন ইসলাম বিরোধী আইন প্রণয়ন।
* সংখ্যালঘু নির্যাতন এর নামে দেশে মুসলমানদের নির্যাতন করা আর অমুসলিম বিধর্মী যারা মুসলমানদের বিরুদ্ধে শত্রুতা পোষণ করে, যারা সবসময় মুসলমানদের ক্ষতি করার অপচেষ্টায় থাকে ঐ সমস্ত হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, উপজাতি ইত্যাদি নাস্তিক ও কাফিরদের ক্ষমতায়ন করে মুসলমানদের প্রতি নির্যাতন বৃদ্ধি করা।
* বাংলাদেশে ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন পরবর্তী সহিংসতা- এসব বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। উদ্দেশ্য তাদের দালাল ইউনুস যেন ক্ষমতায় থাকতে পারে।
ইহুদীসংঘের তথাকথিত মানবাধিকার সনদের পরিচিতি:
জাতিসংঘ ওরফে ইহুদিসংঘের তথাকথিত সার্বজনীন মানবাধিকার সনদের ধারা সর্বমোট ৩০টি।
প্রথম ধারায় বলা হয়েছে- “সকল মানুষ স্বাধীনভাবে সমান মর্যাদা এবং অধিকার নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। তাদের বিবেক এবং বুদ্ধি আছে।”
এখানেই ইহুদীসংঘের তথাকথিত মানবাধিকার সনদের সবচেয়ে বড় ভুল। কারণ সবার বিবেক বুদ্ধি কখনোই সমান নয়। প্রকৃতপক্ষে সবাই কু-প্রবৃত্তির কু-প্ররোচনা দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত। কারণ তারা কেউই ইছলাহ প্রাপ্ত নয়। হাকীকত হলো ইহুদীসংঘের মানবাধিকার সনদ হলো ইহুদীদের অধিকার সংরক্ষণের সনদ।
সব মানুষেরই যদি হাকীকী বিবেক বুদ্ধি থাকতো তাহলে আমেরিকায়, ইউরোপে এবং খোদ ইহুদীসংঘ দ্বারা এত অপরাধ, সম্ভ্রমহরণ, হত্যা, লুণ্ঠন ইত্যাদি হতো না। গাজাবাসীরা নির্বিচারে শহীদ হতো না। হায়েনা ইহুদী সন্ত্রাসী ইসরায়েল মুসলমানদের উপর এত জুলুম করতো না। (সংকলিত)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পাঁচ তরীক্বার শাজরা শরীফ (১)
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পর্দা পালন করা নারী-পুরুষ সকলের জন্যই শান্তি ও পবিত্রতা হাছিলের কারণ
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র “মাক্বামে মাহমূদ” উনার বেমেছাল তাফসীর বিষয়ে খারেজী জাহমিয়া ফিরকার মুখোশ উম্মোচন (৬)
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
কাফির-মুশরিকদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা জায়েয নেই
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১০)
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা কবীরা গুনাহ ও অসন্তুষ্টির কারণ
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা সত্যের মাপকাঠি
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্রতা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল (২)
৩১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
যে নিজে পর্দা করে না ও অধীনস্থদের পর্দা করায় না সে দাইয়ূছ
৩১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












